২০১৩-১৪ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের খন্ডচিত্র

লোকলজ্জার ভয়ে বেশিরভাগ ঘটনা চেপে যাওয়া হয়। ফলে ঘটনার ক্ষুদ্র অংশ প্রকাশিত হয়। নারী কিংবা মেয়েশিশু ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলেও ছেলেশিশুদের ধর্ষণের ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত না হাসপাতালে ভর্তি কিংবা নিহত হয়ে জানাজানি হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত তাদের পরিবার চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে।


লোকলজ্জার ভয়ে বেশিরভাগ ঘটনা চেপে যাওয়া হয়। ফলে ঘটনার ক্ষুদ্র অংশ প্রকাশিত হয়। নারী কিংবা মেয়েশিশু ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হলেও ছেলেশিশুদের ধর্ষণের ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত না হাসপাতালে ভর্তি কিংবা নিহত হয়ে জানাজানি হচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত তাদের পরিবার চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে।

আজকের পোস্টে আমরা ২০১৩-১৪ সালে মাদ্রাসায় কি পরিমাণ শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে তার চিত্রটি দেখাবো। স্মরণে রাখা প্রয়োজন এটি সামান্য চিত্র মাত্র। তাই এর বাহিরে কিছু ঘটেনি কিংবা ঘটছে না এমনটি ভাবা যাবে না। তবে বিষয়টি স্পষ্ট যে ধর্ষণ রোধ করার জন্যে শুধু কাপড় পড়লেই হবে না। যারা ধর্ষণের কারন হিসেবে মেয়েদের কাপড়কে দায়ী করে তারা যে অন্ধকার যুগে বাস করে তার প্রমাণ এই খবরগুলো। দুই বছরের শিশুও বাদ যাচ্ছে না। তাই রাষ্ট্রে দ্রুত সামাজিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও সু-শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এভাবেই শিকার হয়ে ঝড়ে যাবে অসংখ্য শৈশব!

#ডিসেম্বর ২৯, ২০১৪: কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায় ১৪ বছরের এক মাদ্রাসার ছাত্রী ইব্রাহিম খলিল (১৮) ও তার সহযোগিদের হাতে গণ-ধর্ষণের শিকার হয়।

#নভেম্বর ২৫, ২০১৪: সিলেট শহরের খাদিমপুর মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদিন ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

#নভেম্বর ২১, ২০১৪: মাসুদ রানা (২০) ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। স্থান- নারায়ণপুর, দক্ষিন মতলব, চাঁদপুর।

#নভেম্বর ৮, ২০১৪: আলি গাজি (২৫) মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। স্থান- ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

#নভেম্বর ৭, ২০১৪: কামাল হোসেন (২৪) ১৫ বছরের এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। স্থান-কচুয়া, চাঁদপুর।

#অক্টোবর ২৮, ২০১৪: হাজি সামাদ আলি নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মওলানা জয়নাল আবেদিন (৪০) আট বছর বয়সী এক মেয়েকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। স্থান- চকরিয়া, চট্টগ্রাম।

#অক্টোবর ২৫, ২০১৪: গাজিপুরের শ্রীপুরে পুলিশ ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসার ছাত্রীর মৃতদেহ আবিষ্কার করে। তাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করা হয়।

#অক্টোবর ২৩, ২০১৪: ১৪ বছরের এক মাদ্রসার ছাত্রী ওসমান গনি, সুমন নামে দুই যুবক কর্তৃক গণ-ধর্ষণের শিকার হয়। স্থান- দক্ষিন মতলব, চাঁদপুর।

#অক্টোবর ২১, ২০১৪: তাহফিজুল কোরান নুরানী হাফিজুল মাদ্রাদার বাবুর্চি শাহ আলম (৩৫) ১১ বছর বয়সী এক ছেলেশিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। স্থান- দক্ষিন কেরানীগঞ্জ।

#অক্টোবর ১৩, ২০১৪: চৌবাড়ী ইউসুফিয়া কওমী ক্যাডেট মাদাসার মিক্ষাক আবু বকর (৩৫) ৮ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে মাদাসার ভেতর ধর্ষণ করে। স্থান- সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা।

#অক্টোবর ১৩, ২০১৪: বানিয়াঘাটি কওমী মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) আট বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। স্থান- বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

#অক্টোবর ২, ২০১৪: মোহাম্মদ ইয়াসিন (২৫) নামের এক যুবক ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে। স্থান- হাইমচর, চাঁদপুর।

#অগাস্ট ১৬, ২০১৪: মাদ্রাসার ছাত্র মোস্তাকিম (১৮) ১৪ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়। স্থান- বগুড়া।

#জুন ১৮, ২০১৪: ১৫ বছর বয়সি মাদ্রাসার ছাত্রী তিনজন যুবক কর্তৃক গণ-ধর্ষণের শিকার হয়। স্থান- দিঘিনালা, খাগড়াছড়ি।

#মে ১, ২০১৪: কলেজ ছাত্র কর্তৃক ৫ শ্রেণির মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ। স্থান- খুলনার পাইকগাছা।

#এপ্রিল ২৭, ২০১৪: ইলিয়াস (৩০) ও রাজিব (১৮) কর্তৃক ১২ বছরের এক ছাত্রী গণ-ধর্ষণের শিকার। পরবর্তীতে ধর্ষণের ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থান- স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর।

#এপ্রিল ২৪, ২০১৪: ৩য় শ্রেণির মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হারবাল চিকিৎসক শফিকুল সর্দার। স্থান- মাদারীপুর সদর।

#মার্চ, ২০১৪: পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার পুলিশের এএসআই আব্দুর রহমান ১৪ বছর বয়সী এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

#মার্চ ২৯, ২০১৪: জাফতনগর সাঈদিয়া আলীম মাদ্রসার শিক্ষক মো. আকরাম উল্লাহ ৯ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়। স্থান- ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

#মার্চ ৫, ২০১৪: দিনাজপুরের পার্বতীপুর দরগাহপাড়া ফাজিল মাদ্রসার শিক্ষক ওবায়দুল হক পঞ্চম শ্রেণির এক মেয়ে শিশুকে ধর্ষণ করে।

#ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৪: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কাঞ্চেকল ফাজিল মাদ্রাসার তিন ছাত্রী গণ-ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযুক্তরা হল আরিফ, আরিফের চাচা বাদশা (৩৫) এবং বাদশার বন্ধু রাজিব (২৮)।

#জানুয়ারি ১০, ২০১৪: কক্সবাজারের টেকনাফে একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নুরানী মাদ্রাসার ভেতর শিক্ষক মওলানা হাবিব উল্লাহ কর্তৃক ৯ বছরের ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়।

#জানুয়ারি ৮, ২০১৪: কক্সবাজারের উখিয়ায় শাপলাপুর দারুল ইসলাম দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী গণ-ধর্ষণের শিকার হয়। রাসেল (৩০), মফিজুর রহমান (২৩) সহ ৩-৪ জন মিলে মেয়েটিকে জঙ্গলের ভেতর তিন দিন ধরে ধর্ষণ করে।

#অগাস্ট ২৩, ২০১৩: বায়তুল মনসুর নুরানী ইসলামিক কিন্ডারগার্ডেনের ৫ বছর বয়সী শিশু শিক্ষক আব্দুল আজিজ (২৫) কর্তৃক ধর্ষনের শিকার হয়। স্থান- বাকলিয়া, চট্টগ্রাম।

#অগাস্ট ১১, ২০১৩: ৮ম শ্রেনির মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণ করে আসিফ মিঞা (২৮)। স্থান- কুলাউড়া, সিলেট।

#অগাস্ট ৮, ২০১৩: মাদ্রাসার কর্মচারী নবীর হোসেন (৫২) ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। স্থান- মোহাম্মদপুর, মাগুরা।

#জুলাই ২২, ২০১৩: চাঁদপুর হাজিগঞ্জের কাপাইকাপ ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল জলিল (৫৫) ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের কারনে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয়। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি গর্ভবতী হয় এবং একটি বাচ্চা প্রসব করে। আদালত তাকে শিশুটির ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে বলেন এবং আরো এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।

#জুন ৬, ২০১৩: আট বছর বয়সী মাদ্রসার শিক্ষার্থী আরেক মাদ্রাসার ছাত্র কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়। স্থান- শিবচর, মাদারিপুর।

#এপ্রিল ১৬, ২০১৩: ২০০৬ সালে ৭ম শ্রেণির মাদ্রাসার ছাত্রীকে অপহরণের পর চারদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে জামাল উদ্দিনকে বছরের কারাদন্ড দেন আদালত। স্থান- চট্টগ্রাম।

#এপ্রিল ৩, ২০১৩: ৫ম শ্রেনির এক ছাত্রকে বাশারুল উলাম হাফিজিয়া (৪২) মাদ্রাসার শিক্ষক ধর্ষণ করে। স্থান- নকলা, শেরপুর।

#জানুয়ারি ৬, ২০১৩: ১৪ বছর বয়সী মাদ্রাসার ছাত্রী ৫-৬জন কর্তৃক গণ-ধর্ষণের শিকার হয়। স্থান- কক্সবাজার।

১ thought on “২০১৩-১৪ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের খন্ডচিত্র

  1. ধর্ষণকারীরা আস্ত-হারামজাদা।
    ধর্ষণকারীরা আস্ত-হারামজাদা। এদের মৃত্যুদণ্ড চাই।
    লেখাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *