পিনাকীবাদ

আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার আগে গত ২৬ মার্চ ওয়াশিকুর বাবু লিখেছিলেন: “আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। মোল্লা স্বাধীন, জঙ্গি স্বাধীন, ছাগু স্বাধীন, মুমিন স্বাধীন, দুর্নীতিবাজ স্বাধীন, রাজনৈতিক নেতা স্বাধীন, পাতি নেতা স্বাধীন, ধর্ষক স্বাধীন, সামরিক বাহিনী স্বাধীন, সুশীল সমাজ স্বাধীন, পিনাকী স্বাধীন, শফি হুজুর স্বাধীন, দলদাস স্বাধীন, গার্মেন্টস মালিক স্বাধীন, লঞ্চ মালিক স্বাধীন…

স্বাধীন নয় কৃষক-শ্রমিক,
স্বাধীন নয় কথিত সংখ্যালঘু-আদিবাসী,
স্বাধীন নয় মুক্তচিন্তার মানুষ,
স্বাধীন নয় মানুষ হতে চাওয়া মানুষগুলো…”


আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার আগে গত ২৬ মার্চ ওয়াশিকুর বাবু লিখেছিলেন: “আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। মোল্লা স্বাধীন, জঙ্গি স্বাধীন, ছাগু স্বাধীন, মুমিন স্বাধীন, দুর্নীতিবাজ স্বাধীন, রাজনৈতিক নেতা স্বাধীন, পাতি নেতা স্বাধীন, ধর্ষক স্বাধীন, সামরিক বাহিনী স্বাধীন, সুশীল সমাজ স্বাধীন, পিনাকী স্বাধীন, শফি হুজুর স্বাধীন, দলদাস স্বাধীন, গার্মেন্টস মালিক স্বাধীন, লঞ্চ মালিক স্বাধীন…

স্বাধীন নয় কৃষক-শ্রমিক,
স্বাধীন নয় কথিত সংখ্যালঘু-আদিবাসী,
স্বাধীন নয় মুক্তচিন্তার মানুষ,
স্বাধীন নয় মানুষ হতে চাওয়া মানুষগুলো…”

মৃত্যুর আগে “পিনাকী” নামে যে ব্যক্তিটির কথা ওয়াশিকুর উল্লেখ করে গিয়েছেন আজ তার কিছু কথা এখানে তুলে ধরব। তিনি ডাঃ পিনাকী ভট্টাচার্য্য (Pinaki Bhattacharya)। হত্যাকান্ডের পর দেশী বিদেশী অনেক মিডিয়ায় ওয়াশিকুরের লেখাটি উদ্ধৃত করা হয়েছে। কিন্তু পিনাকী ব্যক্তিটিকে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

ওয়াসিকুর বাবু তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন, তিনি যা লিখেছিলেন তা সত্য। কথাগুলো লেখার মাত্র এক মাস ব্যবধানে ইসরামী জঙ্গীরা তার ঘারে ও মুখে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। অামরা যারা পিনাকীর সমালোচনা করছি তারা কেউ চিন্তার ক্ষেত্রে স্বাধীন নই। আমাদের ঘারের পেছনে পিনাকী বাহিনীর খর্গ ঝুলছে। কখন কার মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে বলতে পারি না। এই বাস্তবতায় স্বাধীন লেখক পিনাকীর প্রসঙ্গে লিখছি।

ডা: পিনাকী ইসলামী মৌলবাদের পক্ষে, মাদ্রাসা শিক্ষা বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসার পক্ষে, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী দলগুলোর সাথে বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য গড়ার পক্ষে। অনেক দিন থেকেই তিনি উগ্র সাম্প্রদায়িক চক্রকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নিজের প্রচার বাড়ানো তার একটা কৌশল। ফেসবুকে তার ফ্রেন্ড ও ফলোয়ারদের ৯০ শতাংশ বিএনপি-জামাত-হেফাজত সমর্থক ও উগ্র মৌলবাদী। তার লেখায় যারা লাইক দেয় এবং মন্তব্য করে তাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন চায়না বাম এবং বাকি সব উগ্র ইসলামপন্থী। তিনি যা লিখছেন তিনি নিজেই তা বিশ্বাস করেন না। তিনি কথনই লিখেননি যে তিনি ইসলামে বিশ্বাস করেন। অথচ তিনি প্যান ইসলামিজমকে প্রমোট করেন। নিজে ধর্ম বিশ্বাস করেন না, অথচ ধর্মীয় মৌলবাদকে সমর্থন দিয়ে নিয়মিত লেখা পোষ্ট করেন; ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা করেন। এতে তার লাভ কি? নিজের বিশ্বাসের প্রতিকুল ধারণাকে মানুষ কখন প্রমোট করে? বিশেষ কোনও ফায়দা না থাকলে কেউ এরকম কাজ করতে পারেনা। দু’ধরণের মানুষ নিজের বিশ্বাসের বিপরিত কথা প্রচার করে। ১. অতিশয় দুষ্ট প্রকৃতির ধুরন্ধর মানুষ এবং ২. বিশেষ কোনও মহলের নিয়োজিত এজেন্ট। তিনি আসলে কার এজেন্ট? তার লেখাগুলো পড়লে বোঝা যায় তিনি যথেষ্ট পড়াশুনা করেন এবং বিতর্ক সৃষ্টির জন্য উদ্ভট সব তত্ত্ব হাজির করেন।

দুর্জন বিদ্বান হইলেও পরিত্যাজ্য। সর্পের মস্তকে মণি থাকিলেও তাহা কি ভয়ংকর নহে

১৮ সেপ্টেম্বর ডা: পিনাকী ফেসবুকে লিখেছেন: “স্যেকুলারিজম সমাজের সংকট মোচনের চাইতে আরো গভীর সামাজিক সংকট সৃষ্টি করেছে। সাব অল্ট্রান স্কুলের মতে ভারতবর্ষে স্যেকুলারিজম ফেইল করেছে। ভারতবর্ষে স্যেকুলারিজম মানে হয়ে উঠেছে সংখ্যালঘু তোষণ।”
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে জামায়তি দৃষ্টিতেই তিনি বিচার করেন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা করেন। গোলাম আজম যেভাবে বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, একইভাবে পিনাকীও মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী পুরো লড়াইটাকে কেবল গণতন্ত্রের লড়াই হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নানা বক্তব্যে এটা প্রতিষ্ঠিত করতে চান যে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ কিংবা জঙ্গীবাদ কোনও সমস্যা নয়। জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদী উত্থান শংকা নিয়ে আরিফ জেবতিকের একটি লেখার সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন:

এই লেখাটাও একটা ভয়ংকর ভবিষ্যৎ চিত্র পাঠকের সামনে তুলে ধরে। পাঠক বিহ্বল হয়ে ভাবতে থাকে সর্বনাশ এই পরিনতি লেখা আছে আমাদের কপালে??!! …… মৌলবাদ নিয়ে ভয় আর আতংক তৈরির এই প্রজেক্টি খুব কার্যকর একটি অস্ত্র।

পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি হিসেবে চিরকাল এর বিরোধিতা করে এসেছে উগ্র সাম্প্রদায়িক মহল। কিন্তু অসাম্প্রদায়িক বাঙালি কখনই মৌলবাদীদের এ প্রচারণা গ্রহণ করেনি। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদীদের সেই প্রচারণাকে প্রণোদনা দেয়ার জন্য এক অদ্ভুৎ ‘স্যেকুলারিজমে ত্বত্ত হাজির করলেন পিনাকী ভট্টাচার্য্য। তিনি লিখলেন:

পহেলা বৈশাখকে স্যেকুলার রাখতে হবে। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যে কোন ধরণের ধর্মীয় প্রতীক উপস্থাপন সচেতনভাবে বাদ দিতে হবে। ধর্মকে অ্যাপ্রিশিয়েট করাতে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু যেই উৎসবে সব ধর্মের মানুষ অংশ নেয় সেই উৎসবে কোন বিশেষ ধর্মের প্রতীক কোন আরেকটি ধর্মের অনুসারীদের মনে যদি দ্বিধার জন্ম দেয় তবে সেটা আর স্যেকুলার থাকেনা। মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজকরা এটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন তত মঙ্গল।

শিয়া মসজিদে হামলার ঘটনায় নভেম্বরের ২৭ তারিখ তিনি একাধিক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে এই হত্যাকান্ডের দায় থেকে ইসলামী জঙ্গীদের মুক্ত করার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি লিখেছেন,

শিয়াদের উপর হামলা হয়েছে, ব্লগারদের উপর হামলা হচ্ছে, নাস্তিকদের উপর হামলা হচ্ছে, হিন্দুদের মন্দির ভাঙছে। এভাবে বললে ক্রিমিন্যাল অফেন্সকে সাম্প্রদায়িক আর রাজনৈতিক রূপ দেয়া হয়। বলা উচিৎ মানুষের উপর হামলা হয়েছে, মানুষের উপাসনালয়ে হামলা হয়েছে, মানুষের ধর্মীয় উৎসবে হামলা হয়েছে। সারা পৃথিবীতে ভিক্টিমের কোন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের পরিচয় নেই। একটাই পরিচয়ে সে নিহত হয় সেই পরিচয় মানুষের। …..অপরাধের সাম্প্রদায়িক পরিচিতিকরনকে রুখে দাঁড়ান।

মানুষ ভাল করেই জানে এই হামলা কোনও ডাকাত, ছিনতাইকারী কিংবা সাধারণ সন্ত্রাসীর হাতে হয়নি। যারা এসব করেছে তারা একটি মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং তারা তাদের দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এগুলো করেছে। যারা মরেছে, তারা এবং তাদের প্রিয়জনরা ভাল করেই তাদের শত্রুপক্ষকে চেনে। সেই শত্রুপক্ষকে রক্ষা করতেই মরিয়া ডা: পিনাকী।

২২ সেপ্টেম্বর তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা চুরি করে ধরা পড়েছে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র দাশ। ধরা পরার পরে টাকা ফেরত নিয়ে চোরকে ছেড়ে দেয়া হয়। সমকাল পত্রিকা জানাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহার মধ্যস্থতায় দীপক চন্দ্র দাশকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুভঙ্কর সাহা কোন দায় থেকে দীপক চন্দ্র দাশকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন? নিজ ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ বলে, নাকি ভারতীয় ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা বলে? এর উত্তর পাওয়া মুস্কিল, যদি চোরটি একজন ভারতীয় ব্যাঙ্কের মুসলিম কর্মকর্তা হতো তাহলে শুভঙ্কর সাহা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতেন কিনা সেটায় আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে।

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন পদস্থ কর্মকর্তার কাযের ন্যায্যতা কিংবা অন্যায্যতাকে তিনি বিচার করলেন তার সাম্প্রদায়গত পরিচয় দিয়ে। যদি ঘটনাটি ঘটে থাকে, তবে এই কাজে রাষ্ট্রের কোনও দায় ছিল কিনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের কোনও ভূমিকা ছিল কিনা, বাংলাদেশ সরকার কিংবা ভারত সরকারের কোন স্তর থেকে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ হয়েছিল কিনা… ইত্যাদির কোনও কিছুতে না গিয়ে তিনি সাম্প্রদায়িক ধারণাকে উস্কে দেন। ডা: পিনাকী বিষয়গুলো বুঝে শুনেই এই কাজটি করেছেন। দেখা গেল তার ঐ লেখাটিতে ঐদিন তিন হাজার লাইক পড়েছে এবং পাঁচশ’র অধিক শেয়ার হয়েছে। যারা পছন্দ করেছেন, এবং উচ্ছসিত হয়ে লেখাটির উপর মন্তব্য করেছেন তাদের প্রোফাইলে চোখ বুলালেই পিনাকী ভট্টাচার্যের সমর্থকগোষ্ঠীর চিন্তা-চেতনার পরিচয় মেলে।

দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে চাপের মুখে ফেলার জন্য ডা: পিনাকী মাঝে মধ্যেই ফেসবুকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক লেখা পোষ্ট করেন। অন্যদের সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক লেখাগুলোতে লাইক প্রদান করেন। তিনি হিন্দুধর্ম এবং হিন্দু ধর্মালম্বীদের কটাক্ষ্য করে লেখেন। হিন্দু ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ্য ও সমালোচনা যুগে যুগে হয়ে আসছে এবং অসংখ্য বই আছে। শ্রীকৃষ্ণকে লম্পট হিসেবে চিহ্নিত করে সমালোচনা, নিবন্ধ, কবিতা এবং গান সম্ভবত: সবচেয়ে বেশী। আমি মনে করি এগুলো নিয়ে প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত প্রকাশ করার অধিকার আছে। তবে বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু এবং সংকটগ্রস্ত। তাদের টার্গেট করার পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দুদের মধ্য থেকে কাউকে যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডার কাজে ব্যবহার করা যায়, তাহলে মৌলবাদীদের কাজটি সহজ হয়।

ডা: পিনাকী প্রগতিশীল ও মুক্তচিন্তার লেখকদের ঘোর সমালোচক। অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদ ও অধ্যাপক জাফর ইকবালকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করেন। জাফর ইকবালের ২০১৪ সালের মার্চ মাসে লিখিত “স্বাধীনতার ৪৪ বছর” শীর্ষক একটি কলামের প্রতিক্রিয়ায় ৩১ অগাস্ট ডা: পিনাকী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিমূল নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। পিনাকী লিখেছেন:

গোল্ডেন কোশ্চেন হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তিটা কী? … অসাম্প্রদায়িকতা মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি ছিল নাকি? কোথায় ছিল? নিশ্চয় কোন দফা, দাবী বা ঘোষণায় ছিল? সেটা কোথায়?আজকে মুক্তিযুদ্ধের চুয়াল্লিশ বছর পরে মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি একজন জাফর ইকবাল নতুন করে নির্মাণ করলে আমি সেটা মানতে বাধ্য কেন?

এর একটি চমৎকার জবাব দিয়েছেন ব্লগার নিঝুম মজুমদার। অনেকেই বিভিন্ন সময় তার লেখার জবাব দিয়েছেন। ডা: পিনাকীর প্রতিটি বক্তব্যের জবাব দেয়া, বা যুক্তি দিয়ে খন্ডন করা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য হল পিনাকী ও তার মতাদর্শের স্বরুপ উন্মোচন।

ভারত বিরোধীতা তার লেখার অন্যতম প্রতিপাদ্য। ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের বিরোধিতা করেন। তিনি পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে। গণহত্যার জন্য পাকিস্তানিদের দায়কে লঘু করার জন্য হাজার বছর পূর্বে সেন বংশের শাসকদের আমলে সংঘটিত গণহত্যার কাহিনী তুলে ধরেন এবং পাকিস্তানীদের সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।

“পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও” হুমায়ুন আজাদের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে জুলাইয়ের ২৫ তারিখ পিনাকী লিখেছেন: “এই ভয়াবহ রেইসিস্ট প্রবচন এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে চলেছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে”।

ফরহাদ মযহার যে পথে গেছেন ঠিক সেই পথই অনুবর্তন করছেন পিনাকী। ইদানিং তিনি বিএনপি সমর্থক ডাক্তারদের ফোরাম ড্যাবের সাথে ঘনিষ্টতা তৈরির চেষ্টা করছেন। গত ২৯ আগষ্ট ড্যাবের জাহিদ সাহেব এবং ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে এক সেমিনারে আমন্ত্রণ করে নিয়ে যান এবং সেখানে তিনি নিজেই মূল প্রবন্ধ পাঠ করেছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য জেনারেল জ্যাকবের মৃত্যুর পর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ যখন তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে তখন পিনাকী লিখলেন, “নাগরিক পরিচয়ে একজন ভারতীয়, ধর্ম পরিচয়ে একজন ইহুদী এবং পেশায় সামরিক অফিসার জেনারেল জ্যাকবকে বাংলাদেশীরা খুব পছন্দ করে বীরের সন্মান দেয়।” জ্যাকবের ইহুদী পরিচয় বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়ালো হিন্দু পিনাকীর কাছে! কাল মার্কস ও আইনেস্টাইনের মত অসংখ্য মহাপুরুষ আছেন, যারা বংশ পরিচয়ে ইহুদী ছিলেন একথা আমাদের মনেই আসেনা। পিনাকীদের মনে আসে; কারণ এটাই তাদের পুজি, এটাই তাদের ব্যাবসা এবং এ নিয়েই তাদের রাজনীতি।

সর্বশেষ জানুয়ারীর ১৪ তারিখ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের আক্রমণকে জায়েজ করার যুক্তিতে তিনি লিখেছেন,

ওস্তাদ আলাউদ্দিনের স্মৃতিচিহ্ন বিজড়িত সঙ্গীত ভবন আক্রান্ত হওয়াকে যদি বর্বরতা বলেন তাহলে স্বীকার করুন, নকশাল আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্য ভেঙে আপনার কমরেডরাও বর্বরতা করেছে।

রবীন্দ্রনাথ ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার বিষয়টি আদৌ ঘটেছে কিনা আমি জানিনা। যদি ঘটে থাকে নি:সন্দেহে সেটা নকশালীদের বর্বরতাপূর্ণ কাজ। সেই কাজকে কে গ্রহণ করেছে? আমার অন্তত: জানা নেই। ঐ নকশালীরা আমাদের কমরেড না কি পিনাকীদের কমরেড? আসল সত্য কোনটা? পিনাকী’র কর্মকৌশলের বড় দিক হচ্ছে, তিনি নিজেকে বামপন্থী পরিচয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেন এবং কার্ল মার্কসের মত মহান তাত্ত্বিকের লেখা থেকে প্রতি নিয়ত উদ্ধৃতি দেন।

সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিনের স্মৃতিচিহ্ণ এবং তার ব্যবহৃত সারোদটির ঐতিহাসিক,সাংস্কৃতিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য কে না বোঝে? একজন শিক্ষিত সংস্কৃতিবান মানুষের কাছে এর গুরুত্ব অনেক। শিল্পী তার জীবন দিয়েও তার সৃষ্টিকে রক্ষা করতে চায়। সঙ্গত কারণেই ওস্তাদ আলাউদ্দিনের স্মৃতিচিহ্ন বিজড়িত সঙ্গীত ভবনে আক্রমণ চালিয়ে তার সরোদটি ভেঙ্গে ফেলায় দেশের সেক্যুলার ও সংস্কৃতিবান মানুষ আহত হয়েছে। এই আহত হওয়াকে কটাক্ষ করে পিনাকী লিখেছেন, “আহা, নিষ্প্রাণ বাদ্যযন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের স্যেকুলারদের যত দরদ”!

বাদ্যযন্ত্রটি নি:সন্দেহে নিস্প্রাণ ছিল। কিন্তু সেটা সংস্কৃতির জন্য প্রাণ দায়ক। বামিয়ানের বুদ্ধ মুর্তীগুলো নিস্প্রাণ ছিল। কিন্তু প্রাণহীন সেই মুর্তীগুলোই ছিল হাজার বছরের ইতিহাসের জীবন্ত স্মারক। বাঙালীর মুক্তি সংগ্রামের এবং পাকিস্তানিদের গণহত্যার সপ্রাণ, সজীব, বীরত্বপূর্ণ ও হাহাকারময় স্বাক্ষ্য দিচ্ছে প্রাণহীন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি। প্রাণহীন ও গুরুত্বহীন হিসেবে আখ্যা দিয়ে অন্যদের পুজামুর্তীগুলো ধ্বংস করার পক্ষে কেউ বিধান দিতেই পারেন। কিন্তু অন্যদের কাছে সেগুলি যে পুজামুতী !

প্রাণহীন বলেই তাজমহল ধ্বংস করে দেয়া যায় না। মানুষ “রূপহীন মরণেরে মৃত্যুহীন অপরূপ সাজে” সাজায়। এটাই সভ্যতা। মরণকেও “মৃত্যুহীন অপরুপ সাজে” সাজাতে পারে বলেই মানুষ সভ্য। এই সাজানোর কাজটিই শিল্পকলা। নিস্প্রাণ বলেই সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেয়া যায় না। “কালস্রোতে ভেসে যায় জীবন যৌবন ধনমান।” তবুও মানুষ তার অন্তরবেদনা চিরন্তন করে রাখতে চায়। স্মৃতির তাজমহল কালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল হয়ে থাকে। আমার মনে হয় “নিস্প্রাণ” তাজমহল রক্ষায় ভারত তার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করতে কুন্ঠিত হবেনা। ভারতের উপর কখনও কোনও আক্রমণ হলে আগে এই প্রত্নসম্পদ রক্ষার জন্য তারা সেনা মোতায়েন করবে। হাজারও ভারতীয় জোয়ান প্রাণ দিতে প্রস্তুত আছে “নিস্প্রাণ” তাজমহল রক্ষা করার জন্য। ওস্তাদ আলাউদ্দিনের রেখে যাওয়া “নিস্প্রাণ” সারদ ও স্মৃতিস্থানসমূহ ধ্বংসের ক্ষেত্রে বাঙালির আবেগপূর্ণ অবস্থান থাকবে না?

সেদিনের ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্রদের নিরাপরাধ প্রমাণের জন্য পিনাকী লিখেছেন, “মাদ্রাসায় “আদব” শিক্ষা দেয়া হয়, সেই আদবের সংস্কৃতির সাথে যারা পরিচিত নন, তাঁরা মাদ্রাসার কালচার বুঝতে পারবেন না।” আমরা কি আসলেই সেই ”আদবের” সাথে পরিচিত নই? আমরা ভালভাবেই সেই ভয়াবহ আদবের সাথে পরিচিত।

শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যমান মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসাগুলো দেশের জন্য একটা ঝুকি। কওমি মাদ্রাসা তুলে দিয়ে গরীব পরিবারের ছেলেগুলোকে উন্নত শিক্ষা, উদার সংস্কৃতি ও জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে মানুষ করে তুলতে না পারলে দেশ ভয়াবহ সংকটে পরবে। কারণ আত্মনির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা না দিয়ে ভিক্ষুকে পরিণত করা হয় অনেক মাদ্রাসা ছাত্রকে। মসজিদ-মাদ্রাসা-এতিমখানার নামে, পাঠ্যপুস্তক এমনকি কোরাণ কেনার নামে তাদের দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। মাদ্রাসা পড়ুয়াদের বিনীত আদব কায়দা কেবল তাদের ভিক্ষাবৃত্তির সময়ই প্রকাশ পায়। নইলে, এই মাদ্রাসা পড়ুয়ারাই আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করেছিল। সেখানে তারা তাদের আদব এবং “কালচার” রাষ্ট্রীয়ভাবেই প্রতিষ্ঠা করেছিল। কোনও মেয়ে একা রাস্তায় বের হলে তাকে পিটানো হত মাদ্রাসার কালচার ও আদব অনুযায়ী। আদবের পরাকাষ্ঠা হিসেবে তারা বামিয়ানের বৌদ্ধ মুর্তী ভেঙ্গেছে; হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শনগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে। মাদ্রাসার কালচার বুঝি বলেই একে ভয় পাই। যে আদব তাদের শিক্ষা দেয়া হয় সেই আদব অনুযায়ী তারা চাপাতি হাতে তুলে নেয়, মানুষের গলা কাটে। মতিঝিল এলাকায় তাদের একদিনের দখলদারিত্বে তাদের যে আদব দেখেছি তা ভোলার কথা নয়। নাদিয়ার উপর আক্রমণের আদব ভোলার মত নয়। ভুলে যাইনা নিত্য নুতন মৃত্যুগুলো। যে হত্যার আদর্শিক ভিত্তিকে সমুন্বত রাখার দায়িত্ব পালন করছেন পিনাকীরা।

৭১’এ বাঙালি হত্যার পেছনে মওদুদীর কি কোনও দায় আছে? একাত্তরের গণহত্যায় জামায়তে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রসংঘ লিপ্ত হয়েছিল কোন দর্শন ও আদর্শের ভিত্তিতে? বাঙালী নারীকে “গণিমতের মাল” হিসেবে পাক সেনাদের ভোগযোগ্য হওয়ার ফতোয়া ছিল কোন দর্শনের আলোকে? নিশ্চয় সেটা মওদুদীবাদ। আজকের দিনে লেখক-ব্লগার হত্যা, ভিন্ন চিন্তার মানুষকে হত্যা, পীরের মাজারে ও শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে হামলার পেছনেও একটি আদর্শিক বোধ ও দার্শনিক ভিত্তি কাজ করছে। ঘৃণ্য সহিংসতাকে নৈতিক, যৌক্তিক ও আদর্শিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য এরপক্ষে একটি ন্যায্যতার দর্শন প্রতিষ্ঠা করার দরকার হয়। এই দায়িত্বটি পালন করছেন ডা: পিনাকী। তার ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিৎ। পিনাকীবাদ = জঙ্গীবাদ।

১৮ thoughts on “পিনাকীবাদ

  1. পিনাকিবাদ
    পিনাকিবাদ জিন্দাবাদ!
    মার্কস-লেলিন বেঁচে খাওয়া পঁচে যাওয়া পিনাকী’র আমলনামা। পিনাকীর বাম ব্যবসার কারনে অনেকে বাম মতাদর্শকে একহাত দেখিয়ে দিচ্ছেন। পিনাকী যদি বাম হয়, তাহলে কাদের সিদ্দিকী একজন মুক্তিযোদ্ধা। কাদের সিদ্দিকীকে মুক্তিযোদ্ধা বলতে নিঃশ্চয় অনেকের আপত্তি আছে।

    যে কারণে কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযোদ্ধা নয়, একই কারণে পঁচে যাওয়া ধান্ধাবাজ পিনাকী মার্কসবাদী নয়।

    1. আপনার মন্তব্যে হতাশ হলাম ভাই;
      আপনার মন্তব্যে হতাশ হলাম ভাই; কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযোদ্ধা না এই টাইপের কথা তারাই বলতে পারে, যারা কিনা মনে করেন বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে আপনি নিজেও কথা বলেছেন অনেক সময়ই, অথচ এখানে আপনার কথার মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদ স্পষ্ট। আসলেই ভাই, আপনার মত মানুষদের বোঝা কঠিন।

  2. শুধু পিনাকী নয় ফরহাদ মজহার
    শুধু পিনাকী নয় ফরহাদ মজহার কিছু সনাতনী হিন্দুর মাথা নেড়া করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। এদের মাধ্যমে এখন ইসলামি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতে তারা। অদ্ভুত বিষয় হল; ভিন্ন ধর্মের নারী’কে বিয়ে করা হিন্দুয়ানী বামগুলো সবচেয়ে বেশি জঙ্গি তোষণে ব্যস্ত। এই পিনাকী ২০১৩ সালে ফরহাদ মজহারকে ইঙ্গিত করে বামদের বলছে-তোমারা অনেকে এখন ফরহাদ মজহার ইহতে চাচ্ছে। কিন্তু হেফাজতের কোটা খালি হয়ে গেছে। সেই পিনাকী এখন ফরহাদ মজহারের (কবি হুমায়ুন কবির খুনের জন্য আহমদ ছফা যাকে সন্দেহ করতো) খাদেম হয়েছে।

  3. দ্বিমুখী সর্পের থেকেও বিষাক্ত
    দ্বিমুখী সর্পের থেকেও বিষাক্ত এরা।নিজেদের বাম দাবী করে এরা কোন ভিত্তিতে সেটা বোধগম্য নয়।

  4. লেলিন-স্টালিন-মাওএর প্রতি
    লেলিন-স্টালিন-মাওএর প্রতি অন্ধ প্রেম, বিভিন্ন মহাগ্রন্থ-লাল পুস্তকের দাসত্ব আর তীব্র আওয়ামী ঘৃনা এগুলানের মনে মানসিক বৈকাল্য সৃষ্ঠি করেছে। আশির দশকে একমাত্র জিয়াই এদের মুল্য দিতে পারছিল কমিউনিজমের পতনের পর।

  5. পৃথিবী এমনই। বন্ধুত্বের
    পৃথিবী এমনই। বন্ধুত্বের ছদ্মাবরণে যেমন ঘাতক লুকিয়ে থাকে- সময়ে জিঘাংসা চরিতার্থ করার মানসে, ঠিক তেমনি সেক্যুলারিজমের ভেতরেও ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে স্বীযস্বার্থ উদ্ধারে তত্পর এজেন্ডাবাহক ভাড়ায়খাটা স্বঘোষিত “বুদ্ধিGB” । এদের মাথায় যে কয় GB ঘিলু , তার সবটাই ব্যবহার করে নির্দেশক প্রভুর মনোরঞ্জনের নিমিত্তে।
    ব্রাহ্মনবাড়িয়া সহিংসতায় যারা মৌলবাদকে, মৌলবাদী নগ্ন থাবাকে “নর্তকীর সুনিপুণ নৃত্যকলা” বলে আড়াল করার প্রচারে লিপ্ত তারা মূলত মৌলবাদেরই ধারক-বাহক কিংবা সুবিধাভোগী।

    ধূর্ত পিনাচি কি করে এর বাইরে হবে।

  6. অনেকদিন পরে কেবল এই ব্লগ
    অনেকদিন পরে কেবল এই ব্লগ পোস্টটিতে মন্তব্য করার জন্য প্রিয় ইস্টিশনে ঢুকলাম। ভণ্ড পিনাকীরে নিয়ে এর আগে কেউ এমন তথ্যসমৃদ্ধ লেখা লিখেছেন কী-না জানা নেই। বাম আদর্শের প্রতি আস্থাশীল মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য পিনাকীদের মুখোশ সবার সামনে উন্মোচিত করে দেওয়া। এরা একইসাথে অনেকগুলো ক্ষতি করেছে – বাম আদর্শের প্রতি মানুষের ভুল ধারণা তৈরি করছে, বামপন্থীদের নিয়ে মানুষের ঘৃণা সৃষ্টি করছে, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে খেলো হিসেবে উপস্থাপন করছে। পরিশেষে চূড়ান্ত বিচারে মানুষকে সাম্প্রদায়িক ভেদনীতিতে বিভাজিত করছে, দীক্ষিত করছে। এরা সমাজের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর । সুতরাং এরা পরিত্যাজ্য।

    ধন্যবাদ জানাই লেখককে তার অনুসন্ধানমূলক বিশ্লেষণী লেখার জন্য। বাংলা ব্লগের ইতিহাসে এটি একটি মাইলস্টন লেখা । এরকম অনুসন্ধানী লেখা আরো বেশি দরকার।

  7. ওয়েল, পিনাকীর স্পষ্টবাদিতা ও
    ওয়েল, পিনাকীর স্পষ্টবাদিতা ও সত্য কথন মনে হয় উগ্র জাতীয়তাবাদী ও আওয়ামী ব্লগারদের মধ্যে মাথাব্যাথার কারণ হয়ে গিয়েছে। পিনাকীদের সংখ্যা যত বেশী বাড়বে, তত বেশী মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায়ী, উগ্র জাতীয়তাদী ও নাস্তিকতার নামে সীমালঙ্ঘনকারীদের দিশেহারা অবস্থা হবে, সেটাই স্বাভাবিক। নিশ্চয় ফরহাদ মাযহার বা পিনাকীর মত মানুষ বাংলাদেশে লাখে লাখে রয়েছে, যারা সময়ের দাবী বোঝেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেন; উগ্র জাতীয়তাবাদী ও ব্রেইনওয়াশ নাস্তিকদের মত তারা ভেড়ার পাল নন।

    1. পিনাকীর স্পষ্টবাদিতা ও সত্য

      পিনাকীর স্পষ্টবাদিতা ও সত্য কথন

      :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে:
      সত্য যেন কাকে বলে ?!!!

  8. অনেকদিন পর ব্লগে ঢুকলাম। ঢুকে
    অনেকদিন পর ব্লগে ঢুকলাম। ঢুকে তব্ধা খাইলাম! এরকম লেখাও আজকাল স্টিকি করা হয়! অথচ এরকম ব্যাক্তি আক্রমণ মূলক লেখার জন্য একসময় মানুষ ওয়ার্নিং পাইছে, এমনকি ব্যানও খাইছে! ব্লগের ট্রাফিক হয়তো আগের চেয়ে কম। কিন্তু তাই বলে নৈতিকতা বিসর্জন দিতে হবে কেন!? দুঃখিত মডারেটর, খারাপ লাগলো।

  9. পিনাকি একটা লাইক সিকার।
    পিনাকি একটা লাইক সিকার। কন্ট্রাডিকশান সে জেনে বুঝেই তৈরী করে। তার মত পাবলিককে এত গুরুত্ব দেয়ার কিছু দেখি না। যদিবা তাকে অনেকে পীর,কমরেড ভাবে, কমেন্টে যার নমুনা দেখা যাচ্ছে। তাদের জন্য একটা চপেটাঘাত দরকার।

  10. আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম, পিনাকী
    আপনার লেখা পড়ে বুঝলাম, পিনাকী নরপশু। সমাজ-রাষ্ট্র থেকে “পিনাকীনরপশুদের” প্রতিহত করতে হবে।
    লেখাটি ভালো লেগেছে। আপনার মঙ্গল হোক। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

  11. এক কথায় অসাধারণ। এতো
    এক কথায় অসাধারণ। এতো সুন্দরভাবে পিনাকির মুখোশ উন্মোচনের জন্য লেখকে ধন্যবাদ। নিঃসন্দেহে একটা প্রথম শ্রেণীর ব্লগ পোস্ট এটা। অন্তত আমার কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *