অগ্নীশাবক

কোথায় যেনো পড়েছি ” নির্বান লাভ এর মাধ্যমে নাকি স্রষ্টার সাথে দর্শন লাভ সম্ভব ”

বিরবির করে কথাটা কিছুক্খন আনমনে আওড়ালো তরুণ। গন্তব্যহীন দ্রৃষ্টি তাকিয়ে আছে সীমাহীন মরুর দিগন্তে, আর মাত্র ৭৮০ কিমি। তারপর এই লিবিয়ার বর্ডার।

স্রষ্টা কে তরুণ দেখেনি কখনো, দেখেনি তার দুচোখ, তার কথা হল, যদি থেকেই থাকেন এমন কেও তবে এসে দেখা দিয়ে যাক, তার এত মাথা ব্যথা নেই। আজ অবধি নিজেকেই চিন্তে পারলোনা তরুণ, আর যে অশরীরি তাকে চিনা অনেক দুরের কথা।

নিজের আনমনেই কথাগুলো হ্যালুসিনেশন এর মত মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে তরুণের। ধুপ করে পরে যায় আগুন-গরম সোনালী বালির ঊপর, অতি কষ্টে পায়ের খতটা সামলে নিয়ে হাটুতে ভর দিয়ে বসলো, যেন ছোত্ত শিশু হামাগুরি দিয়ে ছুটে যাবে মায়ের কোলে। অদুরে আকাশের বুকে নিষ্ঠুর সূর্য্য টাকে চক্কর মারছে তিন টা শকূণ, মাংসাশী পাখিগুলো যেন খাবারের স্বন্ধান পেয়েছে।
ক্রমশ ম্লান হয়ে আশে তরুণ এর দ্রিষ্টি, লবনে সাদা হয়ে যাওয়া জিহ্বা টা তিরতির করে কাপছে। হঠাত নিজেকে আবিষ্কার করলো অদ্ভুত সুন্দর এক উদ্যানে, নিজেকে প্রভোদ দিলো ব্যবিলনের সেই পাগল রাজার উদ্যান নাতো!! চারিদিকে ফোয়ারার ক্বলক্বল ধ্বনি, তেষ্টায় বুকের ছাতি ফেটে যাচ্ছে অনেকখন ধরে। এই বুঝি কোথাও নুপুরের শব্দ হল, এমন জনমানবশুন্য উদ্যানে নুপুর পায়ে কোনো নারী? কৌতুহলি তরুণ সেদিকে সুটে চলে, নিজেকে আবিষ্কার করে এক পৌরানিক অন্দরমহলে, ঠিক যেন কোনো মিশরীয় রাজকূমারীর শয্যাগৃহ, মসলিনের ঘোমটার আড়ালে কে এই নারী? কাছে এগিয়ে যায় তরুণ, আরে এ যে শিখা, তরুণ বলে ঊঠে, ” শিখা তুমি এইখানে এই বেশে কি করে!! ” নির্বাক শিখা ধিরে ধিরে হাওয়া তে মিলিয়ে যেতে থাকে। তরুণ চিটকার করে উঠে, ” শিখা যেও না, না, না। ”

চিবুকের কয়েকফুটা ঘাম টপটপ করে রাইফেলটার তপ্ত মাজলে পরার সঙ্গে সঙ্গে ছ্যাত করে একটা শব্দ হলো। মোহভঙ্গ তরুণ চেয়ে দেখে কয়েক ফুট দুরে একটা হায়েনা দাড়িয়ে আছে তার এ ম্রৃত্যুর অপেক্ষায় তাকে খাবে বলে।

তরুন ভেবে নিল এটাই সুযোগ, শরিরে বিদ্যুত খেলে গেলো তার। চোখের পলকে পায়ের খাজ থেকে বের হয়ে ডেজার্ট-ঈগল টা গর্জে উঠলো মাত্র একবার, বুয়লেট টা চোখের আড়াল হয়ে গেল হায়েনার হৃদপিন্দটা ফুটু করে দিগন্তে নিমীষেই। বহুদিনের অভ্যাস।
তাড়াতাড়ি কমব্যাট নাইফ টা খুলে নিয়ে হায়েনার গলাটা কেটে ঊষ্ণ রক্তে নিজের পিপাসার্ত বুকটা ভরিয়ে নিল তরুণ।
বেচে থাকতে হবে তাকে, দুর্গম পথের যে এখনো শেষ হয়নি। (চলবে)

৩ thoughts on “অগ্নীশাবক

    1. আতিক ভাইয়া, মোবাইল দিয়ে
      আতিক ভাইয়া, মোবাইল দিয়ে লিখেছি- ই৭১, আভ্র দিয়ে লেখেছি, বাংলা টাইপিং পারি না, তবে স্বর্বাত্মক চেষ্টা করবো নির্ভুল লেখা ঊপহার দিতে।
      ধন্যবাদ

      1. ওহ… মোবাইল থেকে পোস্ট
        ওহ… মোবাইল থেকে পোস্ট দিয়েছেন? ব্লগিং এর প্রতি আপনার আগ্রহ দেখে ভালো লাগল। তবে বানান এমন এক জিনিস, ভুল থাকলে একটা ভালো লেখার মান অনেকটাই কমে যায়। এইজন্য আগ বাড়িয়ে আপনাকে একটু পরামর্শ দিয়েছিলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *