আমি কেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিশ্বাস করি না

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে বলে এত প্রমান থাকতে কেন তুই ঈশ্বরে বিশ্বাস করিস না।
তার উত্তরে আমি বললাম, প্রথমত, প্রমাণ থাকলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নই আসে না। বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় তখনই, যখন প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে। ঈশ্বরকে যেহেতু বিশ্বাস করতে হয়, তার অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে যে সমস্ত যুক্তিপ্রমাণ উত্থাপন করা হয়, তা অপ্রতুল।


কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে বলে এত প্রমান থাকতে কেন তুই ঈশ্বরে বিশ্বাস করিস না।
তার উত্তরে আমি বললাম, প্রথমত, প্রমাণ থাকলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নই আসে না। বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় তখনই, যখন প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে। ঈশ্বরকে যেহেতু বিশ্বাস করতে হয়, তার অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে যে সমস্ত যুক্তিপ্রমাণ উত্থাপন করা হয়, তা অপ্রতুল।

দ্বিতীয়ত, ঈশ্বরে বিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থেকে। যত দূর পর্যন্ত মানুষ প্রাকৃতিক নিয়মে ব্যাখ্যা করতে পারে, তত দূর পর্যন্ত ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রয়োজন হয় না। যেখানে গিয়ে মানুষের অজ্ঞতা শুরু, সেখান থেকেই প্রয়োজন হয় একজন ঈশ্বরের। এক সময় মানুষ বিশ্বাস করত, ঈশ্বর বা কোনো দেবদূত বৃষ্টিপাতের পেছনে দায়ী। আজ বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা জানি যে, প্রাকৃতিক নিয়ম পানিচক্রের কারণেই বৃষ্টিপাত হয়। একই কথা বন্যা, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এক কালে মানুষ এগুলোর পেছনে ঈশ্বরের গজব খুঁজে পেত (ইরান জাতীয় বর্বর দেশের অসহানুভুতিশীল লোকেরা এখনো পায়); কিন্তু আজ আর কেউ দুর্যোগের শিকার লোকদের পাপী বান্দা না ভেবে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় বিজ্ঞানের কল্যাণে। তবে সাধারণ মানুষ এখনো তাদের ধী-শক্তির ঊর্ধ্বে যা কিছু রয়েছে, তার পেছনে ঈশ্বরের ছায়া খুঁজে বেড়ায়। মানুষ যতই প্রকৃতিকে জানবে, ততই ঈশ্বরের ভূমিকা কমে আসবে। একজন আস্তিক তার অজ্ঞতাকে যেমন ঈশ্বর দ্বারা পূরণ করেন, নিজের প্রয়োজনে; একজন নাস্তিক তার অজ্ঞতাকে পূরণ করেন অজানাকে জানার অদম্য কৌতূহল দ্বারা। তাই তার জন্য ঈশ্বরে বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় না।

তৃতীয়ত, ঈশ্বরকে উপস্থাপন করা হয় মহাবিশ্বের আদি কারণ হিসেবে। মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর থেকে এর অভিযাত্রায় ঈশ্বরের সক্রিয় হস্তক্ষেপ রয়েছে, নাকি সবকিছু প্রাকৃতিক নিয়মে চলছে, তা নিয়ে ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। আমার জানা তাদের মতগুলো নিম্নরূপ:

১. ঈশ্বর সবকিছু সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। তার অনুমতি ছাড়া গাছের পাতা নড়ে না, চোর চুরি করে না, ধর্ষক ধর্ষণ করতে পারে না, খুনি খুন করতে পারে না, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারে না।

২. ঈশ্বর মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে কিছু নিয়মে আবদ্ধ করে দিয়েছেন (যাকে প্রাকৃতিক নিয়ম বা ল’জ অব নেচার বলা হয়ে থাকে); এরপর থেকে সবকিছু এই নিয়মের মধ্যেই চলছে। এই নিয়মের মধ্যেই মানুষ এবং অন্যান্য বুদ্ধিসম্পন্ন জীবদের (যেমন, জ্বীন, দেব-দেবী, শয়তান) চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আছে। ঈশ্বর কেয়ামতের পর সব হিসাবনিকাশ মেলাবেন।

৩. অনেকে আবার দুটোর সংমিশ্রণে অদ্ভুত এক ধরনের বিশ্বাস রাখেন, যেখানে ঈশ্বরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং চিন্তার স্বাধীনতা দুইটাই নিশ্চিত করা হয় (কীভাবে সম্ভব, আমি বুঝি না)।

যাই হোক, বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা জানি যে, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পর থেকে যা কিছু ঘটেছে, তা প্রাকৃতিক নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব; এ জন্য ঈশ্বরের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে একটা বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য ঈশ্বরের প্রয়োজন হতে পারে, সেটা হল: “এই মহাবিশ্ব (প্রাকৃতিক নিয়মসমূহ সহকারে) সৃষ্টির আদি কারণ কী?”

এই প্রশ্নের উত্তর দু’ভাবে পাওয়া যায়। এক, একটি কাল্পনিক সত্তার আশ্রয় নেয়া; দুই, নিজেদের অজ্ঞতা স্বীকার করে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ানো অথবা খোঁজার জন্য অপেক্ষা করা। নাস্তিকেরা দ্বিতীয় সমাধানে আস্থাশীল।

চতুর্থত, মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদি কারণ হিসেবে কোনো একটি বিশেষ সত্তাকে যদি মেনে নেয়াও হয়, তবুও ধর্মসমূহে বর্ণিত ঈশ্বরসমূহ যে সমস্ত পরস্পরবিরোধী বৈশিষ্ট্যসমূহ (যেমন, সর্বশক্তিমানতা, সর্বজ্ঞতা ও সর্বশক্তিমানতা, সর্বজ্ঞতা ও স্বাধীন ইচ্ছা ইত্যাদি) ধারণ করে তা বিবেচনা করে সেই ঈশ্বরসমূহকে খারিজ করে দেয়া যায়।

এ কারনেই নাস্তিকেরা ঈশ্বর, বিশেষত ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত মানব বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট ঈশ্বরের অস্তিত্বে আস্তিকদের মত বিশ্বাস স্থাপন করতে ইচ্ছুক নয়।

১০ thoughts on “আমি কেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিশ্বাস করি না

  1. পুরা পোস্টে একটাও এমন জোড়াল
    পুরা পোস্টে একটাও এমন জোড়াল যুক্তি খুজে পাওয়া গেল না, যার কারনে কেউ নাস্তিক হতে পারে।
    আসলে অভিজিত রায়ের মৃত্যুর পর একটা বিরাট শূন্যতা তৈরী হয়েছে। ইন্টেলেকচ্যুয়াল, বুদ্ধিবৃত্তিক লিখালিখা আজকাল আর পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায়, তার বেশীরভাই রাবিশ আর গর্বেজ।

  2. ভাই আপনি যাদের বোঝাচ্ছেন
    ভাই আপনি যাদের বোঝাচ্ছেন তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসের ভাইরাসে আক্রান্ত!! আপনি এদের কাছ থেকে অনেক অপমান আর গালি পাবেন। লেখা অনেক সুন্দর হয়েছে!! আশা করছি আবার লিখবেন!! মুক্তির জন্য যুক্তি চলুক অবিরাম…

  3. মহান ঈশ্বর আছেন, থাকবেন।
    মহান ঈশ্বর আছেন, থাকবেন। আপনার অবিশ্বাসে তাঁর কিছুই যায় আসে না।
    আপনি কেন ঈশ্বরের বিরুদ্ধে? মহান ঈশ্বর তো আপনাকে ভালোবাসেন।

  4. ঈশ্বর কি শুধুই বিশ্বাসের
    ঈশ্বর কি শুধুই বিশ্বাসের ব্যপার ?
    ঈশ্বর একটি না , বহু ?
    ঈশ্বর কি ভাষা সৃষ্টি করেছে ?
    ঈশ্বরের সৃষ্টি কর্তা কে ?
    এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করার আগে তেনার অবস্থান কোথায় ছিল ?
    ঈশ্বর মানুষকে সৃষ্টি করল কেন ?
    পৃথিবীতে যত গ্রহ আছে তারমধ্যে শুধু পৃথিবীতেই কেন ঈশ্বর জীবের সৃষ্টি ঘটালেন ?
    মানুষ কি পৃথিবীতে প্রথম জন্ম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ধর্ম ও ঈশ্বরের আরাধণা করছেন ?

  5. ইশ্বরের প্রতি বিশ্বাস
    ইশ্বরের প্রতি বিশ্বাস অবিশ্বাস যার যার নিজস্ব বিষয়। যদিও আমি ইশ্বরে বিশ্বাসি তবুও আমি সকল মতবাদে বিশ্বাসিদের লেখাই পড়ি। সকলেরই অধিকার আছে নিজস্ব মতবাদ, মতবিশ্বাস প্রকাশ করা। তবে সেটা সালিনতার মধ্যে উপযুক্ত যুক্তি খন্ডন করতে পারলে এক মতবাদ বা এক মতবিশ্বাসি অন্য মতবাদ বা মতবিশ্বাসে বিশ্বাসি হতে পারেন। তাই সালিনতার মধ্যে উপযুক্ত যুক্তিখন্ডনের মাধ্যমে যারযার মত প্রকাশ আমার ভালো লাগে। যাহোক এটা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে এক ভাইয়ের কমেন্ট থেকে জানতে পারলাম- ফ্রান্সিস বেকন বলেছেন, বিজ্ঞান সম্পর্কে অল্প জ্ঞান থাকলে হয় নাস্তিক আর গভীর জ্ঞান রাখলে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। আমি বিশ্বাস করি, প্রচলিত পৃথিবীতে অন্তত, মানব সমাজের কল্যাণে ঈশ্বর বিশ্বাসের প্রয়োজন আছে। মানব যখন তার বিবেক দিয়ে ন্যায় কাজ গুলো করবে আর অন্যায় থেকে বিরত থাকবে তখন হয়ত ঈশ্বর বিশ্বাসের প্রয়োজন থাকবে না। কিন্তু সে দিন আসার কোন লক্ষণ আজও সৃষ্টি হয় নাই, এটা অপ্রিয় সত্য । যদিও আমরা দুইটি দলে বিভক্ত। যেমন- একদল ইশ্বরের পক্ষে আর একদল বিপক্ষে। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের স্বভাব তৈরি হয়েছে এমন যে আমরা নিজের মতের পক্ষে যুক্তি দেই। কিন্তুু আমরা অন্যের মতকে যুক্তি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি না। এর কারণ আমরা নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। হয়তবা সেই সিমাবদ্ধতা থেকেই বলছি, আপনার পুরা পোস্টে একটাও এমন জোড়াল যুক্তি খুজে পাওয়া গেল না, যার কারনে নাস্তিক হতে পারি। কপি পেস্ট করে হলেও, আরও শানিত যুক্তি উপস্থাপন করবেন আশাকরি। আপনার জন্য শুভকামনা। (ইস্টিশন/ কালনী এক্সপ্রেস লি.)

  6. আপনি বিশ্বাস করুন নাইবা করুন
    আপনি বিশ্বাস করুন নাইবা করুন কিন্তু আপনার ভাগ্য একদিন আপনা‌কে স্ব‌ত্যের সম্মু‌ক্ষিন কর‌বে।আল্লাহ্ আপনার মঙ্গল করুন।

    আ‌মিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *