৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা, আমদানি করা এক ভূতুড়ে প্রশ্ন !!!

৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা, আমদানি করা এক ভূতুড়ে প্রশ্ন !!!

৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা, আমদানি করা এক ভূতুড়ে প্রশ্ন !!!
বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের যে ধারা সেটাকে বাধাগ্রস্ত করতে বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশ গুলো আমাদের দেশের উপর লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে | বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির রাখতে শুধু পাকিস্তানই নয় বরং তাদের তাঁবেদারি দেশগুলোও আমাদের এই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে উঠে পরে লাগবেই , আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে খুবই সাবধানে সামাল দিতে না পারলে বিপদ হবার সম্ভাবনা থেকেই যায়, তাই বিদেশী অপশক্তি অসীম ক্ষমতাধর দেশগুলো আমাদের সরকারের ঊর্ধ্বতন রাজনীতিবিদ ও সরকারী দলের লোকজনদের প্রলোভন দেখিয়ে দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাতে তৈরি করার সুযোগ খুঁজবে, সরকারের ভেতর বিশ্বাসঘাতকদের অনুপ্রবেশ করাতে চেষ্টা চালাবে |
আমার হয়তো অনেকই অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক জন পিলজার দ্বারা নির্মিত ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষের ওপর প্রামাণ্যচিত্রটি দেখেছি, এখানে কিছু ভয়াবহ সত্য লুক্কায়িত ছিল যা আমাদের অনেকেরই জানার প্রয়োজন আছে, দুর্ভিক্ষ যে আমাদের দেশে আগে হয়নি তা নয় উপনিবেশ শাসন আমল ১৯৪৩ সালেও পাক ভারতে দুর্ভিক্ষ হয়েছে তবে ১৯৭৪ দুর্ভিক্ষকের ধরন ছিল একটু আলাদা কারণ এই দুর্ভিক্ষকে আমেরিকা কৃত্রিম ভাবে তৈরি করেছিলো, সম্ভাব্য কারণ গুলোর মাঝে মনে করা হয় ১৯৭৩ সালের প্রথম দিকে কিউবার সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ও পাট রপ্তানি নিয়ে আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের একটা বৈরি সম্পর্ক সৃষ্টি হয় আবার অনেকেই মনে করে ১৯৭৩ সাল থেকেই সোভিয়েত নৌ কন্টিনজেন্ট চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নেয় তাই আমেরিকার ধারণা সোভিয়েত বাংলাদেশে একটি নৌ ঘাটি স্থাপন করার পরিকল্পনায় নিয়েছিলো তাই সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আমেরিকা ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্দয় ভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে ২.২ মিলিয়ন টন সাহায্য দেয়া খাদ্য মাঝ পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় | হেনরি কিসিন্জারের বক্তব্য ছিল বাংলাদেশ একটি তোলা বিহীন ঝুড়ি, কাজেই বুঝতেই পারছেন বৃহৎ শক্তিশালী দেশগুলো কতটা অমানবিক হতে পারে | কাজেই স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি বৃহৎ শক্তিগুলোর থাকে লোলুপ দৃষ্টি, শোষণ যেখানে মুখ্য, মানবতা সেখানে অন্ধকারে নিমজ্জিত | কাজেই বর্তমান সময়ে শুধু মাত্র অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে ৩০ লক্ষ শহীদের সংখ্যা নিয়ে যে প্রশ্ন সেটা বাইরে থকে আমদানি হয়েছে বলে ধরে নেয়া যেতে পারে |
অভূতপূর্ব মানসিক শক্তির অধিকারী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আজ অনেক দেশই সমীহের চোখে দেখলেও তাদের অন্তরজ্বালা আমরা দেখতে পারছিনা | ঐসব অপশক্তির কাজই হচ্ছে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে রাজনীতির মাঠকে অস্থিতিশীল রাখা, তানা হলে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর হঠাৎ করেই বি এন পি ও তার দলীয় কর্মকর্তারা ৩০ লক্ষ শহীদ নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে যাবে কেন?
আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি তাই মনে রাখতে হবে শক্তিধর দেশগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা একটু ভিন্ন মাপের যেটাকে আমরা অনেকটা জুয়া খেলার সাথে তুলনা করতে পারি, এইসব খেলার খেলোওয়ারদের নাম Economic Hit Men যাদের কাজ হচ্ছে একটি দেশকে কি ভাবে অস্থিতিশীল করে সেই দেশের উন্নয়নে অংশীদারিত্বের ভাগ বসানো যায় | কাজেই মনে রাখতে হবে ৪৫ বছর পর ৩০ লক্ষ শহীদের প্রশ্ন আজ নতুন করে উত্থাপনকারীরা পর্দার অন্তরালেই থেকে যায় আর তারা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে |
এখানে প্রশ্ন আসতে পারে কারা একটি দেশের ক্ষতি করতে খুবই দক্ষতার সাথে এই সব কুকর্ম করে থাকে ? কি ভাবে তারা এই কাজে এগিয়ে আসে ? এখানে উত্তর দিতে গেলে বলতে হয়, অর্থনৈতিক হিট ম্যান (EHMs), অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে একটি দেশের প্রভাবশালী পরিবার অথবা রাজনীতিবিদদের মাঝে ঢুকে গিয়ে তাদের সাথে সখ্যতার সৃষ্টি করে , দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, জাতির মাঝে দ্বন্দ্ব, দ্বিধা ও বিভক্তির সৃষ্টি করে, এইসব অর্থনৈতিক হিট ম্যানদের চেনা ভার, যে কোন রাষ্ট্রদূত, NGO, অথবা বিদেশী সাহায্য সংস্থার মানুষ এই রূপে লুকিয়ে থাকে | একটি দেশের NGO গুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক থাকে সুনিবিড়, কাজেই দেশের অভ্যন্তরীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর একটা রিপোর্ট তারা খুবই সহজে পেয়ে যায় | একটি দেশের জাতীয় নির্বাচন, অর্থনৈতিক উন্নতি, ধর্মীয় উন্মাদনা, বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারলেই তাদের কাজের পথ সুগম হয়ে পরে, আর এ ক্ষেত্রে তারা বিরোধী দল বা শক্তির সাথে সন্ধি স্থাপনের মাধ্যমে হত্যা, চাঁদাবাজি, ঘুষ, মুদ্রা পাচারের মত কুকর্মে লিপ্ত হতে খুবই সুকৌশলে মানুষকে বাধ্য করে, সেই সাথে যখন একটি দেশে প্রশাসনিক দুর্বলতা ও বিচার ব্যবস্থা অনেকাংশে ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হয় ঠিক তখনি বৃহৎ শক্তিধর দেশগুলো একটি উন্নয়নশীল দেশে শোষণ করার নতুন পথ খুজে পায় |
প্রবাসে বি এন পি শাসন আমলে ও বর্তমান আমলেও দেখেছি ইসলামী ব্যাঙ্কের বৃত্তি নিয়ে শত শত জামাত শিবিরের আদর্শ পুষ্ট ছাত্র সমাজ পশ্চিমা দেশগুলোতে ভিড় জমায় আর তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থেকে এক বিশাল পরিমাণে টাকা প্রবাসে পাচার হবার লক্ষণ লক্ষ্য করা যায় সেই সাথে প্রবাসী দলীয় সুবিধাবাজরা তো আছেনই | এ বিষয়ে আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয়কে আরও সজাগ ও কঠিন হবার প্রয়োজন আছে বৈকি | আমি নিজেই বিভিন্ন সময়ে প্রবাসে জামাত শিবির দ্বারা পরিচালিত অনেক সেমিনারের আয়োজন করতে দেখেছি যেখানে বিদেশীদের তার ১৯৭১ সালের যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়, কাজেই আমাদের অনেকেরই ধারণা এইসব করতে গেলে যে বিশাল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন তা ওই সব সুযোগ সন্ধানী দেশগুলো থেকেই যোগার করা হয় |
কাজেই বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশ বিরোধী শক্তির প্রধান কাজ, আর তাই আমাদের চোখের আড়ালে ৪৫ বছর পর ৩০ লক্ষ শহীদের প্রশ্ন নিয়ে নতুন খেলায় মেতেছে অনেকগুলি শক্তি এক সাথে |
এই অপশক্তিকে প্রতিহত করার দায়িত্ব প্রতিটি দেশ প্রেমিক নাগরিকের, মনে রাখতে হবে বর্তমান স্বাধীনতার সপক্ষের সরকারকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিতেই হবে, সরকারী দল থেকে, সুবিধাবাদী, ধান্দাবাজ, চাটুকার, দুর্নীতিবাজ ও বাংলাদেশ বিরোধী অনুপ্রবেশকারীদের বিদায় করাই হোক আমাদের ব্রত |
মাহবুব আরিফ /// (কিন্তু)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *