ইয়াবা সম্রাট বদি যে কারণে নির্দোষ

এদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাপকভাবে নেশা-দ্রব্যের প্রচলন করা হয় বলে কোন গডফাদার ধরা পড়েনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নানা সময়ে মাদক-বিরোধী অভিযান চালালেও সেগুলো সাধারণত নিজেদের নিম্নমুখী ইমেজ বাড়াতে ব্যবহার করা হয় এবং ছোট ও মধ্যম সারির মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১,২০০ মাদক সম্রাট আছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৮৭জন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা।


এদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাপকভাবে নেশা-দ্রব্যের প্রচলন করা হয় বলে কোন গডফাদার ধরা পড়েনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নানা সময়ে মাদক-বিরোধী অভিযান চালালেও সেগুলো সাধারণত নিজেদের নিম্নমুখী ইমেজ বাড়াতে ব্যবহার করা হয় এবং ছোট ও মধ্যম সারির মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তৈরি সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১,২০০ মাদক সম্রাট আছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ৮৭জন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা।

যেকোনো প্রকার নেশা-দ্রব্য ব্যবহারকারী ও পর্যবেক্ষণকারীরা স্পষ্টতই জানেন যে, এসব ব্যবসার সাথে প্রশাসন ও সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের সরাসরি যোগাযোগ থাকে। অনেক সাংবাদিক এসবের নাড়ি-নক্ষত্র জানলেও নিয়মিত মাসহারা নেওয়ার কারণে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ভয়ে সেসব লিখতে পারেন না।

আর লিখলেই বা কি! এইতো সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন কক্সবাজারের কুখ্যাত সংসদ সদস্য, ইয়াবা সম্রাট বদি নাকি নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে আনা ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ নাকি মিথ্যা! মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিনি এভাবে “নির্দোষ সার্টিফিকেট” দেওয়ায় এ নিয়ে লেখালেখি একদম বন্ধ হবার জোগাড়। কোন সৎ পুলিশ অফিসার বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তা প্রমাণ করবে সেটাও অদূর ভবিষ্যতে অসম্ভব একটা ব্যাপার।

অথচ গত দুই বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে বদি, তার চার ভাইসহ পরিবারের কমপক্ষে ২৬ জনের ইয়াবা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছিল।
তাছাড়া কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বদির বিরুদ্ধে বিজিবি ও পুলিশের সহায়তায় সমুদ্রপথে মানব পাচার এবং অবৈধ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করানোর অভিযোগও আছে।
গত বছর প্রধানমন্ত্রী যখন অবৈধভাবে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া যাওয়ার কারণে বাংলাদেশীদের “মানসিকভাবে অসুস্থ” বলেছিলেন তার কয়েকদিন আগেই জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) একটি প্রতিবেদনে মানব পাচারের অভিযোগে এমপি বদি ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে।

১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য হতে না পেরে কোটিপতি বদি আওয়ামীলীগে যোগ দেয় এবং ২০০৮-এর নির্বাচনে জয়লাভ করে। গোয়েন্দা ও কক্সবাজারের স্থানীয়রা কেউ কেউ হয়তো বলতে পারবেন এমপি বদির সাথে আর কোন কোন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। বদি যেভাবে পিছলে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে জনাকয়েক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যও এইসব অবৈধ ব্যবসায় তার সাথে হাত মিলিয়েছে।

বদির কারণে দলের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া কোন্দল, দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুধু নগদ টাকার লোভে তাকে আশ্রয় দিচ্ছে আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারকেরা। এটা চরম লজ্জার!

১ thought on “ইয়াবা সম্রাট বদি যে কারণে নির্দোষ

  1. প্রতিটি রাজনৈতিক দল বড় অংকের
    প্রতিটি রাজনৈতিক দল বড় অংকের ডোনেশন পায় বলেই এসব মাদক গড ফাদারকে নমিনেশন দেয়। এগুলো ওপেন সিক্রেট এখন। বদির টাকা উপর পর্যন্ত যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *