রূপক

পুন্যনগর নামে এক নগর ছিল।সেখানে গুনশেখর নামে এক নরপতি ছিলেন।তাঁহার প্রধান মন্ত্রী আহমদ ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী।নরপতি তাহার মন্ত্রীর উপদেশের বশবর্তী হইয়া মুসলিম ধর্ম গ্রহন করিলেন এবং স্বয়ং শিবপূজা,বিষ্ণু পূজা,গোদান,ভূমিদান,পিতৃ্কৃত্য শাস্ত্রবিহিত অবশ্যকর্তব্য ক্রিয়াকলাপ জলাজ্ঞলি দিয়া মন্ত্রী আহমদকে আদেশ দিলেন -আমার নগরে এ সমস্ত অবৈধ ব্যাপার আর প্রচলিত থাকবে না।

পুন্যনগর নামে এক নগর ছিল।সেখানে গুনশেখর নামে এক নরপতি ছিলেন।তাঁহার প্রধান মন্ত্রী আহমদ ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বী।নরপতি তাহার মন্ত্রীর উপদেশের বশবর্তী হইয়া মুসলিম ধর্ম গ্রহন করিলেন এবং স্বয়ং শিবপূজা,বিষ্ণু পূজা,গোদান,ভূমিদান,পিতৃ্কৃত্য শাস্ত্রবিহিত অবশ্যকর্তব্য ক্রিয়াকলাপ জলাজ্ঞলি দিয়া মন্ত্রী আহমদকে আদেশ দিলেন -আমার নগরে এ সমস্ত অবৈধ ব্যাপার আর প্রচলিত থাকবে না।
রাজার আদেশ অনুসারে রাজ্যে ইহা ঘোষনা করা হইল যে,অতঃপর কোন ব্যক্তি যদি ঐ সকল রাজনিষিদ্ধ অবৈধ কর্মের অনুষ্ঠান করেন তাহলে রাজা তাহার সর্বস্বহরন,নির্বাসন এমনকি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করিবার দন্ডবিধান করিবেন।প্রজারা বাধ্য হয়ে আচার ও অনুষ্ঠান পরিত্যাগে নিতান্ত অনিচ্ছুক ও রাজার প্রতি মনে মনে অতিশয় অসন্তুষ্ঠ হইয়াও দন্ডভয়ে প্রকাশ্য কিছু বলিতে না অনুষ্ঠান পালন করিবার সাহস দেখাইল না।কিন্তু তন্মধ্যে কিছু ব্যক্তি রাজার প্রতি প্রতিবাদ দেখাইলে রাজা তাদের দন্ডবিধান মোতাবেক কাউকে জনসম্মুখে কতল করাইলেন,কাউকে রাজ্য ত্যাগে বাধ্য করিলেন।
একদা রাজার মন্ত্রী রাজার নিকট বলিলেন মহারাজ আপনার নিকট ধর্মশাস্র ব্যাখ্যা করি,শ্রবন করুন।
এজন্মে কোন ব্যক্তি কারো কাহারো প্রান সংহার করিলে হাসরের দিনে আপনার প্রান সংহারের আশঙ্খা থাকিয়া যায়,তবে ধর্মবিরুদ্ধাচারীর প্রানহরন জায়েজ আছে।তবে প্রানরক্ষা এবং মনুষ্যত্ব প্রধান ধর্ম।যেমন দেখন প্রতিটা প্রানী হাতি,তিমি থেকে ক্ষুদ্র কীট পিপড়া পর্যন্ত আপন প্রান এবং স্বজাতি এবং নিজ ধর্ম রক্ষায় ব্যস্ত।অার মনুষ্য জাতি যে পরমাংস দ্বারা আপন মাংস বৃদ্ধি করে,ইহা অপেক্ষা গুরতর অপরাধ ও অসৎ কর্ম আর নাই।সুরাপান অধিকর হারাম,তবে সেটা ইহজগতে,পরজগতে সুপেয় সুরা সকলের জন্য হালাল,বিশেষত যারা জান্নাতবাসী হবেন।নারীরা অধঃস্তন থাকিবে সারাজীবন পুরুষের এবং নারীজাতির যেকোন আস্পর্ধা দেখালে তাহাকে উত্তম মধ্যম জায়েজ আছে এবং অতিশয় ধর্মবান ব্যক্তিসমূহের জন্য জান্নাতে হূর এবং গেলমানের ব্যবস্থা রহিয়াছে।সবিশেষ মন্ত্রী বিশ্বভ্রমান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আপনার ইসলাম ধর্মই প্রতিষ্ঠা করা একান্ত কর্তব্য।
তাই রাজা স্বীয় ধর্ম বহুল প্রচার শুরু করিলেন এবং পার্শ্বরাজ্য আক্রমন করিয়া রাজ্য বর্ধিত করিয়া ধর্মপ্রচার শুরু করিলেন একপ্রকার জোর করিয়া।রাজার বেহশত নসিব হওয়ার পর তাহার পুত্র আকবর সিংহাসন আহোরন পূর্বক পিতার ন্যায় দুরাচারীর স্বরূপ রাজ্য বর্ধীত এবং ধর্মবিস্তারের জন্য পিতার পন্থায় অবগাহন করিতেছিলেন।একদা তাহারা এক প্ররাক্রমশালী রাজার রাজ্য আক্রমন করেন রাজার অগোচরে।রাজ্যের অত্যাধিক ক্ষতিসাধন করেন।গনিমতের মালামাল লুন্ঠন করেন এবং নিয়ে পালিয়ে যায়।ঐ খবর পরাক্রমশালী রাজা অবগত হয়ে প্রতিহিংসায় ক্ষুদ্ধ হয়ে তাহার মিত্রদের নিয়ে ঐ মুসলিম রাজার রাজ্য চারদিক থেকে আক্রমন করেন এবং রাজা এবং মন্ত্রীসহ সমূলে সবাইকে বেহশত অথবা জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন এবং ঐ রাজ্যের লোকদের স্বর্ধম পালনের অধিকার দেন এবং অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষনা দেন।
এ উপায়েই ঐ রাষ্ট্রের পুর্নজন্ম হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *