ছেলের হাতে মা খুন: ইহাই ইসলামী বিধান

সপ্তাহ দুই আগে , একটা খবর বেরিয়েছিল : সিরিয়াতে আই এস এর এক জিহাদী তার মা-কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। মায়ের অপরাধ: সে তার জিহাদী ছেলেকে আই এস ত্যাগ করে , সিরিয়া থেকে অন্য দেশে চলে গিয়ে সাধারন জীবন যাপন করতে বলেছিল। বিস্তারিত খবর এখানে : সিরিয়ায় জিহাদি ছেলের হাতে মা খুন।


সপ্তাহ দুই আগে , একটা খবর বেরিয়েছিল : সিরিয়াতে আই এস এর এক জিহাদী তার মা-কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে। মায়ের অপরাধ: সে তার জিহাদী ছেলেকে আই এস ত্যাগ করে , সিরিয়া থেকে অন্য দেশে চলে গিয়ে সাধারন জীবন যাপন করতে বলেছিল। বিস্তারিত খবর এখানে : সিরিয়ায় জিহাদি ছেলের হাতে মা খুন।

দুনিয়ার সবাই জানে , আই এস হলো সত্যিকার ইমানদার মুসলমান যারা কোরান ও সুন্নাহ ১০০% সহিহ সম্মতভাবে অনুসরন করছে বা করার চেষ্টা করছে। তারা মুসলিম উম্মার জন্যে একটা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেছে আর সেই খিলাফতে যোগ দিতে সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে খাটি ইমানদার মুসলমানরা সিরিয়াতে গিয়ে খিলাফতে যোগ দিচ্ছে। খিলাফতের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণে এমন কি ইংল্যান্ডের আরামপ্রদ জীবন ছেড়ে ১১ সদস্যের এক বিরাট বাংলাদেশী অভিবাসী পরিবার বাল বাচ্চা , বউ সহ সিরিয়াতে গিয়েছে। যাতে জীবনটা খাটি ইসলামী আবহে কাটান যায় ও অত:পর মরার পর বেহেস্ত লাভ সুগম হয়।

অথচ সেই খিলাফতে এক মা তার জিহাদী ছেলেকে বলেছিল সে যেন আই এস ছেড়ে দিয়ে অন্য কোন দেশে আশ্রয় নিয়ে সাধারন জীবন যাপন করে। যা বলাবাহুল্য, ইসলামী বিধানে কঠিন মুনাফেকি বা মুর্তাদের লক্ষন। ইসলামী বিধানে মুনাফেকি বা মুর্তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যু দন্ড। ঘটনাটা আই এসের প্রশাসকদের কাছে যেতে দেরী হয় নি , আর সাথে সাথেই সেই নারীর মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করা হয়। আর সেটা বাস্তবায়নের দায়ীত্ব পড়ে তারই নিজ ছেলের উপর। ১০০% খাটি ইমানদার জিহাদী মুমিন সেই ছেলে তখন প্রকাশ্য দিবালোকে তার মাকে শত শত মানুষের সামনে রাইফেলের ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে , কঠিন ইমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়। নিচে দেখুন সেই জিহাদীর নুরানী চেহারা —

অনেকেই বলবে , ছেলে হয়ে মাকে হত্যা করা ঠিক হয় নি। বলাবাহুল্য , এরা মুনাফিক। এরা মুসলমান নাম ধারন করে ইসলামের বিরোধীতা করে। কারন কোরান বলেছে :

সুরা তাওবা -৯: ২৪: বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।

অর্থাৎ দুনিয়ার সবকিছুর বা সব চাইতে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনের চাইতে নবী মুহাম্মদকে ভাল না বাসলে , খাটি মুসলমান হওয়া যাবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো মুহাম্মদকে সব চাইতে ভালবাসার উপায় কি , যখন মুহাম্মদ এখন বেঁচে নেই ? মুখে মুখে বলতে তো হবে না যে – আমি মুহাম্মদকে ভালবাসি। মুহাম্মদকে ভালবাসার শ্রেষ্ট উপায় হলো , তার আদর্শ অনুসরন করা ও তার আদেশ উপদেশ মেনে চলা। এখন মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছেন যে – যারা ইসলাম ত্যাগ করবে বা যারা মুনাফেক তাদেরকে হত্যা করতে হবে। তার কোরানও সেই নির্দেশ দিয়ে গেছে। সুতরাং মুহাম্মদকে ভালবাসার সর্বোত্তম উপায় হলো, তার ও তার কোরানের উক্ত আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা। যারা মুনাফিক ও ইসলাম ত্যাগ কারী তাদের শান্তি কি রকম হবে , তা বলা হয়েছে নিচের আয়াতে :

সুরা নিসা -৪: ৮৯: তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৮৪ :: হাদিস ৫৭
আবূ নু’মান মুহাম্মদ ইবন ফাযল (র)… ইকরামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রা)- এর নিকট একদল যিন্দীককে (নাস্তিক ও ধর্মদ্রোহী) আনা হল। তিনি তাদেরকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এ ঘটনা ইবন আব্বাস (রা)- এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, আমি হলে কিন্তু তাদেরকে পুড়িয়ে ফেলতাম না। কেননা, রাসূলুল্লাহ – এর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর শাস্তি দ্বারা শাস্তি দিও না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। কেননা, রাসূলুল্লাহ – এর নির্দেশ রয়েছে, যে কেউ তার দীন বদলে ফেলে তাকে তোমরা হত্যা কর।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৮ :: অধ্যায় ৮৪ :: হাদিস ৫৮
মুসাদ্দাদ (র)… আবূ মূসা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী – এর কাছে এলাম। আমার সাথে আশআরী গোত্রের দু’ব্যক্তি ছিল। একজন আমার ডান্দিকে, অপরজন আমার বামদিকে। আর রাসূলুল্লাহ তখন মিসওয়াক করছিলেন। উভয়েই তাঁর কাছে আবদার জানাল। তখন তিনি বললেনঃ হে আবূ মূসা! অথবা বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন কায়স! রাবী বলেন, আমি বললাম, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন তারা তাদের অন্তরে কি আছে তা আমাকে জানায়নি এবং তারা যে চাকরি প্রার্থনা করবে তা আমি বুঝতে পারিনি। আমি যেন তখন তাঁর ঠোটের নিচে মিসওয়াকের প্রতি লক্ষ্য করছিলাম যে তা এক কোণে সরে গেছে। তখন তিনি বললেন, আমরা আমাদের কাজে এমন কাউকে নিয়োগ দিব না বা দেই না যে নিজেই তা চায়। বরং হে আবূ মূসা! অথবা বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন কায়স! তুমি ইয়ামনে যাও। এরপর তিনি তার পেছনে মু’আয ইবন জাবাল (রা) কে পাঠালেন। যখন তিনি তথায় পৌছলেন, তখন আবূ মূসা (রা) তার জন্য একটি গদি বিছালেন। আর বললেন, নেমে আসুন। ঘটনাক্রমে তার কাছে একজন লোক শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ লোকটি কে? আবূ মূসা (রা) বললেন, সে প্রথমে ইহুদী ছিল এবং মুসলমান হয়েছিল। কিন্তু পুনরায় সে ইহুদী হয়ে গিয়েছে। আবূ মূসা (রা) বললেন, বসুন। মু’আয (রা) বললেন, না, বসব না, যতক্ষণ না তাকে হত্যা করা হবে। এটাই আল্লাহ্ও তাঁর রাসূলের ফায়সালা। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। এরপর তার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হল এবং তাকে হত্যা করা হল। তারপর তাঁরা উভয়ই কিয়ামুল লায়ল (রাত জাগরণ) সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তখন একজন বললেন, আমি কিন্তু ইবাদতও করি, নিদ্রাও যাই। আর নিদ্রাবস্থায় ঐ আশা রাখি যা ইবাদত অবস্থায় রাখি।

কোরান ও হাদিস উভয়ই বলছে যারা মুনাফিক বা ইসলাম ত্যাগকারী তাদেরকে হত্যা করতে হবে , মুহাম্মদ নিজ জীবনেই সেটা করে গেছেন। সুতরাং উক্ত মায়ের মৃত্যুদন্ড প্রাপ্য হয়ে গেছিল। প্রশ্ন উঠতে পারে , উক্ত মহিলা তো বলে নি যে সে ইসলাম ত্যাগ করেছে বা মুনাফিক হয়ে গেছে। এখানেই সমস্যা। কে ইসলাম ত্যাগ করল বা মুনাফিক হয়ে গেল সেটা নিজ মুখে স্বীকার না করলে যে ধরা যাবে না, এমন নয়। বরং একটা ব্যাক্তির আচরন থেকে বুঝে নিতে হবে যে তারা আসলে ইসলাম ত্যাগ করেছে নাকি মুনাফিক হয়ে গেছে। বাংলাদেশের হুমায়ুন আজাদ বা তসলিমা নাসরিন কি কখনও ঘোষনা করেছে যে তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে ? অথবা সম্প্রতি যে সব মুসলমান নামধারী ব্লগারদেরকে হত্যা করা হয়েছে , তারাও কি কখনও ঘোষণা করেছে যে তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে ? হেফাজত ইসলাম বা তাদের সমমনা যে ৮২ জন ব্লগারের তালিকা করেছিল মুর্তাদের , তারাও কি কেউ কখনও ঘোষণা করেছে যে তারা ইসলাম ত্যাগ করেছে ? না কেউ করে নি। তাহলে ইমানদার আলেমরা তাদেরকে মুর্তাদ বা নাস্তিক বলে ঘোষণা দিল ?

ঠিক একই ভাবে এই সিরিয় নারী খাটি ইসলামী খিলাফতকে প্রত্যাখ্যান করে প্রমান করেছে যে , সে নিজেকে মুসলমান হিসাবে দাবী করলেও বা মনে করলেও বাস্তবে সে আর মুসলমান নেই , মুসলিম থেকে তার নাম খারিজ হয়ে সে হয় মুর্তাদ না হয় মুনাফিক না হয় নাস্তিকে পরিনত হয়ে গেছে। আর তাই তার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্য হয়ে গেছে। আর খাটি ইমানদার মুমিন ও জিহাদী হিসাবে তার নিজের ছেলেই তাকে হত্যা করেছে। নিজ মাকে হত্যা করতে তার হাত একটুও কাঁপে নি। কারন সে কোরান ও সুন্নাতে বিশ্বাসী। সে দৃঢ়ভাবে মুহাম্মদকে তার নিজের মা তো বটেই এমন কি তার নিজ জীবনের চাইতেও বেশী ভালবাসে। সেখানে নিজের মা যদি মুনাফিক বা মুর্তাদ হয়ে যায়, তাহলে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে তো তার হাত কাঁপার কথা নয়। তার হাত কাঁপেও নি।

এটাই ছিল তার কাছে আল্লাহর তরফ থেকে খাটি ইমানী পরীক্ষা , আর সে পরীক্ষায় এই জিহাদী ১০০% নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। বলুন সুবহান আল্লাহ !

আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন যেন সে আমাদেরকে এই জিহাদীর মত কঠিন ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ইমানী জোশের মন মানসিকতার অধিকারী করে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *