শাসকগোষ্ঠীর সেন্টিমেন্ট বাণিজ্যের আড়ালে চলছে দেশবেচার রাজনীতি

বাংলাদশের শাসকগোষ্ঠী যখন ’ মুক্তিযুদ্ধ ‘ আর ’ ধর্ম্ ‘ নিয়ে সেন্টিমেন্ট বাণিজ্যের মাধ্যমে নির্বাচনী ফায়দা তোলায় ব্যস্ত, তখন ভারতের বিদ্যুৎসচিব উমা শঙ্কর বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিষয়ক তিনটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে দুই দিনের সফরে শনিবার (২০ এপ্রিল) ঢাকায় আসছেন। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি তিনটি হলো— ১. বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি, ২. বাস্তবায়ন চুক্তি ৩. সম্পূরক যৌথ উদ্যোগ চুক্তি।

সাচ্চা দেশপ্রেমিক ও মুক্তিযুদ্ধের চ্যাম্পিয়ন আওয়ামী লীগ (!!!) সরকার সম্প্রতি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) করেছেন।

চলুন দেখি, কি নিরূপণ করলেন আমাদের সাচ্চা দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চ্যাম্পিয়ন সরকার—–
১) স্থান চূড়ান্তকরণ, জমি অধিগ্রহণ, ভারতীয় কোম্পানির সাথে চুক্তি সম্পাদন ইত্যাদি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর অর্থাৎ সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়ার পর ইআইএ করার যৌক্তিকতা কি? এটা কি শুধুই লোক দেখানো নয়? কিংবা কিছু অর্থ্ লুটের উদ্দেশ্যে?
২) ভারতীয় কোম্পানি (এনটিপিসি) ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশান এ্যাক্ট-১৯৭২ অনুযায়ী কোন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১৫ কি.মি’র মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে না, সেই এনটিপিসি কিভাবে সুন্দরবনের মতো একটা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১৪ কি.মি’র মধ্যে ১৩২০ মেগাওয়াটের এক বিশাল কয়লা ভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার সুযোগ পেতে পারে?
৩) ইআইএ রিপোর্টে সুন্দরবনকে পরিবেশগত ভাবে স্পর্শকাতর এলাকার বদলে ‘আবাসিক ও গ্রাম্য’ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হলো কেন? কেন ক্ষতিকর সালফার ও নাইট্রোজন গ্যাসের বর্তমান মাত্রা কমিয়ে দেখানো হলো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার পর বাড়তি বিষাক্ত গ্যাসকে প্রতারণার মাধ্যমে নিরাপদ সীমার বলে দাবী করা হলো? এটা কি অজ্ঞতা নাকি সততা?
৪) বড় পুকুরিয়ার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র’র ছাই যেখানে অব্যবহৃত থেকে থেকে ছাই পুকুর ভর্তি হচ্ছে, ছাই উড়ে এবং ছাই ধোয়া পানি চুইয়ে মাটির নীচের পানির স্তর দূষিত করছে, সেখানে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বছরে সাড়ে ৯ লক্ষ টন ছাইয়ের ব্যাবস্থাপনা কি হবে? সীসা, পারদ, আর্সেনিক ইত্যাদি বিষাক্ত ভারী ধাতু সম্পন্ন ছাই দিয়ে ১৪১৪ একর জমি ভরাট করা হবে কোন বিবেচনায়?
৫) বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, যানবাহন, নির্মাণ কাজ, পরিবহন, ড্রেজিং ইত্যাদি কাজে যে ব্যাপক শব্দ দূষণ হবে তা থেকে সুন্দরবন রক্ষা পাবে কি করে?
৬) যেখানে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নদী পথে সাধারণ কার্গো স্টিমার পরিবহনেই সুন্দরবন বিপন্ন হচ্ছে এবং এ বিষয়ে তীব্র আপত্তি উঠেছে, সেখানে কয়লাভর্তি দূষণকারী কার্গো-জাহাজ কোন বিবেচনায় সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বছরে ২৩৬ দিন করে চলাচল করবে? জাহাজের শব্দ, জাহাজ নি:সৃত তেল, কয়লার গুড়া/টুকরো কয়লা, জাহাজ চলাচল প্রসূত ঢেউ, সার্চ লাইটের আলো ইত্যাদি থেকে সুন্দরবন রক্ষা পাবে কি করে?

আমরা যদি আমাদের দেশকে বাঁচাতে চাই, যদি নিজেরা বাঁচতে চাই, তাহলে এই সেন্টিমেন্ট ব্যবসায়ী, সাম্রাজ্যবাদের পদলেহী, ভন্ড, বেঈমান শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করতেই হবে। মার্কিনপন্থী নয়, ভারতপন্থী নয় কিংবা সৌদিপন্থী নয়— আমাদেরকে বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে ।

৩ thoughts on “শাসকগোষ্ঠীর সেন্টিমেন্ট বাণিজ্যের আড়ালে চলছে দেশবেচার রাজনীতি

  1. সবাই এখন ব্যস্ত নিজেকে
    সবাই এখন ব্যস্ত নিজেকে ধার্মিক প্রমাণে, আর এই ফাঁকে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে ফেলবে সরকার। বাহ এই না হলে দেশপ্রেমিক সরকার!!!!

  2. কার দোকানের দোকান্দারি করলি
    কার দোকানের দোকান্দারি করলি জীবন ভর
    চিনলি না তুই কে মহাজন কে সে কারিগর
    কানে কানে কথা লাগায় চোখে রঙিন স্বপ্ন দেখায
    বিশ খাওয়াইয়া হজম করায় বলে দুধের স্মর
    মন্দে ভালোয় মিশায়া বানায় রঙ তামাশার ঘর
    সে এক আজব কারিগড় ; ; সে এক আজব কারিগড় ; ;
    :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *