ইসলামে গান-বাজনা, খেলাধুলা হারাম

গান বাজনা, খেলাধুলা কঠিনভাবেই ইসলামে হারাম। তাই যারা সারা দিনের মধ্যে কখনও ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় গান বাজনা শোনে বা খেলাধুলা করে বা দেখে, অথচ নামাজ রোজা করে ভাবে বেহেস্তে গিয়ে ৭২ টা হুরের সাথে মাস্তি করবে , তাদের সে গুড়ে বালি।

এখনই কিছু কোরান হাদিস না পড়া কথিত মডারেটরা বা নামধারী মুসলমানরা এসে বলবে , কোরানের কোথায় লেখা আছে গান- বাজনা হারাম ? এইসব লোকজন আসলে মুনাফিক। কারন তারা মুসলমানের নাম ধারন করে , ইসলামের নামে নিজেদের ধ্যান ধারনা প্রচার করে। এরাই ইসলামের সব চাইতে বড় শত্রু। কোরান ও হাদিসে এদের শাস্তি সোজা কল্লা কাটা। যাইহোক , এবার দেখা যাক , গান বাজনা সম্পর্কে কোরান হাদিসে কি বলে :


গান বাজনা, খেলাধুলা কঠিনভাবেই ইসলামে হারাম। তাই যারা সারা দিনের মধ্যে কখনও ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় গান বাজনা শোনে বা খেলাধুলা করে বা দেখে, অথচ নামাজ রোজা করে ভাবে বেহেস্তে গিয়ে ৭২ টা হুরের সাথে মাস্তি করবে , তাদের সে গুড়ে বালি।

এখনই কিছু কোরান হাদিস না পড়া কথিত মডারেটরা বা নামধারী মুসলমানরা এসে বলবে , কোরানের কোথায় লেখা আছে গান- বাজনা হারাম ? এইসব লোকজন আসলে মুনাফিক। কারন তারা মুসলমানের নাম ধারন করে , ইসলামের নামে নিজেদের ধ্যান ধারনা প্রচার করে। এরাই ইসলামের সব চাইতে বড় শত্রু। কোরান ও হাদিসে এদের শাস্তি সোজা কল্লা কাটা। যাইহোক , এবার দেখা যাক , গান বাজনা সম্পর্কে কোরান হাদিসে কি বলে :

সুরা লোকমান-৩১: ৬: একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।

বনী ইসরাইল-১৭:৬৪: তুই সত্যচ্যুত করে তাদের মধ্য থেকে যাকে পারিস স্বীয় আওয়ায দ্বারা, স্বীয় অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ কর, তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে শরীক হয়ে যা এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দে। ছলনা ছাড়া শয়তান তাদেরকে কোন প্রতিশ্রুতি দেয় না।

সুরা আন নাজম-৫৩:৫৭-৬২:
কেয়ামত নিকটে এসে গেছে।
আল্লাহ ব্যতীত কেউ একে প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
তোমরা কি এই বিষয়ে আশ্চর্যবোধ করছ?
এবং হাসছ-ক্রন্দন করছ না?
তোমরা ক্রীড়া-কৌতুক করছ,
অতএব আল্লাহকে সেজদা কর এবং তাঁর এবাদত কর।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৭ :: অধ্যায় ৬৯ :: হাদিস ৪৯৪
হিশাম ইব্ন আম্মার (রা) ….. আবদুর রহমান ইব্ন গানাম আশ’আরী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আবূ আমের কিংবা আবূ মালেক আশ’আরী (র) বর্ণনা করেছেণ। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা:) কে বলতে শুনেছেন: আমার উম্মতের মাঝে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের দৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। অনুরূপভাবে এমন অনকে দল হবে, যারা পর্বতের কিনারায় বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের কাছ কোন অভাব নিয়ে ফকীর আসলে তারা উত্তর দেবে, আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দেবেন। পর্বতটি ধসিয়ে দেবেন, আর অবশিষ্ট লোকদের তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বানর ও শূকর বানিয়ে রাখবেন।

আবু দাউদ, বই- ৪৩, হাদিস- ৪৯২৭
সালাম ইবনে মিসকিন বর্ণিত, তিনি আবু ওয়াইলের কাছ থেকে শুনেছেন যিনি একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। লোকেরা খেলাধুলা, আমোদ ও গান বাজনা শুরু করল। তখন তিনি এসব দেখে বললেন , আমি আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি- নবী বলেছেন গান বাজনা মনের মধ্যে মুনাফিকি সৃষ্টি করে।</strong>

উপরোক্ত আয়াতে বলছে ক্রীড়া কৌতুক তথা কোন রকম খেলা ধুলা , আড্ডা , গান , হাসি, ঠাট্টা এসব হারাম। এসব বাদ দিয়ে আল্লাহর কাছে কান্না কাটি করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে জাহান্নামের দোজখ অনিবার্য।

কিন্তু কিছু কথিত মডারেট মুসলমান তারপরেও বলবে এইসব আয়াতের আগ পিছ দেখতে হবে , প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। ভাবখানা যেন তারা আল্লাহ ও তাদের নবীর চাইতে বেশী ইসলাম বোঝে। গান বাজনা , ক্রীড়া কৌতুক সম্পর্কে সোজা বলে দিয়েছে এসব মানুষকে বিপথে চালিত করে , আল্লাহর রাস্তা থেকে মানুষকে মুনাফিকি বা কুফরির দিকে নিয়ে যায়< এসবের আবার আগ পিছ কি , প্রেক্ষাপট কি ? এ জন্যেই তো কিছুদিন আগে ব্রাহ্মনবাড়ীয়াতে মাদ্রাসার ছাত্ররা সঙ্গীত সম্রাট আলাউদ্দিনের স্মৃতি বিজড়িত সকল বাদ্যযন্ত্র সহ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। এসব করে তারা তাদের ইমানী দায়ীত্ব পালন করেছে। আল্লাহ তাদেরকে এ জন্যে সীমাহীন নেকি দান করবে। তাই আসো, হে মোমিন মুসলমান , আমরা দেশ থেকে সকল রকম সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সহ খেলা ধুলা দুর করে দেশকে খাটি ইসলামী বেহেস্তে পরিনত করি ও সারাক্ষন আল্লাহর জিকির করতে থাকি। বলুন , সুবহান আল্লাহ।

৪ thoughts on “ইসলামে গান-বাজনা, খেলাধুলা হারাম

  1. উপরোক্ত আয়াতে বলছে ক্রীড়া

    উপরোক্ত আয়াতে বলছে ক্রীড়া কৌতুক তথা কোন রকম খেলা ধুলা , আড্ডা , গান , হাসি, ঠাট্টা এসব হারাম। এসব বাদ দিয়ে আল্লাহর কাছে কান্না কাটি করতে হবে। যদি তা না করা হয়, তাহলে জাহান্নামের দোজখ অনিবার্য।

    সেদিন কলকাতায় দুটো ক্লাবের মধ্যে টি টোয়েন্টি খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে স্বল্প বসনার চিয়ের্সগার্লদের দেখে চোখ আটকে গেল। খেলা নয়, বরং চিয়ের্সগার্লদেরকেই বেশী উপভোগ করলাম। খেলা আর যৌনতার অনুষংগ একাবারে মন্দ নয়। দুনিয়াতেই হুর-পরির মজা।

    1. আল্লার কাছে কান্নাকাটি না করে
      আল্লার কাছে কান্নাকাটি না করে এসব হারাম খেলা দেখতে গেছেন কেন? আপনাকে কেউ বাধ্য করে নাই। মজার বিষয় কি জানেন? রানের চিপায় সুখ খুঁজে বেড়ায় আপনার মত ধার্মিকরাই। মজাও নিবেন আবার হারাম হারাম বলে কান্নাকাটিও করবেন। পর্ণ ভিডিও থেকে শুরু করে মদ খাওয়া, আপনাদের ধর্ম যত কিছু হারাম করেছে তার সিংহভাগ ভোক্তা হচ্ছে আপনার মত ধার্মিকরা। মদ খাওয়াকে হারাম করার পরও সোনার মদিনার মানুষেরা ভোক্তা হিসাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কিভাবে হয়? নাকি এসবও ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র মনে করেন?

      আবার মদ-নারীসহ সকল হারাম পণ্য দিয়ে আপনাদের ধর্মই পরকালের মার্কেটিং করেছে। বেহেস্তে পাওয়ার লোভ দেখানো হয়েছে হারাম বস্তুর প্রমোট করে। বিষয়টা কতটা হাস্যকর ভেবে দেখেন ভাই।

      1. পর্ণ ভিডিও থেকে শুরু করে মদ

        পর্ণ ভিডিও থেকে শুরু করে মদ খাওয়া, আপনাদের ধর্ম যত কিছু হারাম করেছে তার সিংহভাগ ভোক্তা হচ্ছে আপনার মত ধার্মিকরা।

        কেউ যখন আমাকে ধার্মিক বলে তখন মজা পাই।আসলে আমার মন্তব্য আপনার পক্ষে যায় নি বলে আপনার আতে ঘা লেগেছে। কিন্তু সত্য বলতে আমি সাধারনত দ্বিধা বোধ করি না।অন্ধের মত ধর্মবিদ্যেষী সাজি না।

        বেহেস্তে পাওয়ার লোভ দেখানো হয়েছে হারাম বস্তুর প্রমোট করে। বিষয়টা কতটা হাস্যকর ভেবে দেখেন ভাই।

        আসলে এখনকার পৃথিবীতে বেহেশ্তের লোভে হারাম-হালালের তোয়াক্কা করবে এমন মানুষ খুব বেশী আছে বলে মনে হয় না। বিজ্ঞান-আর প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে ধর্ম মোটামুটি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে বলা যায়। সভ্য পৃথিবীতে নারীদেহের যথেষ্ট চাহিদা আছে , আর সেই চাহিদা পুরনের অনেক উপায়ও আছে। তাই খেলা-ধুলা সহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও নারী দেহের প্রদর্শণী থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। মানূষ যে যার যার মত সেটা উপভোগ করবে।এবং এতে অন্যায় কিছু নেই।

        পর্ণ ভিডিও থেকে শুরু করে মদ খাওয়া, আপনাদের ধর্ম যত কিছু হারাম করেছে তার সিংহভাগ ভোক্তা হচ্ছে আপনার মত ধার্মিকরা। মদ খাওয়াকে হারাম করার পরও সোনার মদিনার মানুষেরা ভোক্তা হিসাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কিভাবে হয়? নাকি এসবও ইহুদী-নাসারাদের ষড়যন্ত্র মনে করেন?

        আপনার মন্তব্য সঠিক নয়। অন্তত পরিসংখ্যান তাই বলে–

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *