বৃষ্টি এবং জোৎস্না‬

চোখ বন্ধ করলেই সিনেমা হলের পর্দার মত একটা পর্দা সরে যায় আমার চোখের সামনে থেকে। ভেসে উঠো তুমি চোখের সামনে। ঠিক তুমি না, তোমার ছবি। ছবি দেখে প্রশান্তি আসেনা, আফসোস বাড়ে। শুরুর দিকে খুব পরিস্কার দেখতে পাই ছবিটা। ক্রমশঃ ঝাপসা হতে থাকে, একটা সময় আর কিছু দেখিনা। থাকে শুধু অন্ধকার। কতটা সময় এভাবে কেটে যায় আমি টের পাইনা। হঠাৎ তুমি এসে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাও আমাকে, রূপসা পাড়ে, জ্যোৎস্না দেখাবে বলে। কিভাবে যেন তুমি বুঝে গেছ বহুদিন আমাকে জ্যোৎস্না ছুঁতে পারেনা। আচ্ছা, রূপসার জল এখনো এত ঘোলা কেন! কোন এক মন-ভুলো মাঝি তার বৈঠা রেখেই ঘরে ফিরে গেছে। মনের ভুলে, নাকি তোমার আমার জন্যে? শরতের আকাশের একটাই সমষ্যা, আদুরে মেয়েদের মতন কখন কেঁদে দিবে টের পাওয়া মুশকিল, যখন-তখন কাঁদতে শুরু করে দেয়। তবে তোমার হাতে হাত রেখে রূপসার জলে জ্যোৎস্না আর বৃষ্টির সঙ্গম দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আদুরে মেয়ের মতন আকাশ আর খামখেয়ালী মাঝিকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। জল পড়ার শব্দটা ক্রমশঃ বেড়েই চলছে।

ঘুম ভেঙ্গে যায় আমার। এই শব্দে ঘুমিয়ে থাকা অসম্ভব। চোখ খুলেই বুঝতে পারি কেয়ারলেস
কেয়ার টেকার পানির মোটর অন করেই ঘুমিয়ে গেছে, ট্যাঙ্কি উপচে পানি পড়ছে, শব্দ হচ্ছে।
আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করতে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *