অলি থেকে খালেদাঃ মক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিএনপির ক্রমাগত মিথ্যাচার


কর্ণেল অলি আহমদ।

বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা !!!!


কর্ণেল অলি আহমদ।

বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা !!!!
হুমায়ুন আজাদ স্যার বলেছিলেন, ‘একজন রাজাকার চিরকাল রাজাকার থাকে।কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধা চিরকাল মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন না।’’ ক্ষ্মতার মোহ মানুষকে কোন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারে,তা বোঝা যায়,যখন তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রমান করতে গিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রশ্নের মুখে টিকতে না পেরে বলে ফেললেন ,৭১ এর পরে যাদের জন্ম তাদের ৭১ নিয়ে কথা বলা উচিত নয়!!” তখন তা দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল।ঘুরেফিরে সেই অতীত ভুলে যাওয়ার থিউরী।
স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ২৫শে মার্চ কালরাত্রে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান যা ইপিআর এর ওয়ারলেস দ্বারা রিলে করা হয়। ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু বলেন,
‘পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। ছাত্র-জনতা-পুলিশ-ইপিআর শত্রুর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম শুরু হয়েছে। আমি ঘোষণা করছি আজ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সর্বস্তরের নাগরিকদের আমি আহবান জানাচ্ছি, আপনারা যে যেখানে যে অবস্থাতেই থাকুন, যার যা আছে তাই নিয়ে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। সম্মিলিতভাবে শত্রুর মোকাবেলা করুন। এটাই হয়তো আপনাদের প্রতি আমার শেষ বাণী হতে পারে। আপনারা শেষ শত্রুটি দেশ থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যান।’’

পিলখানায় ইপিআর ব্যারাকে ও অন্যান্য স্থান থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার লিখিত বাণী ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে মেসেজ আকারে পাঠানো হয়। এই ওয়্যারলেস বার্তা চট্টগ্রাম ইপিআর সদর দফতরে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম উপকূলে নোঙর করা একটি বিদেশী জাহাজও এই মেসেজ গ্রহণ করে। চট্টগ্রামে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক জহুর আহমেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বাণী সাইক্লোস্টাইল করে রাতেই শহরবাসীর মধ্যে বিলির ব্যবস্থা করেন। আওয়ামিলীগ নেতা মরহুম এম,এ,হান্নান চট্টগ্রাম বেতারকেন্দ্র থেকে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন।ইপিআর এর যে সুবেদার সেদিন এই ঘোষণাটি রিসিভ করেছিলেন, তাকে পাক বাহিনী এই অপরাধে নির্মমভাবে হত্যা করে।

মেজর জিয়া তখন ব্যস্ত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরে “সোয়াত” জাহাজ থেকে পাকিস্তানী অস্ত্র খালাসের পথে বাধা সৃষ্টিকারী ডক শ্রমিকদের শায়েস্তা করার কাজে। কর্ণেল অলি(তখন ক্যাপ্টেন) প্রথম জীপে করে ছুটে গিয়ে তাকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা করার সংবাদ দেন আর জিয়া বিদ্রোহ ঘোষণা করেন “we revolt” বলে।
এটা কোন আওয়ামী প্রপাগাণ্ডা নয়।এটা হচ্ছে ৭১এর রক্তভেজা ইতিহাস।পরবর্তীতে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় “একটি জাতির জন্ম” আর্টিকেলে জিয়াউর রহমান নিজেই তা স্বিকার করেন।স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠক আর ঘোষককে এক করে ফেলার চেস্টা করে জিয়াকে কোনদিন বঙ্গবন্ধুর সমপর্যায়ে যে উঠিয়ে নেয়া যাবেনা ,সেটা জিয়ার সৈনিকরাও ভাল করেই জানেন। তারপরেও তারা মিথ্যাকে আকড়ে ধরে টিকে থাকার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে আসছেন বিগত চার দশক ধরেই।জানি, রাজনীতিতে কোন শেষ কথা নেই।কিন্তু নীতির ক্ষেত্রে কিছু না কিছু শেষ কথাতো থাকতেই হবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর থেকে ২৬ মার্চ ভোরের কোনো এক সময়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার একটি ঘোষণাপত্র লিখেছিলেন।
► ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণাপত্রটি সম্প্রচার করা হয়। তবে খুব কম মানুষই সম্প্রচারিত ঘোষণাটি শুনতে পেয়েছিল।
► ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে একটি ঘোষণা পাঠ করেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এবিসি নিউজে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার খবর
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। ঘোষণা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অন্য কেউ নয়। অন্য কোনো দিন নয়। খবরটি প্রচারিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তারিখেই। নিচে এবিসি নিউজের দুটো ভিডিও ক্লিপে দেখুন সেদিনের স্বাধীনতা ঘোষণার খবরটি।

প্রথম নিউজ–
এবিসি নিউজে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দুটো খবর প্রচারিত হয়।
প্রথম নিউজ– শেখ মুজিবুর রহমান পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এবিসি, মার্চ ২৬, ১৯৭১
হেড লাইন : পাকিস্তান/ সিভিল ওয়ার
সংক্ষিপ্ত খবর (ঢাকা, পূর্ব পাকিস্তান) পূর্ব পাকিস্তান গত ডিসেম্বরে জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের নীতি বদলানোর জন্য নতুন সংবিধান প্রণয়ন। পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর অনুরোধে ৩ সপ্তাহের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করেছে পাকিস্তান। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মিটিং করেছে। তার সঙ্গে ভুট্টোও উপস্থিত ছিল। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার পরে পূর্ব পাকিস্তান স্বধীনতা ঘোষণা করেছে।

দ্বিতীয় নিউজ—
Sheik Mujibur Rahman declares region independent, CBS, Mar 26, 1971

পাকিস্তানে সিভিল ওয়ার শুরু হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানী বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধ করতে নেমে পড়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের নেতা পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। ফিল্মে দেখা যাচ্ছে—শেখ মুজিবুর রহমান গতকাল ২৫ মার্চ, ১৯৭১ একটি র্যা লীতে বক্তৃতা করছেন। তিনি বলেছেন—পূর্ব পাকিস্তানীদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।
.আর্জেন্টিনা Buenos Aires Herald – March 27, 1971 – “Bengali independence declared by Mujib” http://bit.ly/1eoaiSq
https://fbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net/…/1551652_5853363315…
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তার হাতে লেখা মুল কপি…
তথ্যসূত্র: জন্মযুদ্ধ ৭১

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বার্তার হাতে লেখা মুল কপি…তথ্যসূত্র: জন্মযুদ্ধ ৭১

Posted by শাহবাগে সাইবার যুদ্ধ on Tuesday, March 25, 2014

মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদান ছিল অপরিসীম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদের এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় ২১ মে মার্চ ২০১০ তারিখে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার প্রদীপ চৌধুরী। এর লিখিত অংশে কিছু সম্পাদনা করা হয়েছে। তিনটি পর্বে সাক্ষাৎকারটি পরিবেশিত হবে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাৎকার (বিডিনিউজ)
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করে পৃথিবীর একাধিক দেশের মিডিয়া
ছবিতে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দৈনিক ‘আয়ারল্যান্ড টাইমস’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “পূর্ব পাকিস্থানে স্বাধীনতার ঘোষনা”।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করে পৃথিবীর একাধিক দেশের…

Posted by বঙ্গবন্ধুর ফটোগ্রাফ on Tuesday, March 25, 2014

১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানীদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা দেন। সে সময় এই খবরটি গুরুত্ব সহকারে পৃথিবীর একাধিক দেশের মিডিয়ায় স্থান পা ➨ আইসল্যান্ড
■ Morgunblaðið – March 27, 1971 – Mujibur Rahman declares the region independent

১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানীদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা…

Posted by Mukti Bahini -মুক্তিবাহিনী on Tuesday, March 25, 2014


‘৭১ সালে ৬টি মহাদেশের মিডিয়ায় ২৬শে মার্চের বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার খবর
লিখেছেনঃ যাত্রী (তারিখঃ রবিবার, ২৫/০৩/২০১২ – ২১:১৯)
১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানীদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা দেন। সে সময় এই খবরটি গুরুত্ব সহকারে পৃথিবীর একাধিক দেশের মিডিয়ায় স্থান পায়।

(বিএনপির রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর লেখা এই প্রবন্ধটি দৈনিক বাংলা পত্রিকার ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ২৬ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বিচিত্রা’-য় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তদানীন্তন উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক শিরোনামে লেখাটি পুনঃ প্রকাশিত হয় ।
লেখাটির অংশবিশেষ নীচে তুলে ধরলামঃ

“ ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রীন সিগন্যাল বলে মনো হলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্তরূপ দিলাম। কিন্তু তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে তা জানালাম না। বাঙ্গালী ও পাকিস্তানী সৈনিকদের মাঝেও উত্তেজনা ক্রমেই চরমে উঠছিল।
১৩ই মার্চ শুরু হলো বঙ্গবন্ধুর সাথে ইয়াহিয়ার আলোচনা। আমরা সবাই ক্ষণিকের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। আমরা আশা করলাম পাকিস্তানী নেতারা যুক্তি মানবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাকিস্তানীদের সামরিক প্রস্তুতি হ্রাস না পেয়ে দিন দিনই বৃদ্ধি পেতে শুরু করলো। প্রতিদিনই পাকিস্তান থেকে সৈন্য আমদানি করা হলো। বিভিন্নস্থানে জমা হতে থাকলো অস্ত্রশস্ত্র আর গোলাবারুদ। সিনয়র পাকিস্তানী সামরিক অফিসাররা সন্দেহজনকভাবে বিভিন্ন গ্যারিসনে আসা যাওয়া শুরু করলো। চট্টগ্রামে নৌ-বাহিনীরও শক্তি বৃদ্ধি করা হলো।

১৭ই মার্চ স্টেডিয়ামে ইবিআরসির লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম আর চৌধুরী, আমি, ক্যাপ্টেন অলি আহমদ ও মেজর আমিন চৌধুরী এক গোপন বৈঠকে মিলিত হলাম। এক চূড়ান্ত যুক্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করলাম। লেঃ কর্নেল চৌধুরীকে অনুরোধ করলাম নেতৃত্ব দিতে। দু’দিন পর ইপিআর-এর ক্যাপ্টেন (এখন মেজর) রফিক আমার বাসায় গেলেন এবং ইপিআর বাহিনীকে সঙ্গে নেয়ার প্রস্তাব দিলেন। আমরা ইপিআর বাহিনীকে আমাদের পরিকল্পনাভুক্ত করলাম।

এর মধ্যে পাকিস্তানী বাহিনীও সামরিক তৎপরতা শুরু করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করলো। ২১শে মার্চ জেনারেল আবদুল হামিদ খান গেল চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে। চট্টগ্রামে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নই তার এই সফরের উদ্দেশ্য। সেদিন ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের ভোজসভায় জেনারেল হামিদ ২০তম বালুচ রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাতমীকে বললো, ফাতমী, সংক্ষেপে, ক্ষিপ্রগতিতে আর যত কম সম্ভব লোক ক্ষয় করে কাজ সারতে হবে। আমি এই কথাগুলো শুনেছিলাম।

২৪শে মার্চ ব্রিগেডিয়ার মজুমদার ঢাকা চলে এলেন। সন্ধ্যায় পাকিস্তানী বাহিনী শক্তি প্রয়োগে চট্টগ্রাম বন্দরে যাওয়ার পথ করে নিল। জাহাজ সোয়াত থেকে অস্ত্র নামানোর জন্যেই বন্দরের দিকে ছিল তাদের এই অভিযান। পথে জনতার সাথে ঘটলো তাদের কয়েকদফা সংঘর্ষ। এতে নিহত হলো বিপুল সংখ্যক বাঙালী। সশস্ত্র সংগ্রাম যে কোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে, এ আমরা ধরেই নিয়েছিলাম। মানসিক দিক দিয়ে আমরা ছিলাম প্রস্তুত। পরদিন আমরা পথের ব্যারিকেড অপসারণের কাজে ব্যস্ত ছিলাম।

তারপর এলো সেই কালো রাত। ২৫শে ও ২৬শে মার্চের মধ্যবর্তী কালো রাত। রাত ১টায় আমার কমান্ডিং অফিসার আমাকে নির্দেশ দিলো নৌ-বাহিনীর ট্রাকে করে চট্টগ্রাম বন্দরে যেয়ে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করতে। আমার সাথে নৌ-বাহিনীর (পাকিস্তানী) প্রহরী থাকবে তাও জানানো হলো। আমি ইচ্ছা করলে আমার সাথে তিনজন লোক নিয়ে যেতে পারি। তবে আমার সাথে আমারই ব্যাটেলিয়নের একজন পাকস্তানী অফিসারও থাকবে। অবশ্য কমান্ডিং অফিসারের মতে সে যাবে আমাকে গার্ড দিতেই। এ আদেশ পালন করা আমার পক্ষে ছিল অসম্ভব। আমি কন্দরে যাচ্ছি কিনা তা দেখার জন্য একজন লোক ছিল। আর বন্দরে শর্বরীর মত প্রতীক্ষায় ছিল জেনারেল আনসারী। হয়তো বা আমাকে চিরকালের মতোই স্বাগত জানাতে।

আমরা বন্দরের পথে বেরোলাম। আগ্রাবাদে আমাদের থামতে হলো। পথে ছিল ব্যরিকেড। এই সময়ে সেখানে এলো মেজর খালেকুজ্জামান চৌধুরী। ক্যাপ্টেন ওলি আহমদের কাছ থেকে এ বার্তা এসেছে। আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম। খালেক আমাকে একটু দূরে নিয়ে গেল। কানে কানে বলল, ‘তারা ক্যান্টনমেন্ট ও শহরে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। বহু বাঙালীকে ওরা হত্যা করেছে।’

এটা ছিল একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত সময়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমি বললাম, আমরা বিদ্রোহ করলাম। তুমি ষোলশহর বাজারে যাও। পাকিস্তানী অফিসারদের গ্রেফতার করো। অলি আহমদকে বলো ব্যাটেলিয়ন তৈরী রাখতে, আমি আসছি। আমি নৌ-বাহিনীর ট্রাকের কাছে ফিরে গেলাম। পাকিস্তানী অফিসার, নৌ-বাহিনীর চীফ পেটি অফিসার ও ড্রাইভারকে জানালাম যে, আমাদের আর বন্দরে যাওয়ার দরকার নেই।

এতে তাদের মনে কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না দেখে আমি পাঞ্জাবী ড্রাইভারকে ট্রাক ঘুরাতে বললাম। ভাগ্য ভালো, সে আমার আদেশ মানলো। আমরা আবার ফিরে চললাম। ষোলশহর বাজারে পৌঁছেই আমি গাড়ী থেকে লাফিয়ে নেমে একটা রাইফেল তুলে নিলাম। পাকিস্তানী অফিসারটির দিকে তাক করে বললাম, হাত তোল। আমি তোমাকে গ্রেফতার করলাম। নৌ-বাহিনীর লোকেরা এতে বিভ্রান্ত হয়ে পড়লো। এক মুহূর্তের মধ্যেই আমি নৌ-বাহিনীর অফিসারের দিকে রাইফেল তাক করলাম। তারা ছিল আটজন। সবাই আমার নির্দেশ মানলো এবং অস্ত্র ফেলে দিল।

আমি কমান্ডিং অফিসারের জীপ নিয়ে তার বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম। তার বাসায় পৌঁছে হাত রাখলাম কলিংবেলে। কমান্ডিং অফিসার পাজামা পরেই বেরিয়ে এলো। খুলে দিল দরজা। ক্ষিপ্রগতিতে আমি ঘরে ঢুকে পড়লাম এবং গলাশুদ্ধ তার কলার টেনে ধরলাম। দ্রুতগতিতে আবার দরজা খুলে কর্নেলকে আমি বাইরে টেনে আনলাম। বললাম, বন্দরে পাঠিয়ে আমাকে মারতে চেয়েছিলে? এই আমি তোমাকে গ্রেফতার করলাম। এখন লক্ষী সোনার মত আমার সঙ্গে এসো। সে আমার কথা মানলো। আমি তাকে ব্যাটেলিয়নে নিয়ে এলাম। অফিসারদের মেসে যাওয়ার পথে আমি কর্নেল শওকতকে (তখন মেজর) ডাকলাম। তাকে জানালাম, আমরা বিদ্রোহ করেছি। শওকত আমার হাতে হাত মিলালো।

ব্যাটেলিয়নে ফিরে দেখলাম, সমস্ত পাকিস্তানী অফিসারকে বন্দী করে একটা ঘরে রাখা হয়েছে। আমি অফিসে গেলাম। চেষ্টা করলাম লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম আর চৌধুরীর সাথে আর মেজর রফিকের সাথে যোগাযোগ করতে। কিন্তু পারলাম না। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলো। তারপর রিং করলাম বেসামরিক বিভাগের টেলিফোন অপারেটরকে। তাকে অনুরোধ জানালাম, ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট, কমিশনার, ডিআইজি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাতে যে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্টম ব্যাটেলিয়ন বিদ্রোহ করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করবে তারা।”

এথেকে স্পস্ট বোঝা যায় যে বংগবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাই জিয়াকে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত করেছিল।আর কালুরঘটের বেতার কেন্দ্রের ঘোশণাতেও তাই তিনি বলেছেন “This is Swadhin Bangla Betar Kendra. I, Major Ziaur Rahman,on behalf of our great leader BANGOBONDHU SHEIKH MUJIBUR RAHMAN do hereby declare that Independent People’s Republic of Bangladesh has been established. On the circumstances, I have taken the command as the temporary Head of the Republic. I call upon all Bengalees to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our motherland. Victory is, by the Grace of Allah, ours. Joy Bangla.

ম্যাডাম জিয়া মাত্র কদিন আগে প্রশ্ন তুললেন শহীদদের সংখ্যা নিয়ে।তার একই সুরে স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্ক আবারো উস্কে দিলেন কর্ণেল অলি।বিএনপি নামের দলটির কি তবে জন্মই হয়েছে আওয়ামীবিরোধীতার নামে দেশের রক্তভেজা ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যে??

তথ্যসূত্রঃ অমি রহমান পিয়ালের ব্লগ,পত্রপত্রিকা,উইকিপিডিয়া

১ thought on “অলি থেকে খালেদাঃ মক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিএনপির ক্রমাগত মিথ্যাচার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *