একজন ইমামের ভ্যালেন্টাইনস ডে

রাইত ৩ টা বাজি গেছে। মালনা সাবের অয়াজ শুইন্তে শুইনতে সক্কু দিয়া ফানি ফইডতে সিলো, আবেগে কখন যে গুমাই গিসি টেরফাই নাই। অযু গরি তাহাজ্জদে নমাসের উদ্দেশে খাড়াই গেলাম, নমাসের নিয়ত ফাট কইত্তেসিলাম, আচুক্কা কানে তব্দা লাগি গেল! বয় ফাই গেলাম শব্দ শুনি । বুমা ফাডার শব্দ কানের কাসে এলো মনে অইতেসিল। আমি সুরা বুলি গেলাম । কিসসু বুগতে ফাইত্তেসিলাম না। কুন টকাইর বাইসসা এত রাতে বুম্বাসটিং কারাসে? লা’নত দিতে সিলাম দিল দিয়া। নমাস আর ফাট করা অইলো না। শয়তানে ফাই গিসিলো এইয়া শিওর অইলাম। ফযরের নমাস আদায় কইত্তে মরসিদের ফানে সুটিলাম, সা’য়ের দকান খুলে নাই। হরির ফুতে বিবির সাতে কেস্কি দিয়া গুমাইতেসে মনে অইতেসিলো। নমাসে খাড়াই গেলাম। মরসিদে আসার ফানে দেইকলাম সব সুপসাপ। রোজ যেমন দেখি তেমনই মনে অইতেসিলো। মনে ফ্রশ্ন বর কইরলো; তবে বুম্বাস্টিং এর আলামত কুতায়্? নমাসের খতম বাদে ময়াড়জ্জিন কে আস্ক কইল্লাম ঘটনা ডা কিতা ? হেতি জবাবে বইললো! অকি! আমি ত টেরই ফাই নাই। কিতা কন হজুর ? বুইজলাম এই ময়াড়জ্জিন হরির ফুতেও সা’র দুকান্দারের মত সেগাই গুমাইতেসিলো অজ্ঞানের মত গরি তাই টের ফায় নাই। মনে তীব্র শংকা বর কারাসে আজিয়া। কিবাবে কিবাবে জানি মানস দ্বিনের পথ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সড়ে যাইতেসে। এইয়া ত কেয়ামতের লক্ষ্যন বলি আমার দিল তরফায়। দু সুক ঘুলা অই যাইতেসে। গুম ফাইতেসে কুব্বেশি । সা খাইতে অইবে। দুকান্দার বেটা সমাদর গরে খুব। ফিসনে অনেকেই বলে এমুন তাগ্রা যুয়ান হজুরের ফিসে নমাস ফইড়ে আসলেই আমাগের ম্যালা ল্যাব অইতেসে। যুবা হজুরের বুল্ব্রান্তি কম হয়। তাসাড়া আল্লা ত বলাসেন যুয়াঙ্কালে ইবাদতে নেকি বেশি! দুকান্দার বেটা বইললো হজুর আজিয়া ত একটা বিশেষ দিন জানেন নি? না বলিয়া মাথা নাড়াইলাম। “না জানিনা” আজিয়া কিতা বিশেষ দিন? রমজান মাসের চাঁদ ত দিখা যাইবে না এই দিনে, এইয়া মেলা দেরি আসে একনো। তবে দুকান্দার বাইয়া তমি কিতা বিশেষ দিন বইলতেস? হারামি দুকন্দার দাঁত ক্যালাতেসিল আর বইলতেসিল আজিয়া ত ‘বেলেনটাইন ডে’

-এইয়া কিতা দে? বুজাই কও গ বাইয়া। হাম নেহি মালুম হুয়া থা।

– অগ হুজুর আজিয়া অইতেসে বালুবাসা দিবস। এই দিনে বালুবাসার কারাবেন সুদু বাল্বাসা আর বালবাসা। আমার বউ ত আজিয়া রাইতে আমারে এমুন বালবাসা দিয়েসে ইসসা অইতেসিল না আজিয়া দুকান্ডা খুলি । কিন্তুখ , কাইল ত কিস্তি দেতে অইবে তাই খুইল্লাম।

– ঐ মিয়া কিতা কইতেস এসব (নাউজুবিল্লা! ) সয়ামী স্ত্রী কি কইরবে না কইরবে এইয়া ত নাফাকি কতাবার্তা। আমার আল্লা (সুঃবঃ ) বলাসেন এইয়া গুফন তরীকা গুফন রাইখতে। তমাকে কিতা আজিয়া মকর (আঃ) সয়েস কারাসি নিকি?
– না গ মালানা সাব আসলে খেয়াল সিলো না।। কার সামনে কি বইলতেসিলাম। মাফ করিদ্যান।
আজিয়া ত আমার ম্যালা কাম। রিস্কায় উইডলাম। হাজী সাবের কাসে যাইতে অইবে। মরসিদের অযু র কলের জইন্য কিছু টেকা আর আমার বেতন অ ত আনা অয়নাই, এদিকে ফকেট ত ফাকা । মিলাদ ত অয়না আগের লাহান।। মিলাদ শেষে যকন হাতে ৫০০ টাকার একখানা নোট গুজে দেয় তকন আমার জান্নাতি ফিল অয়। আল্যার রাস্তা ছাড়া এমন সমাদর আর কই আছে?এ ভেবে দিলে প্রশান্তি সলি আসে। শুক্রিয়া জানাইতে থাকি তকন। রিস্কা আলাকে জিগাইলাম অগ বাইয়া আজিয়া তাহাযযদ ফাডিবার সময় আৎকা বুমার আবাজে আমার নমাস আদায় অয়নাই। আজিয়া নাকি কিতা দিবস? জাননি ? কিতা আজিয়া গ বাইয়া?

– অগ হজুর আজিয়া ত বেলন্টাইন ডে। বিশ্ব বালবাসা দিবস। এই ত মারতো দুইজন নামাই দিয়া আইলাম ফার্কের সামনের গেটে । তা আফনেও কি ফার্কে যাইবেন নিকি একবার ? ঘুরার ফতে?
-ধুর মিয়া! কিতা বইলতেস না বইলত। আমার আজিয়া মেলা কাম আছে। হাজি সাবের কাসে যাইতে অইবে। টেকাটুকা নাই । ফকেট ত ফাকা। তমার ভাড়াঅ হাজির সাবের কাস থেকে নিয়া দেয়া লাইগবে।। তমি সইন্দ্যায় কাসারি ঘরের ফুকুর ফাডে আইস।

শাবাগে সলি আইসি। আর একটু দুরেই হাজি সাবের অফিস এলিপেন্ট রোডে র মাতায় উনি বসেন। রাস্তায় জেমে বসি দুফুর ত অইল গেল । মাতার উরফে রউদ খেলা কইরতেসে, আমি ত জুব্বা ফডি থাকি হজুর মানস বলে কতা সুন্নতী পোশাক ফডাই ত আমাগের কাম , নিকি তাইলে? পতমদ্যে আমার সুক আটকাই যায় একখানা দৃশ্যঅ দেখিয়া, কিসুদুরে তাকাই দেকি, এক জেনানা বেশরিয়তি কাফর শাড়ি ফডিদান করি সিত অই ফডি গিসে রাস্তায়। রিস্কায় বসা তার জানে জিগার রঙ্গিল সসমা লাগাই ভোন্দা অইয়া বসি বসি দেইকতেসে। তারঅ ফাশে দুই কামলা বেডি ঝুড়ি হালাই দেই জেনানাকে উডাইয়া লইল। ঐ ফডার মুর্হুতে আমি একনজরে দেইখতেসিলাম তার উদ্যম প্যাট মোবারক। এ ফেটেই ত আল্লা তার বান্দাকে সেন্ড কারাবেন শিশু বানাইয়া। তার
“কুদরত দেইক্ষা মানসের অয়না হুশ, একি মুজেজা অগ আল্লা মানসের ফেটে মানস”।

ধীরে ধীরে সুক মুবারক উরফে উডি যাইতেসিল এমন টাইম ঐ বেডিরা হেতিকে দরাধরি গডি উডাই লই গেল। এদিকে লালা ফইত্তে যাইবে এমন একটা ভাবে সিলাম, তৎক্ষণাৎ গুনার ডরে আমি আমার সোক মবারক অন্য দিকে ফিরাই লই যাই। লেকিন দিল ত তরফায়, কিতা সব আলিজালি খাল্লিবাল্লি ভাবনা মাতায় আইসা বর কইত্তেসে আজিয়া! সব ত ফ্রকাশঅ করা যাইবে না। গাফেল ভাবি বইসতে ফাডে অনেকেই! এদিকে হাজি সাবের কামড়ায় আসিয়া ফুলিশ বাইয়াকে সালাম দিয়া বিত্রে হান্দাই গেলাম।

হাজিসাব- কিতা খবর মুনিম? তমি কেমুনাস ? আইলা কিবাবে ? আজিয়া ত রাস্তায় যে জেম কিতা দিবস না কি যেন শুনিলাম ফতে রিস্কাআলার মুকে বেলুন টাইট দে না কিতা যেন বইললো ঐ বেটা।
আমি- জ্বি জনাব। বেত্তমিজ রিস্কাআলা গুলা ইদানিং লক্ক কইত্তেসি হেদু ডান্দিফটাশ মালাউন অই যাইতেসে দিনে দিনে। নমাসের খবর নাই আল্লা খোদার নাম নাই সারাদিন রিস্কা সালায় আর কি সব বেদাতি গান গায়। দকানে বসি সা খায় আর এই চায়ের ছুতায় বসি বসি টেলিবিশনে লেংডা সবি দেকে। ফতে শুইনলাম এক হরির গুতে গাইতেসে ‘রূপে আমার আগুন জ্বলে যৌবন ভরা ঠ্যাঙে’ আবার এক রিস্কাআলা অইন্য রিস্কাআলাকে বইলতেসে “হেফি বেলুন টাইট দে”। এইয়া ত কেয়ামতের আলামত মনে অইতেসে। সবাই ত দ্বিনের ফত থেকে দূরে সরি যাইবে। তারফরেই আইবে ইমাম মাহাদি, হেদু-কাফের গুলারে তকন বুজামু মজা।

হাজী- মুনিম তমি বাইয়া দেইখতেসি বেশি কতা বল ইদানিং। এইয়া খারাফ। বয়সের কালে ত আমিও কম মজা কারাসি নিকি? একদিন রাইতে ত কলেজের হলে বসিয়া রাইতের বেলা এক সারতী কি লিয়ে যা খুশি তা মজা কারাসি আমি আর দ্বীন মোহাম্মদ মলানা সাবে। একন অবশ্য এবস সারি দিসি। আলহাজ্ব মানস , এইতা এখন কইরলে মানস ছিঃছিঃ কইরবে। যা করার করি লইসি যৌবনে। এখন আর বাইসবই বা কয়দিন মরি যাইব তাই আল্লার ফতে সুমায় কাডাইতেসি। তাও কি দমন কইরতে ফাডি নিকি? মাজে মাজে ইসসা করে কোন ষোড়োষীকে দিয়ে আমার মেহেদি মাখাঁ দাড়িতে হাত বুলাইতে । সে জেনানা আমার দাড়িতে হাত বুলাইবে আমি আরামে গুমাইব তার কুলে। আহা! কিন্তুখ এখন ত এইসব করা যাইবে না। এমন আরাম ফাইব জান্নাতে যাইয়া। হা! আল্লা নিজে বলাসেন এইয়া। তাইত কন্ট্রল করি আসি। গুফনে অবশ্য যে সালাই না তা ত না। গুনা মাফ করার মালিক ত আল্লা। তিনি রহমানির রাহিম, পরয়ার দেগার। এইয়া ত বুলি গেলে সইলবে না। তমাকে বইলতেসি কেননা আমি জানি তমি খুবই বালো মানস। ইমাম মানস তুমি। তমার ফিসে খাডাই ম্যালা লুক নমাস ফডে। কিন্তুখ তমি ত যৌয়ান বেটাসেলে তাই তমার মত থাইকতে আমি কিতা কারাসি তার স্মৃতি মন্থন কইরলাম আর কি!

আমি- জ্বি জনাব । বডই দিলখোলা দিল আফুনার। আল্লা আফুনাকে অনেক দিয়ে ফাটিয়েসেন। সব আল্লা(সুঃবঃ) ইসসা। :/

হাজী- শন ইমাম , তমি আজিয়া আমার বাডিতে রাতের খানা খাইবে । সাইলে একন গুরি আইতে ফাড আশে ফাশের থেকে।

আমি-জি জনাব। ইন্সোয়াল্লা

রাস্তায় বার অইলাম। কেনু জানি আমার দিল সুদু ঐদিকে যাইতে সায়। মনে সায় আবার যাই ঐ শাবাগের দিকে। আসার ফতে দেকে আসা হলুদ রঙের শাড়ি ফডা জেনানাকে ফতিত অবস্থাত আবার দেইখতে মুঞ্চায়। ঐ রঙ্গিল সসমা আলার যাগায় আমি অইলে ত যাইয়া কুলে করি রিস্কায় লই উইঠতাম। হায় হায়! আমি এইয়া কিতা সিন্তা কইত্তেসি? এইয়া ত গুনা। দিলের জেনা অই যাইতেসে। তবা করা ছাড়া ত গতি নাই।! ফুটফাতে বসি আসি ফুলিশ বাইয়াদের বক্সের সামনে। আজিয়া জীবনে এই প্রথম নমাস বাদ গেল। জেনানাদের দেইখতে দেইখতে। আল্লা ত ঠিক কামই কারাসেন। নারীদের কে বুরখায় হান্দাইয়া। যুদি ডেলি এবাবে এই সমস্ত গারতেরা অবাদ্য মাইয়া গুলা বেশরিয়তি বেফর্দা বাবে বাইর অইত তাইলে ত কন হজুরেই নমাস অইত না। আল্লা(সুঃবঃ) কতই না মহনীয় করি গডি দিলেন মেয়েসেলেকে। এশার সালাত, পেলাস রাতের খানা খাইয়া হাজী সাবের থাকিয়া বিদায় লিয়ে সলি এলাম আমার মরসিদে। গুমাইতে অইবে। মাঝ রাতে ত আবার নমাস আদায় কইরতে অইবে। তাগাদা লাগাইলাম নিজে নিজেই , গুমের খানিক আগে আবার উদবাইগ্যা সিন্তা মাতায় আসি গেল আমার।

আমার ত আজিয়া কুনু বেলেনটাইন সিলো না, আজিয়া ত সারা দিন বাইরে সিলাম, কাম কইত্তেসিলাম , রাস্তা জুড়ে শুধু জেনানা আর জেনানা। দিলে চাগার দিলো, লালাঅ ফইত্তেসিলো। আর বাইবতেসিলাম আমার কেনু একখানা বেলেনটাইন নাই ? ভাইবতেসি আগামি বসরই আমি একখানা নিকাহ কইরব নিকি? নাহ ! এইইয়া ত অইতে ফাডে না । সামাইন্য ইমাম মানস আর কয় টেকাই বা বেতন ফাই! এইয়া দিয়া নিজে খাইব নাকি বিবিকে খাবাইব? তাসাড়া যুদি বড সড় বক্ত অইতে ফাইরতাম তাইলে অবশ্য আলাদা কতা সিলো। তকন ত টেকার আর অবাব অইত না।
ধুর! কিতা সব ভাইবতেসি! ইমামের পোষ্ট কি খারাফ নিকি? কত মানস আমার ফিসে খাডাই নমাস ফডে। সা’র দুকান্দার অইতে শুরু করি মেম্বরঅ সালামাল্কি দেয় এইয়া কি দুই চার লাইনের কতা নিকি? এত ভাবাভাবির কি আছে তাইলে? কিন্তুখ আজিয়া কেন আমার মনে অইতেসে একখানা জেনানা বড়ই ফয়জন। যে বিবি আমার দাড়িতে হাত বুলাইবে আর আমি আরামে তার কুলে গুমাই যাইব……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *