কে বেশী শক্তিশালী- শয়তান নাকি আল্লাহ ? পর্ব-২

প্রথম পর্বে দেখান হয়েছিল আল্লাহ ইবলিশ শয়তানকে বেহেস্ত থেকে বের করে দেয়ার পরেও , ইবলিশ আল্লাহর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেই আবার বেহেস্তে প্রবেশ করে আদমকে বিভ্রান্ত করেছিল, আর তাকে দিয়ে গন্দম ফল ভক্ষন করিয়েছিল। এবার দেখান হবে , আল্লাহর অক্ষমতার কথা।

সুরা বাকারা-২: ১৫৫: এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।


প্রথম পর্বে দেখান হয়েছিল আল্লাহ ইবলিশ শয়তানকে বেহেস্ত থেকে বের করে দেয়ার পরেও , ইবলিশ আল্লাহর ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করেই আবার বেহেস্তে প্রবেশ করে আদমকে বিভ্রান্ত করেছিল, আর তাকে দিয়ে গন্দম ফল ভক্ষন করিয়েছিল। এবার দেখান হবে , আল্লাহর অক্ষমতার কথা।

সুরা বাকারা-২: ১৫৫: এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।

আসলে মানুষের ভয় , ক্ষুধা , জান মালের ক্ষতির ওপর আল্লাহর কোনই ক্ষমতা নেই। আল্লাহ এসব নিয়ন্ত্রনও করতে পারে না। তার এই অক্ষমতা ঢাকতে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত বলেছে। ধরা যাক , কোন হাইজাকার আপনাকে ধরে , আপনার সব টাকা পয়সা লুট করে নিল। পরে আপনার একবন্ধু আপনাকে জিজ্ঞেস করল , আপনার মত এত শক্তিশালী মানুষকে কিভাবে হাইজ্যাক করে টাকা পয়সা লুট করে নিল ? আপনি উত্তর দিলেন : আমি দেখলাম হাইজ্যাকারটার দৌড় কত দুর। ইচ্ছা করলে তো আমি তাকে এক থাপ্পড় মেরে ফেলে দিতে পারতাম কিন্তু দেই নাই। দেখছিলাম কিভাবে হাইজ্যাকাররা হাইজ্যাক করে।

তার মানে আপনি আপনার অক্ষমতাকে স্বীকার না করে , ধানাই পানাই কথা বলছেন। কোরানেও দেখা যাচ্ছে দুর্ঘটনা , মানুষের রোগ শোক , জরা মৃত্যু, অভাব অভিযোগ , ক্ষুধা , ফসলহানি , বন্যা, ভূমিকম্প ইত্যাদির ওপর আল্লাহর কোনই হাত নেই , সে গুলো ঘটলে মানুষের ক্ষতি সাধিত হয় , তা থেকে আল্লাহ কাউকে বাঁচাতে পারে না।কিন্তু সেটা স্বীকার না করে , প্রকারান্তরে ধানাই পানাই কথা বলে , নিজের অক্ষমতাকে ঢাকা দেয়ার প্রানান্তকর চেষ্টা করছে। আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে – আল্লাহর জিকির করে মাঠে বেশী ফসল ফলান গেছে , কারও দুরারোগ্য রোগ যেমন ক্যন্সার বা ডায়াবেটিস সেরে গেছে ? অথবা আল্লাহর জিকির করে বন্যা বা খরা ইত্যাদিকে থামান গেছে ? এমন কি শয়তানের হাত থেকেও আল্লাহ কাউকে বাঁচাতে পারে না। তার জল জ্যান্ত উদাহরন : গত বছর হজ্জে গিয়ে শয়তানকে পাথর ছোড়ার সময় পদদলিত হয়ে প্রায় ২৫০০ হাজির মৃত্যূ। আল্লাহ নিজেই বলেছে :

সুরা আল ইমরান -৩:৯৭: এতে রয়েছে মকামে ইব্রাহীমের মত প্রকৃষ্ট নিদর্শন। আর যে, লোক এর ভেতরে প্রবেশ করেছে, সে নিরাপত্তা লাভ করেছে। আর এ ঘরের হজ্ব করা হলো মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থø রয়েছে এ পর্যন্ত পৌছার। আর যে লোক তা মানে না। আল্লাহ সারা বিশ্বের কোন কিছুরই পরোয়া করেন না।

হজ্জ করার সময় সবাই কাবা ঘরের আশ পাশেই থাকে। ঘরের মধ্যে তো যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং ধরতে হবে , যারা হজ্জ করতে গিয়ে কাবা ঘরের আশপাশে থাকে , তাদের জীবন নিরাপদ। অন্তত: অস্বাভাবিক বা দুর্ঘটনার হাত থেকে হাজিদের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব তখন আল্লাহর ওপর । কিন্তু কি আজব কান্ড , হজ্জের সময়ই যখন হাজিরা শয়তানকে পাথর ছুড়ছিল , তখন শয়তান রাগান্বিত হয়ে তাদেরকে মেরে ফেলল , আল্লাহ খালি অসহায়ের মত তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল।

এর দ্বারা কি প্রমানিত হয় ? শয়তানের ক্ষমতা বেশী , নাকি আল্লাহর ক্ষমতা বেশী ?

১ thought on “কে বেশী শক্তিশালী- শয়তান নাকি আল্লাহ ? পর্ব-২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *