কোরান অনুযায়ী আল্লাহর চাইতে শয়তান বেশী ক্ষমতাবান

সূত্র : বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আ: হাকিম চাকলাদারের গবেষণা
বিশ্বাস করুন আর না করুন , কোরান অনুযায়ী আল্লাহর চাইতে শয়তানই বেশী ক্ষমতাবান। যারা কোরানের বানীকে সত্য মনে করেন , অন্তত: আজ থেকে তাদেরকে বিশ্বাস করতেই হবে যে , শয়তান হলো আল্লাহর চাইতে বেশী ক্ষমতাবান।

এবার আসল কথায় আসা যাক। কোরান বলেছে –


সূত্র : বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আ: হাকিম চাকলাদারের গবেষণা
বিশ্বাস করুন আর না করুন , কোরান অনুযায়ী আল্লাহর চাইতে শয়তানই বেশী ক্ষমতাবান। যারা কোরানের বানীকে সত্য মনে করেন , অন্তত: আজ থেকে তাদেরকে বিশ্বাস করতেই হবে যে , শয়তান হলো আল্লাহর চাইতে বেশী ক্ষমতাবান।

এবার আসল কথায় আসা যাক। কোরান বলেছে –

সুরা কাহফ-১৮: ৫০: যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল।

অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছে ইবলিশ শয়তান। ঘটনাস্থল কোথায় ? বেহেস্ত খানা। কারন আদম হাওয়াকে সৃষ্টি করার পর পর তাদেরকে বেহেস্তখানায় রাখা হয়েছিল, সেখানেই ছিল কোটি কোটি ফেরেস্তা সহ আগুনের তৈরী জ্বীন ইবলিশ। এটাই কোরানের ভাষ্য, মুসলমান মাত্রেই এটা জানে ও বিশ্বাস করে। যে বিশ্বাস করে না সে কাফের , মুর্তাদ , মুনাফিক আর তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। যাহোক, শয়তানের এই অবাধ্যতার শাস্তি আল্লাহ কি দিল ? সেটা দেখা যাচ্ছে , নিচের আয়াতে :

“আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?” [সূরা সা’দ: ৭৫]

“আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল?
সে বললঃ আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা।” [সূরা আরাফ: ১২]

“বললেন তুই এখান থেকে যা। এখানে অহংকার করার কোন অধিকার তোর নাই। অতএব তুই বের হয়ে যা। তুই হীনতমদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আরাফ: ১৩]

“আল্লাহ বললেনঃ বের হয়ে যা, এখান থেকে। কারণ, তুই অভিশপ্ত।” [সূরা সা’দ: ৭৭]

“তোর প্রতি আমার এ অভিশাপ বিচার দিবস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।” [সূরা সা’দ: ৭৮]

অর্থাৎ আল্লাহ ইবলিশের অবাধ্যতার কারনে তাকে সাথে সাথে বেহেস্ত থেকে বের করে দিল আর সেটা কেয়ামত অবধি কার্যকর। তার অর্থ অত:পর বেহেস্তে থাকল আদম ও হাওয়া সহ কোটি কোটি ফেরেস্তা ও আল্লাহ। কিন্তু এর পরেই দেখা যাচ্ছে :

“সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথ ভ্রষ্ঠ করে দেব।” [সূরা হিজর: ৩৯]

বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হলেও , সে কিয়াতম পর্যন্ত মানুষকে পথভ্রুষ্ট করবে , আর সেটা কোথায় ? এই মাটির পৃথিবীতে। বেহেস্তে নয়। কারন বেহেস্ত থেকে তো সে অবাধ্যতা করার সাথে সাথেই বিতাড়িত হয়েছে। এবার দেখা যাক , কোরান কি বলছে :

সুরা তোয়াহা- ২০: ১২০ : অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা?

আদম হাওয়া বেহেস্তে বহাল তবিয়তে বিদ্যমান। আর শয়তান বহু আগেই বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হয়ে দুনিয়া বা অন্য কোথাও ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কোরান বলছে , শয়তান আদমকে কুমন্ত্রনা দিচ্ছে। আদম তো বেহেস্তে , আর বেহেস্তে প্রবেশ শয়তানের জন্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে , স্বয়ং আল্লাহই সেটা করেছে , তাহলে শয়তান কিভাবে বেহেস্তে অবস্থানকারী আদমকে কুমন্ত্রনা দিতে পারে ? তার মানে নিশ্চিতভাবেই শয়তান বেহেস্তে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে , কোটি কোটি পাহারাদার ফেরেস্তাদের চোখকে ফাকি দিয়ে ও স্বয়ং আল্লাহর চোখকে ফাকি দিয়ে। সেটা কিভাবে সম্ভব ?

সেটা সম্ভব যদি শয়তান আল্লাহর চাইতে বেশী শক্তিশালী, বুদ্ধিমান ও ক্ষমতাশালী হয়। এটা ছাড়া আর কোন উপায় আছে ?

আমি নিশ্চিত এখনই কিছু কথিত মুমিন এসে প্রশ্ন করবে : কোরানের কোথায় বলেছে শয়তান আল্লাহর চাইতে বেশী শক্তিশালি ?

১ thought on “কোরান অনুযায়ী আল্লাহর চাইতে শয়তান বেশী ক্ষমতাবান

  1. আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস, আমি

    আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস, আমি স্বহস্তে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার সম্মুখে সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি অহংকার করলে, না তুমি তার চেয়ে উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন?” [সূরা সা’দ: ৭৫]

    একটু খেয়াল করলে বুঝতে পারা যায় যে, শয়তান এর পেছনে নিশ্চয় আরো ক্ষমতাবান কেউ ছিলো!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *