সেক্যুলার ব্লগার মরলে আওয়ামীলীগের লাভ

যারা শর্টকাট পদ্ধতিতে বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে চায় তারা ২০১৩ থেকে শুরু করে এখনো সরকারি দল আওয়ামীলীগ, বা বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত-জাতীয় পার্টি ইত্যাদির নেতা-কর্মীদের উপর কোন আঘাত করে না। এরা তাদের টার্গেট নয়, কারণ ঘুষ দিলে রাজনীতিবিদদের কেনা যায় এটা এইসব উগ্রপন্থীরা ভালোই জানে। বাস্তবতাও তেমনি।

এসব দলের নেতা-কর্মীরা জঙ্গিদের জন্য কোনভাবে হুমকিও নয়, তারা বরং কোন নাস্তিক/অসাম্প্রদায়িক/জামায়াত-বিরোধী খুন হলে তার চরিত্র স্খলনের জন্য খুনিদের শিখিয়ে দেয়া বুলি আওড়াবে।


যারা শর্টকাট পদ্ধতিতে বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে চায় তারা ২০১৩ থেকে শুরু করে এখনো সরকারি দল আওয়ামীলীগ, বা বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত-জাতীয় পার্টি ইত্যাদির নেতা-কর্মীদের উপর কোন আঘাত করে না। এরা তাদের টার্গেট নয়, কারণ ঘুষ দিলে রাজনীতিবিদদের কেনা যায় এটা এইসব উগ্রপন্থীরা ভালোই জানে। বাস্তবতাও তেমনি।

এসব দলের নেতা-কর্মীরা জঙ্গিদের জন্য কোনভাবে হুমকিও নয়, তারা বরং কোন নাস্তিক/অসাম্প্রদায়িক/জামায়াত-বিরোধী খুন হলে তার চরিত্র স্খলনের জন্য খুনিদের শিখিয়ে দেয়া বুলি আওড়াবে।

এক ডজন খুনের পরেও যখন সরকার যথাযথ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে লেখকদের নিষেধ করে সমালোচনা করতে এবং জঙ্গিদের অনুরোধ করে খুন না করতে, তখন এই সরকারের নীতি সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এই আমলেও খুনিদের উস্কানিদাতারা প্রকাশ্যে ফতোয়া দিয়েও পার পেয়ে যায় এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হয় না। যেমন-১৯ এপ্রিল ২০১৪ মাসে হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শফি বলেছে-নাস্তিক হত্যা ওয়াজিব হয়ে গেছে। এই শফি আবার আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রচার সম্পাদক হাসান মাহমুদের মামা। অন্যদিকে সরকার আবার বলছে ব্লগার হত্যার উষ্কানিদাতাদের কোন লিস্ট সরকারের কাছে নেই!

শুধু তাই নয়, দায় এড়াতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকবার বলেছেন তিনি ব্লগারদের কোন হিট লিস্ট সম্পর্কে জানেন না। অথচ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে কমিটি করে দিয়ে ইসলাম-বিদ্বেষীদের নাম চাওয়া হয়েছিল!ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা. সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে নয়টি ব্লগের ৮৪ জনের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকার সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ জানানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ইমেইল (complainmoha@gmail.com) অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।

মইনউদ্দিন খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, ইসলাম ধর্ম ও মহানবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যকরীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ চাওয়া হয়েছে আলেম সমাজের কাছে। ইতিমধ্যে এই কমিটির কাছে বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। এগুলো দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হবে অনুসন্ধানের জন্য। পরবর্তী সময়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতারা একসাথে ও আলাদা আলাদাভাবে সেই কমিটিকে ব্লগার ও কিছু সাইটের নাম দিয়েছিল। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কয়েকজন ব্লগারকে গ্রেপ্তার এবং ৫৭ ধারার (অপ)ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সেইসব তালিকা ধরে কয়েকজন ইতিমধ্যে খুন করা হয়েছে। সবার হয়তো মনে আছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যখন লিস্ট দিতে আহবান জানায় তখন সরকারের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পরিচিত ওলামা লীগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিস্ট মজা দেয়। তাদের লিস্ট অনুসারেই ব্লগার গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে সরকারী ব্লগার হিট লিস্ট কিংবা ব্লগার গ্রেফতারের লিস্ট এর বিষয়টিকে হালকা করতে তারা নিজেরাও বিভিন্ন হিট-লিস্টে নিজেদের নাম দিয়ে অনলাইন অফলাইনে ছেড়ে দেয়।

অসাম্প্রদায়িক/জামায়াত-বিরোধীরা খুন হলে আওয়ামীলীগের লাভ – বিরোধী-পক্ষকে গালিগালাজ করা যাবে। এরা জীবিত থাকলেই বরং ঝামেলা; কারণ এরা দুর্নীতি ও নানাবিধ মানবাধিকার ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করে।

জোট সরকারের আমলে নিজামী-তারেক রহমান সরাসরি জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে বাড়তে দিয়েছিল নিজেদের সুবিধার জন্য। এজন্য বিএনপি-জামায়াতকে প্রাণভরে গালিগালাজ করেছিলাম এক সময়। সেই একই অবস্থা এই তথাকথিত অসাম্প্রদায়িক আওয়ামীলীগ আমলেও চলছে!

অসম্ভব কি! যেই সরকার সংবিধানে পঞ্চাশের বেশি সংশোধনী আনতে পারে, সাম্প্রদায়িকতা পুনঃ স্থাপন করতে পারে কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করতে পারে না তাদের কেন বিশ্বাস করবো? যারা হেফাজতের মতো জঙ্গিবাদের উস্কানিদাতাদের সাথে আপোষ করতে পারে, তাদের কাছে কেন বিচার আশা করবো? যারা ওলামা লীগের মতো একটা জঙ্গি দলকে পুষতে পারে তাদের কাছে কেন একটা সুন্দর পরিবেশ চাইবো?

মুক্তবুদ্ধির চর্চা-কারীরা সব সমাজেই সরকারি দল ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শত্রু। কেননা ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতা তো এইসব দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ-প্রশাসন। এরা পছন্দ করে মাথামোটা জনগণকে যারা তোষামোদ করবে কিন্তু কোন অন্যায়-অনিয়ম-অযৌক্তিক কিছুর প্রতিবাদ করবে না।

ব্লগার হত্যাকাণ্ড তদন্তে পুলিশের অযোগ্যতা ঢাকতে সরকারি দলের নেতারা এখন নতুন পথ ধরেছে। তারা এখন আনসারুল্লাহ বা অন্য নামের কোণ জঙ্গি সংগঠনের নাম দিয়ে নিজেদের বাসা-অফিসে চিঠি পাঠিয়ে মিডিয়াকে ডেকে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। হাস্যকর-ভাবে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার এই কুবুদ্ধিটি তাদের কে দিয়েছে কে জানে!

শত বাধা স্বত্বেও সেক্যুলার লেখকরা তাদের যুক্তি দিয়ে, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা দিয়ে বিভিন্ন ধর্মের বিশেষ: করে ইসলাম ধর্মের অসারতা প্রমাণ করে ধর্ম ব্যবসায়ী ও তাদের চ্যালা জঙ্গিদের ভয় পাইয়ে দিয়েছে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তথ্য কণিকা (সূত্র: জাতীয় দৈনিক)

# ২০১৩ সালের ৫মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির আগে ব্লগারদের তালিকা করা হয়েছিল। হেফাজতের সঙ্গে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে ১৩মার্চ সরকার নয় সদস্যের একটি কমিটি করে দেয়। কমিটিতে আইন, তথ্য এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ছিলেন। সেই কমিটির নাম ছিল ‘পবিত্র ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য-কারী ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কমিটি’। কমিটির প্রধান ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রয়াত অতিরিক্ত সচিব মাইনউদ্দিন খন্দকার। কমিটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য-কারীদের বিষয়ে তথ্য দিতে একটি ই-মেইলও খুলেছিল।

# কমিটি এপ্রিল মাস পর্যন্ত চারটি বৈঠক করে। কমিটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য-কারীর নাম আহ্বান করলে বিভিন্ন মহল থেকে সব মিলিয়ে ৮৪ জন ব্লগারের একটি তালিকা দেওয়া হয়। সেই তালিকা থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন ব্লগারের একটি তালিকা করে কমিটি তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দেয়। সেই তালিকা থেকে হেফাজতের সমাবেশের ঠিক আগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

# ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত নামের একটি সংগঠন ‘নাস্তিকদের তালিকা’ শিরোনামে ৫৬ জনের একটি তালিকা দেয়। এই ৫৬ জনের মধ্যে আবার ২৭ জনকে আলাদা করা হয়। এই ২৭ জনের প্রত্যেকের আলাদা প্রোফাইল তৈরি করে তা কমিটির কাছে দেওয়া হয়। সেখানে ২৭ জনের ছবি ছাড়াও প্রত্যেকের পরিচিতি, ঠিকানা এবং লেখার বিভিন্ন অংশ তুলে ধরা হয়। দৈনিক আল ইহসানের সম্পাদক আল্লামা মুহাম্মদ মাহবুব আলম নয়টি ব্লগ সাইটের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ আনে।

# জামায়াত-শিবির পরিচালিত ফেসবুক গ্রুপ ‘বাঁশের কেল্লা’ একই সময়ে ৮৪ ব্লগারের একটি তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় আগের ৫৬ জনের নামও ছিল।

# এসব তালিকা থেকেই মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি ১০ জনের প্রথম তালিকাটি করেছিল। তালিকা তৈরি করে চার ব্লগারকে গ্রেপ্তারের পরও হেফাজত পূর্বনির্ধারিত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ডেকে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরে সরকারও তা শক্ত হাতে দমন করে। এতে হেফাজতের সঙ্গে সরকারের আর দর-কষাকষির প্রয়োজন হয় নি। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি ৫মে’র পর আর কোনো বৈঠকও করে নি, তালিকাও হয় নি। গ্রেপ্তারকৃত ব্লগাররা পরে জামিন পেলেও এখনো মামলা চলছে।

# তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখানে এমন অনেকের নাম আছে, যারা নিয়মিত ব্লগে লেখালেখি করলেও ধর্ম নিয়ে কখনো কিছু লেখেননি। কিন্তু ২০১৩ সালে সরকার কমিটি করার পর অতি উৎসাহীরা তালিকা বড় করার জন্য তাঁদের নামও দিয়েছিল। আবার ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণেও কিছু নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

# সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই-এর একটি প্রতিবেদনকে গুরুত্ব না দেওয়া। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া সেই প্রতিবেদনে ৩৩জন ব্লগারের নাম ছিল যাদের যেকোনো সময়ে খুন করা হতে পারে। সেই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সরকার যে কোন ব্যবস্থা নেয়নি তার প্রমাণ হলো ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি লেখক অভিজিত রায়ের উপর হামলা।

পরবর্তী সময়ে অভিজিতের সমমনা ব্লগার ও তার প্রকাশকদের উপর হামলা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই খুন হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে বুয়েট ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্র শিবির-হিজবুত তাহরীরের কর্মীরা একজোট হয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। আর পেছন থেকে সমর্থন যোগাচ্ছে ডিজিএফআই ও ডিবি পুলিশের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

রিলেটেড ব্লগ-
জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে যারা-অপ্রকাশিত অধ্যায়

জঙ্গিনেতা অধ্যাপক রেজাউর রাজ্জাক এখনো বহাল তবিয়তে!

ফারুকী হত্যাকাণ্ডেও সেই তারেক মনোয়ারের সংশ্লিষ্টতা

২ thoughts on “সেক্যুলার ব্লগার মরলে আওয়ামীলীগের লাভ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *