পশ্চিম কোন দিকে?

আমি যেখানটায় থাকি তার নিচ তলায় একই রুমে দুজন মেট থাকেন। একজন হিন্দু অপরজন মুসলিম।
.

রাত তিনটায় শুনলাম বিকট চিৎকার চেঁচামেচি। নিচে নামলাম। গিয়ে দেখি ভাতের চামচ দিয়ে একটার মাথা আরেকটা ফাটায়া দিছে!!

.

খন্ডপ্রলয় শুনে যা বুঝলাম, তা হলো দুজন দুদিকে পা দিয়ে ঘুমায়। হিন্দুজন দেয় পশ্চিমে পা, আর মুসলিমজন দেয় পূবদিকে পা। এই নিয়ে তাদের মধ্যে অনূভূতির যুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে একজন আরেকজনের মাথায় ভাতের চামচ দিয়ে…..

.


আমি যেখানটায় থাকি তার নিচ তলায় একই রুমে দুজন মেট থাকেন। একজন হিন্দু অপরজন মুসলিম।
.

রাত তিনটায় শুনলাম বিকট চিৎকার চেঁচামেচি। নিচে নামলাম। গিয়ে দেখি ভাতের চামচ দিয়ে একটার মাথা আরেকটা ফাটায়া দিছে!!

.

খন্ডপ্রলয় শুনে যা বুঝলাম, তা হলো দুজন দুদিকে পা দিয়ে ঘুমায়। হিন্দুজন দেয় পশ্চিমে পা, আর মুসলিমজন দেয় পূবদিকে পা। এই নিয়ে তাদের মধ্যে অনূভূতির যুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধের এক পর্যায়ে একজন আরেকজনের মাথায় ভাতের চামচ দিয়ে…..

.

মুসলমানরা প্রধানতো পশ্চিমে পা দিয়ে কখনো ঘুমায় না। কারণ হিসাবে দেখা যায় (তাদের ভাষ্যমতে) কাবা শরীফ বাংলাদেশের পশ্চিমে আর তাই তারা পশ্চিমে পা দিয়ে ঘুমানোটাকে ধর্মবিরোধী মনে করে।

.

অপরদিকে হিন্দুবন্ধুবান্ধবদের প্রাপ্ত তথ্যমতে তাদের তীর্থস্থান গয়া হচ্ছে বাংলাদেশের উত্তরে। তাই তারা উত্তরে কিবা পূর্বে মাথা দিয়ে ঘুমায়।

.

যার যেমন অনূভূতি তার তেমন ভূতানূভূতি। এবার দেখা যাক, ব তে বিজ্ঞান কি বলে??

.

বিজ্ঞান বলে, পৃথিবী গোল। আর পৃথিবী যদি গোল হয় তবে তার কেন্দ্রস্থল মাত্রই কাবা শরীফ (কুরান ও বিজ্ঞানের যৌথ তথ্যমতে)। তাহলে দেখা যায় বাংলাদেশের ঠিক মাথার উপরে সৌদি আরব। এই কথাটা শুনে একদল লোক আমাকে নেহাৎ মূর্খ বলে চালিয়ে দেবার আগেই আমি বলে রাখি আমি ব তে বকলম, কিংবা ম তে মূর্খ।

.

প্রায়শই এই প্রশ্নটি অনেকের কাছে শুনে থাকি যে, সৌদি যদি বাংলাদেশের ঠিক মাথার উপরে হয় তাহলে সৌদির মানুষ বাংলাদেশের মানুষের উপর সিটকে পড়ছে না কেন?

.

এর উত্তর দাঁড় করিয়েছেন বিজ্ঞানী নিউটন। তার তথ্য মতে, পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুই তার নিজ কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয়। আর শুন্যে যা দেখা যাচ্ছে তাই মহাকাশ। সৌদি আরবের যে আকাশ সেটা বাংলারও আকাশ। কিংবা সমগ্র পৃথিবীর আকাশ। সৌদির অবশ্যই নিজস্ব ভূ-খন্ড আছে। তাই তার কেন্দ্রস্থল ভূখন্ডই। প্রতিটি বস্তুই তার কেন্দ্রের দিকে আকর্ষিত হয়। তাই সৌদি আরব থেকে কোন কিছু তার বিপরীত দিকে বিকর্ষিত হবার কিংবা সিটকে পড়ার কোন বিজ্ঞানসম্মত কারণ দেখা যাচ্ছে না।

.

যার যেমন অভিরুচি। কে কোন দিকে পা দিয়ে ঘুমাবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর এই ব্যক্তিগত ব্যাপারটা যখন হাতাহাতি-রক্তারক্তি পর্যন্ত চলে যায় তখনই আমি অনুভব করি তথাকথিত বিশ্বাসনির্ভর সকল ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *