যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে রেল যোগাযোগে

দেশের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত। বাংলাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার দরকার ছিল রেলের। কারণ রেল তুলনামূলক বিচারে এখনও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে আজ পর্যন্ত রেল সে গুরুত্ব পায়নি। যতটুকু রেল যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার ছিল সে অর্থে ততটুকু পরিবর্তন আসেনি। রেল যোগাযোগের উন্নতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বর্তমান সরকারের নেয়া মাস্টারপ্ল্যান অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দেশে নতুন রেলপথ তৈরি করা, বিদ্যমান রেলপথ ডাবল-ট্রিপল ও চার লেন করা। পাশাপাশি এ মাস্টার প্ল্যানের আওতায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ত্রিপুরাসহ অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ ছাড়াও প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপন করে ট্রান্স-এশিয়ান রুটে বাংলাদেশ রেলওয়েকে যুক্ত করা। এসব উন্নয়নের ধারায় আরও একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে রেল যোগাযোগে। যানজট কমাতে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে রাজধানী হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ মাটির নিচে করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার।কমলাপুর থেকে দৈনিক ১০৮টি ট্রেন যাতায়াত করে। ট্রেনগুলোকে রাজধানীর ২৩টি ইন্টারসেকশন অতিক্রম করে যেতে হয়। এসময় প্রতিটি ইন্টারসেকশনে ট্রেনগুলো পাঁচ মিনিট করে রাস্তা আটকে রাখলে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। এতে যেমন কর্মক্ষেত্রে কাজের ব্যাঘাত ঘটে তেমনি সময় নষ্ট হচ্ছে। সময়োপযোগী পদক্ষেপ মানুষের ভোগান্তিকে হ্রাস করবে অনেকাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *