ছোটগল্পের মতো একটি কবিতা: তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
সাইয়িদ রফিকুল হক

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
আমাদের পাড়ার খোকাবাবু
রোজ-রোজ ছুটে যেতো
তোমাদের শান-বাঁধানো পুকুর-ঘাটে,
আর যখন-তখন সে ঘোরাফেরা করতো
তোমাদের সুরম্য-অট্টালিকাসম বাড়ির সামনে,
আর মৌমিতা, তুমি কী বলেছিলে তাকে
আমরা এতো ভালোকিছু জানি নাতো আজ,
কিছু-কিছু কথা আমাদের মনে আছে শুধু।

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
আমাদের পাড়ার রূপকুমার খোকাবাবু
খুব ঘন-ঘন ফুলের দোকানে যেতে লাগলো,
আর সে প্রতিদিন বেছে-বেছে
তোমার জন্য বাজারের সেরা দশটি গোলাপ কিনতো,
আর সে-সব নিশ্চয় তোমার হাতেই যেতো!
কারণ, আমাদের খোকাবাবু তো তোমাকে ছাড়া

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
সাইয়িদ রফিকুল হক

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
আমাদের পাড়ার খোকাবাবু
রোজ-রোজ ছুটে যেতো
তোমাদের শান-বাঁধানো পুকুর-ঘাটে,
আর যখন-তখন সে ঘোরাফেরা করতো
তোমাদের সুরম্য-অট্টালিকাসম বাড়ির সামনে,
আর মৌমিতা, তুমি কী বলেছিলে তাকে
আমরা এতো ভালোকিছু জানি নাতো আজ,
কিছু-কিছু কথা আমাদের মনে আছে শুধু।

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
আমাদের পাড়ার রূপকুমার খোকাবাবু
খুব ঘন-ঘন ফুলের দোকানে যেতে লাগলো,
আর সে প্রতিদিন বেছে-বেছে
তোমার জন্য বাজারের সেরা দশটি গোলাপ কিনতো,
আর সে-সব নিশ্চয় তোমার হাতেই যেতো!
কারণ, আমাদের খোকাবাবু তো তোমাকে ছাড়া
আর-কোনো মেয়ের সঙ্গে কখনও কথা বলতো না,
আর আমরা সবাই এতোকাল তাইতো দেখেছি।

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
আমাদের পাড়ার লাজুক-ছেলেটি
হঠাৎ খুব সাহসী হয়ে উঠলো,
আর সে তোমার জন্য রাশি-রাশি
গোলাপ কিনতে-কিনতে
শেষমেশ সে একটা বুদ্ধি করে
তোমার জন্য গোলাপ-বাগানই করে ফেললো!
আর দেখতে-দেখতে
ওদের বাড়ির পিছন-দিকটায়
আট-দশ-রকমের গোলাপফুলে ভরে গেল,
ছেলেটি শুধু বই পড়তো,
আর তাদের একতলা ভবনের সামনে
গাঢ়-ঘন ছায়ায় বসে-বসে শুধু বই পড়তো,
ছেলেটিকে আমাদের পাড়ার অনেকেই ভালোবেসে
উত্তম কুমার বলে ডাকতো,
কী সুন্দর চেহারা তার!
তাকে দেখে যে-কারও মনে হতো
সে বুঝি ফিল্মের নায়ক,
সে ছিলো খুব শান্তশিষ্ট
আর খুব ভদ্র,
তাকে কেউ কখনও দেখেনি
কোনো মেয়ের দিকে তাকাতে,
আর সেই ছেলেটি কিনা
শুধু তোমাকে দেখার জন্য
রোজ-রোজ ছুটে যেতো
তোমাদের বাড়ির সামনে!
জানি না, তুমি কী বলেছিলে তাকে,
আর সে কী বুঝেছিলো!
তবে এটা সত্য, তুমি তাকে দিনরাত
খুব-খানিকটা প্রশ্রয় দিয়েছিলে।

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
আমাদের পাড়ার খোকাবাবু তোমাকে
খুব ভালোবেসে ফেলেছিলো,
আর সে তোমাকে মনে করেছিলো
যুগজনমের সাথী!
কিন্তু তোমার মনটি বুঝি
তোমাদের বাড়ির ইটালিয়ান-টাইলসের মতো
খুব শক্ত, আর খুব মসৃণ!
তাইতে হয়তো আমাদের খোকাবাবু
হঠাৎ পা-পিছলে পড়ে গেল!
তুমিই তাকে একদিন কাছে ডেকেছিলে,
আর তাকে একটু হলেও তো ভালোবেসেছিলে!
তবুও তোমার মনের মতিগতি
আমরা কেউই বুঝতে পারিনি,
তুমি ইটালিয়ান-টাইলস,
তাই মাটির মানুষের মূল্য বুঝতে পারোনি।

তোমার মুখের হাসি দেখতে-দেখতে
আমাদের পাড়ার খোকাবাবু
এখন দুইবেলা মদ খায়!
আর মৌমিতা, তুমি তাকে খুব ভালোবেসেছিলে,
আমাদের খোকাবাবু তাই বুঝি তোমার কথা ভাবে,
আর সে রোজ-রোজ মদ খায়!
তুমি খুব ভালো আছো আমেরিকা-প্রবাসে,
আর ডুবে আছো নিত্যনতুন ডলারে,
আর দৈনন্দিন-জাগতিক মহাসুখে!
আমাদের খোকাবাবু কষ্ট ভুলতে মদ খায়,
মদ খুব খারাপ জিনিস!
তবে তোমার চেয়ে ভালো
আর তোমার চেয়ে পবিত্র,
আর মদ কখনও তোমাদের মতো
কারও পবিত্র-ভালোবাসা নিয়ে
বিশ্বাসঘাতকতা করতে জানে না।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *