দেশের প্রয়োজনে রাজনীতিতে স্বচ্ছতার প্রয়োজনে সত্যটা আমাদের জানানো উচিত

২০১২ইং ২৩শে এপ্রিল সংবাদে প্রকাশ ”কথার পেছনে অনেক কথা থাকে। অনেক লুক্কায়িত সত্য থাকে – যা দেশ, জনগণ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে জনসম্মুখে বলা উচিত না। আর তা সম্ভবও নয়। শুধু এইটুকু বলি, আমি ‘সংগত’ কারণেই এমপি ও মন্ত্রিত্বের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।”
–সোহেল তাজ |

২০১২ইং ২৩শে এপ্রিল সংবাদে প্রকাশ ”কথার পেছনে অনেক কথা থাকে। অনেক লুক্কায়িত সত্য থাকে – যা দেশ, জনগণ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে জনসম্মুখে বলা উচিত না। আর তা সম্ভবও নয়। শুধু এইটুকু বলি, আমি ‘সংগত’ কারণেই এমপি ও মন্ত্রিত্বের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।”
–সোহেল তাজ |
গাজীপুর-৪ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য সোহেল তাজের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন স্নেহময়ী মাতার ভূমিকায় দেখে আমরা সবাই আপ্লুত হয়েছি | বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বে একজন সাহসী ও সৎ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইতিমধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছেন, একজন স্নেহময়ী মাতার ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রীকে দেখে কার না ভালো লাগে বলুন | বিভিন্ন মিডিয়া সোহেল তাজের প্রশংসায় উতলা হয়ে উঠেছে বিষয়টি খুবই আনন্দের, অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সাথে সোহেল তাজের আবেগময় মুহূর্তের ছবি দেখে দারুণ রকম আন্দোলিত কিন্তু কি কারণে সোহেল তাজ মন্ত্রী পরিষদ থেকে চলে গিয়ে ছিলেন সে বিষয়ে মিডিয়াগুলো আজকাল মোটেই উতলা হচ্ছে না |
একজন নেতা যিনি অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি জনগণকে রেখে পালিয়ে যাননি, ন্যায়ের পথে সংগ্রাম করেছেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ক্ষমতার লোভ করেননি, অভিমান করেছেন, নীরবে কষ্টকে সহ্য করে দলের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে দলের পাশে থেকেছেন, তিনি ছিলেন জনাব তাজউদ্দীন আহমেদ, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন বিশিষ্ট নেতা যাকে আমরা ভালো ভাবে চেনার আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদানের কথা বাঙ্গালী জাতি চিরদিন মনে রাখবে, মনে রাখবে তার আত্মত্যাগ ও বাংলাদেশের জন্যে তার অবদানের কথা | জনাব তাজউদ্দীন আহমেদকে নিয়ে লিখতে গেলে আজ কাগজের পাতা শেষ হয়ে যাবে কিন্তু তার সংগ্রামী, বর্ণাঢ্য ও ব্যতিক্রমধর্মী জীবনের কথা লিখে শেষ করা যাবে না |
সোহেল তাজ জনাব তাজউদ্দীনের সন্তান ও আমাদের মন্ত্রী পরিষদের একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান প্রাক্তন সদস্য, আমারা অনেকেই সোহেল তাজের মত একজন নিষ্ঠাবান সৎ কর্মীকে আবার আমাদের সরকারের পাশে দেখার আশা পোষণ করি | বাংলাদেশে এখন সৎ, নিষ্ঠাবান ও সংগ্রামী নেতার খুবই অভাব | সোহেল তাজ নিশ্চয়ই তাদের মাঝে একজন যিনি সৎ, স্বল্পভাষী, নিষ্ঠাবান তবে সংগ্রামী কিনা সেটা সহজ ভাষায় বলতে পারবো না, কারণ একজন সংগ্রামী নেতা কখনোই অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন না, একজন সংগ্রামী নেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে সব কিছুই সহ্য করে দলের পাশে থাকেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভিন্ন আদর্শের কাছে মাথা নত করেন না, অভিমান, অনুরাগ কোন কিছুই তাকে বশ করতে পারে না | আপনাদের অনেকেরই মনে আছে নিশ্চয়ই সোহেল তাজ তাঁর এপিএস আবু কাউসারের মাধ্যমে স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন আর চিঠি পাঠানোর সাথে কি কারণে পদত্যাগ করেছেন তার কোন সুস্পষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করেন নাই | আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে এই পদত্যাগ এর কারণ অজানা | কিসে তার অভিমান ছিল, কেনই বা তিনি একজন জন প্রতিনিধি হয়ে গাজীপুর মানুষকে হতাশ করে স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন ? বিষয়গুলো হয়তো আমাদের জানার প্রয়োজন নাও থাকতে পারে কিন্তু গাজীপুরের মানুষ তা জানার অধিকার রাখে, অন্তত জনাব সোহেল তাজের পক্ষ থেকে একটা ব্যাখ্যা দেবার প্রয়োজন আছে বলে ধরে নেয়া যায় | আমি জনাব সোহেল তাজকে একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, পদত্যাগের পরপরই তাঁর নির্বাচনী এলাকা গাজীপুরের কাপাসিয়ার জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন ” আমার কাপাসিয়া বাসীর উদ্দেশে বলতে চাই, সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিতে আমার অনেক চিন্তাভাবনা করতে হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা, ভালোবাসা, স্নেহ—আমার জন্য এলাকার মানুষের ত্যাগ স্বীকার, আবেগ এই সবকিছু চিন্তা করার পরও বাস্তবতা বিচার করে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। কাপাসিয়ার মানুষের সম্মান রক্ষার্থে আমার সামনে এ ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না”| আজ সোহেল তাজকে বলতে হচ্ছে এই বাংলাদেশ থেমে থাকেনি, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে, সাময়িক হতো কিছুটা অসুবিধা হয়েছে তবে এই দেশকে চালিয়ে নিতে আপনার মত সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষের অভাব আমরা উপলব্ধি করেছি বটে কিন্তু সংগ্রামী মানুষের অভাব এ দেশে হবে না এই বিষয়টা আমরা আপনাকে নিশ্চিত করে বলে রাখতে চাই |
প্রসঙ্গত একটা বিষয় আমি এখানে উল্ল্যাখ করার প্রয়োজন বোধ করছি, সাংবাদিক প্রবীর শিকদার আমাদের অনেকরই মতে একজন আদর্শবান মানুষ যিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোর গলায় প্রতিবাদ করেছেন, ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যে দেশময় ঘুরে বেরিয়েছেন, একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, দল ছেড়ে, জনগণ ছেড়ে অভিমান করে চলে যাননি বরং শত অপমান সহ্য করেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন, আমরা অনেকেই আজ সাংবাদিক প্রবীর শিকদারের এই সংগ্রামী ভূমিকাকে গর্বের সাথে স্মরণ করি | কিন্তু আমারা অনেকেই অসৎ, চাটুকার , হাইব্রিড, ধান্দাবাজ, দুর্নীতিবাজদের নিয়ে কোনই আলোচনা করি না, জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পড়ে সংসদ ও মন্ত্রীদের সম্পত্তি ও সম্পদের হিসাব নেয়ার বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছি, কি কারণে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে ? কারা এইসব অপকর্মে জড়িত ? সুইস ব্যাঙ্কে কাদের টাকা জমা পরছে ?
সোহেল তাজ কেন মন্ত্রী পরিষদ থকে বিদায় নিলেন সেটা অনুসন্ধান করা হোক, যদি তার কোন অভিযোগ থেকেই থাকে তবে সেটাকে গুরুত্ব সহকারে অনুধাবনের প্রয়োজন আছে বৈকি, আমরা মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদে শুধু সৎ লোকদের অভাব অনুভব করি, অসৎ লোকদের বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ | বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজকে আমরা একজন সৎ, বলিষ্ঠ ও সংগ্রামী নেতা হিসাবেই দেখতে চাই, যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করবেন, একজন অভিমানী দেশ ছুট, দলছুট নেতা হিসাবে দেখার আশা পোষণ করিনা | জনাব সোহেল তাজ আপনি আরও লিখেছিলেন “মানুষের প্রত্যাশা, ভালোবাসা, স্নেহ—আমার জন্য এলাকার মানুষের ত্যাগ স্বীকার, আবেগ এই সবকিছু চিন্তা করার পরও বাস্তবতা বিচার করে আমি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। কাপাসিয়ার মানুষের সম্মান রক্ষার্থে আমার সামনে এ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না”
পরিশেষে জানতে ইচ্ছে করেছে আপনার এই ফিরে আসাটা কি দীর্ঘস্থায়ী নাকি ক্ষণস্থায়ী ? কি কারণে এ রকম একজন ব্যক্তি মন্ত্রী পরিষদ থেকে চলে গেলেন সে বিষয়টি আমাদের জানানো হোক, আমরা আপনার কাছ থেকেই এই সত্যটা জানতে চাই, দেশের প্রয়োজনে রাজনীতিতে স্বচ্ছতার প্রয়োজনে আমাদের বিষয়টা আপনার জানানো উচিত |
আমি ভুল কিছু লিখে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন, জয় বাংলা জয় হোক বাংলার মেহনতি মানুষের |
মাহবুব আরিফ-(কিন্তু)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *