হাইব্রিড নেতাদের দাপট

১৯৭৫ এর ১৫ অগাস্ট জাতি তার সর্বোত্তম মানুষটিকে হারিয়ে এক দিশেহারা সময়ের ভিতর দিয়ে দিন পার করতে থাকে, আর জাতির পিতার সন্তানেরা তাদের তাদের জীবনের সবচাইতে মূল্যবান ধন তাদের পিতা মাতা ও তিন ভাইকে হারিয়ে হারিয়ে এক অনিশ্চিত অন্ধকার সময় পার করছিলেন , তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হয়ে পরে অনিশ্চিত, নিজেরাই একটু ভেবে দেখুন, এমত অবস্থায় পরলে আমি কিংবা আপনি কি করতাম ? সময়ের বিবর্তনে শেখ হাসিনা সাহস আর শক্তি সঞ্চয়ে নিজেকে মানুষ হিসাবে ইস্পাত কঠিন ভাবে তৈরি করেন, এই শক্তি হয়ত আমাদের অনেকেরই হতো না। আমি কিংবা আপনি যদি কোন দলীয় দৃষ্টি ভঙ্গির বাইরে এই মানুষটিকে ও তার ক্ষমতাকে বিবেচনা করি তাহলে বলবো তিনি ঠিকই তার বাবা বঙ্গবন্ধুর মতই নিজেকে একজন সাহসী আর দক্ষ মানুষ হিসাবেই তৈরি করতে পেরেছেন।
এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সময়ের বিবর্তনে সত্যিকারের মুজিব সেনারা নিজেদের সঠিক ভাবে গোছাতে পারছিলেন না, সবাই যেন কেমন একটা হতাশায় ভুগছিলেন। দলের মাঝেই অনেকেই শক্তি হারিয়ে নির্জীব হয়ে পরলেন , কাজেই সৃষ্টি হচ্ছিলো দলকে সামাল দেবার নেতৃত্বের , বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সুযোগ সন্ধানী হাইব্রিড নেতারা সেই মুহূর্তেই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে একটুও বিলম্ব করলো না । দল সংগঠনকে গোছাতে প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর দুই সন্তান জান প্রাণ দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন, যেটা ছিল আমাদের আমাদের বাঙালি জাতির জন্যে এক গর্বের বিষয়, কিন্তু বুঝতে পেরেছিল কয়জন ? দীর্ঘ দিন প্রবাস থেকে দেশে ফিরেই শেখ হাসিনা দল গোছাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন, কিন্তু হায় এই হাইব্রিড নেতাদের উৎপাত ততদিনে দলের মাঝে শক্ত বাসা বেধেছে, এই সবের দায়ভার কোন ভাবেই শেখ হাসিনাকে দেয়া যায় না, তিনি তো আর ইচ্ছে করে এই উৎপাত ডেকে আনেন নাই : সময়ের বিবর্তন ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই এর জন্যে দায়ী করা যেতে পারে। রাজাকার ও তাদের দোসররা ততদিনে বাংলাদেশে তাদের শক্ত আসনে বসে গেছে, এই স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনীতিতে ধর্মকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা শিখে গেছে, ধর্মভীরু বাঙালী জাতী এই সব স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে । এখানেই শুরু হয়ে শেখ হাসিনার যুদ্ধ , নিজের জীবনকে বাজী রেখেই তিনি রাজনীতির মাঠে নেমে পরেন, ২১ আগস্টের ঘটনায় তার জ্বলন্ত উদহারণ। এরকম একটা অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামাল দিয়ে দেশের ক্ষমতায় ভার গ্রহণ করাটাই ছিল শেখ হাসিনার সব চাইতে বড় চ্যালেঞ্জ এবং পরবর্তীতে তিনি তাতে জয়ী হন আর দেশের শাসন ভার গ্রহণ করেন , এ ক্ষেত্রে আমার বিবেচনায় শেখ হাসিনা মানসিক ভাবে একজন অতি শক্তিশালী মানুষ । এখন পর্যন্ত একজন দক্ষ নেত্রী। দলের ভেতর মাঝে মাঝেই কিছু উদ্ভট পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বটে আর সেটার জন্যে আমার যুক্তিতে এই হাইব্রিড নেতারাই দায়ী । এখানে আমার কিছু ভুল থাকলে, বিজ্ঞ পাঠক সমাজ হয়তো আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দেবেন আশা করি |

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমার বাঙ্গালীরা আস্তে আস্তে বুঝতে পারছিলাম বিগত সরকার আমলেই আমাদের দেশের ইতিহাস বিকৃতি করণ থেকে শুরু করে সংবিধানে কাটা ছেড়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়ে গেছে, মুন সিনেমা হলের জায়গা সংক্রান্ত আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছিল জিয়াউর রহমানের শাসন আমলটাই ছিল অবৈধ, ক্ষতি যেটা হবার তো হয়েই গিয়েছিল। শাসক জিয়ার আমলেই বঙ্গবন্ধু বিচার কার্য স্থগিতাদেশ দিয়ে তাদের ঘৃণ্য কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছিল, বাংলাদেশ বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন ও ব্যক্তি-বর্গদের যথা জামাত ও গোলাম আজম , নিজামী, মুজাহেদীদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা, দালাল আইনকে বাতিল ঘোষণা করে জেলে সকল বন্দী রাজাকারদের রাজনৈতিক মুক্তি প্রদান, ১৯৭২ এর সংবিধানে কাটছেরা করা, এ রকম অনেক কুকর্মের জ্বলন্ত উদহারণ হিসাবে বি এন পি শাসন আমলের কথা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। এ সব কিছু করার পর এরশাদ সরকার আমলটাও কম দায় বহন করে না, এরশাদের আমলে সব চাইতে বড় ভুল যেটা হয়েছিল সেটা হচ্ছে সংবিধানে একটা রাষ্ট্র ধর্ম সংযোজনা করা, ৯০ এর আন্দোলন যদি কোন কারণে বৃথা যেত তবে আমাদের দুর্গতির সীমা থাকত না।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে আমার লেখার উদ্দেশ্য হাইব্রিড তেনারা কে কোথায় ছিলেন, এখন আসা যাক মূল বক্তব্যে , এই সব সুযোগ সন্ধানীরা রাজনীতির মাঠে সর্বদাই তৎপর ছিল শুধু আমাদের চোখের অন্তরালে , আমি একটু আপনাদের মনে করিয়ে দিচ্ছি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এইসব হাইব্রিড তেনাদের তৎপরতা ছিল সব চাইতে বেশী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেই তাদের চেহারা দেখা গিয়েছিল সব চাইতে বেশী , পরবর্তীতে এরা বিভিন্ন দলে চোরা-গুপ্ত হামলা চালাতে থাকে , এমনকি অনেকেই সরকারী দলেও জায়গা করে নেয়। এ সব কিছুই হতে থাকে আমাদের চোখের অন্তরালে , আমরা তাদেরকে অতি সুশীল আখ্যায়িত করে থাকি মাঝে মাঝে আর তাদের মিষ্টি কথায় টকঝাল শো গুলিতে তাদের বুলি শুনে এক্কেবারে গলে পরি। অন্তরে এক স্বপ্ন আর বাহিরে আরেক স্বপ্ন দেখিয়ে এইসব অনেক ধান্দাবাজ অনেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছত্র ছায়াতে চলে আসে , বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনিয়ে হঠাত করেই একদিন দাবি করে বসে এই কাদের সেই কাদের না , আপনাদের মনে পরে কি সংসদ গোলাম মওলা রনির বক্তব্য।
প্রবাসেও এ রকম অনেক সুযোগ সন্ধানী ধান্দাবাজরা বাংলাদেশকে একটা লুটপাটের জায়গা ধরে নিয়ে দেশের মন্ত্রী ও সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তলে , আর সেই কারণেই অনেক মন্ত্রী সত্ থাকার চেষ্টা করেও এই সব ধান্দাবাজদের কারণে সত্ থাকতে পারেন নাই। এর উদহারণ সরূপ বলা যায় বিভিন্ন ভাবে ফেইস বুক অথবা অনন্য সামাজিক ওয়েব সাইট গুলোতে সাধারণ প্রবাসীদের সাথে অমুক দলের তমুক , তমুকের সাথে অমুকের ছবিতে ভরে যেতে থাকে, এইসব হাইব্রিড প্রবাসী নেতা নামধারীদের সহযোগিতায় দেশের সম্পদ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে পাচার হতে থাকে। এখন আপনারাই বলুন এই সব ক্ষেত্রে একজন প্রধান মন্ত্রীর পক্ষে একা এত সব দুর্নীতি সামাল দেয়া কতটুকু সম্ভব , দেখতেই তো পারছেন কতগুলো সচিবের ভুয়া মুক্তি যোদ্ধা সার্টিফিকেট। আমার প্রশ্ন , আমি কি আপনি যদি দেশের প্রধান মন্ত্রী থাকতাম তা হলে এই সব কিছু একা সামাল দিতে পারতাম ? কাজেই একজন প্রধান মন্ত্রী যখন নিজে মুখেই বলছেন ” আমি ছাড়া সব্বাইকে টাকা দিয়ে কেনা যায় “, এর চাইতে পরিষ্কার করে বলার আর কীইবা থাকতে পারে।
দুইটি বীজের সংমিশ্রণে যে জেনেটিক পরিবর্তিত একটি নতুন বীজকেই হাইব্রিড বলা যেতে পারে , শব্দটা আমার যদিও পরিষ্কার ভাবে জানা ছিল না, একজন বড় ভাইয়ের মারফতে আরও পরিষ্কার ভাবেই ব্যাখ্যা নিয়েছি এ ক্ষেত্রে সুযোগ সন্ধানী নেতাদের আমি হাইব্রিড নেতা বলেই উল্লেখ্য করলাম |
এইসব লোকেরা সারাজীবনই সরকারী দল করে থাকে, বাংলাদেশ এই সব হাইব্রিড নেতাদেরকে যে কোন মূল্যেই হোক উচ্ছেদ করতেই হবে | বাঙ্গালী জাতির সর্বকালের স্লোগান জয় বাংলা বলেই আজকে শেষ করছি |
মাহবুব আরিফ

২ thoughts on “হাইব্রিড নেতাদের দাপট

  1. হাইব্রিডরা নেতা-কর্মী কিছুই
    হাইব্রিডরা নেতা-কর্মী কিছুই না। এরা সুযোগসন্ধানীধান্দাবাজ আর অর্থলোভীশয়তান।
    তাই, এদের ঘাড় ধরে আওয়ামীলীগ থেকে এখনই বের করে দেওয়া উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *