বাবা কর্তৃক ধর্ষণ: মুখ খুলছেন নির্যাতিতারা

তথাকথিত আধুনিকতার যুগেও উন্নত-অনুন্নত-রক্ষণশীল দেশগুলোতে ধর্ষণের ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ভিকটিমদের একটা অংশ পরিবারে নানা সময়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং পরিত্রাণ পেতে অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।


তথাকথিত আধুনিকতার যুগেও উন্নত-অনুন্নত-রক্ষণশীল দেশগুলোতে ধর্ষণের ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ভিকটিমদের একটা অংশ পরিবারে নানা সময়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং পরিত্রাণ পেতে অবশেষে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

ধর্ষকদের মধ্যে একটা বড় অংশ হলো মেয়ের মামা-চাচা, দাদা-নানা, ভাই এবং বাবা। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো ভিকটিমদের প্রায় সবাই শিশু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভিকটিমদের ভয় দেখানো হয় এবং বার বার এই নিকৃষ্ট কাজে বাধ্য করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনাগুলো থেকে দেখা যায় ভিকটিমদের অনেকেই গর্ভবতী হয়ে পড়ায় ঘটনা প্রকাশ পেয়ে যায়। আর ঘটনা থানা পর্যন্ত গড়ালেই তা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

তবে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, অজস্র যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায় নানা কারণে।

গত কয়েক বছরে প্রকাশিত ধর্ষণের সংখ্যা অনেক বেড়েছে যার মূল কারণ মামলা। ধন্যবাদ সেইসব সাহসী মেয়ে ও তাদের মায়েদের যারা এগিয়ে এসেছেন। আশা করি ভবিষ্যতে আরও অনেক নির্যাতিতা আইনের দ্বারস্থ হবেন, নইলে এমন পাশবিক নির্যাতন চলতেই থাকবে।

যেসব দেশে বাবার দ্বারা মেয়েরা, বিশেষ করে শিশুরা, যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন তার মধ্যে এগিয়ে আছে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড।

বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। গত দুই বছরে কমপক্ষে আটটি ঘটনার কথা জানা গেছে গণমাধ্যমের কারণে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় দোষী ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে। বাকিগুলো তদন্ত বা বিচারিক পর্যায়ে আছে।

১) সর্বশেষ কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গত ২৪শে জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় পীরের মুরিদ কেসমত আলীকে, ৩৭। ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ের কাছে ঘটনার কথা শুনে কেসমতের প্রথম স্ত্রী মামলা করেন এবং পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায় কেসমতের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তারা পেয়েছেন।

২) এর আগে ২০১৫ সালের ২০শে অক্টোবর নিজের মেয়েকে বারবার ধর্ষণের অভিযোগে টাঙ্গাইলের মুধুপুর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।

৩) একই বছরের আগস্টে বান্দরবনের নাইক্ষয়ংছড়ি এলাকার চাকডালা মহিছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু বকর সিদ্দীকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করে তার মেয়ে, ১৫। পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বকরের বিরুদ্ধে ছাত্রজীবন থেকেই মেয়েদের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। তবুও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে কেন এত বড় দায়িত্ব দিলো এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামলা করার পর থেকে বকর পলাতক আছে।

৪) বারো বছর বয়সী মেয়েকে তিন মাস ধরে ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগে ঢাকার রামপুরা পুলিশ ২০১৫ সালের ২৯শে মে মনির, ৩৮, নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

৫) ২০১৫ সালের ১১ই মে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার নুরুল আলম। এ ঘটনায় হরিণমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা ধর্ষক পিতার ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন পালন করেন।

৬) সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে চারমাস ধরে ধর্ষণের দায়ে ২০১৫ সালের ৮ই মে গ্রেপ্তার করা হয় শামীম রেজাকে, ৩৫।

৭) এর আগে ২০১৪ সালের ৯ই এপ্রিল গাজীপুরের একটি আদালত মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ফরহাদ তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে কয়েকবার ধর্ষণ করেছিল।

৮) একই বছর সাভারের ভাটপাড়ায় ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে। পরে জানা যায়, নিজের বাবার দ্বারা বারবার ধর্ষণের শিকার হয়ে সে মরতে যাচ্ছিল। পরদিন ২৮শে জানুয়ারি সাভার থানা পুলিশ ৩৮বছর বয়সী বাবাকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়।

৪ thoughts on “বাবা কর্তৃক ধর্ষণ: মুখ খুলছেন নির্যাতিতারা

  1. ধর্ষণকারীরা হারামজাদা। এদের
    ধর্ষণকারীরা হারামজাদা। এদের জন্য সমাজে-রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তাই, এদের ফাঁসি দেওয়াই উচিত।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *