১৪ ফেব্রুয়ারি : স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস | গোলাম মোর্তোজা

সদ্য কৈশোর পেরোনো ছেলেটি গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিল। চকমকা ঢাকার ‘লাল-নীল বাতি’ ‘মাটি ফাইটা বৃষ্টির পানি ঝরঝরাইয়া’ পড়া দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। তেল দেয়া চুলে সিঁথি কাটা ছেলেটি ঢাকা দেখে যতটা বিস্মিত হয়েছিলেন, কৃষক পিতা কতটা বিস্মিত হয়েছিলেন- তা কি কল্পনা করতে পারি। তার সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে!! কল্পনা করতে পারি মায়ের আনন্দ, গর্ব!!! না পারার কথা নয়। এমন তো কমবেশি আমরা প্রায় সবাই।


সদ্য কৈশোর পেরোনো ছেলেটি গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিল। চকমকা ঢাকার ‘লাল-নীল বাতি’ ‘মাটি ফাইটা বৃষ্টির পানি ঝরঝরাইয়া’ পড়া দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। তেল দেয়া চুলে সিঁথি কাটা ছেলেটি ঢাকা দেখে যতটা বিস্মিত হয়েছিলেন, কৃষক পিতা কতটা বিস্মিত হয়েছিলেন- তা কি কল্পনা করতে পারি। তার সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে!! কল্পনা করতে পারি মায়ের আনন্দ, গর্ব!!! না পারার কথা নয়। এমন তো কমবেশি আমরা প্রায় সবাই।

হয়ত অক্ষরজ্ঞানশূন্য স্বশিক্ষিত কৃষক বাবা-মা পড়তেই জানতেন না। ছেলের চিঠি কাউকে দিয়ে পড়িয়ে নিতেন। আরেকজন শব্দ করে চিঠি পড়ছেন, ছেলের কথা শুনছেন বাবা-মা, চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্র“। ছেলে লিখেছে, ‘ভালো আছি। পড়াশোনা করছি। এই শীতেই বাড়িতে আসব…।’ কৃষক পিতার সেই ছেলেটির নাম হয়ত ‘জয়নাল’ মেয়েটির নাম ‘দীপালী’!

জয়নাল-দীপালীরা বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাবা-মা’র চোখ দিয়ে সেদিন অশ্র“ গড়িয়ে পড়েনি। হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী। অথবা বাবা-মা’র কান্নার কোনো শক্তিই ছিল না। হয়ত আকাশ সেদিন মেঘলা ছিল। বাবা-মা’র হয়ে আকাশ সেদিন কেঁদেছিল…।

বলছি ১৯৮৩ সালের কথা। ১৪ ফেব্রুয়ারির কথা। দেশের ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে সামরিক শাসক এরশাদ। কেড়ে নিয়েছে মানুষের অধিকার। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে অবস্থানরত এরশাদ দেশ এবং জাতি ধ্বংসের পরিকল্পনা করছে। ড. আবদুল মজিদ খান নামক একজন কুখ্যাত জ্ঞানপাপীকে শিক্ষামন্ত্রী বানিয়েছে। সে একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। মধ্যবিত্ত কৃষকের সন্তানরা, দরিদ্র জনমানুষের সন্তানরা যাতে শিক্ষিত হতে না পারেন, উচ্চ শিক্ষার সুযোগ না পান- সেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকারের নেয়া ড. কুদরত-এ খুদা শিক্ষা কমিশন যতটা জনবান্ধব ছিল, মজিদ খানের শিক্ষানীতি ঠিক ততটাই জনবিরোধী ছিল। স্বাভাবিক কারণেই প্রত্যাশিত প্রতিবাদ হয়েছিল কুখ্যাত মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে। অন্য আন্দোলনের মতো এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধেও প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন ছাত্রছাত্রীরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আমাদের ছাত্ররাজনীতি তখনও ছিল গৌরবের। ছাত্রনেতারা ছিলেন সম্মানিত-শ্রদ্ধার মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মানুষ আলাদাভাবে সম্মান করতেন। তাদের প্রতিবাদে সমর্থন জোগাতেন। সাধারণ জনমানুষ বিশ্বাস করতেন, ছাত্ররা কখনো ভুল বা অন্যায় কোনো প্রতিবাদ করেন না। ছাত্ররা সবসময় ন্যায় এবং সত্যের পক্ষে। তাদের আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয় না।

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মজিদ খান শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্র গণজমায়েতের ডাক দিয়েছিল ১১টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। দু’ বছর আগে কোনো প্রতিরোধ ছাড়া ক্ষমতা দখল করা এরশাদের বিরুদ্ধে সেটাই ছিল প্রথম বড় প্রতিবাদ। স্বাভাবিকভাবেই তা স্বৈরাচারের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। আন্দোলন প্রতিহত করার নানা কৌশল নেয় এরশাদ। কিন্তু প্রতিবাদ-প্রতিরোধ বন্ধ করা যায় না। ছাত্রনেতারা জানতেন কৌশলে নৈরাজ্য তৈরি করে মিছিলে গুলি চালাতে পারে এরশাদের পুলিশ বাহিনী। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মিছিলে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নীতি নেন ছাত্রনেতারা। এবং সফলও হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বের হয়ে মিছিল শিক্ষা ভবনের দিকে যাওয়ার পথে হাইকোর্টের সামনে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিবাদী সেই বিশাল মিছিলে গুলি চালায় এরশাদের পুলিশ বাহিনী। শান্তিপূর্ণ মিছিল রক্তাক্ত হয়ে পড়ে। পিচঢালা রাজপথ ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের রক্তে। সেদিন এবং পরের দিন যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে নাম জানা যায় জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন, দীপালীর।

ঠিক কতজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিলেন, সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি পরেও। অনেক জাফর-জয়নাল-দীপালীর লাশ গ্রামের কৃষক বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছায়নি। সন্তান হারিয়ে গেছেন চিরদিনের জন্যে। সন্তানের কোনো চিহ্ন নেই এই পৃথিবীতে। কফিন জড়িয়ে ধরার, দাফন করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন বাবা-মা। স্বৈরাচার এরশাদের নির্দেশে তার পুলিশ বাহিনী হত্যার পর শিক্ষার্থীদের মৃতদেহগুলো ‘গায়েব’ করে ফেলেছিল। জানা গিয়েছিল গুলিতে নিহত শিক্ষার্থীদের মাত্র কয়েকজনের নাম।

রক্তের বিনিময়ে সূচিত হয়েছিল এরশাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল দমন-পীড়ন। কখনো আন্দোলনের কৌশল পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন থামেনি। অসংখ্য আন্দোলনের মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেরও সূচনা করেছিল শিক্ষার্থীরা, যার নেতৃত্বে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের এই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৪ সালে এরশাদ উপজেলা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতৃত্বে ২২ দল হরতালসহ নানা আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়। যথারীতি মূল নেতৃত্ব থাকে ছাত্রদের হাতেই। এরশাদের আতঙ্ক হয়ে আবির্ভূত হয় ছাত্ররা। দমনের টার্গেটও হয় ছাত্ররাই। এরশাদ বুঝে গিয়েছিল ছাত্রদের দমন করতে না পারলে তার পক্ষে ক্ষমতা দখল করে রাখা সম্ভব হবে না। ধারাবাহিকভাবে দমনের নীতি হিসেবে ছাত্র হত্যা করে গেছে এরশাদ। ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পেছন দিক থেকে ট্রাক তুলে দেয় এরশাদের পুলিশ বাহিনী। ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইব্রাহীম সেলিম ও কাজী দেলোয়ার হোসেনকে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা সেলিম-দেলোয়ারের অপরাধ ছিল, দখলবাজ এরশাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নেয়া।

ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের অংশ হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এরশাদ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করিয়ে হত্যা করায় রাউফুন বসুনিয়াকে। বসুনিয়া হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে। বসুনিয়া ছিলেন জাতীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেনকে হত্যা করে এরশাদের পুলিশ বাহিনী। ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর এরশাদের সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি করে হত্যা করে ডা. মিলনকে। এর মাঝে আরও অনেক ভয়াবহ নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড ঘটে। অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন হয় দখলবাজ স্বৈরাচার এরশাদের। তার আগেই প্রখ্যাত শিল্পী কামরুল হাসানের শিল্পকর্মের মধ্য দিয়ে এরশাদ খেতাব পায় ‘বিশ্ব বেহায়া’র। যেভাবে আইয়ুব খান ১৯৭১ সালে পেয়েছিল ‘জানোয়ার’ খেতাব।

এরশাদবিরোধী নয় বছরের যে আন্দোলন, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তারিখটি ১৪ ফেব্রুয়ারি। সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলন ও আত্মাহুতির দিন ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ১৪ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির ইতিহাসে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’।

এরশাদের পতনের পর আওয়ামী লীগ-বিএনপি-বাম রাজনৈতিক দলগুলো এই দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করত। নষ্ট রাজনীতি পচে যাওয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি আস্তে আস্তে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ পালন করা ভুলে গেছে। এখন পালন করে শুধু বাম দলগুলো। ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’টি এখন পরিণত হয়েছে ‘ভালোবাসা দিবস’-এ।

২.
ভালোবাসা দিবসের মতো পৃথিবীতে নানা দিবস পালিত হয়। ৩৬৫ দিনের মধ্যে জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৩২টি দিবস পালিত হয়। অধিকাংশ দিবস তৈরি করা হয়েছে মূলত বাণিজ্যিক কারণে। এর মধ্যে ‘ভালোবাসা দিবস’ অন্যতম। এদেশে ভালোবাসা দিবসটি এনেছেন শফিক রেহমান তার ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার মধ্য দিয়ে। ১৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’-এ পৃথিবীব্যাপী পালিত হয় ‘ভালোবাসা দিবস’।

শফিক রেহমান কী এটা পরিকল্পিতভাবে করেছেন। অনেকেই এই দায়ে তাকে দায়ী করতে চান। কিছুটা দায়ী হয়ত তাকে করা যায়ও। তখনকার ‘যায়যায়দিন’-এর যে প্রভাব তা দিয়ে তিনি যদি ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে জনমানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইতেন, হয়ত পারতেন। তা না করে তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভালোবাসা দিবস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জনমানুষ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ তা দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কর্পোরেট বাণিজ্য। দেশকালের সীমানা ছাড়ানো গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে সবকিছুই সর্বত্র ছড়িয়ে যায়। কোনো কিছুই আটকে থাকে না, আটকানো যায় না। ফলে বেশ সহজেই পশ্চিমা ভালোবাসা দিবস আমাদের সমাজে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন, প্রতিষ্ঠিত করে দিতে সক্ষম হয়েছেন শফিক রেহমান। ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ ভুলিয়ে দেয়ার জন্যে কি দায়ী হবেন শফিক রেহমান?
শফিক রেহমানকে বিষোদ্গার করে আমাদের এই পাপ মোচন হয়? অথবা শফিক রেহমানকে বিষোদ্গার করবই বা কেন? শফিক রেহমান তো গোপনে, আড়ালে-আবডালে ভালোবাসা দিবসের প্রচারণা চালাননি। তিনি যা করেছেন প্রকাশ্যে, যায়যায়দিন-এর মধ্য দিয়ে করেছেন।

আমাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মহারথীরা তখন কী করেছেন? কী করেছেন রাজনীতিবিদরা? কী করেছে রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি? আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মহারথী, যারা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে শহীদ মিনারে আসেন, তারাও এখন কর্পোরেট বাণিজ্যের অংশ। সবাই না হলেও মহারথীদের অনেকে। তাদের কেউ কেউ প্রকারান্তরে বহুজাতিক কোম্পানির প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেন। তারা একেকজন ভালোবাসা দিবসের প্রচার প্রসারের ফেরিওয়ালা। শফিক রেহমান যা করতে চেয়েছিলেন যায়যায়দিন দিয়ে, কর্পোরেট পুঁজির প্রতিনিধিরা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তা আরও জোরালোভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছেন। তারা ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ এটা ‘ভালোবাসা দিবস’ নয়- এ কথা বলেননি। শফিক রেহমান ভালোবাসা দিবসের প্রচারণা চালিয়েছেন যে সময়, সেই সময় যদি আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতারা ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ জোরালোভাবে পালন করতেন, শহীদ মিনার-বইমেলা-শাহবাগ-টিএসসি তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকত। তরুণ প্রজন্ম ‘ভালোবাসা দিবস’-এর পাশাপাশি ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’টিও মনে রাখত। তারা তা করেননি।

সুতরাং শফিক রেহমান পশ্চিমা সংস্কৃতি ছড়িয়েছেন বলে গালি দেয়া মানে, নিজেদের পাপ আড়াল করার চেষ্টা করা। শফিক রেহমান কাজটি না করলেও বহুজাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোই তা করত। কোনো না কোনোভাবে দিবসটি এদেশে আসতই। আর ভালোবাসা দিবসের বিরোধিতা করাটাও কোনো কাজের কাজ নয়। যাদের ভালোবাসা দিবস পালনের তারা তা পালন করবেন। এটা তো আর ক্ষতিকর কোনো দিবস নয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুধু ‘ভালোবাসা দিবস’ পালন করতে হবে, ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা যাবে না- এটা তো কেউ বলেননি, শফিক রেহমান বলেননি।

ভুলে গেলে চলবে না, শফিক রেহমান কিন্তু সেই ব্যক্তি সামরিক স্বৈরাচার এরশাদ দ্বারা যিনি সবচেয়ে বেশি নির্যাতিতদের অন্যতম একজন। এরশাদ তার পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছে, তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, দেশে আসতে দেয়া হয়নি। আর এ কারণেই শফিক রেহমানের কাছে প্রত্যাশা ছিল তিনি স্বৈরাচার এরশাদ পতন আন্দোলনের সূচনা দিনটি জনমানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারতেন। তিনি তা করেননি বলে সব দায় তার, তিনি অপরাধী- এমন ভাবনা সম্ভবত সঠিক নয়। রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

৩.
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সাফল্যের পরিণতিতেই খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ নেতায় পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে খালেদা জিয়া পেয়েছিলেন ‘আপসহীন নেতৃত্ব’র ইমেজ। এরশাদের পতনের পর পালাক্রমে তারা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দেশ চালিয়েছেন। স্বৈরাচার পতনের পর জনমানুষের যে প্রত্যাশা, তা তারা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মানুষ ভেবেছিল এরশাদের পতনের পর দুর্নীতিমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রথমবার ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া তা করতে যতটা ব্যর্থ হয়েছেন, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। দ্বিতীয়বারের ক্ষমতায় দুর্নীতির অপবাদ বিএনপি সরকারের নিত্যসঙ্গী হয়ে গিয়েছিল।

প্রথমবার ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় মনোযোগী ছিলেন। এরশাদকে জেলে রেখেছিলেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থে দুর্নীতির বিচার না করে, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে নানা কর্মকাণ্ড করেছেন। জিয়া হত্যা মামলায় এরশাদের সম্পৃক্ততা বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিএনপি সরকার। মঞ্জুর হত্যা মামলায় এরশাদের সংশ্লিষ্টতার যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ থাকলেও, এই মামলাটি নিয়ে খালেদা জিয়া সরকারের আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। ছোট ছোট দুর্নীতির মামলা দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার দিকে সকল মনোযোগী ছিল খালেদা জিয়া সরকার। জিয়া হত্যা মামলা, মঞ্জুর হত্যা মামলা, বড় বড় দুর্নীতির মামলাগুলো যদি ঠিকমতো পরিচালিত হতো, বাকি জীবন স্বৈরাচার এরশাদের অবশ্যই জেলে কাটাতে হতো। এমনকি মঞ্জুর হত্যা মামলায় তার সর্বোচ্চ শাস্তিও হতে পারত। সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার খেলাধুলায় ব্যস্ত থেকেছে বিএনপি সরকার। খালেদা জিয়া দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে গোপনে প্রকাশ্যে আপস করার চেষ্টা করেছেন এরশাদের সঙ্গে। বাবার খুনি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে তারেক রহমান আপসরফার মিটিং করেছেন।

শেখ হাসিনা সরকারও প্রথমবার ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারবিরোধী মতাদর্শ দূরে সরিয়ে রেখেছেন। সন্ত্রাস-দুর্নীতির অভিযোগে তার সরকার পুরো মেয়াদকাল আলোচনা-সমালোচনায় থেকেছে। এরশাদের সঙ্গে আপস করে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার বিষয়টি জনমানুষের সামনে দৃশ্যমান হয়েছে। এরশাদের জামিন পাওয়া, জামিন না পাওয়া, রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উপর নির্ভরশীল হতে দেখা গেছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার জন্যে এরশাদের সমর্থন প্রয়োজন হয়নি আওয়ামী লীগের। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক, আচরণ একটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। লুকোচুরি নয়, প্রকাশ্যে খেলাধুলা চলেছে। এরশাদের বিএনপির দিকে ঝুঁকে যাওয়া, জোর করে সিএমএইচে ভর্তি করা, নির্বাচন করতে না চাওয়া, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চেয়েও না পারা, এমপি হওয়া, বিশেষ দূত হওয়া- এসব রাজনীতির কৌতুককেও হার মানিয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবকে দিয়ে এরশাদকে চাপ দেয়া, রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেত্রী বানানো- সবই দেশের মানুষ দেখেছে।

৪.
এরশাদ সাক্ষাৎকার দিয়ে নূর হোসেনকে মাদকাসক্ত বলেছে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি তার প্রতিবাদ করেনি। এম কে আনোয়ার আওয়ামী লীগে যোগ দিতে না পেরে বিএনপিতে যোগ দিতে এসেছে, খালেদা জিয়া সাদরে বরণ করে নিয়েছেন। যোগ দেয়ার জন্যে বহুদিন খালেদা জিয়ার কাছে ঘুরেছেন মেজর জেনারেল (অব) সুবিদ আলী ভূইয়া। বিএনপিতে যোগ দিতে না পেরে, আওয়ামী লীগের কাছে এসেছে, শেখ হাসিনা বরণ করে নিয়েছেন।

এরশাদের সঙ্গীদের কাউকে দলে না নেয়ার নীতি বিএনপি-আওয়ামী লীগ কেউই মেনে চলেনি। সরকারি দল করা মওদুদ আহমদরা ভাগ হয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে।

৫.
রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার লোভ দ্বারা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি পরিচালিত হয়েছে। এই লোভের কারণেই ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ পালন করার জায়গা থেকে, ভেতরে ধারণ করার জায়গা থেকে সরে এসেছে বিএনপি-আওয়ামী লীগ। তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এবং ছাত্রলীগ ‘৯০-এর আন্দোলনের পর বড় ভাবে আদর্শচ্যুত হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল নেতাদের আদর্শচ্যুতি স্বৈরাচার পতনের পর পরই দৃশ্যমানভাবে জনমানুষের সামনে আসে। ‘৯০-এর আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান আদর্শচ্যুতির দৃষ্টান্তে পরিণত হন। নিজে এমপি মনোনয়ন পাওয়া, অর্থের বিনিময়ে অন্যের মনোনয়ন জোগার করে দেয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি করেন আমান। এর আগে কোনো ছাত্রনেতাকে এমন ভূমিকায় দেখা যায়নি। ছাত্রনেতাদের এমন আদর্শচ্যুতি সম্ভবত এদেশে আমান উল্লাহ আমানের মধ্য দিয়েই শুরু। যদিও এরশাদ ডাকসু জিএস জিয়াউদ্দিন বাবলু, ছাত্রদল নেতা জালালকে কিনে নিয়েছিল। তারপরও আমানের স্ফলনটাই সবচেয়ে বড়ভাবে চোখে পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় আরও অনেকের আদর্শচ্যুতি হয়।

তারপরের ছাত্রনেতাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায় মন্ত্রণালয়ে তদবির এবং ঠিকাদারি ব্যবসা। সেই সময় ৪০ লাখ টাকা দামের (বর্তমানে যার দাম এক-দেড় কোটি) গাড়ি নিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ক্যাম্পাসে আসতে দেখা যায়। স্বৈরাচারবিরোধী মনোভাব, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস, স্বৈরাচার পতন দিবস- আস্তে আস্তে তারাও ভুলে যেতে থাকে। জয়নাল, দীপালী সাহা, নূর হোসেনদের তারাও ভুলে যায়। অথচ একদিন এদের রক্ত ছুঁয়ে শপথ নিয়েই তারা জনমানুষের ভালোবাসা-শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন। আদর্শহীন রাজনীতিতে কোনো প্রাপ্তি, কোনো অর্জন স্থায়ী হয় না। ‘৯০-এর আন্দোলনের সাফল্য, প্রাপ্তি আমাদের জাতীয় জীবনে স্থায়ী হয়নি। বাম রাজনৈতিক দলগুলো, তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো সামর্থ্য অনুযায়ী এখনও ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ ‘স্বৈরাচার পতন দিবস’ পালন করে।

আবার এরশাদ যে সরকারের বিশেষ দূত, সেই সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন বাম নেতা রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু। হাসানুল হক ইনু এরশাদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলে’র মামলাটি করেছিলেন। রাজনীতির সুবিধা-আপস নীতি, সকল আদর্শ-চেতনা নষ্ট করে দিয়েছে।

৬.
দূষিত রাজনীতি, পচে যাওয়া রাজনীতিবিদ, ঠিকাদার-ব্যবসায়ী-ছাত্রনেতারা (ছাত্র ইউনিয়নসহ দু’একটি সংগঠন এখনও আদর্শ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে) জয়নাল, জাফর, দীপালীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। নূর হোসেনদের আত্মত্যাগ ভুলে অপরাধ করেছে। তারা ‘ভালোবাসা দিবস’ পালনে শরিক হয়েছে। ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ ভুলে গেছে। ক্ষমতার লোভ তাদের আপন অস্তিত্ব ভুলিয়ে দিয়েছে। নিজের অস্তিত্ব ভুলে ভালো থাকা যায় না, ভালো রাখা যায় না। তারা অর্থবান হয়েছে, ক্ষমতাবান হয়েছে- পুরো দেশকে, দেশের মানুষকে ভালো না রেখে। আদর্শবিচ্যুত কোনো নেতা সমাজে আদর্শ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। পৃথিবীতে বাংলাদেশ তার অন্যতম দৃষ্টান্ত।

[নোট : সংবাদ ম্যাগাজিন ‘সাপ্তাহিক’-এর সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা অসাধারণ এ লেখাটি লিখেছেন নিজ পত্রিকায়। বিষয় গুরুত্ব বিবেচনা করে লেখাটি ব্লগে শেয়ার করলাম। মুল লেখার কোথাও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।]

৭ thoughts on “১৪ ফেব্রুয়ারি : স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস | গোলাম মোর্তোজা

  1. যদি বলি জামাতি টেকাটুকার
    যদি বলি জামাতি টেকাটুকার কারণে শফিক রেহমান ১৪ ফেবরুয়ারিকে ভালোবাসা দিবস বানিয়েছেন ? জামাতিরা সব সময়ে বয়ে থাকে ফেবরুয়ারি , মারচ , এপরিল , আগষট , ডিসেমবর মাসে । কাজেই ফেবরুয়ারিতে ভালোবাসার আলু পোড়া , মারচে অমুকের সেকস দিবস , এপরিলে এপরিল ফুল মারকা গুলবাজি এভাবে নানান ইভেন্ট চালু করে দিলেই এইসব মুক্তিযুদ্দ মারকা ঝামেলা চুকে বুকে যায় তাই না ?
    আমার এই ধারনার সবচেয়ে বড় কারণ শফিক রেহমানের বরতমান কাজ কারবার । গোলাম মরতোজা আপনি যা লিখেছেন সেটা হচছে ভারতীয় হিনদি ফিলিমের মত যেটা আসলে সফট পোরনো । ধিরে ধিরে মন মানসিকতা খেয়ে ফেলে । শফিক রেহমানের পাপা জায়েজ করতে এত বড় লেনজা বের না করলেও চলত কারণ লেনজা ইজ আ ডিফিকালট থিং টু হাইড !

    1. ১৯৮৩-এর সৈরাচারের চেয়ে
      ১৯৮৩-এর সৈরাচারের চেয়ে বর্তমান সৈরাচার অনেক বেশী নিম্নমানের, অনেক বেশী বর্বর ও অসভ্য এবং মহাবিশ্ববেহায়া ! বর্তমানের মহাবিশ্ববেহায়ার হাত থেকে দেশকে বাচাতে দলমত নির্বিশেষে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। !

    2. আমার দৃষ্টিতে শফিক রেহমান
      আমার দৃষ্টিতে শফিক রেহমান একজন আদর্শহীন দালাল । একজনের দালালের কর্মকাণ্ড অন্যের দালালি করবার জন্যই হয় তাই এই ধরণের মানুষ কর্মকে অনুসরণ করা অযৌক্তিক ।

    3. হাজার বছর ধরে বসন্তের আবেগ
      হাজার বছর ধরে বসন্তের আবেগ দোলা দিয়েছে বাঙালির হৃদয়কে । ভালোবাসার জন্য বসন্তের আবেগের চেয়ে বড় আবেগ আর নেই । বসন্তের ছোঁয়া আন্তরে লাগে কিন্তু ভ্যালেন্টাইনের ছোঁয়া অন্তরে লাগে না । সব চেয়ে বড় কথা হলো- ভ্যালেন্টাইন বিতর্কিত, বসন্ত বিতর্কিত নয় । বসন্ত একান্তই আমার আপন আর ভ্যালেন্টাই বিদেশির ।
      কোনটা ভালো ?

  2. অসাধারণ ও দারুন বিশ্লেষনমুলক
    অসাধারণ ও দারুন বিশ্লেষনমুলক লেখা। ১৪ই ফেব্রুয়ারীর কালো অধ্যায়কে ঢাকার জন্য ভালোবাসা দিবসের আমদানী করা হয়েছে। শেয়ার দিলাম।

  3. চমৎকার লেখা হতে হতেও হলো না।
    চমৎকার লেখা হতে হতেও হলো না। আন্দোলনের শুরুতেই ছাত্রনেতাদের একাংশের আপোষকামীতার বয়ান থাকা যৌক্তিক হতো।
    আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেটা, তা হলো– স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিবাদে প্রথম পোস্টার লাগানোর সময় গ্রেফতার হওয়া ও ৭ বছরের সশ্রম সাজাপ্রাপ্ত তিন ছাত্রনেতা শিবলী কাইয়ুম, হাবিবুর রহমান ও আলীর কথা প্রবন্ধের কোথাও নেই। কেন নেই?
    উল্লেখ্য, স্বৈরাচারবিরোধী আপোষহীন লড়াইয়ে আমি নিজেও ছিলাম সর্বোচ্চসক্রিয় একজন সৈনিক। বাসুনিয়াহত্যা এবং তৎপরবর্তী শেখ হাসিনার আপোষকামী জানাজা, জানাজা ভেঙ্গে সেই শোকাভিভূত স্রোতকে শক্তিতে রূপান্তরকরণ এবং এফ রহমান হলকেন্দ্রিক এরশাদপন্থী নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ-এর উপর আক্রমণ– সেই নেতৃত্বে আমিও ছিলাম অগ্রসৈনিক। কিন্তু গতানুগতিক চলেআসা নিয়মে–রাজার প্রজাই ইতিহাস লিখেন-এর মতো ওসব নিয়ে কেউ খোঁজও নেন না, ভাবেনও না। এখানে যে ভবিষ্যৎগুপ্তন-এর কোনো সম্ভাবনা নেই!
    ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *