নাস্তিকতা মানে কি ঘরে বসে থাকা?

গত কোরবানীর ঈদ এর সময় আমি কোরবানী নিয়ে ফেসবুক একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। আর তারপরে এর স্ট্যাটাস এ অনেক কমেন্ট পড়েছিল। আমি তাদের সেই কথা গুলার খুব সুন্দর করে উত্তর দিচ্ছিলাম। কিন্তু সেই সময়ে আমার গ্রামের বাড়ি থেকে মোবাইল আসল আমি নাকি ফেসবুক এ কি সব লিখলাম যার কারনে আমার আশে পাশের বাড়ি থেকে অনেকে এসে আমার বাড়িতে হুমকি দিয়ে গেল। আর তারপরে আমি আমি আমার মায়ের কথা অনুসারে সেই পোস্ট ডিলিট করে দিলাম। তার পরে মেসেজ এ অনেক ধরনের হুমকি পেলাম। কিন্তু আমি সেটা আমলে নিলাম না। তারপরে রাতে আমার মোবাইল অনেক কল আসে যার বেশির ভাগ ছিল আমার আত্নীয়দের। পরে তাদের কথা শুনে আমি চিন্তা করতে থাকলাম আমরা যারা নাস্তিক মানে যারা সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাস করি না তারা কি আসলে এই স্বাধীন বাংলাদেশে বেঁচে থাকতে পারব নাকি হুমায়ূন আজাদ, অভিজিৎ দা এদের মত আমাদের মরতে হবে।
তার কিছু দিন পরে আমার কিছু বন্ধুদের সাথে আমার কথা হলে তারা আমাকে কিছু কথা বলে। “তুই তোর নাস্তিকতা নিয়ে থাক না, ভাই! আমি আমার ধর্ম নিয়ে থাকি। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। খামাখা তোরা ধর্মের পিছনে লেগে, তার নানা অসামঞ্জস্য খুঁজে ধার্মিকদের মনে কষ্ট দেস কেন? তারা তো তোদের পেছনে লাগতে যায় না! ধর্ম হলো বিশ্বাসের ব্যাপার – যে যার মত নিজের বিশ্বাস নিয়ে থাকলে ক্ষতি কী?” তারপরে আমি বললাম দেখ তুই মুসলমান কিংবা হিন্দু বলিস সবাই তোরা একই রকম।
যারা কয়েক মিলেনিয়াম ধরে প্রাচীন ধ্যান-ধারণা আজকের দুনিয়ায় চর্চা করছে, যারা মসজিদে দিনে পাঁচবার আজান দিয়ে কিংবা মন্দিরে বারো মাসে চোদ্দবার ঢোল পিটিয়ে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে সে কাজ করতে পারবে, আর আমি মানবজাতির প্রগতির বাহন বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে সেগুলোকে ভ্রান্ত মনে করি বলে আমাকে চুপ থাকতে হবে। তোরা যদি তোদের ধর্ম অনেক ধরনের মাহফিল কিংবা পুজা করতে পারিস তাহলে আমি কেন আমার নাস্তিকতা নিয়ে ব্লগ এ কিংবা ফেসবুক এ লিখতে পারব না। তুই আজকে দেখ আজকের এই দিনে কতজন এই ইসলাম ধর্মের কারনে কত মানুষ মারা গেছে। আর আমরা নাস্তিকরা কত হন মানুষকে মেরেছি। ধর্মের কারণে ওসামা বিন লাদেন আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, বাংলাদেশে মসজিদ-মন্দির-প্যাগোডা ভাঙা হয়, ব্লগারদেরকে হত্যা করা হচ্ছে দিনের আলোতে, তারপরেও আমরা, সত্য জানা সত্ত্বেও, চুপ করে থাকব? নিজের ভাবনাগুলো নিজের মাথায় আবদ্ধ করে রেখে ‘ভদ্র’ নাস্তিকের তকমা জোটাব? ধর্মবিশ্বাসের কারণে আজ জার্মানীতে এক পাকিস্তানী বাবা তার উনিশ বছরের মেয়েকে হত্যা করেছে, কারণ সে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিল। ধর্মবিশ্বাসের কারণে ব্রিটেনের বা অস্ট্রেলিয়ার তরুণ মুসলমান ছেলেরা সিরিয়ায় জঙ্গীবাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। ধর্মবিশ্বাসের কারণে কর্ণাটকে মুক্তচিন্তক ও গবেষক অধ্যাপক কুলবার্গি খুন হয়ে যান, খুন হয়ে যান ভাষাতত্ত্ববিদ সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ। ধর্মবিশ্বাসের কারণে বাংলাদেশের তরুন নাফিস নিউইয়র্কে বোমা হাতে ধরা পড়ে। ধর্মবিশ্বাসের কারণে বাংলার হাজারো মানুষ হজ্জ্বের নামে সৌদি রাজতন্ত্রকে সোনার মার্সিডিজ কেনার তহবিল যোগান দিয়ে যাচ্ছে। কল্পিত এক শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারতে গিয়ে সহযাত্রীদের পদতলে পিষ্ট হয়ে মরছে হাজারে হাজারে। ধর্মের নামে ময়মনসিংহে-এলাহাবাদে জাকাত/পূণ্যের আশায় মানুষেরা একে-অপরকে পদদলিত করে প্রাচীন দেবতাদের পীঠস্থান কাবায় পদদলিত হয়ে মরে হাজারে হাজার মানুষ।

৫ thoughts on “নাস্তিকতা মানে কি ঘরে বসে থাকা?

  1. পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ব্লগে
    পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য ব্লগে আইডি তৈরি করার লিংক………
    W/B blog
    http://­www.nalokpublication.­com/
    এই লিংকে যাও

    তারপর দেখ sing In /Register লেখার ওখানে ক্লিক কর এরপরে নীচের দিকে লেখা আছে Continue With Faceboob লেখাটিতে ক্লিক কর, তারপর ok লেখা বেরবে ok তে ক্লিক করলেই ব্লগের আইডি হয়ে গেল

  2. আমার দিক থেকেও এক সমস্যা।
    আমার দিক থেকেও এক সমস্যা। শান্তিপূর্ন সহাবস্থান। কিন্তু শান্তিপূর্ন সহাবস্থান হবে কেমন করে যখন ধর্মের নামে মানুষ খুন করা হয়। শান্তিপূর্ন সহাবস্থান কেমন করে হবে যখন ধর্মেরর নামে আই এস জঙ্গি গঠন করা হয়।

  3. পৃথিবীতে ধার্মিক আছে,
    পৃথিবীতে ধার্মিক আছে, নাস্তিকও আছে। এসব শেষপর্যন্ত থাকবে। তাই, বলে কারও সীমালংঘন করা যাবে না। সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। আপনি নাস্তিক বলে আপনি কাউকে ধর্মপালনে বাধা দিতে পারেন না কিংবা কারও ধর্মকে কটাক্ষ করতে পারেন না।
    ধন্যবাদ আপনাকে।

  4. ধর্ম অধর্ম এইগুলি আগেও ছিল।
    ধর্ম অধর্ম এইগুলি আগেও ছিল। এখনো আছে। হয়তোবা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে আস্তে আস্তে মানুষ অধর্মের প্রতি বেশি ঝুকছে। মানুষ আরো বেশি যুক্তিশীল চিন্তাশীল হবার দরুন হাজার বছরের পুরাতন ধ্যান ধারনা থেকে বেরিয়ে আসছে বা আসতে চেষ্টা করছে। এখন কেউ যদি বলে একজনের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করা যাবে না। তখন বুঝতে হবে কটাক্ষ বলতে সে কি বুঝাতে চাচ্ছে।একটা বিশ্বাস যদি অবৈজ্ঞানিক সমাজের প্রগতির পথে বাধা হয় তবে অবশ্যই সে বিশ্বাস নিয়ে সমালোচনা হবে। এখানে ধর্মানুভূতির দোহাই অবান্তর। আর যদি বলে্ন ধার্মিক নাস্তিকের শান্তিপূর্ন সহাবস্থান তবে অবশ্যই যে বিষয়টা গুরুত্বপূর্ন তা হচ্ছে পরমত সহিষ্ণুতা। একজন ধার্মিকের যেমন নাস্তিকের চিন্তা ভাবনা নিয়ে সমালোচনার অধিকার রয়েছে তেমনে রয়েছে একজন নাস্তিকের।পরমত সহিষ্ণুতা থাকলে যে বিষয়টা হবে তা হচ্ছে কথার জবাব কথায় বা কলমের জবাব কলামে হবে। আর যদি সেই সহিষ্ণুতাটা না থাকে তবেই চাপাতির প্রয়োজন হয়।

    আপনি যদি মনে করেন সমাজ সংষ্কারে সমাজের প্রগতির জন্য আপনার দায়বদ্ধতা আছে তখন আর ঘরে বসে থাকা কেন। পড়াশুনা চালিয়ে যান। কলম চালিয়ে যান।স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছেন স্রোতের চাপতো থাকবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *