কাবেরী গায়েন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাকি মাদ্রাসার ছাত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষিকা কাবেরী গায়েন বামপন্থী মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন। গতকাল বাঙলা ট্রিবিউনে তাঁর সাক্ষাৎকার পড়ে হতবাক হয়ে বাধ্য। তিনি তসলিমা নাসরিনের বই না পড়েই তসলিমা নাসরিন সম্বন্ধে একাধিক মন্তব্য করেন, যা অযৌক্তিক ভিত্তিহীন।

কাবেরী গায়েনকে সকলেই সচেতন বলেই জানতেন। সাক্ষাৎকারে কাবেরী গায়েন মৌলবাদ সম্পর্কে চমৎকার সব বক্তব্য রেখেছেন। যা স্বীকার করতেই হবে। অথচ কাবেরী গায়েন নিজেই মৌলবাদীদের ফাঁদে পড়েছেন। এখন বোঝা যাচ্ছে তিনি অনেক কিছুই না জেনে, না পড়ে আন্দাজে গুলি ছুঁড়েন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষিকা কাবেরী গায়েন বামপন্থী মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন। গতকাল বাঙলা ট্রিবিউনে তাঁর সাক্ষাৎকার পড়ে হতবাক হয়ে বাধ্য। তিনি তসলিমা নাসরিনের বই না পড়েই তসলিমা নাসরিন সম্বন্ধে একাধিক মন্তব্য করেন, যা অযৌক্তিক ভিত্তিহীন।

কাবেরী গায়েনকে সকলেই সচেতন বলেই জানতেন। সাক্ষাৎকারে কাবেরী গায়েন মৌলবাদ সম্পর্কে চমৎকার সব বক্তব্য রেখেছেন। যা স্বীকার করতেই হবে। অথচ কাবেরী গায়েন নিজেই মৌলবাদীদের ফাঁদে পড়েছেন। এখন বোঝা যাচ্ছে তিনি অনেক কিছুই না জেনে, না পড়ে আন্দাজে গুলি ছুঁড়েন।

তিনি তসলিমা নাসরিনের বই পড়ে থাকলে কখনোই বলতে পারতেন না যে তসলিমা লিখেছেন, “ছেলেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে, মেয়েরা কেন করতে পারবে না”? কাবেরী গায়েন কি প্রমাণ করতে পারবেন এই বাক্যটি তসলিমা নাসরিন তাঁর কোন গ্রন্থে লিখেছেন? কাবেরী গায়েনকে ওপেন চ্যালেঞ্জ।

তসলিমা নাসরিন সম্বন্ধে কাবেরী গায়েন আরও বলেন, “আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এইসব ঘটে সেই কাঠামোর বিরুদ্ধে কোনওদিন সোচ্চার হননি”। এই কথাটুকু কতটা সত্য? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের একজন শিক্ষিকা হয়ে তাঁর কাছ থেকে এমন বক্তব্য অপ্রত্যাশিত। শিক্ষিকা নারী আন্দোলনে সোচ্চার অথচ তিনি কোন দিন লক্ষ্যই করেন নি যে তসলিমা নাসরিন তাঁর বই ও কলকাতায় প্রকাশিত বিভিন্ন কলামে নারীর সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কাঠামোর বিরুদ্ধে লিখেছেন।

কাবেরী গায়েনকে জানাতে চাই,

তসলিমা নাসরিন ’৮০ দশকে প্রথাগত কুৎসিত সমাজের সমালোচনা করলে কেঁপে উঠে সমাজের বুক। সেই থেকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ তসলিমা নাসরিন নামটি শুনলেই ভীতবোধ করে। লেখিকাকে হেনস্তা করার জন্য মৌলবাদীরা বেছে নেয় বিভিন্ন পন্থা। লেখিকাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য তো করেই, সেই সাথে মৌলবাদীরা শুরু করে প্রোপাগান্ডা।

যেমন- তসলিমা নাসরিন নামটি ব্যবহার করে তারা শতাধিক চটি বই বাজারে প্রকাশ করে। যা নীলক্ষেতে এখনও বিক্রি হয়। তসলিমা নাসরিন ধর্ম, নারী, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যা কখনোই লিখেন নি, ইসলামি মৌলবাদীরা তাঁর নামটি ব্যবহার করে লিখেছে। আবার এমনও হয়েছে, মৌলবাদীরা মানুষের কাছে গিয়ে মুখে মুখে তসলিমা সম্বন্ধে কটু, অশ্লীল বক্তব্য শুনিয়ে মানুষের মাঝে তসলিমাকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। কাবেরী গায়েনও সম্ভবত সেই ফাঁদে পড়েছেন। যা দুঃখজনক।

কাবেরী গায়েনকে আরও জানাতে চাই,

প্রথমত, ফেইসবুকে ইভেন্টটির নাম ছিল, “ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় চুমু খাবো”, পুলিশি প্রহরায় দলবেঁধে চুমু খাওয়া নয়। বোধ করি, তিনি এই ইভেন্ট সম্পর্কেও জানেন না। এক্ষেত্রেও মন্তব্য করে দিয়েছেন। ইভেন্টটি ভালোবাসা দিবসকে প্রোমট করা ছিল না। পুলিশি পাহারায় শব্দদ্বয় আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৩ ফেব্রুয়ারী, ডেইলি আওয়ার টাইম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছিল। তাঁর মত একজন শিক্ষকা না জেনে এমন বক্তব্য প্রসব করবে যা খুবই লজ্জাজনক।

কোন বিপ্লবই একদিনে হয় না। পরিবর্তন হতে সময় লাগে। সংস্কৃতিও পরিবর্তনশীল। সংস্কৃতি স্থবির কোন বিষয় নয়। বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তন হতে পারে। সময়ের চাহিদানুযায়ী পরিবর্তিত আর পরিমার্জিত হয়েছে। যুগে যুগে অনেক প্রাচীন সংস্কৃতি বর্বরতা আর অমানবিকতার অভিযোগে বিলুপ্ত হয়েছে।

পোশাকের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বর্তমানে নারীরা যে সমস্ত পোশাকে অভ্যস্ত সেগুলো কি বাঙালি সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে? ধীরে ধীরে আমরা গ্রহণ করেছি। যখন বাঙলার নারীরা জিন্স পরা শুরু করেছিল তখনও সংস্কৃতি গেলো রে গেলো শোনা গিয়েছিল। একটি পন্থা বা মাধ্যমেই যে শুধু পরিবর্তন সম্ভব এমন নয়, পরিবর্তন নানা মাধ্যমে সম্ভব। কার মাধ্যমটি সঠিক, কোন মাধ্যমটি সঠিক সেটা সময়ের উপর ছেড়ে দেয়া ভালো। দেশের নামধারী প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গই যখন প্রকাশ্য চুম্বনকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে, সেখানে মৌলবাদীরা বিকট শব্দে হেসে উঠে।

৮ thoughts on “কাবেরী গায়েন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাকি মাদ্রাসার ছাত্রী

  1. একমত নই,, প্রকাশ্য চুম্বন
    একমত নই,, প্রকাশ্য চুম্বন নেতিবাচক নয়,,, বরং, ইতিবাচক,, সাহসীকতাও,, ,
    কিন্তু, পুলিশী পাহারা এবং বিদেশে থেকে ইভেন্ট খোলা কি সাহসীকতা??

  2. কাবেরী গায়েন যে তসলীমা
    কাবেরী গায়েন যে তসলীমা নাসরিনের মত ব্যাকডেটেড; রাবিশ; সাইকপ্যাথিক লেখিকার পড়েন নি বা পড়ার প্রয়োজন বোধ করেন তাতে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করছি।
    এদেশের সুশীল সমাজের উচিত হবে আসিফ মহিউদ্দীন বা অনন্য আজাদের মত পরগাছা চটি ব্লগার- ফেসবুকারদের বিরুদ্ধে দ্রুত কলম ধরা।

  3. আপনার লেখায় কতগুলো ফাঁপানো
    আপনার লেখায় কতগুলো ফাঁপানো বুলি ছাড়া তো কিছু পেলাম না। পারলে প্রথাবিরোধী বাবাকে না কোট করে নিজে কিছু লিখে দেখান। দীর্ঘ দিন ধরে আপনার ফেবু দেখছি, যেখানে- আমি আমি আমি ছাড়া আর কিছু নেই। সামু এবং ইস্টিশানে কতগুলো লেখা দেখছি, যার সবই অন্তঃসার শুন্য কতগুলো লেখা। ইসলাম সমালোচনা করুন না, তবে একটু পড়াশোনা করে নিন। উপরে মোজাহিদুল ইসলাম টিটু বলেছেন- প্রতিক্রিয়াটি আরো একাডেমিয়া ভাবে হতে পারতো। কিভাবে হবে? আপনার তো সম্ভবত সেই লেভেলের বিদ্যাই নেই। শেষ দু’টো কথা-

    ১) তসলিমার প্রস্রাব সংক্রান্ত মন্তব্যটি আমিও পড়েছি তাঁর কোন কলামে। সে সময় তিনি বাংলাদেশে থাকতেন।
    ২) যারা আপনাকে নিয়ে নাচছেন, তারা কি জানে যে আপনি জামাতি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ করেছেন? আমি এটা আমার পারিবারিক সূত্রে জেনেছি।

  4. কোন বিপ্লবই একদিনে হয় না।

    কোন বিপ্লবই একদিনে হয় না। পরিবর্তন হতে সময় লাগে। সংস্কৃতিও পরিবর্তনশীল। সংস্কৃতি স্থবির কোন বিষয় নয়। বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তন হতে পারে। সময়ের চাহিদানুযায়ী পরিবর্তিত আর পরিমার্জিত হয়েছে। যুগে যুগে অনেক প্রাচীন সংস্কৃতি বর্বরতা আর অমানবিকতার অভিযোগে বিলুপ্ত হয়েছে। – See more at: http://www.istishon.com/node/15803#sthash.PewzMwxP.dpuf

    অনন্য ভাই, আমার মনে হয় রেভল্যুশন করে এখন সমাজ-বাস্তব-রাষ্ট্রে খুব বেশি এগোনো যাবেনা। বিপ্লবী বা রেভ্যলুশনিস্টরা দেখা যায় বিপ্লব সফল না হলে প্রতি বিপ্লবীতে পরিণত হয়। তাই রেভ্যুলুশনিস্ট না হয়ে রিফর্মিস্ট হওয়ার চেষ্টা করাই বোধহয় ভাল; আমার কথাটা একটু ভেবে দেখবেন।

  5. তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে কিছু
    তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে কিছু লিখলে/বললে অনন্যা আজাদের নাস্তিকানুভুতি আহত হইতে পারবে, তসলিমার অবমাননা গায়ে লাগতে পারবে, সেইটার বিরুদ্ধে কাইন্দা কাইটা পোস্ট পয়দা করতে পারবে, আর ধর্মপ্রচারকদের নিয়া কিছু লিখলে তার বিরুদ্ধে যখন কেউ প্রতিবাদ মুলক লেখা দিবে তখন তারা “দ্যাখ দ্যাখ, ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগছে, খ্যাঁক খ্যাঁক” ফলাবে। তাহলে বাচ্চারা আজ আমরা কী শিখলাম? শিখলাম যে, বাকস্বাধীনতা খালি নাস্তিকদের একার সম্পত্তি

  6. আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় একটা কথা
    আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় একটা কথা খুব বলা হয়, কথাটা হচ্ছে –

    ‘‘বকরি দিয়া হাল চাষ হয় না।’’

    আপনার লেখা পড়ে আমার সেই কথাটাই মনে পড়লো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *