ঘৃণারর রাজত্বে আকাশ

অমিতের সাথে ব্রেক আপের পর প্রায় চার বছর একাই ছিল নীলা। নতুন করে রিলেশনশিপে জড়ানো তো দূরের কথা একজন পুরুষ মানুষের সাথে দু কদম হাঁটার কথাও সে চিন্তাই করতে পারতো না।আমাদের ভারতবর্ষে একটা প্রবাদ আছে এক সাথে সাত পা হাটলে নাকি একজন আর একজনের বন্ধু হয়ে যায় এবং মরণ ভিন্ন কেউ তা ছিন্ন করতে পারে না।অথচ অমিতের সাথ এতটা পথ হেঁটেও কি নিমিষেই না ছিড়ে গেল সম্পর্কের বাধন!তারপর থেকে সাত পা হাটা হয় নাই কারো সাথে।ইচ্ছেও ছিল না।পুরুষ মানেই ছিল এক না পাওয়া কষ্ট,মিথ্যে ভালোবাসায় আবিষ্ট এক মায়াপুরীর পেতাত্মা অমিতের প্রতিমূর্তি।

অমিতের সাথে ব্রেক আপের পর প্রায় চার বছর একাই ছিল নীলা। নতুন করে রিলেশনশিপে জড়ানো তো দূরের কথা একজন পুরুষ মানুষের সাথে দু কদম হাঁটার কথাও সে চিন্তাই করতে পারতো না।আমাদের ভারতবর্ষে একটা প্রবাদ আছে এক সাথে সাত পা হাটলে নাকি একজন আর একজনের বন্ধু হয়ে যায় এবং মরণ ভিন্ন কেউ তা ছিন্ন করতে পারে না।অথচ অমিতের সাথ এতটা পথ হেঁটেও কি নিমিষেই না ছিড়ে গেল সম্পর্কের বাধন!তারপর থেকে সাত পা হাটা হয় নাই কারো সাথে।ইচ্ছেও ছিল না।পুরুষ মানেই ছিল এক না পাওয়া কষ্ট,মিথ্যে ভালোবাসায় আবিষ্ট এক মায়াপুরীর পেতাত্মা অমিতের প্রতিমূর্তি।
অমিতের মুখোশ উন্মোচিত হবার পর থেকে সব কিছু থেকে সরিয়ে নিজেকে নিয়ে এক নতুন পৃথিবী শুরু করেছিল নীলা।নার্সিসাস এর মতো নিজের মাঝেই ডুপ দিয়েছিল নিজেকে নিয়ে।কিন্তু সব কিছুতে বাধ সাধল পরিবার,সমাজ।নীলার আধিপত্য ধন্য নিজস্ব পৃথিবীকে গুড়িয়ে দিলো ওরা এক নিমিষেই।এখন সে এক পুরুষের ব্যক্তিগত পতিতা বৈ আর কিছুই না।তার নিজের সৃষ্ট পৃথিবীতে সে ছিল অধিপতি আর এখন সে নিম্ন জাতের প্রজা।
স্বামী নামক প্রভুর খেয়াল খুশিতে আবর্তিত হয় তার মাস,ঘন্টা
একলা আকাশের তারাদের সাথে ওর বেশ ভাব ছিল।মাঝ রাতে সারা পৃথিবী ঘুমিয়ে পড়লে দক্ষিণের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূর আকাশের সাথে বেশ গল্প চলতো।তারারা বলতো তাদের কথা । নীলা বলতো ওর কথা,ওর স্বপ্নের গল্প বুনতে বুনতে সকালের আকাশে সূর্যের আলোর আনাগোনা দেখা যেত।ওর পরিচিত প্রতিটি তারারই নিজস্ব নাম আছে।কারো নাম কষ্ট,কারো নাম অভিমানী,সুখ,স্বপ্ন।মন খারাপের রাতে কষ্টকে বড় বেশি উজ্জ্বল মনে হতো।ওর মন খারাপ দেখে কষ্ট দুষ্ট মেয়ের মতো হাঁসতো বলে কষ্টকে ও একদম সইতে পারতো না।মায়ের বকুনি আর বাবার চোখ রাঙ্গানো রাতে এক বুক অভিমান নিয়ে গল্প করতো অভিমানীর সাথে।স্বপ্ন বোনার কারিগর নীলার স্বপ্ন গুলো যেন মুখস্ত দূরের আকাশের তারা স্বপ্নের।প্রতিদিন একই স্বপ্নের গল্প।তবুও বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই শ্রোতা আর বক্তার।

এদের মাঝে অভিমানী ওর সবচেয়ে বেশি প্রিয়।কষ্ট প্রতিরাতেই দেখা দেয়।সুখ আসে কখনো সখনো।একবার অভিমানীটা কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল।পুরো দুই দিন দেখা নেই।নীলার পৃথিবীটাও যেন কেমন মেঘাছন্ন হয়ে উঠেছিল।অভিমানীর বিরহে সারাদিন এক ফোটা জলও মুখে দেয়নি সে।দুই দিন পর যখন অভিমানী এসে হাজির তখন সেও পণ করেছিল কথা বলবে না।উচিৎ শিক্ষা দেবে।
আজকাল আর সেই তারার মেলার সাথে ওর সখ্যতা নেই।স্বামী,সংসার আর মাঝ রাতের যৌনতা ছাড়া ওর নিজস্বতা বলে কিছু নেই।এসবেও ওর আধিপত্য নেই।যা আছে তাও দাসত্ব।অমিতের চলে যাওয়ার পর অনেক কষ্টে নিজের শরীরকে বসে এনেছিল নীলা।কামবোধকে গলা টিপে প্রায় হত্যাই করেছিল।কিন্তু স্বামী নামক ঐ পুরুষটি আবার জাগ্রত করেছে তাকে।
নীলা বুঝে গেছে শরীরটা লৌহ দন্ডের মতো।ঠান্ডায় রাখলে প্রচন্ড ঠান্ডায় চুপচাপ থাকে।আগুনে গেলেই দাউ দাউ করে বাড়তে থাকে লেলিহান তৃষ্ণা।তাই ওর পাশে শুয়ে থাকা ভদ্রলোকের পশুত্ব মাঝে মধ্যে খারাপ লাগে না।বেশ উপভোগই করে।কিন্তু যখনই বুঝতে পারে সেখানে যৌনতার ক্ষণিকের সুখ বাদে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই তখনই বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ওর ঘুমন্ত আত্মা।নিজেকে মনে হয় একজন সমাজ স্বীকৃত ধর্ষিত পতিতা যে তার ধর্ষণকারীর বিচার কোন দিনই পায় না,পাবে না। সমাজ,পরিবার আর পুরুষতান্ত্রিক পৃথিবীর শিকল ছিড়ে বেরিয়ে আসতে চায় ওর মানবিক মন।কিন্তু বারবার হেরে যায় প্রিয় কিছু মুখের কাছে।

আজ আকাশের দেবী মুখ লুকিয়েছে কালো চাদরের আড়ালে।দখল নিয়েছে ওর প্রিয় তারারা।মাংস প্রেমী পুরুষটি নিজের ক্ষুধা মিটিয়ে নিষ্পাপ শিশুর মতো নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।একবার সাধ জাগে বালিশ চাপা দিয়ে প্রতিশোধ নিবে প্রতিরাতের ধর্ষণের।পর মূহুর্তেই নিজের কাছেই হার মেনে বারান্দার দিকে পা বাড়ায় নীলা।
আকাশ ভর্তি তারার মেলা বসেছে।কিন্তু হারিয়ে গেছে নীলার সাথী সুখ,কষ্ট,স্বপ্ন আর অভিমানী নামক তারারা।তাদের যায়গায় যে স্থান দখল করেছে তার নাম ঘৃণা…….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *