বই মেলায় আর কি কি বই নিষিদ্ধ করা যায়, আসেন মাথা নত করে দেখে নেই !

১) মেলায় যে বই গুলো আসে তাঁর মধ্যে সব চেয়ে বেশি থাকে হল হল উপন্যাস আর কবিতা। উপন্যাসে অশ্লীল জিনিসের অনেক সুন্দর করে বর্ণনা থাকে, বেশি থাকে যৌন মিলনের বা বাংলায় যাকে বলে সেক্সের গল্প, এখানে লেখক সকল ধরনের নারী পুরুষের যৌন সম্পর্ক নিয়ে গল্প ফাঁদেন, তবে বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্ককে প্রাধান্য করে বেশি বেশি বর্ণনা দিয়ে থাকেন। বিয়ের আগে সেক্স হারাম। এক হারামী লিখেছিল ‘খেলা রাম খেলে যা’ এসব বই পড়লে সব কিছু তছনছ হয়ে যায়। আরেক হারামি অনেক আগে লিখেছিল ‘রাতভর বৃষ্টি’ , সে কি সুখ, আহারে, এই বই পড়লে সব ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। উফফফ! কি টান টান লেখা, কোথাও কোন সংযমের লেশ মাত্র নাই। এই সব বইয়ে অনেক সময় পাত্র-পাত্রীরা নিয়ম শৃংখলা ভেঙ্গে গিয়ে অভিসারে গমনের জন্য পাগল হয়ে উঠে, জাত ধর্ম সব বিসর্জন দিয়ে প্রেমিকের ধ্যানে তাঁরা মগ্ন হয়ে উঠে, বাঁধভাঙ্গা রথিক্রিয়ার জন্য তাঁরা পাগল হয়ে উঠে। লেখক তাঁর বর্ণনায় এমন ভাবে অবৈধ সম্পকর্কে জীবন্ত ও বাস্তব করে তুলেন , যা পড়লেই ইমানদারের অনুভূতি ভেঙ্গে লুটোপুটি খায়, তাঁরা তখন বিপথগামী হয়, তাঁরা তখন পতিতার প্রেমে পড়ে, বেগানা নারীদের প্রেমে পড়ে, তাঁরা তখন বই পড়তে পড়তে হস্ত ক্রিয়াদি রপ্ত করে, রসালো এইসব উপন্যাস আমাদের ধার্মিক জনতাকে বিপথে চালিত করতে পারে সেজন্য এইসব উপন্যাস আক্বিদা অনুযায়ী না লিখায় ব্যান করা উচিত।

২) কবিতার কথা আর কি বলব, কবিতা বলতে পারে না এমন কিছু দুনিয়াতে নাই। কবিতা সকল ধর্মাবতারের প্রেম কাহিনীকে শব্দের ঐন্দ্রজালিক মোড়কে ফেলে এমন বর্ণনা দিতে পারে যাতে পাঠক বুঝতে পারেন না সেখানে তিনি কবিতা পড়তে পড়তে অনেক সময় কবির লিখিত কবিতার বর্ণনা অনুযায়ী প্রিয় ধর্মাবতারের স্ত্রীর প্রতি ও আবেগে আপ্লুত হয়ে যেতে পারেন, এই ধরনের গুনাহের কাজ একমাত্র কবিতার দ্বারা সম্ভব সেজন্য ধার্মিকদের অনুভূতি খুব দ্রুতই স্খলিত হয়ে যায় তাই কবিতা বন্ধ রাখা উচিত। আরো আছে কবিতা খুব কাঁচা কাঁচা ভাষায় সুন্দর করে নারীর শরীরের বর্ণনা দেয়, তাঁরা নারীর ঠোঁটের নাম দেয় ফুল, স্তনের নাম দেয় বকুল আর নারীর যোনীর নাম দেয় মুকুল, অনেক কবিরা আবার নারীর যোনীকে উপত্যাকা ও বলে থাকেন। কি সব ভাষা মাইরি। আর ও এক প্রকার কবি আছেন, যারা নারীর শরীর আর যৌনতাকেই সাধনা মনে করেন, কি নাফরমানিরে বাবা, নিষিদ্ধ জিনিস নাকি তাঁদের সাধনা! কিছু কবি আবার শুধু নারী নয় পুরুষের লিঙ্গকে ও এমন কাঁচা ভাষায় বর্ণনা দেন যে সেটা খাড়া না হয়ে কোন উপায় থাকে না, তাঁরা এটাকে মর্থন দন্ড বলে থাকেন। উপন্যাসিকেরা তো তাও তো নারীদেরকে একটু কাপড় –টাপর পড়িয়ে বর্ণনা করে কিন্তু কবিরা; তাঁরা তো আরো নাফরমানি কাজ করেন, নারীর গায়ে একটা সুতো পর্যন্ত তাঁরা রাখতে চান না, নারীকে তাঁরা সবচেয়ে বেশি বেপর্দা করে কবিতার ভেতর দিয়ে ধার্মিকের মগজের মধ্যে এমনভাবে ঢুকিয়ে দেন যে হঠাৎ করেই তাঁরা রাস্তায় চাগ দিয়ে উঠতে দ্বিধাবোধ করেন না, কবিতার লাইন মনে করে কত লোক যে রওজার দিকে চেয়ে চেয়ে গম্বুজকে নারীর স্ফীত, সুডৌল স্তন মনে করে জিভে কামড় দিয়ে বেপথে গিয়েছে, এই আজাব কবরের ভেতর গিয়ে কেউ দেখে নাই কোনদিন। এজন্য এইসব আজাব থেকে বাঁচার উপায় একটাই সব কবিতা বন্ধ হবে।

৩) কবিতা উপন্যাসের পরে আর দুইটা জিনিসের নাম বলা লাগে, একটার নাম ছোট গল্প, আরেকটার নাম নাটক। নাটক একবারে চোখে আংগুল দিয়া মলম লাগিয়ে দেয়। গল্পে কিছু বলা থাকে না কিন্তু কাজের কাজ ঠিকই থাকে। এই রকম কিছু গল্প আগে লোকে পড়ত নাম ছিল হুজুরে কেবলা, জিবরাইলের ডানা আরো কত কি, তবে এই গল্পের লেখকরা খুব চতুর হয়ে থাকেন। তাঁরা ইশারা দিয়ে দিয়ে ফাও জিনিসের বাও ভাল ধরতে পারেন। এরা ইশারায় বলেন, এইগুলো হল ‘কেচ্ছাকাহিনী’, ছেলে ভুলানো গাল-গল্প। নাটকের ছলে বুঝিয়ে দেন, দড়ি ধরে মার টান , রাজা হবে খান খান !

৪) মেলায় কিছু বই লেখা হয় , দুষ্ট লোকেরা বলে এটাকে প্রবন্ধ, যারা লেখে তাদেরকে বলে বুদ্ধিজীবী, বুদ্ধিজীবীরা যাদের নিয়ে লেখেন তাঁদের বলে দার্শনিক, দার্শনিকরা যা লেখেন সেটাকে বলে দর্শন। এই দর্শন খুব ঝামেলার, সে শুধু খালি প্রশ্নই করে, প্রশ্ন করে করে ধর্মের কলকাঠি নাড়ে । এক দার্শনিকের নাম ছিল সক্রাতিস, ব্যাটার ভাব ছিল অন্য রকম, সে শুধুই বলত- ‘নিজের জিগাও’, তাঁর পর থেকে কিছু মানুষ কেবল নিজেরেই জিগাইতে শুরু করল, করতে করতে দেখা গেল, সে নিজেই সব। তাঁর উপরে কিছু নাই। মেলায় এই রকমের অনেক ধরনের দর্শনের বই বের হয় যেমন বস্তুবাদী দর্শন, মার্ক্সবাদী দর্শন, ভাববাদী দর্শন, সংশয়ী দর্শন, ব্যাক্তিবাদী দর্শন, মানবতাবাদী দর্শন, নানান প্রকৃতির চিন্তা আর উলটাপালটা কথা বার্তায় এই সব দর্শন ভরপুর। আর ও এক দার্শনিকের নাম হল মার্ক্স, ব্যাটায় কয় ‘ধর্ম নাকি আফিম’, এরা খুবই বাজে প্রকৃতির হয়। তাঁদের প্রধান কাজই হল মানুষের বিশ্বাস নিয়ে টানাটানি করা। তাঁরা মানুষের ঈমানকে টলাতে টলাতে জিরোতে নিয়ে আসে, ও, হ্যা, যে দার্শনিকের কথা না বললেই নয় তিনি হলেন সিগমুন্ড ফ্রয়েড। এই ব্যাটা এক খাঁটি সরেষ। তাঁর আগে সবাই বলছে মানুষ সব, সে এসে বলে, যৌনতাই মানুষের সব। যৌনতাই নাকি সমাজের পরিচালনার মূল, আস্তাগফিরুল্লাহ! সেক্স দিয়ে নাকি সমাজ চলে। ব্যাটা আরো কি জানি বলছে, মা-ছেলে, বাপ-বেটি, কি নাকি কম্পলেক্স! সাক্ষাৎ জাহেলিয়াত। মেলায় এইসব উস্কানি দেয়া হারাম জিনিস বন্ধ করে দেয়া যায়!

৫) সবশেষে বলা যায়, মেলা নিজে ও একটা, বেদায়েত জিনিস, এটাকে ও বন্ধ করে দেয়া উচিত! সব চেয়ে ভালো হয়, বাংলা একাডেমিকে বন্ধ করে দিলে, কি সব বাংলা ভাষা চর্চা, এত সব বড় বড় লেখক কিন্তু আরবী ভাষায় কোন উপন্যাস নাই, গল্প নাই, কবিতা নাই ,নাটক নাই, মানুষের ঈমান কি শুধু বাংলা ভাষায় ঠেকে, তাই এটাই বন্ধ করে আরবী একাডেমি করা উচিত, সেই সাথে আল্লামা শামশুজ্জামান সাহেবকে এর খতিব নিয়োগ দেয়া উচিত।

১ thought on “বই মেলায় আর কি কি বই নিষিদ্ধ করা যায়, আসেন মাথা নত করে দেখে নেই !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *