চুম্বনের স্বাধীনতা সৃষ্টি

আমরা এমন একটি সমাজে বেড়ে উঠেছি যেখানে মানুষের স্বাধীনতা নেই। ছোট্ট কিছু করতে হলেও অজস্রবার চিন্তা করতে হয়। করা কী ঠিক হবে কি না? একটি বাক্য ব্যয় করতে হলেও অসংখ্যবার চিন্তা করতে হয়, বলা কী ঠিক হবে কি না? মানুষ ভয় পায়, ভয় পেতে সমাজ শিখিয়েছে। মানুষ দেখেছে ও জেনেছে, এই সমাজ কট্টর রীতিনীতি’তে বন্দি। স্বাধীনতা শব্দটির সাথে মানুষ পরিচিত হতে চাইলেও, ভয়ভীতি লোকলজ্জার কারণে অপরিচিত হিসেবে থাকাকেই গুরুত্ব দিয়েছে।


আমরা এমন একটি সমাজে বেড়ে উঠেছি যেখানে মানুষের স্বাধীনতা নেই। ছোট্ট কিছু করতে হলেও অজস্রবার চিন্তা করতে হয়। করা কী ঠিক হবে কি না? একটি বাক্য ব্যয় করতে হলেও অসংখ্যবার চিন্তা করতে হয়, বলা কী ঠিক হবে কি না? মানুষ ভয় পায়, ভয় পেতে সমাজ শিখিয়েছে। মানুষ দেখেছে ও জেনেছে, এই সমাজ কট্টর রীতিনীতি’তে বন্দি। স্বাধীনতা শব্দটির সাথে মানুষ পরিচিত হতে চাইলেও, ভয়ভীতি লোকলজ্জার কারণে অপরিচিত হিসেবে থাকাকেই গুরুত্ব দিয়েছে।

এমন সমাজে স্বাধীনতা সৃষ্টি বড্ড কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। সামাজিক আড়ষ্টতা থেকে বেড়িয়ে মুক্তভাবে বিচরণ করাই স্বাধীনতা। যা অধিকাংশের কাছেই স্বপ্ন, কল্পনা। দেশের জ্ঞানীগুণী সাহিত্যিকেরা যেখানে সামাজিক আড়ষ্টতা থেকে বেড়িয়ে অবাধ বিচরণে ব্যর্থ, প্রগতিশীল নামধারী ব্যক্তিবর্গ ও বাম ছাত্র সংগঠনেরও চিন্তার সীমানা যেখানে সীমাবদ্ধ- সেখানে সাধারণের চিন্তাধারা বোতলে আবদ্ধ থাকবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

প্রথাবিরোধী হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন,

‘শিল্পীর কতোটা স্বাধীনতা দরকার? নির্বোধেরা মনে করে এবং দাবী করে যে শিল্পীর দরকার অবাধ স্বাধীনতা। যেনো শিল্পীকে সমাজরাষ্ট্র অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে দেবে, আর সে মনের আনন্দে শিল্পকলা সৃষ্টি করে চলবে। এটা শিল্পকলাও স্বাধীনতা সম্পর্কে এক মর্মস্পর্শী ভ্রান্তি। সত্য এর বিপরীত। সাধারণ মানুষের থেকে একবিন্দুও বেশি স্বাধীনতা শিল্পীর দরকার নয়; সাধারণ মানুষেরই দরকার অবাধ স্বাধীনতা, কেননা তারা স্বাধীনতা সৃষ্টি করতে পারে না। শিল্পীর কোন দরকার পড়ে না দিয়ে দেয়া স্বাধীনতার, কেননা শিল্পীর কাজই স্বাধীনতা সৃষ্টি করা, আর স্বাধীনতা সৃষ্টি করার প্রথাগত নাম হচ্ছে শিল্পকলা’।– হুমায়ুন আজাদ

দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকেরা যেখানে নতুন চিন্তার আবির্ভাব ঘটাতে পারে না, সেখানে সাধারণ জনগণ গোয়ালেই পড়ে থাকে। নতুনকে স্বাগতম জানাতে জনগণ প্রস্তুত কখনোই ছিল না। তারা আতংকিতবোধ করে, ভীতবোধ করে, দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়, অসুস্থবোধ করে। কারণ তারা যাদের মান্য হিসেবে দেখে তারাও নতুনত্বকে বরণ ও ধারণ করতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থার করুণ অবস্থার কারণে অলৌকিক গদ্যকে সত্য মনে করে, বাস্তব সত্য ও স্বাভাবিক বিষয়কে অশ্লীল ও নোংরা বোধ করে।

প্রকাশ্য শব্দটির বিপরীত নিভৃত। নিভৃত কিংবা গোপন শব্দদ্বয়ের সাথে বাঙালি অভ্যস্ত। ছোটকাল থেকে পরিবার সমাজ থেকে দেখে আসছে গোপনে সব কিছু সম্ভব। কিন্তু প্রকাশ্যে সব কিছু অসম্ভব, খারাপ, বাজে, অশ্লীল। গোপনে যা করলে বৈধতা ঘোষণা দেয়, সেগুলোই প্রকাশ্যে করলে অবৈধতার দাবি তোলে।

কিন্তু প্রকাশ্যে অনেক কিছুই হয়। যেমন রাজনীতিকেরা প্রকাশ্যে মিথ্যে বলে, দুর্নীতি করে, ঘুষ খায়, হুমকি দেয়। এগুলো সব কিছুই অবৈধ, কিন্তু ক্ষমতাধর হওয়ার কারণে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশে সবই বৈধ। জনগণ ক্ষমতাধরদের ভয় পায়। তারা সাড়াশব্দ করে না। কারণ তাদের সেই স্বাধীনতা নেই, স্বাধীনতা সৃষ্টি তারা করতে পারে নি।

চুম্বনে জনগণ অশ্লীলতা খুঁজে পায়। প্রকাশ্যে চুম্বনে সংস্কৃতি ধ্বংসের হাহাকারে মেতে উঠে বাঙালি। বিবাহের পূর্বেই অধিকাংশ বাঙালি চুম্বনের স্বাদ গ্রহণ করে। লুকিয়ে, গোপনে। সমাজ নাম দিয়েছে, গোপনে যা শ্লীল, প্রকাশ্যে তা অশ্লীল। চুম্বনের পূর্বে ও মধ্যবর্তী সময়ে তারা নিজেদের বাঙালি ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কার্যক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই তারা বাঙালি থেকে মুসলমান হয়ে উঠে। বাঙালি মদ্যপান করে; মদ্যপানের সময়ে তারা বাঙালি থাকে, পরবর্তীতে আবারও মুসলমানে ফিরে আসে। এই হচ্ছে বাঙাল মুসলমানের আসল রূপ। কিন্তু প্রকাশে বাঙালি ও মুসলমান বিশ্বাসী নয়। প্রকাশ্যে বললে যত যা সমস্যা। গোপনে সবই বৈধ। চিন্তার স্বাধীনতা বাঙালিদের হয় নি। তারা নিজ কেন্দ্রে বসেই জগত উদ্ধার করে।

বাঙালি যতটা না বাঙালি, তার থেকেও বড় মুসলমান। ইসলাম ধর্মে যেহেতু চমৎকার চমৎকার সব কিছুই নিষেধ কিংবা অবৈধ; তাই তারা প্রয়োজনে বাঙালি সাঁজে, কাজ শেষে মুসলমান হিসেবে বুক ফুলিয়ে চলে। প্রয়োজনে তারা বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে টানাটানি করে।

মুসলমান দেশগুলো মূলত সৌদি, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, কসভোর মুসলমানরাও একই ধরণের চিন্তাধারা পোষণ করে যেমনটা বাঙলাদেশের মুসলমানরা চিন্তা করে। এ সব দেশগুলোতে চুম্বনের স্বাধীনতা গোপনে স্বাভাবিক। কিন্তু প্রকাশ্যে চুম্বনের ঘোষণা দিলে ধর্ম যায় যায়, জাতি যায় যায় রবে ফেটে যায় চেতনাবাজরা।

ইতিপূর্বে বাঙালি ও মুসলমান চুম্বনে স্বাধীনতা সৃষ্টি করে ফেলেছে কিন্তু প্রকাশ্যে নয়, বরং গোপনে। প্রথমে বাঙালি সব কিছু নিয়েই চিৎকার করে; এমন নয় যে পরবর্তীতেও তারা গ্রহণ করে না। তারা সব কিছুই করে ও চায়। কিন্তু প্রকাশ্যে বলতে লজ্জা ও ভয় পায়।

২ thoughts on “চুম্বনের স্বাধীনতা সৃষ্টি

  1. ইসলাম ধর্মে যেহেতু চমৎকার

    ইসলাম ধর্মে যেহেতু চমৎকার চমৎকার সব কিছুই নিষেধ কিংবা অবৈধ; তাই তারা প্রয়োজনে বাঙালি সাঁজে, কাজ শেষে মুসলমান হিসেবে বুক ফুলিয়ে চলে।

    হ্যা মদ, জুয়া, ব্যাভিচার, পরকারীয়া, সমকামিতা ইত্যাদি বিষয়গুলো ইসলামে হারাম। আর এই বিষয়ইগুলোই আপনাদের কাছে চমতকার আর উপভোগ্য।ধন্যবাদ আপনাকে সত্যকে প্রকাশ করার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *