আই এস(সিরিয়া-ইরাক) ই হলো প্রকৃত ইসলামী রাষ্ট্র-১ম পর্ব

যারা বলে আই এস -এর কর্মকান্ডের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই , তারা ইসলামই জানে না । তারা মুনাফিক, কাফের , মুর্তাদ। নবী মুহাম্মদ যে ইসলাম প্রচার করে গেছেন , সেটাই হুবহু অনুসরন করছে আই এস। সেটা এবার কোরান হাদিস থেকে দেখা যাক। নবী বলেছেন-

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৭ :: হাদিস ২

যারা বলে আই এস -এর কর্মকান্ডের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই , তারা ইসলামই জানে না । তারা মুনাফিক, কাফের , মুর্তাদ। নবী মুহাম্মদ যে ইসলাম প্রচার করে গেছেন , সেটাই হুবহু অনুসরন করছে আই এস। সেটা এবার কোরান হাদিস থেকে দেখা যাক। নবী বলেছেন-

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৭ :: হাদিস ২
ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ (র) ………… ইমরান ইবন হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আমার উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ আমার (সাহাবীগণের) যুগ। এরপর তৎ-সংলগ্ন যুগ (তাবেয়ীদের যুগ)। এরপর তৎ-সংলগ্ন যুগ (তাবে-তাবেয়ীদের যুগ)। ইমরান (রাঃ) বলেন, তিনি তাঁর যুগের পর দু’যুগ অথবা তিনি যুগ বলেছেন তা আমার স্মরণ নেই। তারপর (তোমাদের যুগের পর) এমন লোকের আগমন ঘটবে যারা সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহী হবে অথচ তাদের নিকট সাক্ষ্য চাওয়া হবে না। বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে তাদেরকে কেউ বিশ্বাস করবে না। তারা মানত করবে কিন্তু পূরণ করবে না। পার্ঠিব ভোগ বিলাশের কারণে তাদের মাঝে চর্বিযুক্ত স্থূলদেহ প্রকাশ পাবে।

তার মানে নবীর সাথে যারা চলাফেরা করত, তারাই ছিল সর্বশ্রেষ্ট মুসলমান। মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর , সাহাবীরা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছিল , সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে সেই খিলাফত প্রথাই ছিল ইসলামের চুড়ান্ত রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় আদর্শ। সেই খিলাফতে কে প্রথম খলিফা হবে , সেটা নিয়ে আলীর সাথে অন্যান্য সাহাবাদের সাথে বিপুল বাক বিতন্ডা হয়, এর ফলে মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর তার লাশ প্রায় দুইদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকে , তাকে দাফন করা হয় না। মুহাম্মদের সাহাবীরাই সেই দ্বন্দ্ব সংঘাতের সূচনা করে , আর তারা হলো – আবু বকর , ওমর , ওসমান , যুবায়ের , আবু তালহা প্রমূখ। এক পর্যায়ে ওমরের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত আবু বকর খলিফার পদের বসে। যেহেতু এই সাহাবীরাই হলো শ্রেষ্ট মুসলমান , আর তাই তাদের কাজ কর্ম সব কিছুই ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ। অর্থাৎ সেই সব সাহাবীরা যে ক্ষমতার লোভে পরস্পর দ্বন্দ্ব সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল , সেটাও ইসলামে একটা আদর্শ কাজ।

নবীর সাহাবীরা এমন কি নিজেরা নিজেদের মধ্যে ভয়াবহ যুুদ্ধের সূচনা করেছিল , যাতে মারা গেছিল হাজার হাজার মুসলমান। যেমন – উষ্ট্রের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ হয়েছিল খলিফা আলীর সাথে আয়শার। আয়শা খলিফা আলীকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করার জন্যে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তারা অত:পর পরস্পর ৬৫৬ সালে বসরায় এই যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তাতে কথিত আছে দশ হাজারের মত মুসলমান মারা যায়। আয়শার পক্ষে ছিল যুবায়ের , আবু তালহার মত প্রসিদ্ধ সব সাহাবী। আর তারা যুদ্ধ করেছিল মুহাম্মদেরই সব চাইতে ঘনিষ্ট সাহাবী, মুহাম্মদের জামাতা ও তার আপন চাচাত ভাই খলিফা আলীর বিরুদ্ধে।
( সূত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Battle_of_the_Camel)

এ ছাড়াও ওমর, ওসমান ও আলী এই তিন সাহাবী ও খলিফা ক্ষমতার দ্বন্দ্বেই মুসলমানদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়। অর্থাৎ ইসলামের শুরু থেকেই ইসলাম মুসলমানদের মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে মারামারি, হত্যা , যুদ্ধ ইত্যাদি করতে শেখায় , আর সেসব শিখিয়ে গেছে মুহাম্মদেরই ঘনিষ্ট সব সাহাবীরা , যাদেরকে মুহাম্মদ নিজেই শ্রেষ্ট ও আদর্শ মুসলমান বলে স্বীকৃতি দিয়ে গেছে।

যারা এসব ইতিহাস জানে না , তারা কিন্তু এসব ঘটনা জানার পর সাথে সাথেই বলতে পারে , ইসলামের সাথে ইহার কোনই সম্পর্ক নাই। কিন্তু বস্তুত: তাদের নিজেদের চিন্তা ভাবনা ও জানা শোনার সাথেই ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই। যারা তোতা পাখীর মত বুলি আওড়ায় , ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম, ইসলাম কাউকে হত্যা করতে বলে না , বস্তুত: তারা নিজেরাই জানে না ইসলাম আসলে কিসের ধর্ম। ইসলাম সম্পর্কে সামান্যতম কোন জ্ঞান ছাড়াই তারা তোতা পাখীর মত এসব বুলি আওড়ায়। কারন আমরা দেখছি , খোদ সাহাবীরাই ইসলাম নিয়ে মারামারি করেছে , হত্যা করেছে , যুদ্ধ করেছে। এখন ইসলামের সাথে এসব হত্যা খুন ও যুদ্ধের কোন সম্পর্ক না থাকলে বলতে হবে , সেই সব সাহাবীরাই আসলে মুসলমান ছিল না। আর খোদ মুহাম্মদ নিজেই তার সাহাবীদেরকে ইসলামের নামে হত্যা, ধর্ষন, যুদ্ধ করতে শিখিয়ে গেছেন। এখন ইসলামের সাথে এসব হত্যা, ধর্ষন , খুনের কোন সম্পর্ক না থাকলে বুঝতে হবে , খোদ মুহাম্মদই মুসলমান ছিলেন না , আর তার কর্মকান্ডের সাথে ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই।

চলবে—————————————————-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *