রংয়ের মেলা

“কালো জগতের আলো”কথাটা সত্য বটে কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় এটা মুখ থুবড়ে পড়ে। কালো হয়ে জন্মগ্রহন করাটা মানুষের আজকাল অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। পৃথিবীতে কত রকম মানুষ আছে , কেউ ফর্সা কেউ কালো। এর মধ্যে কালো মানুষেরা বেশি হেয় হয়। আমি এর আগেও মানবতা নিয়ে কিছু কথা লেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ঠিকঠাকভাবে পারিনি। মানুষের মানসিকতা কত নীচে নামলে সাদা আর কালোর মধ্যে তফাত খোজা যায় তা হয়তো বুঝতে পারছি।

“কালো জগতের আলো”কথাটা সত্য বটে কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় এটা মুখ থুবড়ে পড়ে। কালো হয়ে জন্মগ্রহন করাটা মানুষের আজকাল অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। পৃথিবীতে কত রকম মানুষ আছে , কেউ ফর্সা কেউ কালো। এর মধ্যে কালো মানুষেরা বেশি হেয় হয়। আমি এর আগেও মানবতা নিয়ে কিছু কথা লেখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ঠিকঠাকভাবে পারিনি। মানুষের মানসিকতা কত নীচে নামলে সাদা আর কালোর মধ্যে তফাত খোজা যায় তা হয়তো বুঝতে পারছি।
সাধারন মানুষ্য সমাজে এদের এমনভাবে কটাক্ষ্য করা হয় যেন এরা মানুষই না। শেখ সাদির সেই গল্পে যেমন পোশাককে প্রাধান্য দেওয়া হয় তেমনি আমাদের সমাজে আজকাল ফর্সা মানুষদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। যেন তাদের গুরুত্বপূর্ন কাজগুলো ঐ কিছুসংখ্যক সাদা বক ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। আজ একটা অনুষ্ঠানে এটার বাস্তব প্রমান পেলাম। সেখানে একটা কালো গায়ের রং এমন ছেলেকে খাবার সার্ব করতে দেওয়া হলো না তাদের দামী গেস্টদের সামনে।বিষয়টা আসলে খুব ভয়ংকর খারাপ। আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব খারাপ লাগছিল কারন আমার নিজের গায়ের রংও কালো ছিল। ভয় হচ্ছিল কখন না জানি আমাকেও বের করে দেয়। খাবর গলা দিয়ে নামছিল না।
ভাবতে অবাক লাগে এখানে শিক্ষার কোনো মূল্য নেই আছে সাদা বকদের অগ্রাধিকার। ফর্সারা তাদের শারিরীক গড়ন আর চেহারা নিয়ে এত গর্ব করে কেন তা আমার জানা নেই। বাঙালি জাতিকে যেখানে তাদের ঐতিহ্য, তাদের স্বাধীনতা, তাদের জনশক্তি, তাদের উন্নয়ন নিয়ে গর্ব করা উচিত সেখানে তারা তাদের কিছু সংখ্যক সাদা চামড়া নিয়ে গর্ব ব্যস্ত। হায়রে মানুষ!
দক্ষিণ আফ্রিকায় সাদা ও কালোদের মেলামেশা ঠেকাতে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিলো সোফিয়াটাউন।
মানুয়েল আফ্রিকান ম্যাথোডিস এপিসকোপাল চার্চে প্রার্থনার সময়ে ডিলেন সট্রম নামের একটি সাদা চমড়ার ছেলে (যার নাম পরে জানা গছে) এসে প্রার্থনা সভায় যোগ দেয়। সে প্রার্থনা সভায় আগত সকলকে মনোযোগ দিয়ে দেখে। একঘণ্টা পর যখন বাইবেল পাঠ শেষ হয় তখন সে শুরু করে উল্টোপাল্টা প্রশ্ন। এরপর ছেলেটি নিজের পিস্তল বের করে ১০ জন মানুষকে গুলি করে। ঘটনাস্হলেই মারা যান নয় জন। ছেলেটি চিৎকার করে বলে, সে কালো মানুষদের ঘৃণা করে! সে মনে করে, সাউথ আফ্রিকা আররোডেশিয়া হলো ভালো দেশ, যেখানে সাদারা কালোদের উপর রাজত্ব করে!
আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যিনি আজকে সাদা আমেরিকানদের উপর রাজত্ব করছেন।ডিলেন সট্রম আজ থাকলে সে কি করত আমি জানি না কিন্তু ধারনা করতে পারি সে হয়ত তার মানসিকতা বদলে ফেলত।
কিছুদিন আগে একটা বড় ভাইয়ের মেসে কিছু আলাপ শুনেছিলাম যেটা হচ্ছিল একটা কাল ছেলেকে নিয়ে। সে একটা মেয়েকে ভালবাসে, মেয়েটাও তাকে ভালবাসে। কিন্তু তার বন্ধু মানে আমার বড়ভাইদের খুব হিংসা হয় তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হল। ঐ মেয়েকে তার বন্ধুরা পছন্দ করে তাই হয়তো তাদের কাছ থেকে এত গালমন্দ শুনতে হয় তাকে। তার অনুপস্থিতিতে তাকে এত অকথ্য গালি দেওয়া হল আমিতো একেবারে অবাক হয়ে গেলাম। মেয়েও যে কম সমালোচিত তা কিন্তু নয়। আঙ্গুরফল না খেতে পারলে টক হয় তা ঐ আলোচনা থেকে আবারো বুঝেছিলাম।
কলো মানুষেরা হয়ত আবগী হয়।আবেগ প্রবন মানুষ খুব বোকা হয়ে থাকে। তারা খুব সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলে। তাই তারা প্রতারিত হয় বেশি, কষ্টও পায় বেশি।
সমালোচনা করার জন্য কিছু জানার প্রয়োজন হয়।শিক্ষার দরকার হয়। কিন্তু যারা মূর্খের মত কিছু না জেনে বাজে কথা বলে তখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে যা আমি এই ঘটনা থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছি।
এরকম আরো অবহেলিত কালো মানুষের গল্প হয়ত আমার অজানা। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাটে, অহরহ জায়গায় তারা সাদাদের চক্ষুশুল। কিন্তু কেন? তারা কেন নির্যাতিত? নিপীড়িত? তাদের অপরাধ তারা কালো হয়ে জন্মগ্রহন করেছে তাই? সাদাদের কেন এত অহংকার? কেন এত গর্ব? তারা কি জানে তাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম কালো কি সাদা হবে? যদি কালো হয় তাহলে তারা কি করবে??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *