“দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে”

কোথায় যেন পড়েছিলাম “দৃষ্টিভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে।” ছোট বাক্য, অথচ খুবই্ তাৎপর্যপূর্ণ। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সামাজিক বিভিন্ন পেক্ষাপটে মানুষের দৃ্ষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে থাকে। কথায় বলে, “ মানুষ তার দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচলিত হয়” যার দৃষ্টিভঙ্গি্ ইতিবাচক, সে যেকোন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে পারে, এটা তার বিশেষ গুণ কিন্ত যার দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয় বা নেতীবাচক, সে পারেনা সকলের সাথে মানিয়ে চলতে। তার জন্য অন্যদের বিভিন্ন রকম সমস্যার মুখোমুখী হতে হয় । সে শুধু ব্যস্ত থাকে নিজের ভাবসাব বজায় রাখা নিয়ে, এটা আমার কাজ নয়, ওটা তার কাজ, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই খুটিনাটি দোষত্রুটি বের করা তার চরিত্রের অন্যতম উপাদান।

যা হোক, দৃষ্টিভঙ্গি কি ? এটা কেমন হওয়া উচিত বা উচিত নয়, নির্দেশনা দেওয়া আমার কাজ নয়। তবে, দৈনন্দিন জীবনাচারে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে যে ত্রুটিগুলো সাধারণত মোকাবেলা করতে হয় সেগুলো নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করার ইচ্ছা প্রকাশ করছি। উদ্দেশ্য হলো, আমার এবং আমার বন্ধুমহলের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বাকি আল্লাহ পাকের ইচ্ছা।

আমাদের সমাজে এখন আর শিক্ষিত লোকের অভাব নেই। অভাব রয়েছে সচেতনতার, সচেতন ব্যক্তির, সচেতন মনোভাবের। সচেতন দৃষ্টিভঙ্গির খরা সমাজকে খুব দ্রুত নষ্টের শেষসীমায় পৌছে দিচ্ছে। আমরা তা অনুভব করিনা। আমরা খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি আর বেশভূষায় অন্যের কাছে নিজেকে হাইলাইট করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি।

আমার এক বন্ধু বাজার হতে রাত্রেরবেলা গুড়া ইচা (ছোট ছোট চিংড়ি মাছ) ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আমাদের চট্টগ্রামে গুড়া ইচা’র বড়া (ছোট চিংড়ির বড়া) খুবই জনপ্রিয়। আমি তাকে বললাম “ ভাই, এতরাত্রে ছোট মাছ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন, ভাবি বিরক্ত হবে না? তার উত্তর শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। তিনি বললেন “ ভাই, আমি যৌতুক নিয়ে বিয়ে করি নাই, ছোট মাছ ক্রয়ে আমার বউ বিরক্ত হবার কোন কারণ আমি দেখি না।” প্রশ্নটি ছিল, রাত্রের বেলা ছোট মাছ ক্রয় করা আর দিনের বেলা ক্রয় করলে বউয়ের পতিক্রিয়া সমান হবে কিনা। জানিনা, হয়তো তার বউ যৌতুক না দেয়ার কারণে তার সকল কিছু মেনে নিতে বাধ্য।

ছোট, বড়, মাঝারি পৃথকিকরণ খুবই কাম্য কিন্তু ভেদাভেদ তাজ্য । ছোট-বড় যোগ্যতা ভিত্তিক পৃথকিকরণ না থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ, ঘরে-বাইরে সর্বক্ষেত্রে কাজের সৈন্দয্য নষ্ট হতে বাধ্য। তবে, বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। মসজিদের ইমাম সাহেবের অনুপস্থিতেতে মোয়াজ্জেম সাহেব নামাযে ইমামতি করেন। আবার মোয়াজ্জেম সাহেব না থাকলে ইমাম সাহেব মসজিদ ঝাড়ামোছা করেন, আযান দেন অর্থাৎ মোয়াজ্জেমের দায়িত্বটুকুও পালন করেন। এমনিভাবে অফিসের পিওন তার বসের জন্য খাবার প্রস্তুত করেন, পরিবেশন করেন, অফিস ঝাড়ামোছা করে কাজের পরিবেশকে কাজের উপযুক্ত করে তোলেন। কিন্তু কখনো কখনো পিওনের অনুপস্থিতিতে বসকেও এসব কাজ করতে হয়, অনেক বস করেন (যদিও সবাই নয়)। এখানেই মানবতার জয়, দৃষ্টিভঙ্গির জয়। কাজটি কার, দায়িত্বটুকু কার সেসব প্রশ্ন নিয়ে যতোই ঘাটাঘাটি করা হবে ততোই সৈন্দর্যের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে, বলার অপেক্ষা রাখে না। যেই করুন না কেন, কাজটি দ্রুত শেষ করতে হবে, সেটাই চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত।

বিয়ের নিমন্ত্রনে উপস্থিত। যতটুকু ভেবেছিলাম তার চাইতে বেশী আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক কন্যার পিতার নারীনক্ষত্র পর্যন্ত আমার চেনা। সামান্য আর্থিক সঙ্গতির এই ভদ্রলোকের অসামান্য আয়োজনে মন প্রশ্নবিদ্ধ হলো। কিভাবে সম্ভব? খোজ নিয়ে জানতে পারলাম, বরপক্ষকে এমন সমাদর করার কথা না থাকলেও বরের বিদেশ ফেরত মামার চাপের মুখে অতিরিক্ত করতে বাধ্য হন বেচারা কন্যার পিতা। কন্যার সাথে কথায় কথায় আমি মন্তব্য করে বসি- “তোমার বাবার আর্থিক সঙ্গতির বাইরে এমন করা ঠিক হয়নি।” পাশে থেকে কন্যার দেবর গোছের একজন প্রতিউত্তরে বললেন “এমনটা না করলে আমরা খুবই রাগ করতাম।” বেশভূষায় আধুনিক প্রতিউত্তরকারীকে দেখেই আঁচ করা যায়, তিনি একজন শিক্ষিত, সমজদার, জ্ঞানী ব্যক্তি। কিন্তু এই জ্ঞানীর কাছ থেকে এমন ‍উত্তর আসবে সেটা বুঝেতে পারিনি। পাঠকমাত্রই ধারনা করতে পারবেন আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি ।

শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষ হিসাবে গড়ে উঠা। একথা সত্য। সুন্দর একটা কর্মজীবনও কিন্তু শিক্ষালাভের অন্যতম উদ্দেশ্য, এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। শিক্ষালাভের উদ্দেশ্য ম্লান হয়, যখন দেখি শিক্ষিত লোকগুলো উপরি ছাড়া ফাইল ছাড়তে অনিহা প্রকাশ করে, বিনিময় ছাড়া যখন দায়িত্বশীলরা তথ্য পর্য্ন্ত প্রকাশ করতে চায়না, তখন মনের অজান্তেই মনে প্রশ্ন জাগে, শিক্ষা লাভ করেও যদি পাপ করতে হয় তবে সে শিক্ষায় কল্যান কার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *