বাংলাদেশী সিনেমার ভবিষ্যৎ কোন পথে?? (দৃষ্টি আকর্ষণমূলক)

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র নীতিমালার একটি খসড়া কপি প্রকাশ করেছে। কে কে পড়েছেন নীতিমালাটা??
জানি অধিকাংশই পড়েন নাই। পড়ার প্রয়োজন বোধও করেন নাই। আপনার সময় হলে একবার পড়ে দেখবেন । আশা করি বিনোদিত হবেন।
চলচ্চিত্র খুব ভালো বুঝি তা নয়। চলচ্চিত্রের তাত্ত্বিক ব্যাবহারিক দিক শিখতে এখনো আমার বহু বাকি। কিন্তু একথা স্পষ্ট করেই বলতে চাই যে, যারা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা আপাদত এখানেই তাদের স্বপ্নকে কবর দিয়ে দেন। ভবিষ্যতে এদেশে চলচ্চিত্র বানাবেন সরকারী আমলা আর রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা। ভবিষ্যতে পরিচালকদের আর দরকার হবে না সিনেমা বানানোর কাজে।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র নীতিমালার একটি খসড়া কপি প্রকাশ করেছে। কে কে পড়েছেন নীতিমালাটা??
জানি অধিকাংশই পড়েন নাই। পড়ার প্রয়োজন বোধও করেন নাই। আপনার সময় হলে একবার পড়ে দেখবেন । আশা করি বিনোদিত হবেন।
চলচ্চিত্র খুব ভালো বুঝি তা নয়। চলচ্চিত্রের তাত্ত্বিক ব্যাবহারিক দিক শিখতে এখনো আমার বহু বাকি। কিন্তু একথা স্পষ্ট করেই বলতে চাই যে, যারা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাতা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা আপাদত এখানেই তাদের স্বপ্নকে কবর দিয়ে দেন। ভবিষ্যতে এদেশে চলচ্চিত্র বানাবেন সরকারী আমলা আর রাজনৈতিক ব্যাক্তিরা। ভবিষ্যতে পরিচালকদের আর দরকার হবে না সিনেমা বানানোর কাজে।
চলচ্চিত্রের সাথে জড়িত সকল যোদ্ধারা যে নীতিমালার জন্য আজ ৪৫ বছর ধরে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন সেই নীতিমালার রুপ রেখা দেখে আমি রীতিমত আকাশ থেকে পড়েছি। যদি এই নীতিমালা মেনেই এদেশে ছবি করতে হয় তবে সেগুলো আর ছবি হবে না। হবে সরকারী ডকুমেন্টারি। কোথায় সরকারী নেতারা ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করলেন, কোথায় আমলারা চাল বিলি করলেন, কোথায় সরকারী লোক বন্যার্থদের নৌকা উপর দাঁড়িয়ে কাপড় বিলি করলেন এগুলোই হবে ভবিষ্যতের চলচ্চিত্রের বিষয়।
আগে সিনেমার সেন্সর হত সিনেমা নির্মাণের পরে। এখন থেকে সেন্সর হবে সিনেমা নির্মাণের আগে। মানে নায়িকা কোন রঙের শাড়ি পড়বে, নায়ক কয়টা শার্টের বোতাম খোলা রাখবে, নায়িকার বাপের দাঁড়ি কত বড় হবে, এখন থকে সিনেমা নির্মানের আগে এগুলো সরকারী আমলারাই ঠিক করে দেবেন।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব চলচ্চিত্রকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া। সিনেমার জন্ম নিয়ন্ত্রন করা না। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে সরকার সেটাই করছে। সিনেমাকে গিলে খাওয়ার মত একটা ইচ্ছা সরকারের মাঝে পরিলক্ষিত। কেন রে বাবা?? সরকারী চ্যানেল, সরকারী বিজ্ঞাপন, সরকারী ডকুমেন্টারি তো আছেই সরকারের ঢাক পেটানর জন্য। এই মহান দায়িত্ব আমাদের কাঁধে চাপানোর দরকার কি?
আমি বহু আগেই বলেছি বাংলাদেশের মত রাষ্ট্র ব্যাবস্থা কখনোই সিনেমাকে পূর্ন স্বাধীনতা দেবে না। কারন রাষ্ট্র বা সরকার সিনেমাকে ভয় পায়। কেননা সরকার সিনেমার শক্তি সম্পর্কে অবগত।
যারা সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের পক্ষে অবস্থান করেন তাদের এখনই সোচ্চার হওয়ার সময়। না হলে এর জন্য সবাইকে অনেক মাশুল দিতে হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চলচ্চিত্র নীতির খসড়া কপিকে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করা হবে। এখনই যদি আমরা আমাদের নিজের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটাতে পারি আজীবন মেরুদণ্ডহীন নির্মাতা হিসেবে সরকারের লেজুড়বৃত্তি করতে হবে। এই নীতিমালা অনুসারে যে কোন সিনেমাকে, যে কোন সময়, যে কোন কারনে সরকার আটকে দিতে পারে। এটা বুঝতে কি খুব কষ্ট হচ্ছে সবার??
গতকাল ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ (এফএফএসবি) আয়োজিত ‘জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা’র খসড়াপাঠ ও পর্যালোচনা বিষয়ক সম্মেলন এ গিয়েছিলাম। আলোচনা তো হল জম্পেস। শেষ পর্যন্ত সে আলোচনার কতটুকুই সার্থক হয়ে উঠবে সেটা নিয়েই চিন্তিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *