গরিব শিশুদের নিজের হাতে জুতা পরান জেলা প্রশাসক

প্রতিদিনই নিজের
কার্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে দৃশ্যটা দেখতে
পেতেন ভারতের রাজস্থানের জালোরের
জেলাপ্রশাসক জিতেন্দ্রর কুমার সোনি। পিঠে চট
অথবা পলেথিনের ব্যাগে বই নিয়ে খালি পায়ে
স্কুলে যাচ্ছে একদল শিশু। গরম-শীত,
কোনো পরিবর্তন নেই এই ছবিতে। খোঁজ
নিয়ে জানতে পারেন, শিশুগুলো তাঁর জেলার
দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সন্তান। শহরের কিছু
স্কুলে পড়ার সুযোগ মেলে বলে প্রতিদিন ১৪
কিলোমিটার পথ পেরিয়ে স্কুলে আসে ওরা।
দেখতে দেখতেই ঠিক করেছিলেন কিছু একটা
করতে হবে এসব স্কুলপড়ুয়াদের জন্য। যেমন
ভাবা, তেমন কাজ। শুরু করলেন এক উদ্ভাবনী
প্রকল্প। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে
বিনামূল্যে দুঃস্থ বাচ্চাদের জুতা দেওয়া শুরু

প্রতিদিনই নিজের
কার্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে দৃশ্যটা দেখতে
পেতেন ভারতের রাজস্থানের জালোরের
জেলাপ্রশাসক জিতেন্দ্রর কুমার সোনি। পিঠে চট
অথবা পলেথিনের ব্যাগে বই নিয়ে খালি পায়ে
স্কুলে যাচ্ছে একদল শিশু। গরম-শীত,
কোনো পরিবর্তন নেই এই ছবিতে। খোঁজ
নিয়ে জানতে পারেন, শিশুগুলো তাঁর জেলার
দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সন্তান। শহরের কিছু
স্কুলে পড়ার সুযোগ মেলে বলে প্রতিদিন ১৪
কিলোমিটার পথ পেরিয়ে স্কুলে আসে ওরা।
দেখতে দেখতেই ঠিক করেছিলেন কিছু একটা
করতে হবে এসব স্কুলপড়ুয়াদের জন্য। যেমন
ভাবা, তেমন কাজ। শুরু করলেন এক উদ্ভাবনী
প্রকল্প। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে
বিনামূল্যে দুঃস্থ বাচ্চাদের জুতা দেওয়া শুরু
করেছেন তিনি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, জালোরের
জেলা প্রসাশকের উদ্ভাবিত এই প্রকল্পের নাম
‘চরণ পাদুকা যোজনা’। গত বছরের জানুয়ারিতে এই
কার্যক্রম শুরু হলেও আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে
এই প্রকল্পের আওতায় ২৫ হাজার স্কুলপড়ুয়াকে
জুতা পরানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাতে জানা গেছে, তরুণ
সরকারি কর্মকর্তা জিতেন্দ্রর সোনি নিম্ন
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। রাজস্থানের
হনুমানগড় জেলার ধানাসর গ্রামে তাঁর বাড়ি। বাবা
ছিলেন সামান্য ঘড়ির ব্যবসায়ী। কঠোর পরিশ্রম
করে তাঁর বাবা তাঁদের দুই ভাইকে পড়াশোনা
শিখিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জেলা প্রশাসক
জিতেন্দ্র বলেন, ‘আমিও সরকারি স্কুলে পড়তাম।
সাধারণ দর্জির দোকানে সেলাই করা জামা পরতাম
ছোটোবেলায়। আমি কখনো কোনো বড়
শহরে যাইনি। গত বছরের জানুয়ারির শুরুতে একদিন
চোখে পড়ে তিনটা ছোট ছোট বাচ্চা প্রচণ্ড
ঠান্ডার মধ্যে খালি পায়ে স্কুলে যাচ্ছে।
চোখে জল চলে এসেছিল। সেই স্কুলের
শিক্ষকরা আমায় জানান যে এরা এতই গরিব যে
এদের বই বা জুতা কেনার মতো টাকাপয়সা নেই।’
জিতেন্দ্র জানিয়েছেন, এর পরই জেলার সব
স্কুলে কতজন শিশু খালি পায়ে স্কুলে আসে
সেই প্রতিবেদন জোগাড় করেন তিনি।
সেখানেই দেখা যায় দুই হাজার ৫০০ স্কুলের
প্রতিটিতে ১০ জন করে বাচ্চা খালি পায়ে স্কুলে
আসে। এর পরই শুরু করেন এই প্রকল্প। তাঁর এই
উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে রোজই আর্থিক
সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসছে কেউ না কেউ।

১ thought on “গরিব শিশুদের নিজের হাতে জুতা পরান জেলা প্রশাসক

  1. আমাদের দেশের জেলাপ্রশাসকদের
    আমাদের দেশের জেলাপ্রশাসকদের জালোরের জেলাপ্রশাসকের পদাঙ্ক অনুসরণ করা উচিত।
    সুন্দর লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *