ইয়াজিদি ধর্মগ্রন্থ- মিশেফা রেশ, ‘কালো গ্রন্থ’- ৩য় পর্ব

[দ্বিতীয় পর্বের পর…]


[দ্বিতীয় পর্বের পর…]

এটা চলে যাবার পর একজন পুরুষ এবং তার স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের আরম্ভ হলো। স্ত্রীলোকটি পুরুষলোকটিকে তার স্বামী হিসেবে অস্বীকার করাই দ্বন্দ্বের কারন। পুরুষলোকটি স্ত্রীলোকটিকে তার স্ত্রী হিসেবে দাবী করা পরিত্যাগ করেনি। যাই হোক, এই দুইয়ের দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয়েছিলো, আমাদের অংশের একজন ন্যায়পরায়ন লোকের মাধ্যমে। যিনি আদেশ জারি করেছিলেন, প্রত্যেক বিয়ের অনুষ্ঠানে, অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ড্রাম এবং বাঁশি অবশ্যই বাঁজাতে হবে, যেনো একজন পুরুষলোক এবং একজন স্ত্রীলোকের বিবাহ বৈধভাবে সম্পন্ন হয়।

তারপর মালিক তাউস নিচে পৃথিবীতে নেমে এলেন আমাদের অংশের জন্য, প্রাচীন আশিরিয়ার রাজাদের পাশাপাশি, আমাদের জন্য একদা সৃষ্টি করলেন এবং নিয়োগ দিলেন রাজাদের। নিসরোখ, যিনি নাসির-আদ-দিন; কামুশ, যিনি মালিক ফাহর-আদ-দিন; এবং আরতামিস, যিনি মালিক শামস-আদ-দিন। তারপর আমাদের ছিলো দুইজন রাজা, শাপুর প্রথম এবং দ্বিতীয়, যারা শাসন করেছিলো একশত পঞ্চাশ বছর; এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত আমাদের আমীরেরা তাদের বীজ থেকেই অবতীর্ণ। কিন্তু আমরা চারজন রাজাকে ঘৃণা করি।

পৃথিবীতে খ্রিস্ট আসার পূর্বে আমাদের ধর্ম ছিলো পৌত্তলিকতা। আমাদের মধ্যে রাজা ছিলেন রাজা আহাব। এবং আহাবের ঈশ্বরের নাম ছিলো বেলজেবাব। এখনকার দিনে আমরা তাকে ডাকি পির বাব। ব্যবিলনে আমাদের একজন রাজা ছিলেন, যার নাম ছিলো বাখত নাসের; অপরজন ছিলো পারস্যে, যার নাম ছিলো আহুর। এবং অন্য আরেকজন ছিলেন কনস্ট্যান্টিপোলে, যার নাম ছিলো এগ্রিকুলাস। ইহুদি, খ্রিস্টিয়ান, মুসলিম এবং এমনকি পারসিকরা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু তারা আমাদের পরাভূত করতে ব্যর্থ হয়, কারন তাদের বিরুদ্ধে আমরা দেখিয়েছিলাম প্রভুর সক্ষমতা। তিনি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন প্রথম এবং শেষ বিজ্ঞান। এবং তার শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি হলো-

বেহেশত এবং পৃথিবীর পূর্বে, ঈশ্বর সমুদ্রে অবস্থান করতেন, যেমনটা আমরা তোমাদের পূর্বে বলেছি। তিনি তৈরী করেছিলেন একটি জলযান এবং ভ্রমন করছিলেন- কুনসিনিয়াতোফ সমুদ্রে, যেনো তিনি নিজে নিজেই আনন্দ করতে পারেন। তারপর তিনি সৃষ্টি করেন সফেদ মুক্তো এবং তার উপর রাজত্ব করেন চল্লিশ বছর। তারপর তিনি মুক্তোর উপর রাগ হন এবং একে আঘাত করেন, এবং তিনি বিষ্মিত হন, এর কান্না থেকে পর্বতসমগ্রকে তৈরি হতে দেখে। পর্বতসমগ্র নিজস্ব মহিমায় বিকশিত হয় এবং বেহেশত তার ধোঁয়ায় পূর্ণ হয়। তখন ঈশ্বর বেহেশতে উদিত হন, এটাকে সঙ্কুচিত করেন এবং এটাকে প্রতিষ্ঠিত করেন কোনো খুঁটি ছাড়াই। তারপর তিনি ভূমিকে বন্ধনমুক্ত করেন এবং হাতে কলম নেন, তার সমগ্র সৃষ্টির বয়ান লেখার জন্য।

প্রারম্ভে তিনি তার নিজস্ব সত্ত্বা এবং নিজের আলো থেকে সৃষ্টি করেন ছয়জন ঈশ্বর। এবং তাদের সৃষ্টি যেনো এক আলো থাকে অন্য আলোর সৃষ্টি। এবং ঈশ্বর বললেন- ‘এখন আমি উচ্চস্থানগুলো সৃষ্টি করেছি, তোমাদের মধ্যে একজন সেখানে যাও এবং সেখানে কিছু সৃষ্টি করো।’ অতঃপর দ্বিতীয় ঈশ্বর সেখানে উদিত হলেন এবং সৃষ্টি করলেন সূর্য। তৃতীয়জন চন্দ্র, চতুর্থজন বেহেশতের গম্বুজ, পঞ্চমজন সকালবেলার তারকা, ষষ্ঠজন বেহেশত এবং সপ্তমজন দোজখ। তারপর তারা সৃষ্টি করেছেন আদম এবং ইভ, যেমনটা আমরা তোমাদের পূর্বে বলেছি।

(চলবে)

২ thoughts on “ইয়াজিদি ধর্মগ্রন্থ- মিশেফা রেশ, ‘কালো গ্রন্থ’- ৩য় পর্ব

    1. এটা ৩য় পর্ব। এর আগে আরও দুইটি
      এটা ৩য় পর্ব। এর আগে আরও দুইটি পর্ব দেয়া হয়েছে। ১ম পর্বের আগে সামান্য ভূমিকাও দেয়া আছে। ধারাবাহিকভাবে পড়লে বুঝতে সুবিধা হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *