Genocide Denial এবং একটি আইন

Those who cannot remember the past are condemned to repeat it.


যুদ্ধাপরাধী বলে কিছু নেই।–মুজাহিদ

কেউ সুন্দরী নারীর লোভে, কেউ ভারতীয় স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। -কাদের মোল্লা
১৯৭১ এ যা হয়েছিল তা গৃহযুদ্ধ – শাহ হান্নান

যুদ্ধাপরাধী হতে হলে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ হতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে যুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। বাংলাদেশ সেই যুদ্ধের অংশ ছিলনা। এ কারণে বাংলাদেশে কখনোই যুদ্ধাপরাধী ছিলনা। – এ বি এম মাহবুবুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের ডিন। [সূত্রঃ প্রথম আলো, ১৩/১১/২০০৭]

Those who cannot remember the past are condemned to repeat it.


যুদ্ধাপরাধী বলে কিছু নেই।–মুজাহিদ

কেউ সুন্দরী নারীর লোভে, কেউ ভারতীয় স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। -কাদের মোল্লা
১৯৭১ এ যা হয়েছিল তা গৃহযুদ্ধ – শাহ হান্নান

যুদ্ধাপরাধী হতে হলে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ হতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে যুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। বাংলাদেশ সেই যুদ্ধের অংশ ছিলনা। এ কারণে বাংলাদেশে কখনোই যুদ্ধাপরাধী ছিলনা। – এ বি এম মাহবুবুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের ডিন। [সূত্রঃ প্রথম আলো, ১৩/১১/২০০৭]

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধারাও যুদ্ধাপরাধ করেছে, বিচার করতে হলে দু পক্ষেরই করতে হবে – সাদেক খান, প্রেস ইন্সটিটিউটের সভাপতি [সূত্রঃ ১৫/১১/২০০৭, প্রথম আলো]

তারা (বুদ্ধিজীবিরা) নির্বোধের মতো মারা গেল, আমাদের মতো নির্বোধেরা প্রতিদিন শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে ফুল দেয়। – গয়েশ্বর [২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫]

বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, এটা নিয়েও বিতর্ক আছে। – খালেদা জিয়া [ডিসেম্বর ২১, ২০১৫]


Genocide Denial কি?

সহজ ভাষায় বলা যায়, সভা – সমাবেশ- বক্তৃতা – ব্যানার -ফেস্টুন – লিফলেট ইতাদির মাধ্যমে যে কোন গনহত্যাকে অস্বীকার করা কিংবা এর তীব্রতা এবং ব্যাপকতার মাত্রা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ কিংবা অস্বীকার করার নামই হচ্ছে Genocide Denial. পৃথিবীতে কোন গণহত্যাই হঠাৎ করে হয় না, বরং ধাপে ধাপে এটা সঙ্ঘঠিত হয়। গবেষকদের মতে, যে কোন গণহত্যার সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে Denial কিংবা অস্বীকার। পৃথিবীর প্রতি গণহত্যাকারী কিংবা এর অংশগ্রহণকারীরা কিছু নির্দিষ্ট পন্থা বেছে নেয় তাদের এই অস্বীকারের জন্য, যেমনঃ

১) গনকবর গুলো লুকিয়ে ফেলা হয়
২) ঐতিহাসিক দলিলগুলো পুড়িয়ে নষ্ট করে ইতিহাসের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়
৩) গণহত্যা সংক্রান্ত সকল রিপোর্টকে বিরোধীদলের প্রোপাগান্ডা হিসেবে অবিহিত করা হয়
৪) গণহত্যার তথ্যগুলো Officially approved সূত্র থেকে আসেনি – এই অযুহাতে গণহত্যার সকল রিপোর্টকে Unconfirmed অথবা alleged হিসেবে চিহ্নিত করা হায়
৫) হত্যাগুলো প্রচলিত গণহত্যার সংজ্ঞাকে সংজ্ঞায়িত করে কি না এই নিয়ে কু – তর্ক করা হয়
৬) ভিকটিম দলের হতাহতদের সংখ্যার চেয়ে নিজ দলের হতাহতের সংখ্যা আরো বেশী বলে দাবি করা হয়
৭) মানুষ মারা গিয়েছে “গৃহযুদ্ধ” এর কারণে, তাই এটা গনহত্যা না – বলে দাবি করা হয়

উপরোক্ত প্রতিটা পয়েন্টই আমাদের সাথে বেশ পরিচিত, কেননা বিগত অনেক বছর যাবত একটা গোষ্টী প্রতিনিয়ত তোতাপাখির মত বুলিগুলো আওড়াচ্ছে। খেয়াল করলে দেখা যায়, প্রত্যাখানকারীরা প্রথম প্রথম হয়তোবা সরাসরিই উপরোক্ত লাইনগুলো বলে ফেলে কিন্তু ধীরে ধীরে পালটে যায় তাদের বলার কিংবা অস্বীকারের ধরণ। তখন তাদের মধ্যে বেশ একটা পাণ্ডিত্য ভাব লক্ষ্য করা যায়, তারা নিজেদেরকে দাবি করছে “Revisionist” হিসেবে। তাদের লেখা যে কোন প্রবন্ধের পরেই বিভিন্ন কোট কিংবা ফুটনোট ব্যাবহার করে এটাকে গুরুত্বপূর্ণ করার চেষ্টা করে এবং তাদেরই বিভিন্ন জার্ণালে প্রকাশিত রিপোর্ট কে “তথ্যসূত্র” হিসেবে ব্যাবহার করে সহজেই ধাঁধায় ফেলে দেয় সাধারণ পাঠকদের। একসময় তারা নিজেদেরকে ‘Expert’ আখ্যায়িত করে।

সময়ের সাথে সাথে গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীদের সংখ্যা কিংবা আক্রান্তদের সংখ্যা যত বেশী কমতে থাকে, এমন এক্সপার্টদের সংখ্যাও তত বেশী বাড়তে থাকে। সাধারণত, এ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কোন ঘটনার সাথে কিছুটা সত্য আর মিথ্যের এক সমাবেশ ঘটিয়ে যুক্তির পসরা সাজানো হয়। ইতিহাসবিদ Deborah Lipstadt হলোকাস্ট ডিনাইয়াল নিয়ে ১৯৯৩ সালে Denying The Holocaust: The Growing Assault on Truth and Memory নামে একটা বিরাট আকারের বই লিখেন । সেখানে তিনি হলোকাস্ট ডিনাইয়ারদের টেকনিক সম্পর্কে বলেন,

The attempt to deny the Holocaust enlists a basic strategy of distortion. Truth is mixed with absolute lies, confusing readers who are unfamiliar with the tactics of the deniers. Half-truths and story segments, which conveniently avoid critical information, leave the listener with a distorted impression of what really happened.

Deborah এবং অন্যান্য ঐতিহাসিকদের মতে, এ সব অস্বীকারকারীরা নিজেদেরকে ‘ঐতিহাসিক শোধনবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন শুধুমাত্র তাদের অস্বীকারটাকে একাডেমিক একটা রূপ দেয়ার জন্যেই। তিনি বলেন, আসল Revisionist’ রা আসলে কোন প্রতিষ্টিত সত্য ঐতিহাসিক ঘটনাকে অস্বীকার করেন না, বরং ঐতহাসিক তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা মাধ্যমে আরো নতুন নতুন চিত্র হাজির করেন, সেই ইতিহাসটাকে আরো সমুন্নত করেন।

Legitimate historical revisionism entails the refinement of existing knowledge about a historical event, not a denial of the event, itself; that such refinement of history emerges from the examination of new, empirical evidence, and a re-examination, and consequent re-interpretation of the existing documentary evidence. That legitimate historical revisionism acknowledges the existence of a “certain body of irrefutable evidence” and the existence of a “convergence of evidence”, which suggest that an event — such as The Black Plague, American slavery, and the Holocaust — did occur; whereas the Denialism of history rejects the entire foundation of historical evidence, which is a form of historical negationism.

এবং, এই মুখোশ পরা দলটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।তাদেরকে বিপজ্জনক বলার কারণ মূলত দুটো।

প্রথমত, যেকোন কন্সপিরেসি থিওরির প্রতি আমাদের মধ্যে অনেকেরই একটা বিরাট ঝোক থাকে। এই ঝোকটাকে কাজে লাগানো হয় বিপুলভাবে, কেননা এরা তখন কথিত এক্সপার্টদের এমন কন্ট্রোভার্সিয়াল যুক্তিকে মেনে নিয়ে অস্বীকার করে প্রতিষ্টিত সত্যকে।

দ্বিতীয়ত, যাদের ইতিহাসের প্রতি খানিকটা আগ্রহ কম, এ নিয়ে খুব একটা বই পড়তে চাননা কিংবা পড়েন না তারা খুব সহজেই এই “কোট-নোট” ব্যবহৃত ভারি ভারি লেখার এক্সপার্টদের পাতা ফাঁদে পা দেন।

এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, একাত্তরে পাকিস্তানিরা যে ধরণের নির্যাতন করেছিল তার ভয়াবহতা কিংবা ব্যাপকতা আমাদের এই প্রজন্মের কাছে অনেকটা অকল্পনীয়, কখনো কখনো অবিশ্বাস্য মনে হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলে রাবেয়ার সাক্ষাৎকারটা যতবার পড়েছি কিংবা ড. এম এ হাসানের ‘যুদ্ধ ও নারী’ বইটা যতবার পড়েছি মানবজাতি তথা এই সভ্যতার ওপর বিশ্বাসটাই ততবার টলে উঠে। হুমায়ুন আহমেদ তার ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসের ভূমিকায় বলেছিলেন, তিনি যখন তার সে বইয়ের পান্ডুলিপি নতুন প্রজন্মের ছেলেদের কাছে পড়তে দিয়েছিলেন তারা সবাই অবাক হয়ে নাকি জিজ্ঞেস করেছিল, ইহা কি বাস্তব না কাল্পনিক! আমাদের এই Revisionist রা তাদের যুক্তিতর্কে এই বিষয়টা কাজে লাগায় চমৎকার ভাবে।

প্রসঙ্গক্রমে একটা ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। তখন আমি ক্লাস টেনে খুব সম্ভব; এক বন্ধু জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা দোস্ত, ইরাকে কয় বছর যাবত যুদ্ধ হইতাছে?”
“এইত চার বছর (খুব সম্ভব তখন চার বছর হইছিল)”
সে আবার জিজ্ঞেস করলো, “সে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কত মানুষ মারা গিয়েছে?”
“হুম, আনুমানিক দুই লক্ষের মত (সবাই আসলে তাই বলতো তখন)”
অতঃপর বন্ধুটি আসল অস্ত্র নিক্ষেপ করলো, “তাইলে তুই বল, যেখানে তিন চার বছরে মাত্র দুই লাখ মানুষ মারা গেছে, সেখানে কেম্নে মাত্র নয় মাসে ৩০ লাখ মারা যায়! কেম্নে?”


এই Denial করলেই বা কি হয়? আসলে গণহত্যাকে অস্বীকার করার নেতিবাচক প্রভাব যে কোন সমাজের Moral এবং Psychology’ র উপর সরাসরি আঘাতস্বরূপ। প্রথম প্রভাব পড়ে এর আক্রান্তদের উপরে, স্বজনহারাদের উপরে, প্রত্যক্ষদর্শীদের উপরে। এটা মনে রাখতে হবে যে, আক্রান্তদের “ক্ষতের প্রাথমিক প্রতিষেধক” হিসেবে প্রথম চাওয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের স্বীকৃতি। আর কিছু হোক অন্তত সবাই যেন স্বীকার করে নেয় যে, তাদের সাথে যা হয়েছে সেটা ছিল মারাত্নক অপরাধ। অন্যথায় তাদের ভেতরে জন্ম নেয় ক্ষোভ আর সেই জমে থাকা ক্ষোভে একসময় তারা হয়ে উঠে ভয়ংকর প্রতিশোধপ্রবন এবং প্রতিহিংসা পরায়ন।

হিটলারের পোল্যান্ড আক্রমণের সময় হিটলারের সামনে ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গের’ প্রসঙ্গ তুললে সে জবাব দেয়, “Who ever heard of the extermination of the Armenians!” হ্যাঁ!, পূর্ববর্তী গণহত্যার অস্বীকার সবসময়ই ভবিষ্যতে আরেকটি গণহত্যার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। গবেষকদের মতে, “Genocide deniers are three times more likely to commit genocide again than other governments.”

আমাদের দেশে কি ধরনের Denial হয়েছে কিংবা ইহা আমাদের কি ক্ষতি করেছে? অস্বীকারের ধরনের একটা নমুনা আমি প্রথমেই দিয়েছি। এর প্রভাবটা কোন পর্যায়ে আছে সেটা বুঝতে হলে কিছুই লাগবে না, শুধু নিজামী, সাকা, কাদের মোল্লা আর মুজাহিদদের ফাসির পর আমাদের মায়াকান্না দেখলেই বুঝা যায়। মাত্র ৪৫ বছরের মাথায় খেলার মাঠে আমরা পাকিস্তানের পতাকা মাঠে নিয়ে যাচ্ছি, “Marry me Afridi” ব্যানার টানিয়ে মাঠে যাচ্ছি।

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু Denial এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে Holocaust Denial, Armenian Genocide Denial, Rwanda Genocide Denial এবং সেই সাথে আমাদের উপর চালিত Genocide। পাকিস্তান সরকার এখনো অস্বীকার করে চলছে তাদের কুকর্মের ইতিহাস। এসকল গণহত্যাকে অস্বীকার করাকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করার জন্যেই প্রয়োজন Denial Law। যদিও এই আইন এখনো আমাদের দেশে চালু হয় নি, কিন্তু জার্মানী সহ ১৬টা দেশে এই আইন চালু আছে। উদাহরণস্বরূপ দু একটা নমুনাঃ

বেলজিয়ামঃ Whoever, in the circumstances given in article 444 of the Penal Code denies, grossly minimises, attempts to justify, or approves the genocide committed by the German National Socialist Regime during the Second World War shall be punished by a prison sentence of eight days to one year, and by a fine of twenty six francs to five thousand francs।

জার্মানীঃ Whosoever publicly or in a meeting disturbs the public peace in a manner that violates the dignity of the victims by approving of, glorifying, or justifying National Socialist rule of arbitrary force shall be liable to imprisonment not exceeding three years or a fine.

চেক রিপাবলিকঃ The person who publicly denies, puts in doubt, approves or tries to justify Nazi or communist genocide or other crimes of Nazis or communists will be punished by prison of 6 months to 3 years.

ফ্রান্সঃ publication or publicly expressed opinion encouraging those to whom it is addressed to pass a favorable moral judgment on one or more crime against humanity and tending to justify these crimes (including collaboration)or vindicate their perpetrators shall be punished by one to five years imprisonment or a fine.

হাঙ্গেরীঃ Those who publicly hurt the dignity of a victim of the holocaust by denying or questioning the Holocaust itself, or claim it insignificant, infringe the law and can be punished by prison sentence of up to three years.

অস্ট্রিয়ার সংবিধানে এই আইন পরিচিত National Socialism prohibition Law নামে। অস্ট্রেলিয়াতে সরাসরি হলোকাস্ট ডিনাইয়াল এর কোন আইন নেই কিন্তু Hatred Speech এর আওতায় মাত্র কয়িদন আগেই হলোকাস্টকে ডিনাই করার অভিযোগে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

রুয়ান্ডায় গনহত্যা চালানো হয়েছে ১৯৯৪ সালে। তাদের সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ আছে, “revisionism, negationism and trivialization of genocide are punishable by the law”।

এমন না যে, শুধু আইন করেই শেষ, বরং দেশগুলোতে এর প্রয়োগও করা হচ্ছে সতস্ফুর্তভাবে। আপনার বেশী কষ্ট করা লাগবে না, শুধু উইকিপিডিয়াতে Genocide Denial লিখে একটা সার্চ দেন, সবগুলো দেশের এই সংক্রান্ত আইন পেয়ে যাবেন। এবং সাথে সাথে শাস্তিপ্রাপ্ত সকলের পরিচয় ও পেয়ে যাবেন। তারা যদি তাদের নিহতদের সম্মান জানাতে এমন আইন করতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না? যেখানে আমাদের মাঝে এখনো বেঁচে আছেন সে সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী থেক শুরু করে সে নির্মমতার শিকার অনেক মানুষ, অনেক পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা, অনেক বীরাঙ্গনা!


এখন একটা বিষয় সামনে চলে আসে, তবে কি আইন নতুন নতুন গবেষণার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে? কিংবা এই আইন কি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে?

নতুন নতুন গবেষণার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে কি না তা নিয়ে আগেই আলোচনা করেছি। অস্বীকারকারীদের সাথে যে আসল ইতিহাসবিদদের তফাৎ অনেক কিংবা “Revisionism” এই শব্দটাকে তারা কিভাবে কাজে লাগাতে চায় সেটা পরিষ্কার করে উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি। তার চেয়ে বড় কথা হল, যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং যার নির্মমতার দাগ বহন করা লোক এখনো জীবিত এমন প্রতিষ্টিত সত্যকে অস্বীকার করা কিংবা মিথ্যা প্রমানের চেষ্টা করা – আর যাই হোক সেটার নাম গবেষণা হতে পারে না।

এটাও খেয়াল রাখা প্রয়োজন, যেখানেই বাকস্বাধীনতার কথা লেখা আছে সেখানেই আবার কিছু সীমানা দেয়া আছে। যেমন, International Convent on Civil or Political Rights এর ১৯ নং অনুচ্ছেদে বাকস্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করা আছে; ঠিক সেখানেই আবার স্পষ্ট উল্লেখ আছে, “It may therefore be subject to certain restrictions, but these shall only be such as are provided by law and are necessary:
(a) For respect of the rights or reputations of others;
(b) For the protection of national security or of public order (order public), or of public health or morals.

আমাদের সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদে এমন কথাই বলা আছে।

বাকস্বাধীনতা মানে তো আর এই না যে, আমি এখন রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে শহিদদেরকে গালাগালি শুরু করব, বীরাঙ্গণাদেরকে কটুক্তি করব, মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাকে অপমানিত করব।

রুয়ান্ডার ডিনাইয়াল ল’ এবং এর ব্যাবহার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনেক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সে আইন কিছুটা অস্পষ্ট। Human Rights Watch এর রিপোর্ট অনুযায়ী, “[n]either the constitution nor the 2003 law provided specific definitions of the terms ‘revisionism’, ‘denial’, or ‘gorss minimization’”। এমনকি ব্যাক্তিগত ফায়দা হাসিল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেও এই আইনকে ব্যাবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। বিশেষ করে রুয়ান্ডার আইনের এই দিকটা আমাদের জন্যে খেয়াল রাখা উচিত।

এই আইন আমাদের দেশে কিভাবে হবে, কি থাকবে সে আইনে সেটা আইন বিশেষজ্ঞ লোকেরাই বের করবেন। এটা মনে রাখা প্রয়োজন এই আইন যেন কখনোই দলীয় স্বার্থে ব্যাবহার করা না হয়। এ নিয়ে কিছুদিন আগে আরিফ রহমান ‘Genocide Denial Law কেন চাই এবং কিভাবে চাই’ শীর্ষক প্রবন্ধে কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন, আমি সরাসরি তুলে দিচ্ছিঃ

“আমাদের খুবই ভালো করে লক্ষ্য রাখতে হবে এই আইনটার ব্যাখ্যা যেন একেবারেই সুনির্দিষ্ট হয়। কোনো ভাবেই যেন আইনটা বিস্তৃত ব্যাখ্যার আইনের দিকে না যায়। হতে পারে একেবারেই নির্দিষ্ট কিছু শব্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা যেমন—
১) ৩০ লক্ষ শহিদ অস্বীকার করা
২) সর্বনিম্ন ২ লক্ষ বীরাঙ্গনাদের অস্বীকার করা
৩) ১৯৭১ সালে সংগঠিত গণহত্যাকে অস্বীকার করা
৪) ‘মুক্তিযুদ্ধ কোনো যুদ্ধ নয়’ বলা
৫) ‘জামায়াত কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ করেনি’ বলা
৬) ‘রাজাকার/আল-বদর/আল-শামস নামক দল আন্তর্জাতিক অপরাধ করেনি’ বলা
৭) স্বাধীনতা নিয়ে রসিকতা করা
৮) ‘মুক্তিযুদ্ধ’কে সিভিল ওয়ার কিংবা গৃহযুদ্ধ বলা
৯) বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা
এরকম আরও কিছু সুনির্দিষ্ট বাক্য”।

Laws are tangible, not abstract। আইনের মাধ্যমেই ব্যাক্তি থেকে শুরু করে গোষ্টি পর্যন্ত সকলের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া হয়। অবশ্য এটা ঠিক, আইন কখনো কখনো সিম্বোলিক। যেমন, আমেরিকায় জাতীয় পতাকা পুড়ানো অবৈধ, এর কারণ এই না যে অপচয়ের হাত থেকে সুতা – কাপড় বাচানো বরং পতাকার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও নাগরিকদের যে অখন্ডতা ও যে আবেগ প্রকাশিত হয় তা রক্ষা করা। ঠিকই একই ভাবে, ডিনাইয়াল ল’ হচ্ছে একধরণের নীতিবোধ এবং এ ধরণের অস্বীকারের প্রতি নৈতিক ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। এমন না যে, এই আইন আজ থেকেই এ ধরনের কথা বার্তা বলা বন্ধ করে দিবে কিংবা আক্রান্তদের ক্ষোভ প্রশমিত করে দিবে, অন্তত এটা প্রকাশ করবে যে, এ ধরনের অস্বীকার যেমন ইতিহাসের দিক থেকে ভুল, তেমনি নীতিগত দিক থেকেও গর্হিত কাজ। এটাও ঠিক, শুধু মাত্র আইন করে এই ডিনাইয়াল বন্ধ করা যাবে না, এর জন্যে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা এবং সঠিক ইতিহাস চর্চা।

Genocide does not end until denial ends

[বিঃদ্রঃ লেখায় কোন তথ্যগত ভুল থাকলে জানাতে পারেন, কৃতজ্ঞ থাকব]

তত্যসূত্রঃ
১) DENYING THE HOLOCAUST:The Growing Assault on Truth and Memory – Deborah E. LIPSTADT
২) 8 Stage of Genocide – Dr. Gregory Stanton
৩) The cost of Denial – Dr. Gregory Stanton
৪) Denying Genocide or Denying Free Speech? A case study of the Application of Rwanda’s Genocide Denial Laws – Northwestern Journal of International Human Rights.
৫) Genocide Denial and Freedom of Speech – Pablo Salvador Coderch, Antoni Rubí Puig
৬) An Argument for Outlawing Genocide Denial – Student Pulse
৭) The Laws Banning Holocaust Denial – revised from GPN Issue 3- Jacqueline Lechtholtz-Zey

২ thoughts on “Genocide Denial এবং একটি আইন

  1. The genocide denial act
    The genocide denial act should be created. We support it. But, we have to be careful that inclusion of all parties/people from various background should be ensured in the law making process so that this law wouldn’t be the weapon of one party/people of one specific background.
    This law is very much essential; but we have to be careful against the possibilities of it’s misuse.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *