চুমু চুমু চুমু চাই, চুমু খেয়ে বাঁচতে চাই!

লেখার শিরোনামটার ভেতর কেমন স্লোগানের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে? হ্যা এটা স্লোগানই। বুঝতে পারছি শিরোনাম দেখেই কেউ কেউ ইতিমধ্যে গালি দেয়া শুরু করেছেন। আর কেউ কেউ বাঙ্গালী সংস্কৃতি ধ্বংসের ধোয়া তুলে নাক সিটকাচ্ছেন। আরেক দল আছেন, যারা সাম্রাজ্যবাদ, পুজিবাদ, এন্টি রেভ্যুলুশন, উচ্ছন্নে যাওয়াসহ নানা শব্দ আওড়াচ্ছেন। আরে ভাই, কয়েকজন প্রকাশ্যে চুমু খেতে চেয়েছে, গ্রাম থেকে শহর দখল করে বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে নামেনি।


লেখার শিরোনামটার ভেতর কেমন স্লোগানের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে? হ্যা এটা স্লোগানই। বুঝতে পারছি শিরোনাম দেখেই কেউ কেউ ইতিমধ্যে গালি দেয়া শুরু করেছেন। আর কেউ কেউ বাঙ্গালী সংস্কৃতি ধ্বংসের ধোয়া তুলে নাক সিটকাচ্ছেন। আরেক দল আছেন, যারা সাম্রাজ্যবাদ, পুজিবাদ, এন্টি রেভ্যুলুশন, উচ্ছন্নে যাওয়াসহ নানা শব্দ আওড়াচ্ছেন। আরে ভাই, কয়েকজন প্রকাশ্যে চুমু খেতে চেয়েছে, গ্রাম থেকে শহর দখল করে বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে নামেনি।

শিরোনাম দেখে ঘাবড়াবেন না। নতুন প্রজন্ম শুধু চুমু খেয়েই বাচতে চাওয়ার মতো বোকা নয়, খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল মৌলিক চাহিদা সম্পর্কেই তারা সচেতন, অন্তত নিজেরটার বেলায় তো বটেই!
কথা হলো দুজন মানুষ এই ১৪ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার একটা আহবানে ফেসবুকে ইভেন্ট খুলেছেন। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এই ঘটনা নিতান্তই একটা ছোট এবং বেশিক্ষন আলোচনাযোগ্য ঘটনা নয় বলেই আমার মনে হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় বিশাল আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে ইভেন্টের রিএকশনে। একটা বিষয় সামনে আসলে তার স্বপক্ষে, বিপক্ষে কথা উঠতে পারে, তাই বলে চুমুর বিরোধিতা করছেন ধর্ষনের জয়গান গেয়ে? আপনারা পারেনও!

আপনারা কি তারাই যাদের কারনে দেশে বছরে অর্ধলক্ষ ধর্ষনের ঘটনা ঘটে, যৌন হয়রানির শিকার হয়ে কেউ আত্মহত্যা করে, কারো বেচে থাকার ইচ্ছেই নষ্ট হয়ে যায়?

সেই কবে নচিকেতা বলেছিলো ‘প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ, প্রকাশ্যে ঘুষ খাওয়া নয়। আমাদের দেশে প্রকাশ্যে থুতু ফেললে, প্রস্রাব করলে, মলত্যাগ করলে কারো আপত্তি নেই। অথচ প্রকাশ্যে চুমুতে আপত্তি! দোষ কী চুম্বনে?

প্রকাশ্যে চুমু দেখে যাদের অতিরিক্ত চিত্ত চাঞ্চল্য ঘটে, তারা গুপ্ত রোগ লুকোবেন না, ডাক্তারের কাছে যান, এতে লজ্জার কিছু নেই। নতুবা একটু ধৈর্য ধরুন অভ্যেস হয়ে যাবে। কোনসময় মেয়েদের জিন্স, এমনকি সালোয়ার পরাটা বা নারী–পুরুষের হাত ধরে ঘুরে বেড়ানোটা অশ্লীল ছিল, বলা ভালো – দেশের বড় অংশ জুড়ে এসব এখনো অশ্লীল।

উপমহাদেশে শুধু মুসলমান সমাজে নয়, অন্যান্য ধর্মীয় সমাজেও প্রকাশ্যে চুম্বন বিনিময় বৈধ নয়। মুসলিম সমাজে নর-নারীর প্রকাশ্য মেলামেশাও নিষিদ্ধ। উপমহাদেশে নাটকাভিনয়ে বা চলচ্চিত্রে নায়ক-নায়িকার প্রেমের দৃশ্যেও চুম্বন বর্জিত ছিল। পশ্চিমা প্রভাবে মুম্বাইয়া হিন্দি ছবিতে চুমু খাওয়ার দৃশ্য এখন ক্রমেই স্থান করে নিচ্ছে। তবে মুম্বাইয়া অধিকাংশ ছবিতে শরীর প্রদর্শন ও অশ্লীল যেসব অঙ্গভঙ্গি থাকে, তার বদলে চুম্বন যোগ হলে বরং ছায়াছবিতে অশ্লীলতা কমবে।

হলিউডি ছবিতে চুমুর দৃশ্য অত্যন্ত ন্যাচারাল। তাতে অশ্লীলতা থাকে না; যতটা থাকে হিন্দি ছবির চুম্বনবর্জিত অশ্লীল দেহভঙ্গিসর্বস্ব ছবিগুলোতে। এদিক থেকে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে অশ্লীল শরীর প্রদর্শনী বন্ধ করে প্রেমের দৃশ্যে নায়ক-নায়িকার স্বাভাবিক চুমু খাওয়ার দৃশ্য যোগ হলে মুম্বাইয়া চলচ্চিত্র শিল্পে যে ভালগারিটি, তা অনেকটাই দূর হবে।

আবদুল গাফফার চৌধুরি তার একটা লেখাতে লিখেছিলেন, ‘আমাদের এশিয়া-আফ্রিকার বহু দেশে প্রকাশ্যে চুমু খাওয়াকে শুধু অশালীনতা নয়, অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। লন্ডনের রাস্তায় কোনো নর-নারী প্রকাশ্যে চুমু খেলে বা আলিঙ্গনাবদ্ধ হলে সেদিকে কেউ নজরই দেবে না। কিন্তু ঢাকার রাস্তায় এই ঘটনাটি ঘটলে পুলিশ হয়তো চুমু খাওয়ারত দুজনকেই গ্রেফতার করবে। সেই আদি যুগ থেকে বিশ্বের শিল্পে, সাহিত্যে, কাব্যে, নাটকে রয়েছে চুম্বনের ছড়াছড়ি। কিন্তু প্রাচ্যে বহুকাল ধরে এই স্বাভাবিক আনন্দটি সমাজ জীবনে গোপন বিষয়ে ঠেলে রাখা হয়েছে। তার স্বাভাবিক প্রকাশকে ধর্ম ও সামাজিক শাসন দ্বারা রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু সময় ও কালের রথের চাকায় এই বাধা মানেনি।’

ইউরোপ-আমেরিকায় বেশ কয়েক বছর আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছে। সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা বার্ন দ্য ব্রা স্লোগান তুলে ব্রেসিয়ার পুড়িয়েছিল। আমেরিকায় ছাত্রীদের ফ্রি দ্য নিপ্পল আন্দোলনও এক সময় সমাজ শাসকদের চোখ লাল করেছিল। অতদুর এখনো যাওয়া হয়নি, মৌলবাদী রক্ষণশীলতার যখন ঝড় বইছে আমাদের দেশে সংস্কার ভাঙ্গার জন্য কেউ প্রকাশ্যে চুমু খেলে তাই বা কম কিসে।

কি বলছেন? প্রকাশ্যে চুম্বন! বঙ্গ সংস্কৃতি চুরমার? নিজের অস্বাচ্ছন্দতাকে বৈধতা দেয়ার জন্য বারবার বঙ্গ সংস্কৃতি টানেন কেন? ধর্ষন কি বঙ্গ সংস্কৃতির অংশ?

আর আপনার সংস্কৃতির উৎস খুজতে গেলে তো, সেই সেই সমাজে – যেখানে ব্যক্তি সম্পত্তির উৎপত্তি, মেয়েদের সম্পত্তিতে রূপান্তর করে হারেম বা বিয়ের নামে যৌন দাসীতে পরিণত হওয়া, পুরুষতন্ত্র নির্মাণের যুগে ফিরে যেতে হবে। এরপর পরিবর্তনশীল সমাজের সাথে সাথে পুরুষতন্ত্র হাজির হয়েছে নতুন নতুন কেতায়। আরো অনেক বেশী লজ্জার বিষয় যে, আমদের সমাজের পুরুষতন্ত্র ইউরোপীয় উন্নত পুঁজিবাদী সমাজের পুরুষতন্ত্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকা, স্থুল চরিত্রের রয়ে গেছে, যাকে পন্ডিত ব্যক্তিরা বলে থাকেন ‘বঙ্গ সংস্কৃতি’।

আর যারা চিন্তা করছেন, তাদের বাচ্চারা কি শিখবে এসব শুনে, দেখে? তাদের বলব যে, ধান্দাবাজি, স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতার বদলে বড়দের কাছ থেকে বাচ্চারা যদি চুমু খাওয়া শেখে তাহলে ক্ষতি কি?

৮ thoughts on “চুমু চুমু চুমু চাই, চুমু খেয়ে বাঁচতে চাই!

  1. ে। চুমু যৌনতার প্রাথমিক ধাপ।
    ে। চুমু যৌনতার প্রাথমিক ধাপ। চুমু দিতে দিতেই পরবর্তীতে বস্ত্রহরন ও রতি খেলা শুরু হয়। এগুলো ইউরোপ বা আমেরিকায় খুব সাধারন ব্যাপার। ওরা নারীর শরীরকে ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেছে। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশে নারীর শরীর এখনো পোলাও-কোরমার পর্যায়ে আছে।
    প্রকাশ্যে চুমুর দাবী এই নারীর স্বাদ হয়ত অনেক বাড়িয়ে দেবে; কিন্তু আখেরে নারীরাই বেশী হারাবে।
    তাই এইসব ইউরোপীয় সংস্কৃতির আমদানী আমাদের দেশে না করাই ভাল।

  2. নারীর শরীর নিয়ে আপনার এত
    নারীর শরীর নিয়ে আপনার এত দাদাগিরি কেন দাদা? যার অধিকার তার উপরে ছেড়ে দিলে হচ্ছে না। সবকিছুর সিধান্ত কেন আপনাকেই নিতে হবে?

  3. আমরা মানুষ সভ্য জাতি।
    আমরা মানুষ সভ্য জাতি। বিবর্তনের নানা ধাপ পেরিয়ে আমরা পশু থেকে মানুষে উত্তির্ণ হয়েছি। আমাদের বেচে থাকার প্রয়োজনেই কিছু জৈবিক কাজ করতে হয়। কিন্তু, সবার সামনে সেই বিষয়গুলো আনলে পশুর সাথে আমাদের কোন পার্থক্য থাকেনা। বোন আমার, ব্যাপারটা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

    1. শেহজাদ আমান
      শুধু ভাদ্র মাসে

      শেহজাদ আমান
      শুধু ভাদ্র মাসে কুকুরকে দেখা যায় প্রকাশ্যে কামলীলা করতে। এছাড়া অন্যকোন পশু-পাখীকে কি দেখেছেন খোলা যায়গায় কামলীলা করতে? কই আমার তো চোখে পড়েনি!!

      1. তা মানেই বোঝেন, যারা
        তা মানেই বোঝেন, যারা প্রকাশ্যে চুমাচুমি বা সেক্স করতে চায়, তাদের অবস্থান কোথায়? এদের অবস্থান তো পশুরও নিচে, আর এরা মানুষ নামের কলঙ্ক !

  4. চিন্তায়,মননে আমরা বাংলাদেশিরা
    চিন্তায়,মননে আমরা বাংলাদেশিরা পৃথিবীর সংকীর্ণতম জাতির মধ্যে অন্যতম।প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার ইভেন্ট সেই সংকীর্ণতার গালেও স্পষ্ট চুমুর প্রতীক এঁকে দিক,জয় হোক চুমুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *