দিগম্বর

রাজনীতিতে দিগম্বর বিষয়টি পুরনো এবং অশ্লীল।যতদূর জানা যায়, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রয়াত মিজান চৌধুরীকে একবার দিগম্বর করা হয়েছিল।এরশাদ শাহীর পতনের পর ডাকসাইটে এক আমলাকেও জনতার রুদ্ররোষে দিগম্বর করে রাজপথে ঘুরানো হয়েছিল।রাজনীতিতে দিগম্বর অনুশীলনের সর্বশেষ সংযোজন হিসাবেই কি-না? কুলাউড়া থানা আওয়ামীলীগের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেণু কে দিগম্বর করা হল।এবার তাঁর খোদ দলের নেতা-কর্মীরাই সুকর্মটি সম্পাদন করলেন! জনাব রেণুর প্রকাশ্য জীবিকা থানায় দালালী করা।তাঁর শিক্ষার দৌড় সম্পর্কে তেমন কিছু জানা না গেলেও তাঁর মুখনিঃসৃত বচনসমূহ ইতরসুলভ! “বিনয়” শব্দটি তাঁর অভিধান থেকে মুছে ফেলেছেন বহুবছর পূর্বে। তাঁর হাঁটাচলা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ, তিনি সিনিয়রদের সাথে বেয়াদপি করেন।ক্ষমতার নেশায় মত্ত এই আওয়ামীলীগ নেতা কাউকে পরোয়া করেন না।সরকারী সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে তিনি বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। গড়েছেন টাকার পাহাড়। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেন তিনি। অবশ্য নিন্দুকেরা বলেন, এর পেছনেও না –কি “অর্থই অনর্থের মূল“!
দুর্ভাগ্য ক্ষমতার মোহে অন্ধ আমাদের রাজনীতিকরা ইতিহাস থেকে, সময় থেকে কোনো শিক্ষাই নেন না।যারা দিগম্বর করেছেন,তারা নিশ্চয়ই ভালো কাজ করেন নি। নিন্দা জানাই এই গর্হিত কাজের। বাংলাদেশের জনগণ নিশ্চয়ই চান, রাজনীতিতে ফিরে আসুক পরীশীলিত সংস্কৃতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *