স্বাগতা ভালোবাসার শেষ চিঠি




সিলভিয়া প্লাথকে উপজীব্য করে টেড হিউজের লেখা ‘ Last Letter ’ কবিতাটি ব্রিটিশ ম্যাগাজিন নিউ স্টেটসম্যান-এ প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ এর ১১ অক্টোবর সংখ্যায় । ২৮ অক্টোবরে মৃত্যুর আগে এটিই ছিল হিউজের লেখা শেষ কবিতা ।এই কবিতাটি এবং শেষ বছরে লেখা অন্যান্য কবিতাগুলো পরবর্তীতে ‘Birthday Letters ’ বইয়ে স্থান পায় । যদিও অভিমানী সিলভিয়াকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি হিউজের মৃত্যুর ৩৫ বছর আগে , ১৯৬৩ সালে । চিরবিষণ্ণ এবং পারিবারিক জীবনে কিছুটা হতাশাগ্রস্ত সিলভিয়া ১৯৬৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৩০ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন । দুই শিশু সন্তান ফ্রিডা এবং এবং নিকোলাসকে রেখে যান সিলভিয়া প্লাথ ।

ক্যাম্ব্রিজে প্রথমবারের মতো হিউজ এবং সিলভিয়ার সাক্ষাৎ হয় । দুইজনই তখন নিজ নিজ স্থানের উল্লেখযোগ্য কবি । প্রথমে সাক্ষাৎ , তারপরে ঘনিষ্ঠতা , পরিণয় এবং বিয়ে । হিউজের প্রথমদিকের কবিতার কবিতার বই ‘ Crow ’-এ সিলভিয়াকে নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ একটা সময় এই ভালোবাসার সম্পর্ক নিয়ে হিউজ ছিলেন আশ্চর্যজনকভাবে নীরব । এই দীর্ঘকালীন নীরবতা অবশেষে ভঙ্গ হয় শেষ সময়ে এসে ‘ Birthday Letters ’ বইয়ের লিরিক্যাল ধাঁচের কবিতাগুলো দিয়ে । আর প্রকাশিত
ভালোবাসার সর্বোচ্চ স্ফুরণ দেখা যায় এই Last Letter কবিতায় । কি কথা হিউজ লিখে গিয়েছিলেন এই কবিতায় ? দীর্ঘ অনেকগুলো বছর সিলভিয়াকে নিয়ে নীরব থাকার পর বলতে গেলে জীবনের শেষ দিনগুলোয় সিলভিয়ার স্মৃতি কি অন্য রূপ নিয়ে হাজির হয়েছিল হিউজের কাছে ? কবি ক্যারল অ্যান ডাফি এই কবিতাটি সম্পর্কে বলেন :
“ হিউজের লেখা যে কোন কবিতার চেয়ে এটি ছিল গভীরতর । এমন একটা অন্ধকারের চূড়ায় কবিতাটি পৌঁছতে পেরেছে যেখানে অন্য কবিতারা স্থান পায় নি । সিলভিয়ার মৃত্যুতে হিউজের যে অন্তর্বেদনা , তা একদম প্রকটভাবে হাজির হয়েছে ।”

সিলভিয়া বেঁচে থাকাকালীন সময়েই ১৯৬২ এর মাঝামাঝি সময়ে অ্যাসিয়া ওয়েভিলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন টেড হিউজ । তাদের এই সম্পর্ক প্লাথের বিষণ্ণতাকে আরও উস্কে দেয় এবং তার অভিমানকে গাঢ়তর করে তোলে । অনেকেই মনে করেন , সিলভিয়ার অকাল স্বেচ্ছামৃত্যুর দায় পুরোটাই হিউজের উপর পড়ে । তবে এটাও ঠিক যে, প্রায় প্রথম থেকেই সিলভিয়ার লেখা কনফেশনাল ধাঁচের কবিতাগুলোয় ছিল বিষণ্ণতার গভীর ছাপ । সেই স্তব্ধতার ক্রমিক জীবনে পারিবারিক জটিলতা নতুন মাত্রা যোগ করেছিল । অবশ্য অ্যাসিয়ার পরিণতিও হয়েছিল সিলভিয়ার মতই । প্লাথের মৃত্যুর প্রায় ছয় বছর পরে অ্যাসিয়া তার চার বছরের কন্যা শারাকে হত্যা করেন এবং নিজে আত্মহত্যা করেন ।
‘ What happened last night ?
Your final night .’
এভাবে শুরু হয় লাস্ট লেটার নামের দীর্ঘ কবিতাটি ।কবিতাটিতে হিউজ নিজ কল্পনায় যেভাবে সিলভিয়াকে এঁকেছেন , অভিমানী নারীটির দিনগুলো ঠিক সেভাবেই কেটেছে কিনা আমাদের তা জানার কোন উপায় নেই । অবশ্য হিউজ এখানে স্মৃতিকথা লেখেন নি , লিখেছেন বিগত প্রেমিকাকে নিয়ে কবিতা । অন্তর্গত যন্ত্রণা , ভালোবাসা , প্রিয়তমার আকস্মিক প্রস্থানে নিজের দায় , এসবই হিউজের ‘শেষ চিঠির’ পরতে পরতে । আমরা কবিতাটির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাই :
… যে রাতে সে আত্মহত্যা করল , সেই রাতে হিউজকে ফোন করার জন্য সিলভিয়া টেলিফোন বুথে গেল … মৃত্যুর তিনদিন আগে সুইসাইড নোট লিখে হিউজকে পাঠাল । সে নোটটি হাতে পেল প্রিয়তমার মৃত্যুর দিন বিকেলে …
‘ wept with relief when (she) opend the door ’
তারপর সিলভিয়া নিজেই সেই চিঠিটি অ্যাশট্রেতে পুড়িয়ে ফেললো … এতে করে সিলভিয়াকে মুক্তি দিতে এবং নিজে পালিয়ে যেতে হিউজ যেন একটা কারণ খুঁজে পেল । …
১৮ রাগবি স্ট্রিট থেকে হিউজ নিজ ফ্ল্যাটে ফিরে আসলেন । কাগজের পাতা সামনে নিলেন এবং লিখতে থাকলেন কবিতা । লাস্ট লেটার শেষ হয় এভাবে,
“ Then a voice like a selected weapon
Or a measured injection ,
Coolly delivered its four words
Deep into my ear : “ your wife is dead ” ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *