বাংলা !! একাডেমীর অমর একুশে বই মেলা। রসাতলের রসিকের রিপোর্টে বিস্তারিত…

মুহতারাম দুস্ত বুজুর্গ আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বরাকুতুহি।
প্রথমেই পবিত্র রবিউস সানি মাসের এই দিনে মহান মালিক আল্লাহ সোবাহানা তায়ালা আপনাকে আমাকে আরো একটি দিন হায়াতে জিন্দেগি বাচিয়ে রেখে তার গোলামি করার তৌফিক দান করেছেন এই জন্য লক্ষ কুটি শোকর গুজার করি।

মুহতারাম দুস্ত বুজুর্গ আসসালামু ওয়ালাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বরাকুতুহি।
প্রথমেই পবিত্র রবিউস সানি মাসের এই দিনে মহান মালিক আল্লাহ সোবাহানা তায়ালা আপনাকে আমাকে আরো একটি দিন হায়াতে জিন্দেগি বাচিয়ে রেখে তার গোলামি করার তৌফিক দান করেছেন এই জন্য লক্ষ কুটি শোকর গুজার করি।
দুস্ত বুজুর্গ এখন আমি দাঁড়িয়ে আছি আরব্য সনষ্কৃতির বিকাশ কেন্দ্র ‘’বাংলা!! একাডেমী’’ প্রাঙন।দুঃখের বিষয় নামটা এখনো বদলায়নি। হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ। রবিউসানির মাগরেবের এই বেলায় আমরা ঘুরে দেখবো অমর একুশে ইসলামি কিতাব মেলা । আপনারা দেখতেই পারছেন বিশাল দুটি মিনার দিয়ে এবারের কিতাব মেলার গেট বানানো হয়েছে।মিনার জুড়ে জলছে রঙ বেরঙের জয়তুন বাতি।আর চারদিকে মুহুর্মুহু করছে রাকমারি আতরের গন্ধ।

জেনে রাখা ভালো এবার এই কিতাব মেলা উদ্বোধন করেছেন সৌদি গ্রান্ড মুফতি আমিরে কুতুবিন মুমেনিন মাওলানা আল- ইসলাম ইবনে মাসউদ হুজায়বা বিন শুকুর আল আনসারী ওয়াল মাদানী। তার সাথে ছিলেন মাওলানা শফিউর রহমান হাটহাজারী (সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় মাশাল্লাহ হাটকুটিপতি) এবং জুনায়েদ বাবু মহানগরী। আর কিতাবের এই জলসায় মুলাকাত বক্তব্য রেখেছেন বিশিষ্ট ইসলামি ফিলোসফার ইসলামী বিজ্ঞানী ইসলামী যুক্তিবাদী জাকির নায়েক। আপনারা জেনে থাকবেন ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের মহান নেতা পাকিস্তানিদের জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাস্ট্র ভাষা বলে ডিক্লেয়ার করেছিল। ২১ মার্চের সাথে মিল রেখে একুশে রাখা হয়েছে। তবে কিছু মালাউনে মুস্লিম ভাবে উলটা। তারা মনে করে ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ মিল রেখে একুশে মেলা করা হয়ছে।মেলা শুরু করা হয়েছে অবশ্য ফেব্রুয়ারিতে। কেন এটা জ্ঞানী মাত্রই বুঝবেন।

যাহোক চলুন আমরা কিতাবের এই জলসায় কিছুক্ষন সময় কাটাই।

মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ !ওয়াল্লাহ সোবাহান আল্লাহ! মেলায় প্রবেশ করতেই আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কি সুন্দর! বিশাল হালাল ভাস্কর্য। বখতিয়ার ঘোড়া এবং সেই ঘোড়ার নিচে বসে আছে কবি আল মাহমুদ। ভাস্কর্য হালাল কারন মূর্তির গায়ে গোল চিহ্নের ভেতর লেখা আছে HMC Approved. মেলাটি দুটী অংশে বন্টক করা হয়েছে।কিবলামুখী অংশটুকু বাংলা!! একাডেমী প্রাঙন। এবং পূর্বমুখী অংশটুকু সোহরা ওয়ার্দী উদ্যানের দিকে।
আমরা এখন প্রবেশ করছি বাংলা!! একাডেমী প্রাঙন। চলুন ঘুরে দেখা যাক।

এখানে যে প্রাকাশনীগুলোর স্টল দেখতে পাচ্ছি তা হচ্ছে- আদম হাওয়া প্রাকশনী, সোনার মদিনা, বখতিয়া খিলজী, বাংলাস্তান কিতাব, কিতাবে মওদুদী, ইসা-মুসা প্রকাশনী, তাইরান আবাবিল, সালসাবিল, খুরমা-খেজুর প্রকাশনী। হাতের ডানে দেখা যাচ্ছে বাংলা!! একাডেমী প্রকাশনী। চলুন ঘুরে দেখা যাক বাংলা!! একাডেমী এ বছর আমাদের ইসলামী পাঠকদের খিদমতে কি কিতাব নিয়ে হাজির হয়েছে।

প্রথমেই জানিয়ে রাখছি বাংলা একাডেমী যে সকল বইয়ের উপর ৭০ শতাংশ ছাড় দিয়েছেন সেগুলী হচ্ছে- শেখ হাসিনা ও তার ইসলামী খিলাফত চিন্তা, পারস্য থেকে বঙবন্ধু- সম্ভ্রান্ত ইসলামী পরিবারের ছিলছিলা, life of Jakir Nayek- Intellectual Figure For Islam., Sheikh Mujibur Rahman- A great Islamic Soul, Badshah Abdul Aziz-A Royal Islamic buddy, বখতিয়ার থেকে শেখহাসিনা-ইসলামের খাস খাদেমেরা । এছাড়াও বাংলা!! একাডেমীর পরিচালক শামসুজ্জামান খান ইসলামকে কাফের নাসারা নাস্তিক সবার কাছে তুলে ধরার জন্য প্রায় ১৩ বছর গবেষনা করে একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম Quran-The bible of everything. তবে বইটির নাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের ইসলামী মক্তমনা, বুদ্ধীজীবী সমাজ। এছাড়া দেশের বিচার ব্যবস্থা- কেন বইটির নামকরন অবৈধ হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছেন। বইটির নিয়ে শামসুজ্জামান খানের বক্তব্য – দেখেন আমি নিজেও ইসলামের খাদেম। বইটার নাম নিয়ে আপত্তি থাকলে আমি আজি নাকে খত দিয়ে এই বইয়ের নাম পরিবির্তন করে ফেলব। শুনা যাচ্ছে বইটার নাম হবে Quran- The Quran of everything. বইটি আরবী ফার্সি উর্দু এবংবাঙলা সংষ্করন মেলায় এসেছে।

জানিয়ে রাখি পুরো কিতাবের জলসাকে সাজানো হয়েছে খুরমা বৃক্ষ দিয়ে। সবুজ ঘাসের উপর ঢালা হয়েছে কয়েকটন বালি। যাতে লেখক পাঠক একধরনের আরব্য আমেজ পায়।

চলুন মেলায় আগত একজন ক্রেতার সাথে কথা বলি। এই যে মোহতারিমা- আসসালামু ওয়ালাইকুম। কেমন লাগছে কিতাবের এই জলসায়?
ক্রেতা- আলহাম দুলিল্ললাহ মাশাল্লাহ।মেলায় এসে খুবই ভালো লাগছে। বিশেষ করে মনে হচ্ছে আরবের কোন শহরে কিতাব কিনতে এসেছি। তবে মেলায় দুয়েকটা উট আর দুম্বা ছেড়ে দিলে পরিপূর্ন ফিল পেতাম।

চলুন একজন বাচ্চা পাঠকের সাথে কথা বলি। এই যে শিশু গেলেমান কি কিতাব কিনলে?

শিশু- আমি দুইটা বই কিনছি। একটি হচ্ছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আরবী শিক্ষা, হালাল কমিক বুক- আবাবিলম্যান।

মোহতারাম দুস্ত বুজর্গ চলুন এবার আমরা সোহরা ওয়ার্দী উদ্যানের দিকে একটু ঘুরে আসি। এই পাশে গেটের ঠিক বাম পাশেই রয়েছে লেখকদের বসার জন্য একটি বিশাল তাবু।যার নাম করন গিয়াস উদ্দিন আজম জলসাঘর ।এখানে লেখদের জলশা বসবে। সেই সাথে হবে ইসলামি ইন্টেলেকচুয়াল আলোচনা। আজকে আলোচনায় দেখা যাচ্ছে ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, ফরহাদ মাজার, ব্রাত্য রাইসু, আব্দুর নুর তুষার, মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, ফারাবী প্রমুখ। আজকের আলোচনার বিষয় আইসিস ইস্লামের জন্য হুমকী না আর্শীবাদ। আগ্রহি যে কেউ আলোচনায় যোগ দিতে পারেন তবে শর্ত হচ্ছে ইসলাম অনুরাগী হতে হবে।

আমরা দেখতে পাচ্ছি আমার ঠিক সামনের স্টলটি , স্টলটির নাম হ্যা বাঁশের কেল্লা স্টলে প্রচন্ড ভীড় জমেছে। চলুন ঘুরে আসি একটু এই স্টলটিতে।এই স্টলে যে সকল বইয়ের খুব কাটতি যাচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- প্রথম দর্শনে একটি মেয়ে; ছেলের যে অঙ্গগুলোর দিকে তাকায়, জেনে নিন নারীর গোপন ১০০ টি প্রত্যাশা, কি খেলে কি বাড়ে, হালাল তরীকায় যৌন মিলন, যৌন মিলনে যে সকল পদ্ধতি কবিরা গুনাহ, সৌদি রাজরানীদের গুপন আকাঙ্ক্ষা, সখী প্রেম শেখাব তোমারে, রসের বাইদানি, সাড়ে তিন হাত শরীর বারো হাত শাড়ী, আয় খেয়ে যা, টক-মিস্টী নোনতা প্রেম, কুসুম গরম হালকা নরম।

এছাড়াও রয়েছে চে গুয়েভারার চোখে জিহাদ, ইসলামি কমিউনিজম, ইহুদি নাসারাদের চক্রান্তে ইসলাম, ইমাম মাহদী কবে আসবেন, বিধর্মী মনীষীদের ইসলাম গ্রহণ, ইসলামি মক্তচিন্তা, ইসলামি বিবর্তনবাদ, কুরান-বিজ্ঞানের আদি অন্ত, থিওরী অব রিলেটভিটির কুরানিক ব্যাখ্যা, টম ক্রুজ- কেন আমি মুসলমান হলাম।

চলুন প্রখ্যাত বিজ্ঞান লেখক মাওলানা ওসমান গনি শাইখুল হাদিছের সাথে কথা বলি। এবারের বই মেলায় আপনার কি বই বেরিয়েছে ?

মাওলানা ওসমান গনি শাইখুল হাদিছ- পাঠকদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ দেখে আমি কুরানের উপর বিশেষ গবেষনা করে বের করেছি ইসলামি বিবর্তনবাদ। বইটি মদিনা ইউনিভার্সিটির পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে।

এই যে একজন তরুন মাত্র একটি কিনলেন। আপনি কি বই কিনলেন জানতে পারি?

তরুন- বেশ কয়েকটি কিনেছি তার মধ্যে রয়েছে সোলায়মানি খোয়াবনামা, চে গুয়েভারার চোখে জিহাদ। আরেকটা হচ্ছে কি খেলে কি …না বলা যাবে না।

মোহতারার দুস্ত বুজুর্গ এই মাত্র আমার কাছে একটি গরম খবর পৌছাল। বই মেলার একটি প্রকাশনী থেকে নাকি কয়েকজন পুলিস বেশ কয়েকটী অইসলামি বই জব্দ করেছেন।তার মধ্যে পশচিমাদের বিজ্ঞানের বই, ইস্লামকে কটুক্তি করে লেখা গল্পের বই। জানতে পারলাম গল্পের বইতে একটি লাইন রয়েছে এরুপ—

‘’ বসন্তের শেষ বিকেল। দুর থেকে ভেসে আসছে করুন আজানের সুর’’

এখানে আজানের সুরকে করুন বলে ইস্লামকে কটাক্ষ করেছে। এ ব্যাপারে উপস্থিত একজন বুদ্ধিজীবী বললেন- দেখুন আজানের সুর সব সময় মিস্ট। সেখানে এটাকে করুন বলা উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং এর সাথে ইহুদি নাসারেদের গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি।এইজন্য একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি লেখকের পাওয়া উচিৎ।

জানিয়ে রাখি সরকার বিষয়টী খতিয়ে দেখছেন। তবে তৎক্ষণাৎ করুনীয় হিসেবে একাডেমীর পরিচালক শামসুজ্জামান খান শফি হুজুরের কদমে কদম্বুচি করেছেন এবং বই টীর প্রকাশক লেখক এমনকি সেই প্রকাশনীর দারোয়ানকে পর্যন্ত মেলায়া আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন। তাদের সকল বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লেখক শ্রী ঘরে দিন গুজরান করতেছেন।

একাডেমীর পরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেছেন- আগেই নিষেধ করেছিলাম ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু প্রাকশ করিছ নারে ভাই। আমরার বেহেশতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। হুর লইয়া গড়াগড়ী খাইতে কার দিলে না চায়। শফি হুজুর যদি একবার নারাজ হয় আমার উপর তাইলে কিসের হুর কিসের গেলমান। খালি আগুন আর আগুন।

দুস্ত বুজুর্গ দেখুন একাডেমীর এই দেয়ালে লেখা আছে কি সুন্দর করে-

‘একুশ মানে হার না মানা’’

দেখেছেন নিশ্চয়ই পরিচালক হার মানেন নাই। লেখককে জেলে পাঠিয়েছেন শফি হুজুরের কদমবুচি করেছেন প্রয়োজনের হুজুরের অংগপ্রত্যাশাকে খুশি করবেন তবুও হার মানবেন না। হুজুরকে খুশি করেই ছাড়বেন ইনশাল্লাহ।

মুহুতারাম দুস্ত বুজুর্গ এই ছিল অমর একুশে কিতাব মেলা। আগামী দিন আসব অন্য কিছু নিয়ে ততোক্ষন সহীহ সালামতেই থাকুন।

রসাতলের রসিক
রসাতল টেলিভিশন
বাংলা !! একাডেমী।

(এই লেখার সমস্ত বিষয় ও চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবে মিলে গেলে তা একান্তই বক(কাক)তালীয় )

২ thoughts on “বাংলা !! একাডেমীর অমর একুশে বই মেলা। রসাতলের রসিকের রিপোর্টে বিস্তারিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *