নিরুপমার নীলকান্না

সেই শুরু রেডিওমুন্না পেইজ থেকে।
১নভেম্বর একটা মেয়ে পেইজে একটা
গল্প পোষ্ট দেয়।
সেখানে এক মেয়ে কমেন্ট করে wow so nice আমি তার কমেন্ট এর রিপ্লে দিয়েছিলাম তাই নাকি।
মেয়েটি আমার প্রোফাইলে এসে
এলোপাথাড়ি লাইক দিয়ে যায়।
আর আমি ক্ষেপে গিয়ে তার ইনবক্সে নক দিই।
-হাই
-হ্যালো
-কে রে বোন
-ভুত
-আমি ভুতের বাপ
-আমি ভাম্পায়ার
-কি?? আমার পোস্টে এইভাবে লাইক
দেয়ার মানে কি?
-মানে কিছুনা, আপনার কমেন্ট দেখে
ভাবলাম রেডিওমুন্না পেইজে পোষ্টটা আপনি দিয়েছেন তাই আপনার প্রোফাইলে গেলাম, আর আপনার লিখাগুলো অনেক ভাল লাগলো তাই লাইক দিলাম।
-ও আচ্ছা।
.
এরপর থেকে মেয়েটির সাথে আমার নিয়মিত চ্যাটিং হয়।

সেই শুরু রেডিওমুন্না পেইজ থেকে।
১নভেম্বর একটা মেয়ে পেইজে একটা
গল্প পোষ্ট দেয়।
সেখানে এক মেয়ে কমেন্ট করে wow so nice আমি তার কমেন্ট এর রিপ্লে দিয়েছিলাম তাই নাকি।
মেয়েটি আমার প্রোফাইলে এসে
এলোপাথাড়ি লাইক দিয়ে যায়।
আর আমি ক্ষেপে গিয়ে তার ইনবক্সে নক দিই।
-হাই
-হ্যালো
-কে রে বোন
-ভুত
-আমি ভুতের বাপ
-আমি ভাম্পায়ার
-কি?? আমার পোস্টে এইভাবে লাইক
দেয়ার মানে কি?
-মানে কিছুনা, আপনার কমেন্ট দেখে
ভাবলাম রেডিওমুন্না পেইজে পোষ্টটা আপনি দিয়েছেন তাই আপনার প্রোফাইলে গেলাম, আর আপনার লিখাগুলো অনেক ভাল লাগলো তাই লাইক দিলাম।
-ও আচ্ছা।
.
এরপর থেকে মেয়েটির সাথে আমার নিয়মিত চ্যাটিং হয়।
সবকিছুতেই অনেক মজা করতাম।
রাতের ২-৩ টা পর্যন্ত সে অনলাইনে থাকে।
তার নাকি ঘুম হয়না, ঘুমাতে হলে
তাকে ডেনিক্সজেল ঘুমের ট্যাবলেট খেতে হয়।
সাথে প্রতিদিন তিন চারটা নাপা আর হিষ্টাসিন।
যার জন্যে সে আজ
অনেক অসুস্থ & মৃত্যুর পথে।
.
আমি প্রবাসী, তাই আমিও এই টাইম
পর্যন্ত অনলাইনে থাকি, তার সাথে এই সময়ে চ্যাটিং করি।
তাকে কেমন জানি আবেগময় দেখা যেত।সবকিছুতেই নার্ভাস।
সবসময় বলতো আমি মরে যাবো।
আমি ভাবতাম সে আত্মহত্যা করবে।
তাকে অনেক কিছু দিয়েই বুঝাতাম এটা ভালোনা, এটা করোনা, এটা পাপ।
সে শুধু বলতো তার জন্য দোয়া করতে।
এতো ____তারিখ তার দিদি/আপুর
বিয়ে সেই দিনটি পর্যন্ত জেনো সে বেঁচে থাকে।
আর আমি ভাবতাম ___ এই দিনে তার বিয়ে।
তা ভেবে আমি আরো বেশী মজা নিতাম।
.
আমি কুমিল্লা,১৪গ্রাম। আর সে সিলেট।
বয়সে আমার থেকে ৫মাসের বড়।
তাকে সবসময় জানু বলেই ডাকি।
অনেকটাই ভাল বন্ধুত্ব তৈরী করি।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, বড় ভয়টা হচ্ছে এখন তাকে হারানোর।
প্রায় সময় বলতো সে অসুস্থ কিন্তু কি অসুখ সেটা কখনো বলেনি।
.
৭-নভেম্বর বলেছিলো তার শ্বাসনালী
তে সমস্যা, শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হয়।
তার বাবা নেই,আদরের একটি ছোট ভাই
আছে।
আমি যতোটুকু জানি ফ্যামিলির সব
দায়িত্ব সে’ই নেয়।
প্রায়সময় বলতো সে নিজেকে নিজে
অনেক ঘৃণা করে, আর শুধু শুধু তার হাত
কাটতো, হাতের পিক চাইলে আমাকে
পিক তুলে পাঠাতো।
আমি অনেক বুঝাতাম তুমি মেয়ে
তোমাকে সব দিকটাই বুঝতে হবে,
এগুলো ভাল না,এসব করোনা।
তোমার বিয়ে হলে তোমার স্বামী
কি বলবে এগুলো দেখলে।
আর তার কাছ থেকে রিপ্লে পেতাম
আমি বেঁচে থাকলেতো বিয়ে।

আমি সিগারেট খাই, সব সময় আমাকে না করতো সিগারেট না খেতে।
কিছুদিন আগে তার একটা পিক দিয়েছিলো শাড়ী পড়া, দুর্গাপূজায় পিকটা তুলেছিল।
অনেকটাই সুন্দর লাগছিলো তাকে
বলেছিলাম কেও তোমাকে বিয়ে করে নিলে আমার কি হবে।
তখন তার কাছ থেকে রিপ্লে পেলাম।
-মরেইতো যাবো বিয়েতো আর হবেনা।
-এইভাবে বলো কেনো?
-যখন মরে যাবো, তুমি আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখবা বুঝছো।
-তুমি এই ভুল করোনা প্লিজ, এটা ভালনা, আর তোমার ধর্মে আত্মহত্যা নিষেধ করা হয়েছেনা?
-হ্যা। তবে আমি যে আমাকে অনেক বেশি ঘৃণা করি
-তোমার মা ভাইয়ের কি হবে, তাদের কথা একবার চিন্তা করছো, মা বাবার মান ইজ্জত খেওনা প্লিজ..
-আরে গাঁধা আমি কি আত্মহত্যা করবো নাকি। আমিতো অসুস্থ হয়ে মরবো।
-মানে? কি অসুখ তোমার?
-কিছুনা।
.
একটা ছেলের সাথে তার রিলেশন
ছিলো,ছেলেটার নাম _______, ঢাকাতে
পড়াশুনা করে, তাকে সবসময় নক করে
কিন্তু তার কাছ থেকে রিপ্লে পাওয়া যায়না, সে নাকি খুব বিরক্ত হয়।
এখন সে অন্য একটা মেয়েকে পেয়ে তাকে ভুলে গেছে।
আমার যতোটুকু ধারণা ছেলেটার জন্যই মেয়েটির আজ এই পথ।
.
আমি যখনই কোনো গল্প লিখতাম তাকে
প্রথমেই এসএমএস করে দিতাম।
কারণ আমার লিখায় অনেক বানান ভুল হয়।
আর আমার বানান কোথায় ভুল হয়েছে
তা আমি বুঝতে পারিনা।
তাই সে’ই আমাকে সাহায্য করতো, আমার লিখা গল্পগুলো দেখতো।
.
২০শে নভেম্বর সকালবেলাঃ
-আচ্ছা বেষ্ট ফ্রেন্ড কি শুধু বেষ্ট ফ্রেন্ড থাকতে পারেনা?
-কেনো কি হয়েছে।
-আমার একটা ভাল বন্ধু আছে, আমি
তাকে অনেক ভাল বন্ধু ভাবি কিন্তু
সে আমাকে ভালবাসে।
-দেখো, কি হয়। তোমার লাইফ তুমিই
ভাল জানো।
.
——– রাতেঃ
-একটা কথা কি জানতে পারি?
-কি?
-আমাকে ignore করতেছো কেনো?
-হঠাৎ এমন কথা বলার মানে কি?
-মনে হলো তাই বললাম।
-তোমাকে ignore করার তো কোনো মানেই নেই।
-হুম বাদ দাও, ভালো থেকো, যাই আমি,বাই।
-কি হয়েছে তোমার। কোথায় যাও।
-জানিনা, তোমার গল্প লিখা হলে
আমাকে দিও, বানান ঠিক আছে কিনা
দেখে নিবো। আর তেমন কথা হবেনা,বাই,ভাল থেকো।
-কেনো কথা হবেনা। তুমি কোথায়
যাও। প্লিজ রিপ্লে দাও।
অনেক গুলো এসএমএস দিলাম এক্টা
রিপ্লেও পেলাম না।

—–২১শে নভেম্বর দুপুরে।
-আমার গল্পটা দেখো তো কোথাও
বানান ভুল আছে কিনা।
——(তার রিপ্লে পেলাম)
-কি হয়েছে কাল এরকম করলে কেনো।এতগুলো এসএমএস দিলাম এক্টারও রিপ্লে দিলেনা।
-আমি অসুস্থ।
-মানে?? তুমি এখন কোথায়?
-হাসপাতালে
-কি হয়েছে তোমার, কি অসুখ?
-না কিছুনা।
-আরে বললে কি কোনো সমস্যা?
-আমার কিডনিতে আর শ্বাসনালী তে
সমস্যা।
—–(________________)
-চিকিৎসক কি বলেছে
-জানিনা
-এখন কেমন আছ। তোমার আম্মু
কোথায়।
-স্যালাইন লাগানো। আম্মু আমার
পাশেই।
-তুমি ভাল হবেতো।
-না.?? বাচঁবোনা।
-ভাল চিকিৎসক এর কাছে যাও।
-না।বেঁচে থাকতে চাইনা। বেঁচে থাকার ইচ্ছে নেই।
-পাগল, এইভাবে বলো কেনো,তোমার
এই অসুখ কবে থেকে।
-একবছর।
-আচ্ছা তুমিতো এখনো কিছু খাওনি,কিছু খেয়ে নাও।
-হুম স্যালাইন শেষ হোক।একটু দোয়া করিও আমার জন্য যেন দিদি/আপুর বিয়ে পর্যন্ত বেঁচে থাকি।
…….এখানেই শেষ না, আরো অনেক কথা
হয়েছে, উপরের লিখা গুলো কিছু কিছু
সময় থেকে নিয়ে সাজিয়েছি।
.
আমরা অনেক ছেলেই যখন নেশা করি,
তখন একমাত্র দোষ ভালবাসার মানুষটির দিয়ে থাকি।মানে মেয়েটির দোষ।
কিন্তু এই মেয়েটার, এই পথের জন্য দায়ী
কে, একবছর আগে তার বয়ফ্রেন্ড তাকে
ছেড়ে চলে যায়। তার বাবার মৃত্যু হয়।
তার ডাক্তারি পড়া স্বপ্নটাও ভেঙ্গে
যায়। তার সব স্বপ্ন এক নিমিষে শেষ
হয়ে যায়। বেঁচে থাকার ইচ্ছেটাও শেষ
হয়ে যায়। শুধু পরিবারের মুখের দিকে
তাকিয়ে এখনো বেঁচে আছে। তার বড় কোনো
ভাইও নেই। যতোটুকু জানি
তার ফ্যামিলির আর্থিক অবস্থাও তেমন না।
এবার আপনারাই বলুন কতটা কষ্টে
থাকলে একটা মানুষ আর বাঁচতে চায়না।
.
সবার কাছে একটা অনুরোধ, তার জন্য দোয়া করবেন প্লিজ, জেনো সে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে।

গতকাল রাতেও অনেকগুলো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছে যা সীমার বাহিরে, এতগুলো খেয়ে কেউ বেশী দিন বাঁচেনা।
পৃথিবী যেখানে নশ্বর ভালোবাসাও সেখানে নশ্বর, অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু ভাল করতে পারিনি। তাকে ভালো করার অভিজ্ঞতা হয়তো আমার নেই কিন্তু চেষ্টা করে যাচ্ছি তার জন্য দোয়া করবেন।

নিরুপমা সমগ্র আমার বাকি গল্প গুলো পড়বেন।
→নিরুপমার মধ্যরাত.
→নিরুপমার নিলয়.
→নিরুপমার নীলটিপ.
—-Aarohi Hasan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *