শিশু এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি!

আমাদের বাঙ্গালী চিন্তাধারা সামন্তীয় এবং দাস সমাজের চিন্তাধারার উর্দ্ধে উঠে যে আধুনিক মনন গড়ে উঠার কথা ছিল।তা কখনো হয়ে উঠেনি।পুঁজিবাদের উত্তান হয়েছিল ইউরোপে এর সাথে ছিল মানুষের জাগরণ। ফরাসী বিপ্লব এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রেনেসাঁস বিপ্লবের ফলে ও বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানির অস্ত্রাঘাতে ইউরোপের সমাজ বিকাশের যে সূত্রপাত হয়েছিল তার ভূমিকা বিশাল।অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার বিকাশ ইউরোপের সমাজে এর ব্যাপক প্রভাব আছে।যদিও পুঁজিবাদী আগ্রাসন আর লোভের কারনে তার কালো রুপটি চোখে পরার মত।


আমাদের বাঙ্গালী চিন্তাধারা সামন্তীয় এবং দাস সমাজের চিন্তাধারার উর্দ্ধে উঠে যে আধুনিক মনন গড়ে উঠার কথা ছিল।তা কখনো হয়ে উঠেনি।পুঁজিবাদের উত্তান হয়েছিল ইউরোপে এর সাথে ছিল মানুষের জাগরণ। ফরাসী বিপ্লব এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রেনেসাঁস বিপ্লবের ফলে ও বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানির অস্ত্রাঘাতে ইউরোপের সমাজ বিকাশের যে সূত্রপাত হয়েছিল তার ভূমিকা বিশাল।অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার বিকাশ ইউরোপের সমাজে এর ব্যাপক প্রভাব আছে।যদিও পুঁজিবাদী আগ্রাসন আর লোভের কারনে তার কালো রুপটি চোখে পরার মত।

কিন্তু আমরা যে সামন্তীয় চিন্তাধারা ও চেতনা দ্বারা আক্রান্ত ছিলাম তা এখনো সমান তালে লালন করি।চেতনার দাসত্বের সাথে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছে পুঁজিবাদী লোভলালসা এবং মূনাফার চিন্তা। ফলে আমাদের মানব মন এক বিদঘুঠে দেউলিয়াত্ত্ব নিয়ে চলতেছে।
শিশুদের প্রতি আমাদের মনন সেই সামন্তীয় আমলের যেখানে নিজ সন্তান হোক অন্য শিশু হোক তাকে শাসন নির্যাতন করা যেন সাধারণ ব্যাপার।
প্রথমেই আসি মায়েদের কথা।একথা সত্যি যে শিশু বড় হতে মায়েদের ভূমিকাই বেশি।কিন্তু আমাদের বাঙ্গালী মায়েদের মননে নিজ সন্তানের প্রতি একধরনের নির্যাতনের চিত্র পাওয়া যায় যা খুবই খারাপ।সাধারণত শিশুরা কৌতুহলপ্রবন।ফলে তাদের মাঝে নতুন জিনিসের প্রতি আগ্রহ জন্মে সে সেটা জানতে চায় বুঝতে চায়।মাঝে মাঝে তা দুষ্টুমির পর্যায়ে চলে যায় তখন শুরু হয় প্রহার যা শিশুর বিকাশে মারাত্মক অন্তরায়।পরিবারের অন্য লোকজন, পাড়াপ্রতিবেশি,আত্মীয়স্বজন এমনকি অপরিচিত লোকজন ও শিশু নির্যাতনে পটু।

শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তি এবং মনজগতের বিকাশ ঘঠায়।কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সেই বিকাশের জন্য পরিপূরক নয়।আমরা সেই শিক্ষা চাই যেখানে বাজারে চাকরির দৌড়ে ছুটতে পারি।আর সেই কারনে মানবিক বিকাশের বদলে আমরা যে শিক্ষা গ্রহন করি তা কেরানি হওয়ার জন্য ঠিক আছে।তাই আমাদের মনন কখনো বিকশিত হয়নি।তাই শিশু নির্যাতনে শিক্ষিত বা অশিক্ষিত কোন তফাৎ নেই।আমাদের মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজেও শিশু নির্যাতনের মাত্রা ব্যাপক।শুধুমাত্র বাসার কাজের শিশুকে শিক্ষিত সমাজ যে মাত্রায় নির্যাতন করে তার আহরহ উদাহরণ আছে।যেমন কয়েকদিন আগে ক্রিকেটার শাহাদাৎ এবং তার স্ত্রী নিজ বাসার কাজের মেয়েকে যে পরিমান নির্যাতন করেছে তা ভাষায় বলা যাবে না। আমাদের স্কুলের শিক্ষরাও শিশু নির্যাতনে খুবই পারদর্শী বটে।এই শিক্ষকরা শিশুর বিকাশে সহায়তার বদলে অনেকসময় বিকৃত হওয়ার পথ করে দেন।আমরা বাঙ্গালীরা নির্যাতন করে এক ধরনের মানষিক সুখ অনুভব করি!
সেই চেতনার পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। শুধুমাত্র আমাদের মনতাত্ত্বিক বিকাশের জন্য সচেতন সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বিকল্প নাই যা হতে হবে বুর্জোয়া শাসন কাঠামো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।

পরিশেষে শেষ করবো নিজ পরিবারের গল্প দিয়ে।আমাদের আড়াই বৎসরের এক ছেলেশিশু আছে। তার বিকাশের জন্য আমি সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি।কোন ধরনের শাসন বা শারিরীক প্রহার বিরত থাকি।আমি চাই সম্পূর্ণ চাপমুক্ত স্বাভাবিক বিকাশের মধ্যে গড়ে উঠুক।যদিও আমার স্ত্রী বাঙ্গালী মায়েদের দীর্ঘদিনের লালন করা সংস্কৃতি পুরোপুরি ত্যাগ করতে পারে নাই সেক্ষেত্রে আমাকে কিছুটা কঠোর হতে হয়।আমি মনে করি শিশুর বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশের সাথে সাথে তার মানষিক বিকাশের জন্য আমি সহযোগী হব।ইতিমধ্যে আমার ছেলের মনতাত্ত্বিক এবং বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ ভাল চলতাছে। দুষ্টুমির মাত্রা সহনীয় যা সচরাচর সব শিশু করে থাকে।ছেড়ে দিন আপনার সন্তানকে স্বাধীন বিকাশের জন্য এবং তার স্বাভাবিক বিকাশে বন্ধু হোন, শাসক নয়।যদিও চারপাশের পরিবেশ সুস্থ বিকাশের সহায়ক নয় তাই সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে যোগদিন একটি সুন্দর সমাজের লক্ষ্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *