অসমাপ্ত গল্প

…অসমাপ্ত গল্পদের সাথে রাস্তায় দেখা হলে লক্ষ্য করি যে তারা এই অসমাপ্ত অবস্থাতেই বুড়ো হয়েছে কাঁচা পাকা চুলে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে অসমাপ্তির যন্ত্রণায় ধুকতে ধুকতে পথের ধারে হঠাৎ করে আমাকে দেখলেই চিনে ফেলে সাথে সাথে আর ডাক দেয় “ এই যে, ভদ্রলোক হেলো হেলো, এটা কেমন কাজটা করলেন আপনে..” বলে পিছে পিছে আসতে থাকে , গালি দিতে থাকে, আর আমি পালাতে থাকি সবসময় যদিও পালিয়ে যাওয়া যায় না কোথাও- কারণ অসমাপ্ত গল্পদের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলে আর এই অসমাপ্ত গল্পদের সাথে দেখা হলে রাস্তায় লক্ষ্য করি যে তারা এই অসমাপ্ত অবস্থাতেই বুড়ো হয়েছে…….

…অসমাপ্ত গল্পদের সাথে রাস্তায় দেখা হলে লক্ষ্য করি যে তারা এই অসমাপ্ত অবস্থাতেই বুড়ো হয়েছে কাঁচা পাকা চুলে উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে অসমাপ্তির যন্ত্রণায় ধুকতে ধুকতে পথের ধারে হঠাৎ করে আমাকে দেখলেই চিনে ফেলে সাথে সাথে আর ডাক দেয় “ এই যে, ভদ্রলোক হেলো হেলো, এটা কেমন কাজটা করলেন আপনে..” বলে পিছে পিছে আসতে থাকে , গালি দিতে থাকে, আর আমি পালাতে থাকি সবসময় যদিও পালিয়ে যাওয়া যায় না কোথাও- কারণ অসমাপ্ত গল্পদের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলে আর এই অসমাপ্ত গল্পদের সাথে দেখা হলে রাস্তায় লক্ষ্য করি যে তারা এই অসমাপ্ত অবস্থাতেই বুড়ো হয়েছে…….
এমন এক অসমাপ্ত গল্প চায়ের দোকানে বসে বিড়ি টানছিলেন। অনেকদিন পর আমার নিজেরই ইচ্ছা হচ্ছিল তাকে খূঁজে বের করার। আমি সামনে গিয়ে দাড়াতেই তিনি হাতের সিগারেট লুকিয়ে ফেললেন। আমি একটু লজ্জায় পড়ে গিয়ে বললাম যে
– আরে ছিঃ ছিঃ এসব কি.. আপনে সিনিওর মানুষ
অসমাপ্ত গল্প বিরক্ত হয় আর বলে যে
– আমি তো তোমারে দেইখা ফর্মালিটি করে বিড়ি লুকাই নাই। তুমি তো মহাচোর। আমার সবকিছুই নিয়া গেছ। হাতের বিড়িও যে টান দিবা না কেমনে কই।
আমার লজ্জা হয়। বললাম যে
– ইয়ে..মানে.. আপনের.. আমি কিন্তু এখন অনেক চেইন্জ।
কথাটা শুনে উনার হাসি পায়। হাসতে হাসতে তার কাশি ওঠে। কাশির সাথে রক্ত। আমি অবাক হ‌ই। দেখি বৃদ্ধ হলেও তার যুবকের মত ঝিকমিকে লাল রক্ত। ওনাকে বলি যে,
– আপনের অবস্থা তো ভাল না
– জানতা না মনে হয়
– এরকম ভাবি নাই
– তুমি মিয়া পারোও …
দুঃখ হয় আমার। বলি যে
– চলেন আপনারে ডাক্তার দেখায় আনি…
– টাকা তুমি দিবা? ও-না তুমিই তো দিবা, আর কে দিবে..
আমরা রিক্সা ডাকি। তিনি বিড়ি টানতেই থাকেন। ডাক্তারদের নাম গুলো আমি মনে করে করে একজনকে ফোন দেই। তিনি ফোন ধরতে না ধরতেই বলেন
– আমি বড় ব্যাস্ত আছি ভাই, আজকে জ্বালাতন করবা না
– আরে কাজে ফোন দিসি
– তোমার বাল আবার কি কাজ?
– একজন রুগী ছিল
– বয়স কত?
– সঠিক জানি না, বুড়া কইরা। উনি অসমাপ্ত।
– কি রকম অসমাপ্ত? হাত পাও নাই?
– সবই আছে। কিন্তু সব থাকলেই কি হয়?
ফোনের ওপাশের ডাক্তারটা চুপ করে যান। এপাশের আমি ফোনের ভেতর দিয়েও শুনতে পাই ওনার মাথার ভেতর আওয়াজ হচ্ছে-“ কিন্তু সব থাকলেই কি হয়” “কিন্তু সব থাকলেই কি হয়” “ কিন্তু সব থাকলেই কি হয়”
তিনি বিষাদগ্রস্থ কন্ঠে বলেন
– আইচ্ছা নিয়া আসো দেখি।
ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা হতে থাকে। আবছা আবছা নীল হয়ে ওঠে রাস্তার লোকেরা। লোকগুলোকে বড় রহস্যময় মনে হয়। বদমাশও মনে হয়। দেখি তাদের মধ্যে সবাই কমবেশী অসমাপ্ত। আমার অসমাপ্ত গল্পের চেয়েও জঘন্য অবস্থা অনেকের। অসমাপ্ত গল্পের আচরণগত কিছু সমস্যা লক্ষ্য করলাম। তিনি অন্য রিক্সার মেয়েদের দেখে অশ্লীল ভাবভংগি করছেন। আমি বললাম
– এমন কইরেন্না , প্লিজ….
– আদ্ধুর মিয়া… আমি তো ইনকমপিলিট.. এসব আমার ক্ষেত্রে কোন ব্যাপার না।
তারপর সন্ধ্যা থেকে রাত হয়।

ডাক্তারের চেম্বার লোকারণ্য। প্লাস্টিকের চেয়ারগুলোতে বসা যায় না। সোজা হয়ে বসলে ব্যাথা করে। হেলান দিতে গেলে ব্যালেন্স থাকে না। অথচ এই দু’প্রকার ছাড়া চেয়ার বসার আর কোন উপায়ও তো নেই। চেম্বারে ডাক্তারের টাকা নেয় যেই লোকটা সে দেখি খুব বাজে ব্যাবহার করছে সবার সাথে। তিনিও অসমাপ্ত। এজন্যেই হয়তো তার মেজাজ খারাপ থাকে। আমি একটু হেসে হেসে এগিয়ে গেলাম। উনি চোখের হিংস্রতা বজায় রেখে দেখলেন আমাকে। বললেন
– চিরিয়াল আচে?
– না ভাই , ডাক্তার সাহেব আমাদের পরিচিত। কথা হইসে একটু আগে ওনার সাথে।
– তো , কি করুম আমি। ঐ মিয়া কি করুম আমি। শৃংখলা আছে সবকিছুর বুচ্চেন? চিরিয়াল লন। নিয়া রাকেন। আচকে দেকা অয় কিনা কে জানে? তাও নিয়া রাকেন। কালকে হবে ইন্…..হ
– আপনে একটু ভিতরে গিয়ে যদি বলেন আমাদের কথাটা
– নোও.. বেশি কতা কবেন্না।
অসমাপ্ত গল্পটি উঠে এসে লোকটাকে একটা চড় দিয়ে ফেলে দিল আর চড় খাওয়া লোকটাও উঠে অসমাপ্ত গল্পকে লাথি দিলে তিনি কাশতে কাশতে একটা চেয়ার তুলে ছুড়ে মারলেন, তখন সমস্ত চেম্বারে একটা ভয়াবহ মারপিট শুরু হয়ে গেল, কাঁচ ভাংল, টিভি ভাঙল, ‘কি হল , কি হল’ বলে ডাক্তার সাহেব বের হয়ে আসলে তিনিও মার খেলেন খুব।
আমি চুপি চুপি একদিকে সরে গেলাম। অসমাপ্তি ভালই যন্ত্রণার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *