মানবতার কবি পাবলো নেরুদা

পাবলো নেরুদা মানবতার কবি,
বিশ্বশান্তির কবি, যুদ্ধবিরোধী
চেতনার কবি, সমাজতান্ত্রিক কবি
এবং বিপ্লব ও প্রেমের কবি। এ সব
অভিধা ছাড়াও আরো বহু অভিধায়
অভিব্যঞ্জিত করা যায় তাঁকে। আমার
ধারণা দেশ ও মানব প্রগতির এবং
কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য, বিশ্বশান্তি ও
সুন্দর পৃথিবীর জন্য যতোগুলো শুভ
অভিধা আছে সবই তার জন্য শোভনীয় ও
সার্থক।
নেরুদার জন্ম ১২ জুলাই, ১৯০৪ সালে।
দক্ষিণ চিলির ‘পাররাঙ্গল’ নামে এক
অখ্যাত ও প্রান্তিক গ্রামে। তার পুরো
নাম নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস
বাসোআলতো। মা দোনা রোসা
বাসোআলতো এবং বাবা দোন হোসে
দেল কার্মেন রেইয়েস মোরালেসা।
জন্মের মাত্র এক মাস পরে মায়ের মৃত্যু

পাবলো নেরুদা মানবতার কবি,
বিশ্বশান্তির কবি, যুদ্ধবিরোধী
চেতনার কবি, সমাজতান্ত্রিক কবি
এবং বিপ্লব ও প্রেমের কবি। এ সব
অভিধা ছাড়াও আরো বহু অভিধায়
অভিব্যঞ্জিত করা যায় তাঁকে। আমার
ধারণা দেশ ও মানব প্রগতির এবং
কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য, বিশ্বশান্তি ও
সুন্দর পৃথিবীর জন্য যতোগুলো শুভ
অভিধা আছে সবই তার জন্য শোভনীয় ও
সার্থক।
নেরুদার জন্ম ১২ জুলাই, ১৯০৪ সালে।
দক্ষিণ চিলির ‘পাররাঙ্গল’ নামে এক
অখ্যাত ও প্রান্তিক গ্রামে। তার পুরো
নাম নেফতালি রিকার্দো রেইয়েস
বাসোআলতো। মা দোনা রোসা
বাসোআলতো এবং বাবা দোন হোসে
দেল কার্মেন রেইয়েস মোরালেসা।
জন্মের মাত্র এক মাস পরে মায়ের মৃত্যু
হয়। সোনা বা রূপার চামচ মুখে নিয়ে
নেরুদা পৃথিবীর আলো বাসাতের
স্পর্শে আসেননি। বাবা ছিলেন
সাধারণ একজন রেল ইঞ্জিন চালক আর
সৎ মা গৃহিণী। দুঃখ-দারিদ্র্য, অভাব-
অনটন ও ক্ষুধা-দারিদ্র্য আর বিপর্যয়
নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন পাবলো
নেরুদা। জীর্ণ জরা গ্রাম থেকে জন্মের
পরই বাবার কর্মস্থল তেমুকো নামে আর
এক জীর্ণ গ্রামে চলে যান শিশু
নেরুদা। এই গ্রামকে নিয়ে তিনি
‘তেমুকো’ নামে একটি কবিতাও
লিখছেন। এই কবিতায় ফুটে উঠেছে তার
শৈশব জীবনের অভিজ্ঞতা। কবিতার
বর্ণনায় পাওয়া যায় তার জীবনের কিছু
ছবি-
আমি বাস করছি তেমুকো,
আর-
আমার থাকার ঘরের বাতায়ন পথে
দু’চোখ মেলে আমি দেখি
কাদা আর কাদা, গলিত দলিত স্তপ
স্তপ কাদা
চারিদিকে কাদা- কোথাও আবার
থক্থকে কাদা।
বৃষ্টির জল আর কাদা মিলে
স্রোতধারার কী মর্মিতা!
যেন চলেছে শোকের মিছিল।
জানালা খুলেই আমি দেখতাম নানা
ধরনের কাদা
সূর্যতাপে তপ্ত কাদা
আবার রঙ বদলে বহুরূপী কাদা
মাঝে মাঝে হলুদ বর্ণ যেন
শরীরে প্রলেপ মাখতো-
আর এই কর্মমাক্ত পথে
থেকে থেমে চলে যেতো কাঠের
আচ্ছাদনে আবৃত
ঠেলাগাড়িগুলো
কী তাদের আর্তনাদ! এক ভয়াবহ
যন্ত্রণা যেন তাদের।
আমার মনে হতো
চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে
গর্ভে স্ফীত পরিপূর্ণ গমের থোড়গুলো
যেন প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছে।
১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয় তার
কাব্যগ্রন্থ গবসড়ৎরধষ ফব রংষধ ঘবমৎধ. ঐ
কাব্যগ্রন্থে খধ গবসড়ৎরধ নামে একটি
কবিতা আছে। আমি এই কবিতাটিকে
অভিহিত করি তার জীবনের ব্যাখ্যা ও
ভাস্য হিসেবে। অর্থাৎ মহাকাশে
ছায়াপথের বা গরষশ-ধিু-র তারকার
মতো তাঁর সমস্ত জীবনের অসংখ্য ছবির
গ্যালারি যেন সৌকর্য বিন্যাসে
নন্দিত হয়ে আছে। আমি কবিতাটির
ভাষান্তর এখানে উপস্থাপন করছি-
আমি আজ স্মরণ করছি আমার জীবনের
সেই হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো-
আমার স্মৃতির পর্দায় ভেসে উঠছে
অসংখ্য চিত্রকল্প এবং ছবির পর ছবি-
আমার পায়ে চলার পথে
শ্যামল কোমল সবুজ ঘাসগুলো
প্রাণময় মমতায় আমাকে জড়িয়ে ধরতো
জীবনের এই অবিন্যস্ত এই খণ্ড-বিখণ্ড,
চিত্র বিচিত্র
ঘটনাগুলো নিয়েই আজ আমাকে গাঁথতে
হবে
একটি বাণীর মালা।
আর-
সে মালায় থাকবে
আমার আবাসস্থলের সব খুঁটিনাটি- এর
পরিসর
সেই আঁকা-বাঁকা রেলপথের জ্যামিতিক
রেখা
আর থাকবে
জীবনের তিক্ত মধুর স্মৃতি
এরপরও আমি বলবো-
স্মৃতি সততই মধুর।
এখন পৃথিবীতে চলেছে এক আলো-ছায়র
দূরায়ন চিত্র।
মৃত্যুর পূর্বেই নেরুদার জন্য তৈরি
করানো হয়েছিল কফিন। সে কফিনের
রং ছিল সাদা কিন্তু না, তা পছন্দ
হয়নি নেরুদার। নেরুদা বলতেন, না,
সাদা হচ্ছে শূন্যতার প্রতীক- কিছু না
পাওয়ার প্রতীক- অর্থাৎ ধানকাটা শূন্য
মাঠ বা রিক্ততার প্রতীক। তার পছন্দ
হলো লাল কফিন এবং কফিনের সঙ্গে
শেষ আচ্ছাদন লাল কাপড়। লাল যে
সংগ্রামের প্রতীক, বিপ্লবের প্রতীক।
জীবনে-মরণে চলবে বিপ্লব, চলবে
সংগ্রাম। মৃত্যুর মিছিলেও ধ্বনিত হবে
বিপ্লব জিন্দাবাদ।
দুঃখের বিষয় সামরিক জান্তা-নেরুদার
শেষ ইচ্ছে পূরণ করেনি। একটি অতীব
সাধারণ জীর্ণ কফিনে জলে ডোবা
কর্দমাক্ত রাস্তার মোড়ে রাখা হলো
এই কফিন। সামরিক জান্তার পরোয়ানা
জারি হলো- পাঁচের অধিক ব্যক্তি
কফিনের সামনে থাকবে না কোনো
শোক মিছিল বা শ্লোগান চলবে না
এবং এমনকি ‘কমরেড’ শব্দটিও উচ্চারণ
করা যাবে না।
কিন্তু কমরেড নেরুদা, বিপ্লবী নেরুদা,
গণমানুষের প্রতিনিধি পাবলো নেরুদা
যে জনগণ নন্দিত বিপ্লবী পুরুষ। তার
স্থানতো কফিনের ভেতর কোনো কবরে
নয়- সাধারণ মানুষের, জনগণের বুকে,
হৃদয়ে তার স্থান। তাই জনগণের বুক
চিরে সেদিন অলক্ষ্যে একটি মাত্র
শ্লোগান বের হয়ে এলো-
‘কমরেড পাবলো নেরুদা- দীর্ঘ জীবন
লাভ করুন!’
২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ সালে পাবলো
নেরুদা পরলোক গমন করেন।
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

আমার পেছনে
হিংস্রতার ছায়ায়
,,,,পাবলো নেরুদা

আমার পেছনে হিংস্রতার ছায়ায় তুমি
যেন অভ্যস্ত হও,
তোমার হাত দুটো ধুয়ে নাও ফের
তোমার বাহুতে আসুক ভোরের নদীর সতেজ
স্বচ্ছতা
লবণের কেলাসের মত সফেদ, দ্রাব্য যে
তুমি, প্রিয়তমা।
ঈর্ষাকে ক্লান্ত, পরাস্ত করে আমার তাবৎ
গান,
হিংসার নাবিকেরা একে একে ঢলে পড়ে
নিদারুণ বেদনায়।
আমি যখন উচ্চারণ করি ভালবাসার নাম,
আকাশ জুড়ে পারাবত ওড়ে,
প্রতিটি স্তবক আমার, জাগায় বসন্তের
কলি।
আর তুমি উন্মীল হও আমার হৃদয়ে
স্বর্গীয় পাতার মত তোমাকে দেখি,
কেমন করে তুমি শুয়ে থাকো মৃত্তিকায়,
কেমন করে সূর্যের পাপড়ি বদলে দেয়
তোমার অবয়ব,
অনুভব করি তোমার শান্ত পদক্ষেপ
আকাশে আকাশে
মাতিল্দে, আমার সূর্য-মুকুট, স্বাগত
তোমায়!

২ thoughts on “মানবতার কবি পাবলো নেরুদা

  1. পাবলো নেরুদা নিঃসন্দেহে
    পাবলো নেরুদা নিঃসন্দেহে বড়মাপের কবি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, তাঁর কবিতা আমাদের দেশে খুব কমই অনূদিত হয়েছে। এদিকটা আরও স্ফীত করা যেতে পারে।
    ভালো লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *