নতুন প্রজন্ম, ভাষার মাস, বইমেলা বই এবং কিছু কথা।

সারাদিন জাফর ইকবাল স্যারের প্রডিজি বইটা পড়ার পর মাথায় ঝিম ধরে গেছিল। কখন ঘুমাই গেছিলাম বুঝতে পারি নাই। ম্যাসে থাকি। টাকা পয়সার অভাবেই হয়তবা মোবাইলে বই পড়তে হয়। তো হঠাৎ রুমমেট এর ডাকে ঘুম ভাঙল। এসেই তার চিরপরিচিত বকবকানি শুরু করে দিল। বলল কী হে সারাদিন শুধু মোবাইল মোবাইল এত কী দেখিস। প্রসঙত আমি একটু ভাব নিয়েই বললাম, আজকাল বই পড়তেছি। জাফর ইকবাল স্যারের প্রডিজি বই টা আজ শেষ। তারপর সে কী হাসি। হাসে আর বলে, হে হে ও জাফর ইকবাল স্যারের বই পড়ে তাও আবার মোবাইলে হে হে। তো আমি বললাম তুই জাফর ইকবাল স্যার কে চিনিস। সে বলল না চিনি না কে জাফর ইকবাল। কথাটা শুনে আমার খুব ই অবাক লাগল। যে একটা সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক এর ছাত্র জাফর ইকবাল স্যারকে চিনে না। এর থেকে হতাশা জনক আর কি হতে পারে। তো সেদিন এক ফ্রেন্ড কে জিজ্ঞাসা করলাম দোস্ত ঢাকায় বইমেলা চলতেছে। বইমেলা উপলক্ষে ২০% ছাড়ে রকমারিতে বই পাওয়া যাচ্ছে কিনবি। তখনন তার কথা শুনে মনে হয় আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। সে বলল যেই টাকা দিয়া বই কিনব সেই টাকা দিয়া জি এফ রে কফি হাউজে ট্রিট দিব। থাক নতুন প্রজন্মের বই পড়ার কথা আর নাইবা বললাম। কারন যারা জাফর ইকবাল স্যার কে চিনেনা। স্যারের নাম শুনলে অট্টহাসি পারে আবার বই এর থেকে গার্লফ্রেন্ড কে ট্রিট দিতেই তারা বেশি আনন্দ পায় তাদের কথা বলে আর লাভ কী। কিন্তু বইমেলা। বইমেলার কী হইল। বইমেলা নাকি প্রানের মেলা। বাঙালি সংস্কৃতির মেলা। কিন্তু আমার মনে হয় সেই মেলা আর মেলা থাকল না। এইটা একুশে বইমেলা নাম না দিয়ে মৌলবাদী দের মিলনমেলা নাম দেওয়া উচিৎ ছিল। শুনলাম বইমেলায় নাকি বদ্বীপ প্রকাশনীর স্টল বন্ধ করে দিয়ে। এর প্রকাশক থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশ রিমান্ডে নিছে। এই বইমেলাকে বইমেলা না বলে মৌলবাদের মেলা বলাই শ্রেয়। কারন যেখানে মত প্রকাশের সুবিধা দেওয়া হয় না সেই মেলাকে আর যাই হোক বইমেলা বলা যায় না।

কিন্তু তবুও এক বুক ভরা আশা নিয়ে থাকি যে একদিন বাংলাদেশে আর কোন মৌলবাদ থাকবে না। থাকবে না ধর্মের নামে এই মরন মরন খেলা। সেই দিনটার অপেক্ষায় রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *