ঢাকা থেকে বাংলাদেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হোক মানিকগঞ্জে!


বিশ্বের সবচেয়ে বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা দুই নম্বরে আছে! ডেড সিটি বলতে যা বুঝায় ঢাকা তাই। অপরিকল্পিত নগরায়ন যদি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত হয়, তাহলে কেস স্টাডি হিসেবে ঢাকাকে অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। পরিত্যাক্ত নগরীর যোগ্যতম উদাহরণ।



বিশ্বের সবচেয়ে বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা দুই নম্বরে আছে! ডেড সিটি বলতে যা বুঝায় ঢাকা তাই। অপরিকল্পিত নগরায়ন যদি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত হয়, তাহলে কেস স্টাডি হিসেবে ঢাকাকে অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে। পরিত্যাক্ত নগরীর যোগ্যতম উদাহরণ।

শব্দ দূষণ, বায়ূ দূষণ এগুলোর কথা বাদ দেন। যানজটের জন্য প্রতিদিন সকাল বিকাল ২ ঘন্টা করে ৪ ঘন্টা সময় জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। চার ঘন্টা হচ্ছে দিনের ৬ ভাগের ১ ভাগ! অর্থাৎ শৈশব শেষ করে যদি কেউ আরও ৬০ বছর বাঁচে সেখান থেকে ১০ বছর নাই হয়ে যাবে! একজন মুমূর্ষু রোগী জানে একটা দিন বেশি বেঁচে থাকা কী ভিষণ আনন্দের। সেখানে জীবনের ছয় ভাগের একভাগ বিসর্জন দেওয়া স্রেফ জীবনকে অপচয় করা। এই বাড়তি সময়টা হয়তো সে বই পড়তো, মুভি দেখতো, প্রোডাক্টিভ কিছু করতো, সৃজনশীল কিছু করতো, অথবা বন্ধু বা পরিবারকে সময়টা দিতো। বেঁচে থাকাতো প্রিয় মানুষগুলোর জন্য।

ঢাকাতে যারা থাকে তাদের অনেকের ভিতরই প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য একটা গর্ব আছে তারা দেশের সবচেয়ে বড় মহানগরে থাকে! আসলে মহানগর কেমন হয় সেটা দেশের বাইরে গিয়ে কয়েকটা মহানগর ঘুরে আসলেই তাদের ভুলটা ভাঙ্গবে। খেলার জন্য মাঠ নাই, হাঁটার জন্য পার্ক নাই। বাচ্চারা কম্পিউটারে পড়ে থাকে। এই যে তার বাচ্চার খেলার জায়গা নাই, হাঁটার জায়গা নাই, এটা নিয়েও সে এক ধরণের আভিজাত্যে ভোগে। তার ধারণা বাইরে খেলবে হাঁটবে গ্রাম্য পোলাপান! তার বাচ্চা কেন খেলবে, সে খেলবে কম্পিউটারে! অথচ এ শহরে রাস্তাঘাট, পানি, বিদ্যুত, নৌ যোগাযোগ, রেল যোগাযোগ, খেলার মাঠ, পার্ক, জলাব্ধতা, আবাসিক কিংবা বাণিজ্যিক এলাকা, কোন কিছুই পরিকল্পিত না।

১৩ শতকে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের মনে হইছে ভারতবর্ষের রাজধানী দিল্লি থাকা উচিত না। প্রচন্ড খামখেয়ালী শাসক ছিলেন উনি। যা মন চায় তাই করতেন। উনি দিল্লি থেকে সাড়ে এগারোশ কিঃমিঃ দক্ষিণে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলেন। এটা বুমেরাং সিদ্ধান্ত। কারণ দেবগিরিতে নদী নাই। শহর গড়ে উঠার জন্য নদী গুরুত্বপূর্ণ। পুরো দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভালো হওয়া বাঞ্চনীয়। এর কোনটাই দেবগিরিতে ছিলনা। তুঘলকের এসব খামখেয়ালী সিদ্ধান্তের জন্যই বাংলা ভাষায় ‘তুঘলকী সিদ্দান্ত’ নামে একটা টার্মই চলে আসছে!

আধুনিক পৃথিবীতে অনেক দেশই তাদের রাজধানী পরিবর্তন করছে। আমাদের আশেপাশের ভারত পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা সহ পৃথিবীর প্রায় ৫০টা দেশ তাদের রাজধানী এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। এগুলো তুঘলকী সিদ্ধান্ত হয় নাই। কারণ এগুলো ছিল পরিকল্পিত।

ঢাকার যা অবস্থা এটা ঘষেমেজেও তেমন সুবিধা করা যাবেনা। যা করা যায় সেটা হচ্ছে ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নেওয়া, এবং বিকেন্দ্রীকরণ। নৌ বাহিনীর সদর দপ্তরতো ঢাকায় থাকার দরকার নাই। চট্টগ্রাম বা খুলনাতে হওয়াই স্বাভাবিক ছিল। মালেশিয়া যদি কুয়ালালামপুরের বাইরে একটা পুত্রজায়া বানাইতে পারে আমরা কেন পারবো না?

আমাদের জায়গা কম ঢাকার আশেপাশেও তেমন জায়গা নাই। একটা পরিকল্পনা করলে অন্তত দুইশ বছরের পরিকল্পনা করা উচিত। অল্প জায়গায় বেশি মানুষকে থাকতে হবে। পুরো দেশ থেকে যোগাযোগব্যবস্থার যাতে সুবিধা থাকে, দেশের মাঝখানে হয়, ঢাকা বাদে এরকম জায়গা হচ্ছে সাভার গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এবং নায়ারনগঞ্জ। এগুলোর বেশিরভাগই ছোটখাটো কিংবা ঘিঞ্জি নগর হয়ে গেছে ঢাকার পাশে স্যাটেলাইট শহর হিসেবে। বাকি থাকে মানিকগঞ্জ!

নদীঘেরা জনপদ শহর গড়ার জন্য আদর্শ। মানিকগঞ্জের চারপাশে এবং মাঝখান দিয়ে গেছে পাঁচটি নদী। পদ্মা, যমুনা, ধলেশ্বরী, ইছামতি এবং কালিগঙ্গা। পুরো মানিকগঞ্জের দরকার নাই। পদ্মা পাড়ে দশটা গ্রামকে বেছে নিলেই হবে। আয়তনে ঢাকার পাঁচ ভাগের একভাগ হলেও চলবে। পরিকল্পনা করে করলে ঐটুক জায়গাতেও এক কোটি মানুষ ধরবে। ঢাকাতো আর ধ্বংস করে ফেলা হবেনা। ঢাকা ঢাকার জায়গাতেই থাকবে।

ঢাকা থেকে সংসদ ভবন সহ সরকারী অফিস আদালত প্রথমে সরানো যেতে পারে সেখানে। নতুন শহরের মডেল হতে পারে ঢাকার উত্তরা! পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পার্ক, কোথায় আবাসিক এলাকা হবে কোথায় বাণিজ্যিক এলাকা থাকবে সব নির্দিষ্ট থাকবে। ১৫ তলার নিচে কোন কোন বিল্ডিং এর অনুমোদন দেওয়া হবেনা। মধ্যবিত্তেরতো পুরো বাড়ি থাকার দরকার নাই। একটা ফ্লাটই যথেষ্ট। আবাসিক বাণিজ্যিক যাই হোক প্রত্যেকটা ভবনে গাড়ির গ্যারেজ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যলয়, একটা বিমানবন্দর সবই লাগবে। অফিস থাকবে আদালত থাকবে, কিন্তু কারখানা হবেনা। কারখানার জন্য ঢাকা গাজীপুর সাভার নারায়ণগঞ্জ আছেই। সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে রাস্তা। শহরের ভিতরে পর্যাপ্ত রাস্তা এবং শহর থেকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত পরিকল্পিত রাস্তা থাকা লাগবে। ঢাকা সহ সারাদেশের সাথে নৌ যোগাযোগব্যবস্থা এমনিতেও ভালো। মেট্রোরেল লাগবে না, সাধারণ রেল হলেও মানিকগঞ্জ থেকে ৪০ মিনিটে ঢাকা যাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন লোকজন ঢাকায় গিয়ে কারখানায় কাজ করে বিকালে আবার রাজধানীতে ফিরতে পারবে। পরিকল্পনা করে কিছু করলে আমরা কি করতে পারি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে হাতিরঝিল।

এতক্ষণে নিশ্চই আমাকে গালিগালাজ শুরু করছেন। ‘ব্যাটা সবই ঠিক আছে কিন্তু টাকা কই?’ এইটুক ধৈর্য ধরে পড়ছেন এজন্য প্রথমে ধন্যবাদ। আসলে একটা শহরতো একদিনে হবেনা। ২৫ বছর লাগুক সমস্যাতো নাই। আজকে ঘোষণা দিলে পাঁচ বছরের ভিতর রাজধানী সরানো যাবে। তারপর আরো বিশ বছর লাগুক শহর গড়ে উঠতে।

আমাদের ব্যাংক একাউন্টে ৫০ লাখ টাকা থাকলে নিজেদেরকে বড়লোক ভাবতে শুরু করি। আসলে নূন্যতম ৫০ কোটি টাকার মালিক দেশে এরকম লোক আছে কয়েকলাখ। এদেরই একটা বড় অংশ ঐখানে বিনিয়োগ করবে রাজধানীতে বাড়ি করার স্বপ্নে। গত বিশ বছরে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। তাদেরকে যদি বলা হয় ঐখানে বিনিয়োগ করলে কালো টাকার হিসেব চাওয়া হবেনা, তাইলে ঐখান থেকেও একটা অংশ আসবে। টাকার পরিমানে যেটা অনেক। মোটকথা টাকাটা বিনিয়োগ করবে সমাজের সবচেয়ে ধনী অংশ। মধ্যবিত্ত নিম্ম মধ্যবিত্তের উপর প্রেশার পড়বেনা। বরং উপর থেকে ছুঁইয়ে পড়া টাকায় তারাও লাভবান হবে। মোটকথা টাকার ফ্লো’টা নিচের দিক থেকে উপরে উঠবেনা। উপর থেকে নিচে নামবে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের ৩০ লাখ লোক কাজ করে। এদের বড় অংশ নির্মান শ্রমিক। নির্মানে যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হয়, সেখানে পুরো দেশই এর সুফল পাবে। আগামী ৩০ বছরের জন্য হয়তো বেকারত্ব তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসবে।

আমার পরিকল্পনাই চুড়ান্ত এরকম কথা নাই। আমি মোটাদাগে কথাগুলো বললাম। নগর পরিকল্পনাবিদরা নিশ্চই ভালো প্লান বানাইতে পারবেন। এটা খুবই সম্ভব। পৃ্থিবীর অনেক দেশ পারছে। আমরাও নিশ্চই পারবো, যদি আমরা চাই।

৪ thoughts on “ঢাকা থেকে বাংলাদেশের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হোক মানিকগঞ্জে!

  1. আমার তো মনে হয় শধু প্র শাসনিক
    আমার তো মনে হয় শধু প্র শাসনিক দফতর গুলোর কারণে ঢাকার এই অবস্থা হয়নি । শিকপায়ন তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে এই অবস্থা হয়েছে । তাই এর সমাধানের জন্য রফতানি পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে খুলনা ও চট্টগ্রামে স্থানন্তরিত করে দেওয়া উচিৎ । তবেই ঢাকার ওপর চাপ কমবে ।
    এই সাইটে ফন্ট সমস্যা হচ্ছে, কি করি বলুন তো । এক রক অন্ধের মতো লিখতে হচ্ছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *