বাংলাদেশে কি হিন্দুরা থাকতে পারবে না ?

সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকা যায়নাপ্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত এর একটি গবেষণাগ্রন্থে তিনি তথ্য, উপাত্তের ভিত্তিতে হিসাব করে বলেছেন যে, ১৯৭১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ৬৩ লক্ষ হিন্দু বাংলাদেশ থেকে উধাও হয়ে গেছেনএই বিতাড়নে হিন্দু সম্পত্তি দখলের সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩১% আওয়ামী লীগের সদস্য-সমর্থক ও ৪৫% বি.এন.পি.’র সমর্থক১৯৯২ সালে ভারতে বাবরি মসজিদ ভাঙার পর যে ভয়ংকর তাণ্ডব চলে তাতে ২৮,০০০ বাড়ি-ঘর, ৩,৬০০ মন্দির, ২,৫০০ দোকান-বাজার ধ্বংস হয়খুন হন ১৩ জন২০০১-এ বেগম জিয়ার নির্বাচনের পর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনএর ফলে ১৯৫১ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে যে হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ২২ শতাংশ, ১৯৭১-এ ১৫%, ১৯৭৪-এ ১৩.৫% ও ২০০১ সালে ৯.২ শতাংশে নেমে এসেছেবর্তমানে তা সম্ভবতঃ ৭-৮ শতাংশ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বরিশাল, ভোলা,ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা এই ছয় জেলায় হিন্দু জনসংখ্যা ছিল ৮ লাখ ১৬ হাজার ৫১ জন২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেখা যায় হিন্দু জনসংখ্যা কমে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৯ জনে এসে দাঁড়িয়েছে”১৯৬৪ থেকে ১৯৭১ এই নিখোঁজ হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ৭০৫ জন১৯৭১ থেকে ১৯৮১ তে প্রতিদিন গড়ে ৫২১ জন, ১৯৮১-১৯৯১ এ প্রতিদিন গড়ে ৪৩৮ জন এবং এই সংখ্যাটি অনেক বেড়ে ১৯৯১ থেকে ২০০১ এ দাঁড়ায় প্রতিদিন গড়ে ৭৬৭ জন” অপর একজন গবেষক বর্ণনা করেছেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার একটি প্রতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া”বাংলাদেশ বারবার সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে গেলেও ধারাবাহিক সংগ্রামের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও বারবার ফিরে এসেছেসংখ্যালঘু বিরোধী আইন না থাকলেও পাকিস্তান আমলের শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ও অর্থনীতিকে ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছেবাংলাদেশ হবার পর এই আইন নাম বদলে হয় “অর্পিত সম্পত্তি আইন” (Vested Property Act) এবং এই আইনে একইভাবে হিন্দুদের সম্পত্তি জবরদখল চলেএই আইনের ফলে স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত হিন্দুদের প্রায় ২৬ লক্ষ একর জমি ও দেবোত্তর সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি আইনের ফলে বেহাত বা দখলচ্যুত হয়দশ লক্ষেরও বেশী মামলা হয়েছে, কিন্তু একটি মামলারও নিস্পত্তি হওয়ার খবর আমাদের জানা নেই

*সংগৃহীত /দিলিপ কর্মকারের থেকে

৬ thoughts on “বাংলাদেশে কি হিন্দুরা থাকতে পারবে না ?

  1. বাংলাদেশে কি হিন্দুরা থাকতে

    বাংলাদেশে কি হিন্দুরা থাকতে পারবে না ?

    নাহ, শীঘ্রই ১০০% মুসলিম অধ্যুষিত দেশে পরিণত হবে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলির মত।

  2. হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ওপর
    হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতনকারীরা নরপশু আর জানোয়ার। আর এরা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানীহানাদারবাহিনীর প্রকৃত-উত্তরসূরী। এই হারামজাদাদের বিরুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হবে। এই হারামজাদাদের কাছে মাথানত না করে এই দেশেই টিকে থাকার জন্য হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সংগঠিত হতে হবে। তাই বলে দেশত্যাগ করা যাবে না। তাইলে ওই জবরদখলকারী হারামজাদাগোষ্ঠী আরও সুযোগ পেয়ে যাবে।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. ভাইজান ইন্ডিয়াতে বসে তো শুধু
    ভাইজান ইন্ডিয়াতে বসে তো শুধু সহিংসতাই দেখেছেন। হিন্দু কতৃক খৃষ্টান হত্যা, হিন্দু কতৃক মুসলিম হত্যা , হিন্দু কতৃক নিচু জাতের হিন্দু হত্যা । তাই মনে হচ্ছে এখানেও তাই হয়।

    হিন্দুরা মুসলিমদের জবন বলে, কি সব ছুত অছুত বলে মিসতে চায়না, তারা এখানে সংখ্যায় কম মুসলিমদের সাথে না মিশলে কিভাবে চলবে। তারা তো সব জিনিশ তৈরি করতে পারে না। সামাজিক কারনেই মুসলিমদের সাথে মিশতে হবে। আর মিশলে তাদের ধর্ম থাকে না জন্যই ভারতে গেছে । কাউ তাদের তাড়ায় নাই।

  4. বাংলাদেশে হিন্দুরা থাকতে
    বাংলাদেশে হিন্দুরা থাকতে পারবে কি পারবে না এই প্রশ্ন সরাসরি আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে গিয়ে করা বেশি ভালো; কারণ, লীগ অমুসলিমদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতুশ্রুতি দিয়েছে । তার পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন কেন তিনি নির্যাতনের শিকার হিন্দুদেরকে ন্যায় বিচার দিচ্ছেন না । আরো দুজন আছেন- যারা প্রতিনিয়তই বড় বড় কথা বলে থাকেন তাঁরা হলেন সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় । তাঁরা রাজার হালে বাংলাদেশে আছেন কিন্তু বাকি হিন্দুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেন করছেন না ?
    বাংলাদেশ হিন্দু মুসলমানের নয়, এটা বাঙালির দেশ । হিন্দু ও মুসলমান দুটোই অবাঙালির শব্দ । আপনি যদি বাঙালি হয়ে থাকেন তাহলে আমার আর আপনার মধ্যে জাতিগত কোনো পার্থক্য নেই । অতএব, এক সাথে থাকতেও আমাদের অসুবিধে নেই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *