বইমেলায় ফেসবুকীয় ভালোবাসা গল্পের রথ

আমার বন্ধুদের অনেকের ধারণা আমি যেহুতু ব্লগিং করি এবং নিয়মিত লিখি, তাই আমি হুট করেই গল্পের বা উপন্যাসের একটি বই নিয়ে চলে আসব বইমেলায়। আবার অনেকে ভাবে, “অনেকে তো ছাপাচ্ছে।তুই বাদ কেন??”
.
প্রথমেই বলতে চাই, “হাহাহা!! তেলাপোকা উড়লেই তো আর পাখি হয়ে যায় না।”
.
কথাটা ব্যঙ্গাত্মক এবং নেগেটিভ হলে অনেক বেশি সত্য একটি কথা। সাহিত্য নিতান্তই তুচ্ছ বিষয় না যে কেউ দুবছর চর্চা করলেই এসে পায়ে পড়বে। আর সবাই কাজী নজরুল নয় যে, এক রাতেই একটা বিদ্রোহী কবিতা শেষ করবে।
.

আমার বন্ধুদের অনেকের ধারণা আমি যেহুতু ব্লগিং করি এবং নিয়মিত লিখি, তাই আমি হুট করেই গল্পের বা উপন্যাসের একটি বই নিয়ে চলে আসব বইমেলায়। আবার অনেকে ভাবে, “অনেকে তো ছাপাচ্ছে।তুই বাদ কেন??”
.
প্রথমেই বলতে চাই, “হাহাহা!! তেলাপোকা উড়লেই তো আর পাখি হয়ে যায় না।”
.
কথাটা ব্যঙ্গাত্মক এবং নেগেটিভ হলে অনেক বেশি সত্য একটি কথা। সাহিত্য নিতান্তই তুচ্ছ বিষয় না যে কেউ দুবছর চর্চা করলেই এসে পায়ে পড়বে। আর সবাই কাজী নজরুল নয় যে, এক রাতেই একটা বিদ্রোহী কবিতা শেষ করবে।
.
হ্যাঁ, ইদানিং অনেক বেশি নজরুল নামক “বজলুর” আর রবীন্দ্রনাথ নামের “শিবুনাথ” এই ফেসবুকে আছে। তারা প্রতিদিন গল্প বা কবিতা লিখেই চলেছে। আশ্চর্য হলেও সত্য যে, তাদের কবিতা বা গল্পেন থিম একটাই… ” ভালোবাসা “।
.
যদিও তারা বানানটা ভুল করে এবং নিজেদের অনেক বড় মনে করে তথাপি ভালোবাসা ছোট কিছু না। প্রেমের মজনু হয়ে দেবদাস আর প্রেমের ছ্যাঁকা খাওয়া শিবুদাস এক না বলেই বলছি, ওরা রামছাগলের একটা জাতি বিভেদ। রামছাগল কে যেমন যতই বলুন কোনদিকে যাবে না বুঝে একদিক দৌড়ায়, এরাও ঠিক তেমনই…
.
ভালোবাসার গল্পের একই কথা ঘুরে ফিরে, ” ভাত নাই রে” ” আমি বেকার তবু ভালোবেসে যাই” ” জানতাম তুমি আমার হবেনা ” ” তবু ওই ভর্তাভাত ই আমি খেতে চাই” জাতীয় লিখা প্রকাশ করে তারা হাজার হাজার আবালময় এবং ব্যর্থতাযুক্ত লাইক কামান বটে, তবু তারা সাহিত্যের কিছুই এখনো যেমন বোঝেনি তেমন শিখতেই চায়না।
.
এসব ফেসবুক গল্পকারদের ৮০% এর আরেকটা সমস্যা হল, তারা প্রচুর গালিগালাজ করেন কমেন্টে। আমার লেখা কেউ খারাপ বললে আমি সেটার শিক্ষা নিলেও তারা বলে, ” লেখা খারাপ হলে তোর কি হারামজাদা “। অতঃপর তারা এখন লেখক সম্প্রদায় এবং বইমেলায় কাস্টিং ম্যানেজার।
.
বর্তমান প্রকাশকেরা বই প্রকাশ করবার আগে বোধ করি তার ফেসবুক জনপ্রিয়তাটা দেখে নেন!! বুঝতে হবে তো, বই বিক্রি হতে হবেনা!! তাই এই রামছাগলের দল ইদানিং বইমেলায় ঘোরাফিরা করে। যা খুবই শোভনীয়। একদল রামছাগল কিছু মানুষের মাঝে বলে বেড়াচ্ছে, ” আমার বইটা ৫ পিস নিও।” এটা দেখতেই ভালো লাগে। কি সৌন্দর্য!!
.
সাহিত্যিকরা সবচেয়ে ভালো জানেন যে, লিখে পেট ভরেনা। তাই লেখালেখি করাটা বই বেচার জন্য নয়। লেখালেখির কারণটা সম্পূর্ণ নিজে। নিজের আত্মার বিকাশ, তার উন্মিলিত রূপ হল সাহিত্য। এটার সাথে “কত পিস বই গেল” এটার সংযোগ থাকলে বোধ করি শরৎবাবু ১৩-১৪টা বই লিখতেন না।
.
আর এই কচিকাচার দল এখনো নিজেকে অনেক বেশি স্মার্ট মনে করে। তাদের ধারণা হুমায়ুন আহমেদ তাদের থেকে বেশি বয়েসে বই বের করায় তিনি এখনো পিছিয়ে আছেন। তাই তারা যে কাউকে হেনস্তা করতে কখনো পিছপা হোন না।
.
আমি কি ভালোবাসার গল্প লিখবার বিরুদ্ধে?? তা অবশ্যই না। তবে সবকিছুর একটা সামঞ্জস্য থাকে তো। একজন লেখক যদি তার সমস্ত জীবন এই এক ভালোবাসার রিকশার হুডের নিচের গল্প লিখে পার করেন, তবে তিনি হয়তো “চটি গল্পকার” হতে পারেন, “সাহিত্যিক” নন। যারা একই ধাঁচের একই গল্প কপি পেস্ট করেন, তাদের লেখাই বলে দেবে সে কপিবাজ এজন্য সে এই প্লট ছাড়ছে না। এছাড়া আর কি ই বা বলা যায়??
.
আর এসব গল্পকারদের অধিকাংশ অসংখ্য বানান ভুল করেন। আমি ভুলের উর্ধ্বে নই, কিন্তু লেখক হিসেবে তো নূন্যতম জ্ঞান থাকা দরকার তাদের।
.
তবু তাদের অসংখ্য ফ্যানের জ্বালায় জমজমাট হোক বইমেলা। তবু জনগণ গাঁজা না কিনে গাঁজাখুরি গল্পের বই কিনুক। এইতো সার্থকতা!

৩ thoughts on “বইমেলায় ফেসবুকীয় ভালোবাসা গল্পের রথ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *