এখন বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর বাড়ছে দেহফ্রেন্ডের সংখ্যা! (দ্বিতীয় পর্ব: একটি চাক্ষুষ-ঘটনা)

এখন বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর বাড়ছে দেহফ্রেন্ডের সংখ্যা! (দ্বিতীয় পর্ব: একটি চাক্ষুষ-ঘটনা)
সাইয়িদ রফিকুল হক


এখন বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর বাড়ছে দেহফ্রেন্ডের সংখ্যা! (দ্বিতীয় পর্ব: একটি চাক্ষুষ-ঘটনা)
সাইয়িদ রফিকুল হক

এখনকার অনেক ছেলেমেয়েই জানে না ‘বন্ধু’ কাকে বলে। আর বন্ধুত্ব কীভাবে হয়। আগের দিনে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের ‘ক্লাসমেট’ বলে অভিহিত করতো। আর এখন, এরা খুব সহজভাবে তাদের একজন মেয়েবন্ধুকে, ছেলেবন্ধুকে বা ক্লাসমেটকে ‘গার্লফ্রেন্ড’ আর ‘বয়ফ্রেন্ড’ বলে অভিহিত করছে। আর তারা নিজেদের সমাজ-রাষ্ট্রের বুকে ‘ফার্স্ট’ হিসাবে চিহ্নিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে। অনেক ছেলেই এখন তার বাবা-মার সামনে অহরহ ‘গার্লফ্রেন্ড’ শব্দটি উচ্চারণ করছে। এতে সে ভীষণ গর্ববোধ করছে। আবার কেউ-কেউ বাড়িতে তার ‘বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘গার্লফ্রেন্ড’কে অবাধে যাতায়াতের সুযোগ দিচ্ছে। এমনকি বাড়িতে বাবা-মা না থাকলে তারা ‘বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘গার্লফ্রেন্ডে’র সঙ্গে যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে। আর খুব আধুনিকপরিবারে এখন একজন মেয়ে-শিক্ষার্থী তার বাড়িতে বা বাসায় তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের সামনে অবলীলাক্রমে ‘আমার বয়ফ্রেন্ড’ শব্দটি উচ্চারণ করছে। আর তার খুব প্রশংসা করছে। আর একশ্রেণীর মেয়েরা তাদের সেইসব ছেলেবন্ধুদের খুব প্রশংসা করে থাকে, যাদের সঙ্গে তার দেহমিলন বা ‘দেহফ্রেন্ডে’র সম্পর্ক হয়। আর ক্লাসের একটা ভালোছেলে বা ভালোমানুষকে তারা ‘ভোদাই, ‘বোকা’, ‘মফিজ’ ও ‘কেলাস’ বলে উপহাস করে থাকে। মনে রাখবেন: মেয়েরা যার কাছে দেহদান করে থাকে শুধু তাকেই ভালোবাসে, আর তারই কথা শোনে। আর তারই প্রশংসা করে। আর সে (একজন মেয়ে) যাদের ভালোবাসে না, তারা যতো ভালোমানুষই হোক না কেন, কখনও তার প্রশংসা করবে না। আরও একটি কথা: কোনো মেয়ে যদি কোনো ছেলেকে বা তার বয়ফ্রেন্ডকে দেহদান করে, তবে তাকে নিয়মিত দেহদান করতেই থাকে। আর এই সংক্রান্ত একটি বাস্তব ‘Case study’ এখানে তুলে ধরছি:

সেদিন ছিল পৃথিবীর অন্যান্য দিনের মতো একটি শান্ত সকাল। আমাদের তরুণ অধ্যাপক লিটু মিয়া ‘শ্যামলী’ ব্রিজ অতিক্রম করে ওপারে তার কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন সকাল মাত্র সাড়ে সাতটা। দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সকাল আটটা থেকে ক্লাস শুরু হয়। কলেজে পৌঁছাতে বিলম্বের আশংকা করে তিনি দ্রুত ওভারব্রিজটা পার হচ্ছিলেন, এমন সময় দেখলেন, তার পাশ দিয়ে প্রায় গা-ঘেঁষে সুগন্ধী-পারফিউমড-সমৃদ্ধ একটি মেয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছে। তিনি অবাক হয়ে আজ তাকে দেখলেন। তিনি এই মেয়েটিকে চেনেন না। কিন্তু ভাবলেন: এই মেয়েটির কীসের এতো ব্যস্ততা! হতে পারে মেয়েটি কোনো প্রাইভেট-ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তার কাঁধের ব্যাগট্যাগ দেখে তার তা-ই মনে হলো। আর এদিকে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট-ইউনিভার্সিটি গড়ে উঠেছে।
আজ তার মনে একটা কৌতূহল চেপে বসলো। তিনি জানতে চান, এতো দ্রুত এই মেয়েটি তার ক্লাসে যাবে, না অন্য কোথাও? তিনি মেয়েটির পিছনে-পিছনে দ্রুত ওভারব্রিজ থেকে নিচে নেমে এলেন। মেয়েটির কানে সচল-ফোন। আর সে খুব ব্যতিব্যস্ত হয়ে কাউকে বলছিলো: তুমি ওখানেই দাঁড়াও, আমি প্রায় এসে গেছি।
অধ্যাপক লিটু মিয়ার পরিচিত এলাকা এটি। তিনি এখানকার সবকিছু চেনেন এবং জানেন। তিনি মেয়েটির সঙ্গে দ্রুত নিচে নেমে এসে যা দেখলেন, তাতে তিনি ভয়ানকভাবে মুষড়ে পড়লেন। ওই সুদর্শনা-যৌবনবতী একুশ-বাইশ বছরের তরতাজা মেয়েটি একটি আবাসিক হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ালো। আর সে এখানে দাঁড়ানো মাত্র সঙ্গে-সঙ্গে তার কাছে এগিয়ে এলো বাইশ-তেইশ বছরের একটি ছেলে। তারপর ছেলেটি নিচের খাবারের দোকান থেকে কিছু ফাস্টফুড কিনে মেয়েটির হাত ধরে সোজা আবাসিক হোটেলে উঠলো। এই হোটেলটির নাম ‘হক ইন্টারন্যাশনাল হোটেল’। এখানে এরকম আরও অনেক হোটেল আছে। আর একটু দূরেই আছে বিশাল হোটেল ‘শিপলা’।

অধ্যাপক লিটু মিয়া অবাক হলেন আর ভাবলেন: মেয়েটি কোথায় যাচ্ছে এখন? সে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে যৌন-ক্লাসের দিকে ধাবিত হচ্ছে! এইসব আবাসিক হোটেলে ঢুকতে যেকোনো মেয়ে একাধিকবার ইতস্ততঃ করবে। আর এই মেয়েটি কী স্বাভাবিক গতিতে তার কথিত ‘ক্লাসমেট’ বা ‘বয়ফ্রেন্ডে’র সঙ্গে হোটেলে ঢুকলো। অধ্যাপক সাহেব কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আরও কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে রইলেন। তিনি এর শেষটা আজ দেখতে চান। তাই, তিনি তার প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মহাশয়কে ফোনে জানালেন, “স্যার, আমি এখন একটি অন্যরকম ক্লাসে ব্যস্ত আছি। আমি এসে পরে ক্লাস নেব।”

তিনি একটা হোটেলে ঢুকে কিছুটা সময় ধরে নাস্তা করতে লাগলেন। আর দেখতে লাগলেন: এরা কখন হোটেল থেকে বের হয়। অনেক সময় নিয়ে তিনি নাস্তা করে ওই হোটেলে বসে রইলেন। কিন্তু সময় তো আর কাটে না। সাধারণ একটা খাবারের হোটেলে আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়? এরপর তিনি আর-একটা জায়গায় এসে কিছু ফটোকপির কাজ করতে লাগলেন। তারপর একটু পরে অধ্যাপক হওয়ার সুবাদে তিনি একজন পরিচিত মানুষ পেয়ে গেলেন। আর তার সঙ্গে হোটেলের পাশে দাঁড়িয়ে অনেক কথাবার্তা চালিয়ে যেতে লাগলেন। তার উদ্দেশ্য শুধু সময়ক্ষেপন। তিনি আজ দেখতে চান: এরা কী উদ্দেশ্যে হোটেলে ঢুকেছে। দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়-পড়ুয়া ছেলেমেয়ে এতোটা নিচে নামতে পারে!
ঘণ্টা দেড়েক পরে সেই ছেলেমেয়ে দুটি হোটেল থেকে বেরিয়ে এলো। অধ্যাপক সাহেব নিজের চোখে দেখলেন, বুঝলেন, তারা দেহমিলন ঘটাতেই এই আবাসিক হোটেলে উঠেছিলো। আর মেয়েটির চেহারায় ছিল যৌনমিলনের ছাপ। তিনি ওদের কাণ্ড দেখে লজ্জিত হলেন। মেয়েটি তার যৌনতৃষ্ণা মিটাতেই এতো ভোরে তাড়াহুড়া করে তার এই ‘বয়ফ্রেন্ডের’ কাছে ছুটে এসেছে। আর তিনি বুঝলেন: মেয়েটি এইজন্যেই এতো সাজগোজ করে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছিলো। এখানে, সে তার প্রথম ক্লাস (প্রাকটিক্যাল ক্লাস) শেষ করেছে। এবার তারা তাদের ভার্সিটিতে ঢুকছে।
এভাবে ওরা ‘বয়ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ড সেজে শুধু এই শ্যামলী এলাকায় নয়, এর আশেপাশে ও চারপাশে এবং ঢাকা-শহরের বিভিন্ন হোটেলেমোটেলে অবাধে যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে। আর নামে একেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী! এরা আজকাল বিশ্ববিদ্যালয়কে কলংকিত করছে। এরা শিক্ষার নামে জাতির সঙ্গে তামাশায় লিপ্ত! এদের নাই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-কর্মসূচি। তবুও এরা অর্থউপার্জনের জন্য ব্যবসানির্ভর “গ্রুপ অব কোম্পানী” কিংবা কোনো ফায়দা-লোটার “লিমিটেড কোম্পানীর” মতো খুলে বসেছে “প্রাইভেট-ইউনিভার্সিটি”। আমাদের দেশের এমন কতকগুলো মানহীন-দেশপ্রেমহীন “প্রাইভেট-ইউনিভার্সিটি” আজ শিক্ষাপল্লী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না হয়ে “যৌনপল্লীতে” পরিণত হয়েছে। দেশ, জাতি, রাষ্ট্র ও মানবতার স্বার্থে এগুলো আজ-এক্ষুনি বন্ধ করে দিতে হবে। আর প্রতিরোধ করতে হবে একশ্রেণীর লম্পট-শিক্ষককে। এইসব লম্পট-শিক্ষক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার পাশাপাশি অর্থলোভে যোকোনো “প্রাইভেট-বিশ্ববিদ্যালয়ে” পাঠদানের জন্য সাঁঝের শূয়রের মতো ছুটে যাচ্ছে। আর এদের মতো চরিত্রহীন-দেশপ্রেমহীন শিক্ষক-নামধারী পাণ্ডাদের জন্য জাতি অধঃপতিত হচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে আজ এদের মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন। এরা স্বার্থের কারণে শিক্ষকদের মধ্যে “লাল-গোলাপি-নীল-সাদা-হলুদ-বেগনী” আরও কত শয়তানী-রংয়ে বিভেদসৃষ্টি করে রেখেছে। এরা চরম স্বার্থপর। এমনিতে এরা খুব ভাব দেখায়, সে অমুকপন্থী আর তমুকপন্থী। কিন্তু স্বার্থের বেলায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থলোভী-শিক্ষক সবাই এককাতারে। আর এদেরই ছত্রচ্ছায়ায় ও সীমাহীন-অর্থলোভের পাপে দেশের বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট-ইউনিভার্সিটি।

এটি শুধু একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ নয়। আজকাল প্রকাশ্য-দিবালোকে এরকম শত-শত ঘটনা ঘটছে। আর যে-মেয়েটি সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিলো ‘ভার্জিন’ হয়ে, সে দুপুরে-বিকালে কিংবা সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছে ‘ভার্জিনিটি’ হারিয়ে বা ‘ভার্জিনিটি-টেস্ট’ করে। এরা এখন বিবেকহীন হয়ে নিজের দেহকে অপবিত্র করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করছে না। এরা সীমাহীন-মূর্খতার চাদর গায়ে নিজের সতীত্ব বিলিয়ে দিচ্ছে কথিত-সহপাঠীর কাছে। তারপর এরা হচ্ছে বারবার ধর্ষিত। এরা নষ্ট হতে ভালোবাসে। তাই, নষ্টামি করে এদের মনে কোনো কষ্ট নাই। এদের ভিতরে জাগে না সামান্যতম অনুশোচনা।

আরেকটি ঘটনা:
একটি বাইশ-তেইশ বছরের মেয়ে। সে ঢাকার নামকরা একটি সরকারি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সবেমাত্র অনার্স থার্ড-ইয়ারে উঠেছে। এরই মধ্যে তার চোখেমুখে কত অজানা স্বপ্ন। সে সবসময় পর্দানশীন। আর সে দেশের প্রচলিত ধর্মভিত্তিক-ইসলামী-রাজনীতির সমর্থক। সে একটি সংগঠনের মহিলা-কর্মী। তার ব্যাগ খুলে তারই এক আত্মীয় দেখলেন: তার ব্যাগের ভিতরে কনডম! আর পুরুষদের ব্যবহার করার মতো কনডম! এতে তার ওই আত্মীয় ঘাবড়ে গিয়ে বললো: তোমার ব্যাগে কনডম?
পর্দানশীন-মেয়েটি কিন্তু সাহসের সঙ্গে বলেছিলো: হ্যাঁ, থাকতেই পারে! আমি রাজনীতি করি। আর কখন কী প্রয়োজন হয়! এসবের আপনি কী বুঝবেন?
ভদ্রলোক শুধু ব্যথিতচিত্তে আমাকে বলেছিলেন: মেয়েরা এখন এতো সস্তা হয়েছে!
বয়ফ্রেন্ড আর গার্লফ্রেন্ড ধারণাটি আমরা পেয়েছি পশ্চিমা বিজাতীয়-অসভ্যতা থেকে। আর এখন শুধু পাশ্চাত্য নয় সমগ্র ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া-এশিয়া জুড়ে এই পাগলা-হাওয়া মানুষকে গ্রাস করছে। ইউরোপ-আমেরিকার লোকগুলো শিক্ষার নামে এখন পশুতে পরিণত হয়েছে। আর তারা বলছে: ‘তোমরাও আমাদের মতো পশু হও। আর আমাদের মতো নগ্ন হও।’ তাই, কালের বিচারে সব দেখেশুনে মনে হয়: সমগ্র ইউরোপ-আমেরিকায় উলঙ্গ-সভ্যতা বিরাজমান।

আগে আমাদের দেশে ছিল ‘বন্ধু’, আর শুধু ‘বন্ধু’। ছেলেমেয়ে যে যারই বন্ধু হোক না কেন তাকে শুধু বন্ধুই ভাবতো। নব্বইয়ের দশক থেকে আমাদের দেশে এই ‘বয়ফ্রেন্ড’ ও ‘গার্লফ্রেন্ড’ শব্দটি মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হতে শুরু করে। আমাদের দেশে বহুকাল আগে থেকে বন্ধুত্বের ধারণাটি চলে আসছে। আর এই বন্ধুত্ব ছিল পবিত্র-সম্পর্ক। এই বন্ধুত্ব হয়েছে ছেলেমেয়ে মিলেমিশে। আর তারা একসঙ্গে হাসিমুখে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করেছে, আড্ডা দিয়েছে, আর ভালো বন্ধু হয়েছে। আর এখন, অতিআধুনিকতার নামে মানুষ অহরহ ‘বয়ফ্রেন্ড’ আর ‘গার্লফ্রেন্ড’ শব্দটি বেশি-বেশি প্রয়োগ করছে। আমরা এটি মেনে নিয়েছি। কারণ, একটি ছেলে বা একটি মেয়ে আধুনিকযুগের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার একটি মেয়ে বা ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হতেই পারে। আর এই বন্ধুত্ব-অস্বীকার করছি না। কিন্তু এই বন্ধুত্বের আড়ালে সীমাহীন অনৈতিক-কর্মকাণ্ড ও প্রেমের নামে দেহমিলনের রমরমাব্যবসা আমরা মেনে নিতে পারবো না। এগুলো শিক্ষা, শিক্ষার্থী, শিক্ষাঙ্গন, আর শিক্ষার পরিবেশ কোনোটির সঙ্গেই মানানসই নয়। আর দেহবাদীশিক্ষার্থীরা কখনও সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কিছু করতে পারে না। এরা হয় সমাজের মাংসাশী হিংস্র-হায়েনা, চিতাবাঘের মতো লোভী। আর কোনো কামাতুর মানুষ এই পৃথিবীতে কোনোকিছুতেই সামান্য অবদানও রাখতে পারেনি। তাই, আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের সবসময় ‘বাঙালি’ করেই মানুষ করতে হবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও নিয়মাচারকে যথাযথভাবে অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। আর এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটানো যাবে না।

আমাদের দেশে বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ড বলতে কী বুঝায়?
BoyFriend ও Girlfriend এ দুটি শব্দই ইংরেজি ভাষা থেকে আগত। এর অর্থ হচ্ছে ছেলেবন্ধু ও মেয়েবন্ধু। এই কিছুকাল আগেও আমাদের দেশে “বয়ফ্রেন্ড” বা “গার্লফ্রেন্ড” শব্দ দুটি একেবারেই ছিল না। তখন এই শব্দ দুটিকে ভীষণ-রকম অশ্লীল ও কদর্য মনে করা হতো। আর এখন, এসবই গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে। দেশ-স্বাধীনের পরও মানুষজন(শিক্ষার্থীরা) তার বন্ধু-বান্ধবীকে ক্লাসমেট বলতো। আর এখন সকল বেড়াজাল ছিন্ন করে একেবারে পশ্চিমা-ধাঁচের “বয়ফ্রেন্ড” বা “গার্লফ্রেন্ড”!
এখন দেখা যাক ‘বন্ধু’ কাকে বলে? আর ‘বন্ধু’ শব্দের প্রকৃত-অর্থ কী?
বন্ধু মানে: মিত্র, সখা, সুহৃদ, হিতৈষী-ব্যক্তি, স্বজন, প্রিয়জন। আমরা বুঝতে পারলাম বন্ধু মানে আপনজন। আর জীবনে যাকে বন্ধু ভাবা হবে তার সঙ্গে কখনও অনৈতিক-সম্পর্ক গড়ে তোলাটা নিম্নস্তরের অপকর্ম। কেউ যদি কাউকে বন্ধুই ভাবে, তাহলে, সে তার বন্ধুত্বের মর্যাদা সারাজীবন রক্ষা করে চলবে। আর এখানে কখনও ‘কাম-ক্রোধ-লোভ-ক্ষুধা’ কাজ করবে না। বন্ধুকে দেখতে হবে পবিত্র চোখে। নইলে কীসের এতো বন্ধুত্ব? আজকাল অনেকে হঠাৎ করেই বন্ধুত্বের গণ্ডী পেরিয়ে লাভজনক-সম্পর্ক “বয়ফ্রেন্ড” আর “গার্লফ্রেন্ড”র দিকে ধাবিত হচ্ছে। এদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটছে। আর এটি সম্পূর্ণ বিকৃত-মানসিকতা। আগের দিনের শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী ও সহপাঠিনীদের শুধুই “ক্লাসমেট” বলতো। আর শব্দটি শুনতেও ভালো লাগতো। কিন্তু এখনকার অনেক ছেলে-মেয়ে কিছু না বুঝেই ক্লাসমেটকে “বয়ফ্রেন্ড” বা “গার্লফ্রেন্ড” বলে অভিহিত করছে। আর এতে তারা বিরাট এক গর্ব অনুভব করছে।

পাশ্চাত্যের বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ড:
ইউরোপ-আমেরিকা-জুড়ে এখন “বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ড” মানে হলো দেহফ্রেন্ড। এটি এখন তাদের দেশের অন্যতম সংস্কৃতি। আর সেখানে একটি ছেলে বা মেয়ের বয়স আঠারো পার হলেই তারা তাদের “বয়ফ্রেন্ড” বা “গার্লফ্রেন্ড”-এর সঙ্গে অবাধে যৌনাচারে লিপ্ত হয়। কখনও-কখনও দেখা যায়, কেউ-কেউ পনেরো-ষোলো বয়স থেকেই একটু লুকিয়ে এই অপকর্মটি শুরু করে। একটু লুকানোর মানে হলো: আইনি-জটিলতা ও পুলিশী-ঝামেলা থেকে নিজেকে বাঁচানো। ইউরোপ আমেরিকায় ছেলে-মেয়ে যে-কারও বয়স আঠারো পার হলেই সে নিজেকে একজন রাজা-বাদশাহ মনে করে থাকে। কারণ, তার সামনে তখন অবাধ-যৌনাচারের রঙিন-দুয়ার খুলে যায়। এরা এমনই একটা পশুত্বের পর্যায়ে চলে গেছে যে, তারা এখন বিবাহের প্রয়োজনীয়তা তেমন একটা অনুভব করে না। তারা “বয়ফ্রেন্ড” ও “গার্লফ্রেন্ড”-এর সঙ্গে অবাধে দৈহিক-মিলন সম্পন্ন করে সন্তানের পিতা-মাতা হয়ে যাচ্ছে। একটি ষোড়শী-তরুণী-যুবতী এখন বয়ফ্রেন্ডের কাছে দেহদান করে সন্তানের গর্বিত ‘মাতা’ হচ্ছে। আর এর বয়ফ্রেন্ডও এতে খুব গর্ব অনুভব করছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে বিয়ের আগেই একজন পুরুষ ও রমণী একাধিক সন্তানের পিতামাতা হচ্ছে। এই হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার “বয়ফ্রেন্ড” বা “গার্লফ্রেন্ড”-এর চিত্র!

ইউরোপ-আমেরিকার পাপাচার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে:
ইউরোপ-আমেরিকার এই ঢেউ এসে লেগেছে আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার কিছু-কিছু দেশে। আর এরাও ইউরোপ-আমেরিকার মতো অবাধে-যৌনাচারে মিলিত হতে চাচ্ছে ও হচ্ছে। এতেই তাদের ভয়ানক আনন্দ। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ সবসময় বেশি। অনেকে এখন “বয়ফ্রেন্ড” বা “গার্লফ্রেন্ড”-এর সঙ্গে অবাধে মেলামেশাকে অন্যরকম অনুভূতি হিসাবে ভাবছে। কালের পরিক্রমায় মানুষের উন্নয়ন হয়েছে অনেক। আর এরচেয়ে বেশি হয়েছে অবনতি। মানুষ এখন ধর্মবিশ্বাস ও মূল্যবোধ হারানো বা বিসর্জন দেওয়াকে অতিআধুনিক চিন্তাভাবনা হিসাবে ভাবছে। আর একদিন হয়তো মানুষ এটাকেই তার জীবনের আদর্শ ও মতবাদ হিসাবে গ্রহণ করবে।
(চলবে)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

২ thoughts on “এখন বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, আর বাড়ছে দেহফ্রেন্ডের সংখ্যা! (দ্বিতীয় পর্ব: একটি চাক্ষুষ-ঘটনা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *