অভিজিৎ-দীপনদের অবস্থান থাকছে না বইমেলায়


শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। পূর্বে এ বইমেলায় সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্টির হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ ও অভিজিৎ রায়ের মত লেখকরা। তাছারা মাত্র তিন মাস আগেই অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশের দায়ে খুন হন প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এবারের বই মেলার প্রস্তুতি থাকলেও থাকছে না নিহত লেখক প্রকাশকদের অবস্থান। এমনকি তাদের জন্য এক মিনিট নিরবতা অথবা নিহত এই লেখক-প্রকাশকদের কোন প্রতিকৃতি প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করেনি মেলা কর্তৃপক্ষ। তবে কোন প্রকাশনি যদি নিজ উদ্যোগে নিজস্ব স্টলে তাদের কোন ছবি (স্থিরচিত্র) প্রদর্শন করেন তাহলে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের কোন আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
শনিবার বিকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আসন্ন অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা জানান তিনি।
তবে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এবার নিরাপত্তার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো বইমেলা পর্যবেক্ষণ করা হবে। মেলায় প্রবেশের দুই প্রান্তেই থাকবে র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প।
এবারের মেলা ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলেও আশা প্রকাশ করছেন একাডেমী কর্তৃপক্ষ। এর কারণ, প্রতিবছরের তুলনায় এবার বাড়ানো হয়েছে স্টলের সংখ্যা, বেড়েছে প্রকাশক। আকার-পরিধিতেও বেড়েছে এবারের বইমেলা। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, এ দু’জায়গাতেই বইমেলা চলবে। মানুষ যেনো স্বস্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে বই কিনতে পারে সেই দিকে বিশেষভাবে ল্ক্ষ্য রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের মেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। নিরাপত্তার নিশ্চিতে থাকবেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসারের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তাকর্মীরা। টিএসসির বিপরিত পাশে ও দোয়েল চত্তরে র‌্যাবের দুইটি বিশেষ ক্যাম্প থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে এবার মেলা উপলক্ষে সমগ্র মেলা প্রাঙ্গনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি দুটি স্টলের জন্য একটি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ও পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক কর্মী নিয়োজিত থাকবেন।
সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ০১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু হয়ে চলবে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা ও ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমি সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮২টি প্রতিষ্ঠানকে ১১১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩২০টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪০টি ইউনিট; মোট ৪০২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫১টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ১৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০০০ বর্গফুট আয়তনের ১৫টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ৯২টি লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউজের দক্ষিণ পাশে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যাঁরা বই প্রকাশ করেছেন তাঁদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই ৩০% কমিশনে এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে।

১ thought on “অভিজিৎ-দীপনদের অবস্থান থাকছে না বইমেলায়

  1. ভালো। আয়োজন সফল হোক। জমে উঠুক
    ভালো। আয়োজন সফল হোক। জমে উঠুক বাঙালির প্রাণের মেলা। তবে বাংলা একাডেমীর বই বিক্রিতে কমিশন দেওয়া উচিত ছিল ৪০%, আর অন্যান্য প্রকাশনীর ক্ষেত্রে তা হওয়া উচিত ছিল ৩০-৩৫%।
    ভালো বিষয়ে লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *