পণ্য বানানো হচ্ছে অাদিবাসী নারীদের

সম্প্রতি গুগল প্রে স্টোরে “পাহাড়ী সুন্দরি” নামে একটা অ্যাপস অাপলোড করা হয়েছে। নিচে দেয়া অাছে
ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী উপজাতি মেয়ে পাহাড়ি কন্যা দেখা অদেখা বাংলাদেশ।

“অার অ্যাপসের বর্ণনায় দেয়া অাছে উপজাতি বলতে এমন জনগোষ্ঠীকে বুঝায় যারা অালাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু নিজস্ব একটা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে জাতি বা উপজাতি নির্দিষ্টকরণ হয়ে থাকে। উপজাতি বা নৃ তাত্বিক জনগোষ্ঠীসমূহ হলঃ চাকমা, মারমা,ত্রিপুরা, খাজং,মুরং ইত্যাদি।”


সম্প্রতি গুগল প্রে স্টোরে “পাহাড়ী সুন্দরি” নামে একটা অ্যাপস অাপলোড করা হয়েছে। নিচে দেয়া অাছে
ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী উপজাতি মেয়ে পাহাড়ি কন্যা দেখা অদেখা বাংলাদেশ।

“অার অ্যাপসের বর্ণনায় দেয়া অাছে উপজাতি বলতে এমন জনগোষ্ঠীকে বুঝায় যারা অালাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু নিজস্ব একটা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে জাতি বা উপজাতি নির্দিষ্টকরণ হয়ে থাকে। উপজাতি বা নৃ তাত্বিক জনগোষ্ঠীসমূহ হলঃ চাকমা, মারমা,ত্রিপুরা, খাজং,মুরং ইত্যাদি।”

১। ছবিগুলো যে খারাপ তা না ভালো ছবিই দেয়া । কিন্তু বাঙ্গালিদের মধ্যে কি সুন্দরি মেয়ের অকাল পড়েছে? না। একটা বাঙ্গালি মেয়ে তো মিস আয়ারল্যান্ড ও হয়েছে। দেশে “নাইলা নাঈমের ” মত হট হট মেয়ে যেমন অাছে তেমনি “জ্যাকুলিন মিথিলার” মত বাংলার সানি লিওন দাবি করা মেয়েও অাছে। তাহলে কেন শুধু পাহাড়ী সুন্দরী নামে অ্যাপস হবে? বাঙ্গালি সুন্দরি ও হতে পারতো।
হতে পারতো কিন্তু করা হয়নি কারণ উদ্দেশ্য তো পাহাড়ী মেয়েদের পণ্য বানানো। সেখানে বাঙ্গালি সুন্দরি নামে অ্যাপস তো দরকার নেই। দেশের লোক তো সারা বছর বাঙ্গালি মাল দেখে এবার না হয় পাহাড়ী মাল দেখুক। ডিজিটাল যুগ দেশটাও ডিজিটাল পণ্য বানানোর সিস্টেমটা ও তো ডিজিটাল হতে হবে।
বিগত অাদিবাসী দিবসের পোস্টারেও অাদিবাসী মেয়েদের উপস্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিকটু ভাবে। অার বান্দরবানে একটা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দ্বারা অায়োজিত অনুষ্ঠানেও এই পাহাড়ী মেয়েদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য একটাই নতুন রসালো ফলের সাথে সবাইকে পরিচয় করে দেয়া।

যেসব জুম্ম অাদিবাসী পার্বত্য চট্রগ্রামের বাইরে থাকেন তারা হয়তো তাদের সহপাঠী অথবা সহকর্মীদের থেকে দোস্ত একটা পাহাড়ী মাল ঠিক করে দে শুনতে শুনতে অভ্যস্ত। পাহাড়ী মেয়ে মানেই সুস্বাদু রসালো ফল ছাড়া কিছুই নয়।
যে দেশের ধর্মীয় গুরু মেয়েদের জিহ্বে জল অানা তেতুল মনে করেন সেখানে অাদিবাসী পাহাড়ী মেয়েদের রসালো ফল মনে করা অস্বাভাবিক কিছুই না।

অ্যাপসে যেসব ছবি দেয়া অাছে অধিকাংশ ছবি নেয়া হয়েছে ফেসবুকের বিভিন্ন মেয়ের অাইডি থেকে অার কিছু ছবি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে।
ছবিগুলো কিন্ত খারাপ ছবি না। তাহলে এত অাপত্তি কেন? গত বছর কলকাতার এক চার্চে ষাটোর্ধ এক সিস্টারকে ধর্ষন করেছিল কিছু বাংলাদেশী যুবক। এদের কাছে মেয়ে মানেই মাল মেয়ে মানেই ধর্ষণ সে হোক ষাটোর্ধ হোক ষোড়শী। এদের কাছে মেয়ে মানেই মাল অার মাল মানেই তো ভোগ্য পণ্য। সে হোক বোরকা পড়া কিংবা পেন্টি পরা। তাতে কিছু অাসে যায় না।

একটা জাতির সংস্কৃতির ধারক-বাহক হল নারী। এই নারীর মাধ্যমে একটা শিশু তার সংস্কৃতিকে শেখে।
কোন জাতির সংস্কৃতিকে শেষ করতে মোক্ষম অস্ত্র হল সেই জাতির মেয়েদের উপর অাঘাত হানা।
এটাই হলো মূল পয়েন্ট। যে কোন প্রকারে অাদিবাসী মেয়েদের পণ্য বানানো যেন বীব পুংঙ্গবরা এই পণ্য ভোগে উৎসাহী হয়। অার অাদিবাসীদের সংস্কৃতিকে সুকৌশলে শেষ করে দেয়া যায়।

২। অার অ্যাপসের বর্ণনাটি সম্পূর্ণ উইকিপিডিয়া থেকে কপি করে নেয়া হয়ছে। এটা হয়তো কারো অজানা নয় যে উইকিপিডিয়ায় যে কোন প্রবন্ধ তৈরি করা এবং পরিবর্তন করা যায়।

উইকিপিডিয়া লিংক
পাবর্ত্য চট্টগ্রামের ভিন্ন ভাষা‍ভাষি জুম্ম জনগণ নি:সন্দেহে পাবর্ত্যাঞ্চলের প্রথম জনগোষ্ঠী এবং অদিবাসী। প্রাক-উপনিবেশিক অমলে এ অঞ্চলের জুম্ম জনগণ ছিল নিজস্ব স্বাধীন সামন্ত রাজ্যের অধিকারী। অধুনিক রাষ্ট্র গঠনের একপর্যায়ে এ অঞ্চলটি কালক্রমে ‍ব্রিটিশ, পাকিস্তান অধুনা বাঙলাদেশের অংশ হযেছে। তাই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জুম্ম জনগণ পাবর্ত্য চট্টগ্রামেরই অাদিবাসী।
উপজাতি শব্দটি বতর্মান সমাজবিজ্ঞানে নৃবিজ্ঞানে পরিত্যক্ত অচল।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িরাই প্রথম বসতি স্থাপনকারী, অর্থাৎ আদি-বাসিন্দা ও অভিবাসী দুইই।বাঙালিরা দাবি করে বসছে, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়িরা বহিরাগত, বিদেশী, বাঙালিরাই নাকি সেখানের আদিবাসী!.!

৪ thoughts on “পণ্য বানানো হচ্ছে অাদিবাসী নারীদের

  1. পাহাড়ী মানুষের জীবনমানের
    পাহাড়ী মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোর জন্যই এই প্রচেষ্টা। এ-কে ভুলব্যাখ্যা দিলে চলবে না। মহৎউদ্দেশ্যেই এই কর্মযজ্ঞ।
    আসলে, সবাইকে দেশের স্বার্থে বাঙালি হতে হবে।

  2. সারা পৃথিবীতেই মেয়েদেরকে পণ্য
    সারা পৃথিবীতেই মেয়েদেরকে পণ্য বানিয়ে রমরমা ব্যবসা চলছে। সেখানে কেন পাহাড়ী মেয়েদের বানান যাবে না; সেটি আমার কাছে বোধগম্য নয়। তারা কি অন্য গ্রহের বাসিন্দা?

    1. যুক্তিটা কিন্তু একদম যৌক্তিক
      যুক্তিটা কিন্তু একদম যৌক্তিক । পশ্ন রইল সেই পণ্যটার মধ্যে অাপনার বোনকেও ঢুকিয়ে দেয়া হয় তখন ও কি বলবেন সব মেয়েকে যখন পণ্য করা হচ্ছে অামার বোন কেন বাদ যাবে। নাকি তার প্রতিবাদ করবেন?

  3. অামার সেই মহৎ উদ্দেশ্যটা কি
    অামার সেই মহৎ উদ্দেশ্যটা কি একটু বুঝায় বলবেন ভাই @রফিকুল । অামার অাদিবাসী পরিচয়ে তো অাপনার এত গা- চুলকানি থাকার কথা না যদি অাপনি দেশকে ভালবাসেন। :মনখারাপ: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *